আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মোরা শোকাহত !! তোমার তরে, হে “আলোর মশালধারিণী”। শ্রদ্ধাঞ্জলি তোমার সুস্থতার প্রথম মুহূর্তে।

চারিদিকে অন্ধকার, গা শিউরে উঠা এক কালো অন্ধকার । কেউ আসলো না আলোর মশাল জ্বালাতে,না ভুল হবে বললে আসলো না, কাউকে আসতে দেয়া হয়নি । জানেন মজার কথা কি? কেও প্রশ্ন করেনি,এমনকি আমার আপনার মতন অনেক শক্তিমান বাহু এবং মগজভর্তি জীবও ছিল সেখানে কিন্তু ভাঙ্গেননি অন্ধকারের ওই নিসচুপতা । ঠিক সেই সময় মশাল হাতে আসলো এই কালের “নাইটিঙ্গেল”। সে প্রশ্ন করেছিল কেন ? প্রশ্ন করেছিল কিভাবে ? প্রশ্ন করেছিল কোথায় ? প্রশ্ন করেছিল কারা ? সে বলল নারী তুমি কি ? সে বলল নারী তুমি কই ? সে বলল নারী তুমি কি মানুষ ? সে বলল নারী তোমার শিক্ষা কই ? সে বলল নারী তুমি এগিয়ে চল , সে বলল নারী তুমি আধা ধরণী , সে বলল নারী তুমিও পারবে, সে বলল নারী তুমিও স্রস্তার সৃষ্টি! হায়!! ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস।

অন্ধকার আসলো আবার তাকে গ্রাস করতে , তার বাক রুদ্ধ করতে । হ্যা, তারা সফল হল তবে আল্লাহ ছিলেন, আল্লাহ আছেন এবং আল্লাহ থাকবেন সত্যের সাথে । ব্যারথ হল আধারের সৈনিকরা । রাখে আল্লাহ মারে কে এবং এই বান্দা আল্লাহর নেক বান্দা কেননা সে শিক্ষা দিয়েছে নবীর কথা , নারীর শিক্ষার কথা। সে রুখে দাঁড়িয়েছে ওই ভণ্ডদের ভণ্ড নীতির বিরুদ্ধে , যেই নীতি মানুষকে শিক্ষা দেয় শিক্ষা থেকে দূরে যেতে ।

সেই আলোকিত মশালধারিণী নারীর নাম হল মালালা ইউসুফ জাই । নারী বললাম জাতি হিসেবে আসলে তিনি একজন ১৪ বছরের বালিকা । আমরা তার সম্পর্কে ইতিমধ্যে যথেষ্টই জেনেছি এবং তার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার সাথেও ওয়াকিবহাল। আমরা আসলেই শোকাহত এই ঘটনায়। নারীকে অন্ধকার থেকে বের করে আনতে তার যেই প্রয়াস তা বাধাগ্রস্থ করতেই এই যাবতীয় ঘটনার উদ্রেক ।

আজ সত্তিকার অর্থেই একটি বিষয় সামনে উঠে এসেছে যে সোস্যাল প্ল্যাটফর্মগুলির শক্তিকে খাট করে দেখার কোনও অবকাশ নেই। সাড়া পৃথিবীর মানুষকে যেভাবে এই একটি মেয়ে সোস্যাল মিডিয়ার কল্যাণে নাড়া দিয়েছে তা সত্যি অভূতপূর্ব । আমরা শোকাহত। ক্ষোভে আক্রান্ত । আপনি মৃত্যুকে করেছেন জয় আপনার সত্য দিয়ে, হে মৃত্যুঞ্জয়ি।

আমরা আপনার জন্য দুয়া করছি,হে মহীয়সী । আপনার সুস্থতা এই মুসলিম জাতির জন্য আল্লাহর রহমত, হে মাননীয়া । আপনার প্রতিটি শ্বাস- প্রশ্বাস এক একটি অন্ধকার রাতের তারা, হে আলোকিত । আপনার দায়িত্ব অনেক, হে দৃঢ়। আপনাকে জন্ম দিতে হবে আরও কোটি মালালা ইউসুফ জাই , হে মালালা ইউসুফ জাই ।

তবে বাস্তবতা হল আমরা স্বার্থপরই রয়ে গেলাম । আপনি কি কোন সোশ্যাল প্লাটফর্মে কোন শোক ব্যানার দেখেছেন কিংবা অন্তত দুই একটি লাইন শোকাবহ শব্দসহ ? না, ছিল না। কিন্তু কেন ? সে অন্য দেশের ? সে নারী ? সে শুধু অনলাইন এক্টিভিস্ট? সে প্রথাবিরোধী লেখিকা ? সে সমাজের পরিবর্তন চায় ? বিশ্বায়নের এই যুগে মানুষের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে শুধুমাত্র তার চিন্তা আর মনন,কোন সীমানা, জাতি বা ধর্ম নয়। ইউসুফ জাইয়ের সবচেয়ে বড় পরিচয় হল আমরা সবাই একই পথের পথিক । আমরা সবাই চাই পরিবর্তন সুন্দরের দিকে , আলোর দিকে , শান্তির দিকে ।

আজকে আপনি আপনার সুস্থতার দিকে প্রথম ধাপ এগুলেন,আপনি উঠে দাঁড়িয়েছেন। ইনশাল্লাহ আপনি খুব শিগ্রই সম্পূর্ণ সুস্থতা লাভ করবেন এবং ওই অন্ধকারের দানবদের মুখের উপর আবার জ্বালাবেন আলোর মশাল ।  ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.