আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

হতাশা কাটিয়ে ওঠার লড়াইটা অন্তর্জালিক তরুণদের।

অতি দক্ষ মিথ্যুক না হলে সত্যবাদিতা উৎকৃষ্ট পন্থা "ইংরেজদের আগমনে বাংলায় রেঁনেসা এসেছিলো", "ইংরেজী শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণেরা কুসংস্কারাচ্ছন্ন বাংলাভাষাভাষী মানুষদের ভীষণ ভাবে নাড়া দিতে সফল হয়েছিলো", "ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট" বাংলা ভাষা ও বাঙালীর চেতনাকে এক টানে আধুনিক করে ফেলেছিলো এই ধরণের বাক্যে এখন বিশ্বাস স্থাপন করা মানুষের সংখ্যা কম। আজকের আধুনিক আগামীকালের অতীতজীবি প্রাচীনপন্থী মানুষে পরিণত হয়, আধুনিকতা এক ধরণের সংক্রামক ব্যাধির মতো, বয়সন্ধিতে মুখে ব্রণ ওঠার মতো সাময়িক ব্যধি, সময়ের সাথে সেরে যায় কিংবা মানুষ এটার সাথে মানিয়ে চলতে অভ্যস্ত হয়ে যায়। ১৮২৫ থেকে ১৮৩০ এ ডি রোজারিওর শিষ্যরা ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট শুরু করেছিলো, তাদের প্রচলিত সামাজিক সংস্কার অস্বীকারের প্রচেষ্টায় হুজুগ যতটা ছিলো আদর্শ ততটা ছিলো না, কিন্তু এরপরও সেটার ধাক্কাটা একই সাথে কট্টর হিন্দুবাদী আন্দোলনের সূচনা করেছিলো। রাজা রামমোহনের কলমে আর সম্পাদনায় এক দিকে ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কার উচ্ছেদের লড়াই এবং অন্য দিকে রামমোহনের পত্রিকার প্রাক্তন সম্পাদকের হিন্দু ধর্ম রক্ষায় শ্লীল অশ্লীল প্রচারণা ও লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ধর্মান্ধতাই বিজয়ী হয়েছিলো, কিন্তু প্রায় ৩ দশক জুড়ে চলতে থাকা এই সংঘাতের ঢেউ অন্তত একটা প্রজন্মকে ভিন্ন ধারায় ভবতে শিখিয়েছিলো, সে ভাবধারা থেকেই ব্রাহ্মধর্মমতের উৎপত্তি ও বিকাশ, উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দশকে এক ধরণের পৌরোহিত্য ও ভক্তিবাদী ধর্ম হয়ে ওঠার আগে তা সংস্কার আন্দোলন ছড়িয়ে দেয় বাংলার প্রায় প্রতিটি শিক্ষাঙ্গনে। বাঙালী মুসলমানের মুসলমান হয়ে ওঠার লড়াইটাও ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলনের সমবয়সীই, কৃষক বিদ্রোহ, ফকির ও সন্ন্যাসী বিদ্রোহের হাত ধরে বাংলার গ্রামীণ সমাজে যে আলোড়ন ঘটেছিলো সেখানে সংস্কারবাদী খ্রীষ্টান মিশনারীদের ধর্মান্তিকরণ প্রতিহত করতে ধর্মভিত্তিক আন্দোলন ছড়িয়ে পরে বাংলাদেশের গ্রামে।

সুদর পাঞ্জাবে ইংরেজ ও শিখদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে বাঙালী কৃষক মুসলমান, এখান থেকে তারা ত্রান ও অর্থ সহায়তা পাঠিয়েছে, গ্রামের মা ঠে ওয়াজ মেহফিল আর ধর্মবিতর্কের আয়োজন করেছে, বাংলাদেশে বসবাসকারী শেকড়বিহীন অভিজাতশ্রেণীর মুসলমানদের ভেতরে এক ধরণের শ্রেনী সচেতনতা এবং স্বজাতীয় মুসলমানদের প্রতি এক ধরণের শ্রেণী ঘৃণা বিদ্যমান ছিলো। স্থানীয় কৃষক মুসলমান যেখানে বিহার, পাঞ্জাবে লড়াই করা মুসলমানদের অর্থ সহায়তা দিয়েছে, বাঙালী জমিদার মুসলমান ও উঠতি মধ্যবিত্ত মুসলমান তুরস্কের খলিফাকে অর্থ সহায়তা পাঠিয়েছে। এই আশরাফ শ্রেণীর মুসলমানেরা কখনও বাঙালী জাতীয়তাবাদকে বিশ্বাস করে নি, বরং এই অভিজাত মুসলমান শ্রেণী বাঙালীকে এবং বাংলা ভাষাকে হিন্দুয়ানী ভেবে এসেছে, অন্ত্যজ বাঙালী মুসলমানদের সংস্কৃতিকে হিন্দুয়ানী সংস্কৃতির সম্প্রসারণ ভেবেছে। অভিজাত শ্রেণীর মুসলমানিত্বের গরিমা ও অভিজাত হয়ে ওঠার লড়াইয়ে ধর্ম ও বিত্ত মূল হাতিয়ার হয়ে ওঠায় বিত্তে বড় হওয়া অন্ত্যজ মুসলমান নামের পদবী বদলেছে, পদবী বদলে অভিজাত হয়ে ওঠা নব্য বাঙালীবিদ্বেষী ধনিক শ্রেণীও ধীরে ধীরে সংস্কৃতির শেকড়চ্যুত হয়েছে। কোলকাতাকেন্দ্রীক ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট এর ঢেউ অবশেষে শিক্ষিত মুসলমান বাঙালীর ভেতরেও আলোড়ন তুললো, তবে ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্টের শতবর্ষ অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার পর প্রায় মফস্বল ঢাকায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে এক ধরণের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের স্বপ্ন দেখেছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন তরুন শিক্ষক এবং ঢাকা কলেজ ও জগন্নাথ কলেজের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। তাদের বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের মুখপত্র হিসে বে তারা শিখা পত্রিকা প্রকাশ করেছিলো, বাঙালী মুসলমানদের বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন দীর্ঘজীবি হয় নি। মাত্র ৫টি বার্ষিকী প্রকাশ করার পর শিখা গোষ্ঠীর মৃত্যু ঘটে। যুক্তি ধর্মের তীরবিদ্ধ হয়। শিখা গোষ্ঠী মুসলমানদের বিশেষত শিক্ষিত মুসলমানদের আরও যৌক্তিক ধর্মাচারী হতে বলেছিলো, বলেছিলো তাদের অযৌক্তিক আচরণ অনেক ক্ষেত্রেই পৌত্তলিকতার সামিল।

নারী শিক্ষা, ধর্মাচরণের যৌক্তিকতাজাতীয় ধর্মবিরোধী বক্তব্য প্রকাশ ও প্রচারের জন্য সৈয়দ আবুল হুসেনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকার নবাবের দরবারে, সেখানে মুচলেকা দিয়ে সৈয়দ আবুল হোসেন নিজের প্রাণ রক্ষা করেন। শিখা গোষ্ঠীর আন্দোলন মুখ থুবড়ে পরলেও ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রের জিকির বাঙালী মুসলমান মন ও মানসিকতা আক্রান্ত করে ফেলে। অসাম্প্রদায়িক ও ব্যক্তিগত জীবনে ধর্ম পালনে উসাসীন ব্যক্তিরাও ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রয়োজন খুঁজে পান এবং পাকিস্তান আন্দোলনে জড়িয়ে যান। বাঙালী মুসলমানদের ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদের বিপরীতে বাঙালী জাতীয়তাবাদের প্রচারণা করেছিলেন আবুল হাশিম, তিনি ব্যক্তিগত জীবনে ধর্মপরায়ন ছিলেন, একই সাথে ছিলেন সাম্যবাদী আদর্শে বিশ্বাসী। তিনি পাকিস্তান মুসলীম লীগের কর্মীদের স্থানীয় রাজনীতিতে শ্রমিক অধিকার, কৃষক অধিকার বিষয়ে দীক্ষিত করেন।

অবশ্য নবাব পরিবারের চক্রান্তে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে তিনি স্বেচ্ছায় রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহন করেন। মোহাম্মদ তোয়াহা, তাজউদ্দীন এবং ঢাকার কয়েকজন তরুণ রাজনৈতিক কর্মী পাকিস্তান রাষ্টের দেন দরবারের সময়ই সাম্প্রদায়িক রাজনীতি থেকে নিজেদের বিচ্যুত করে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি চর্চা করতে গণ আজাদী লীগ গঠন করেন। গণ আজাদী লীগ ঢাকার মুসলীম লীগের কয়েকজন কর্মীর সাম্প্রদায়িক রাজনীতি প্রত্যাখ্যানের সচেতন সিদ্ধান্তে গঠিত হয়েছিলো। তবে দলটি তেমন প্রাধান্য বিস্তার করতে পারে নি। নবাবদের পকেট থেকে মুসলীম ছাত্রলীগকে বের করে নিয়ে আসা সম্ভব হয় নি।

অসন্তুষ্ট প্রগতিশীল মুসলীম ছাত্রলীগের সদস্যরা পাকিস্তান রাষ্ট্রের সূচনার প্রায় সাথে সাথেই আলাদা একটি ছাত্র সংগঠন গড়ে তুলেন। একই সময়ে রাষ্ট্র ভাষা আন্দোলন শুরু হয়। ভারতীয় কম্যুনিস্ট পার্টিতে মুসলমান সদস্যের সংখ্যা সব সময়ই কম ছিলো, কিন্তু আবুল হাশিমের রাজনৈতিক শিক্ষায় অনেক প্রগতিশীল ছাত্র আন্দোলন কর্মীর ভেতরে এক ধরণের অসাম্প্রদায়িক মনোভাব তৈরি হয়েছিলো। ব্যক্তিগত জীবনে ধর্মপরায়ন অনেকেই সে সময়ে মুসলীম লীগের সদস্য হিসেবে ছিলেন, কিন্তু সাম্প্রদায়িকতা তাদের অন্ধ করে ফেলে নি। বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন এইসব প্রগতিশীল কর্মীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে উদ্বুদ্ধ করে।

২১শে ফেব্রুয়ারীর পর থেকে বাঙালী জাতীয়তাবাদ ধীরে ধীরে পূর্ব বাংলায় শেকড় বিস্তার করতে শুরু করে। পাকিস্তান সরকার কম্যুনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ করায় কম্যুনিস্ট পার্টির কর্মীরা আন্ডার গ্রাউন্ডে চলে যেতে বাধ্য হন কিংবা আওয়ামী মুসলীম লীগ কিংবা গণতন্ত্রী দলের অভ্যন্তরে কাজ করতে শুরু করেন। এদের উদ্যোগেই আঞ্চলিক পর্যায়ে এক ধরণের পাঠাগার আন্দোলন শুরু হয়। স্থানীয় জনগণের ভেতরে বাঙালীত্বের বোধ তৈরিতে এইসব পাঠাগার ও পাঠাগারকেন্দ্রীক সাংস্কৃতিক আন্দোলন বেশ বড় একটা ভূমিকা রেখেছিলো। এদের সক্রিয় সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সাথে পাকিস্তান সরকারের অহেতুক ভারতবিদ্বেষ যুক্ত হয়ে রবীন্দরনাথের গান ও কবিতা সামনে রেখে বাঙালীত্বের আন্দোলন শুরু হয় বাংলাদেশে।

অসংখ্য সাংস্কৃতিক আন্দোলন কর্মীর জন্ম হয়েছে এ সময়ে, যারা বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাঙালী জাতীয়তাবাদ ছড়িয়ে দিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। এই আন্দোলনের একটা লক্ষ্য ছিলো বাঙালী জাতীয়তাবাদকে প্রতিষ্ঠিত করা। বিকশিত বাঙালী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনপরবর্তী সময়ে এই সাংস্কৃতিক আন্দোলনে ভাটা পরে এবং ধীরে ধীরে সেটা বিলীন হয়ে যায়। স্বাধীনতা পরবর্তী চার দশক আসলে আমাদের বাঙালী জাতীয়তাবাদের পচনের চার দশক। রাজনৈতিক বুলির বাইরে বাঙালী জাতীয়তাবাদের অস্তিত্ব কোথাও ছিলো না।

জাতীয়তাবাদ ভিত্তিক সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অনুপস্থিতিতে অন্যান্য ধর্মভিত্তিক সাংস্কৃতিক আন্দোলন শেকড় গেড়ে বসেছে বাংলাদেশে। বাংলায় ধর্মভিত্তিক আন্দোলনগুলো জনমানসকে যতটা উদ্বুদ্ধ করেছে অন্যান্য পরিশুদ্ধ উন্নত সাংস্কৃতিক চেতনাসমৃদ্ধ আন্দোলন জনমানসকে ততটা উদ্বুদ্ধ করতে পারে নি। আমাদের অসাম্প্রদায়িক বোলচাল, আমাদের বুদ্ধির মুক্তি, যুক্তির বিকাশ জাতীয় আন্দোলনগুলো এক ধরণের উচ্চবিত্ত বিকারের বাইরে তেমন গভীরে প্রবেশ করতে পারে নি। সমাজের উপরের তলার কতিপয় আলোকিত মানুষকে আলোড়িত করে সে আন্দোলন স্থিমিত হয়ে গেছে। সমাজের উপর তলায় এই অসাম্প্রদায়িক ঢেউ কখনও নীচের তলার কুসংস্কার ও তাবিজপ্রীতিকে খড় কুটোর মতো ভাসিয়ে নিতে পারে নি।

শিক্ষিত সুবিধাভোগী মানুষের কাছে যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেনো সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ভেতরে এসব বাক্যবিলাস তেমন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে নি। প্রতিবারই আমাদের সংস্কার আন্দোলনগুলো এভাবেই সমাজের উপরের তলায় আলোড়োন তুলে থিতিয়ে গেছে, সমাজের সর্বস্তরে সমান আলোড়ন তুলতে পারে নি বলে আমাদের উনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী মুসলমান হয়ে ওঠার লড়াইটা এখনও চলমান। যুগোপযোগী সংস্কার হয় নি বলে আমাদের পশ্চাদপত শিক্ষাঙ্গন থেকে যারা প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষাবিদ হিসেবে আবির্ভুত হচ্ছেন তাদের ভেতরে বৈজ্ঞানিক মানসের চেয়ে কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধর্মাছন্ন মানসিকতাই প্রবল। সামাজিক জড়তা, প্রবল কুসংস্কার, মানবিক অধিকার বিষয়ে অসচেতনতা সবগুলোই কম বেশী মানুষের ধর্মান্ধতা, ধর্মীয় মোহগ্রস্ততা কিংবা ধর্মাচ্ছন্নতার কুফল। এক ধরণের পশ্চাতপদতা আঁকড়ে ধরে থাকা সমাজে সে কারণেই লড়াইয়ের একটা ক্ষেত্রে মানুষের ধর্মবোধ আক্রান্ত হয়েছে।

তবেসব সময়ই ধর্মান্ধতা কিংবা মানুষের ধর্মাচ্ছন্নতাকেই প্রধানতম কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে বিধায় মানুষের ভেতর থেকে ধর্মের আফিমের নেশা কাটানোর প্রগতিশীল লড়াইকে ধর্মবিরোধী আন্দোলন হিসেবে পরিচিত করতে সুবিধা হয়েছে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির অনুসারী মানুষদের। আমরা ১৯৩০ এ যে আন্দোলনের সূচনা দেখেছি, ৫২ উত্তর সময়ে সে আন্দোলন নতুন করে শুরু করেছে আরও একদল মানুষ, যাদের ভেতরে ৩০ এর আদর্শে উদ্বুদ্ধ করেকজন ছিলো। ৭১ পরবর্তী সময়ে বাঙালী জাতীয়তাবাদের পচনের ফলে মধ্যবর্তী একটা প্রজন্মে বাঙালী জাতীয়তাবাদ নিছক হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি বিবেচিত হয়েছে। ফলে আমাদের সমাজ সংস্কারের লড়াইটা পুনরায় ১৯৩০ এর দশকে ফিরে গেছে। অন্তর্জালে এরই সামান্য অভিক্ষেপ দেখছি এখন।

যে সময়ে ধর্মের রীতিনীতি সম্প্রচারে আগ্রহী মানুষদের সাপ্তাহিক দাপটের সাথে বছরে একবার লড়াই করতো শিখা বার্ষিকী। গত ৪ দশকে এমন প্রতিনিধিত্বশীল লড়াই করেছে কোন পত্রিকা? কোনো পত্রিকা এ লড়াই করে নি কিন্তু বাংলা ব্লগ এ আন্দোলনের প্রাথমিক স্ফুলিঙ্গ হিসেবে কাজ করছে। ধর্ম ও ধর্মমতে জীবনযাপনের মোহগ্রস্ততা কতটা প্রবল সেটা বাংলাদেশে গত ৪ দশকে প্রকাশিত বইয়ের তালিকা দেখলেই বুঝা যাবে । গত চার দশকে বাংলা ভাষায় মূলত দুই ধারার বই প্রকাশিত হয়েছে। ধর্মের বানী ও মাসায়ালা এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথা- পুরোনো বইয়ের দোকান ঘেঁটে মনে হয় ধর্মভিত্তিক বইপত্র মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথাকে পেছনে ফেলছে অনেক আগেই।

এ অবস্থায় আমাদের নতুন করে অসাম্প্রদায়িক যৌক্তিক লড়াইয়ের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হবে। দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষেরা টুপি দাড়ির আড়ালে নিজেদের অপরাধবোধ লুকিয়ে জীবনযাপন করলেও সে অন্ধকারে দিশা হারিয়েছে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম। বাঙালী জাতীয়তাবাদকে কবর থেকে তুলে নতুন পোশাকে উপস্থাপন করবে এই অন্তর্জালিক যুগ না কি নিজেদের মতো যৌক্তিক একটা কাঠামো তৈরি করে সেটার ভিত্তিতে স্থানীয় পর্যায়ে সাংস্কৃতিক আন্দোলন ছড়িয়ে দিবে সেটার সিদ্ধান্ত নিতে হবে সমাজের উপরিতলার সুবিধাভোগী অন্তর্জালিক মানুষদেরই। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।