আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

কিছু ব্যাপার মনটাকে নাড়া দেয়!

আসেন দুর্নীতি করি। আর এই দুনিয়াটাকেই খুচাই! আমি ছোটবেলা থেকেই মোটামুটি মানের ছাত্র ছিলাম। এসএসসিতে আমার রেজাল্টও মোটামুটি ছিলো। এইচএসসিতে গড়পড়তায় আমি রেজাল্টটা খুব খারাপ করি। হতাশায় একটা সপ্তাহ কারো সাথে কথা বলতে পারিনি, রুমে বসে ছিলাম চুপচাপ।

তখন এক মামা এসে অভয় দিলো পৃথিবীর এখানেই শেষ না, অনেক কিছু করার আছে। ভর্তিপরীক্ষার জন্য চেষ্টা করতে হবে। আমার উপর সবার আস্হা আছে। আমি বলবো না এটা আমার যোগ্যতা ছিলো অথবা অন্যকিছু, ভাগ্যের জোরেই বলা যায় আমি বিআইটিতে ইন্জ্ঞিনিয়ারিং পড়বার চান্স পেয়েছিলাম এবং আজকে আমি ইন্জ্ঞিনিয়ার। শুধু পাশ করা ইন্জ্ঞিনিয়ার না, পাশ করে বাংলাদেশ শীর্ষস্হানীয় টেকনোলজী বেজড কোম্পানীতে কাজ করার অভিজ্ঞতাও আছে আমার।

আমার এক মামাতো বোন ছিলো। ছোটবেলা থেকেই আমরা তাকে মেধাবী বলেই জানতাম। ৯০ এর দিকে এসএসসি দেয়, স্টার মার্ক ছিলো। তখন স্টার মার্ক মানে অনেক বড় কিছু, যারা স্ট্যান্ড করতো, তাদেরকে মনে হতো ভীন গ্রহের অতিমেধাবী কেউ। ৯২ এর দিকে এইচএসসিতে তারও রেজাল্ট খারাপ হয়।

স্টার মার্ক পায়নি। সেও ভেঙ্গে পড়েছিলো। তার স্বপ্ন ছিলো ডাক্তার হওয়া। প্রথমবার ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে চান্স পায়নি। আরও ভেঙ্গে পড়ে।

কিন্তু ঐ যে, যখন একজন মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যায় সে তখন যুদ্ধ করে, এবং মনের জেদে আর প্রচন্ড অধ্যাবসায়ই তাকে জিতিয়ে দেয়। তার মধ্যে থাকা লক্ষ্য অর্জনের অদম্য চেষ্টা, সৎ সাহসের কারনেই সে জিতে যায়, জীবনটাও পাল্টে যায়। দৈনিক টানা ১৬ ঘন্টা, পুরো একটা বছর অমানষিক পরিশ্রম করে, তার পরের বছর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে চান্স পায়। এখন সে অষ্ট্রেলিয়ার সিডনিস্হ কোনো এক হাসপাতালে ডাক্তারী করে। তার হাসব্যান্ড তার সাথেই পাশ করেছে।

পরে বাংলাদেশে বিসিএস ক্যাডারে ডাক্তারীতে চান্স পায়, প্রত্যন্ত গ্রামে ডিউটি দিতেন। পরে বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে এফআরসিএস ভর্তি হয়েছিলেন। সে এখন সিডনিস্হ এক হাসপাতালের সিনিয়র মেডিক্যাল অফিসার মনে হয়। আজকে আমাকে ফাট্টু ফোন করে বললো ওর পাশের রুমে দুটো মেয়ে থাকে। হোস্টেলে থাকে, মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে।

জামা কাপড় দেখলেই বোঝা যায় তাদের পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্হা। পরিবার গ্রামে থাকে। কষ্ট করে হলেও অল্প কিছু টাকা পাঠায় তা দিয়ে কষ্টে সৃষ্টে ওদের হোস্টেলে দিন চলে যায়। গতবার দুজনের মেডিক্যাল চান্স হয়নি। ওরা একটা ব্যাপার জানতো গতবার যেই ছেলেটি মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হয়েছিলো সেও দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দিয়ে চান্স পেয়েছে এবং টপ করেছে।

মেয়ে দুটো গত একটা বছর দৈনিক ১৮ ঘন্টা পড়াশোনা করেছে। রাত দুটোর সময় চা খেয়ে হলেও রাত জেগে পড়া লেখা করে। চোখের নীচে কালো দাগ পড়েছে ইয়া মোটা মোটা। বাংলাদেশে পড়ালেখার জন্য একটা মেয়ের চোখের নীচে কালো দাগ পড়া মানে বুঝতে হবে তার জন্য এরকম ভর্তি পরীক্ষা কতটা মূল্যবান, শুধু তার জন্যই না, পুরো পরিবারের জন্য। মেয়ে দুটো তাই করছিলো কয়েকদিন আগ পর্যন্ত।

আমাদের দেশের ডাক্তারদের কসাই বলে গালি দেই। একচুয়ালী আমি আমার বোনটাকেও কসাই বলে ডাকতাম। তবে সে জানে আমি এটা তাকে ফান করেই বলি। মানুষের ভুল হতে পারে। ডাক্তারদেরও ভুল আছে।

যেখানে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতী দিয়ে বাইরের দেশগুলোতে রোগ নির্নয় করে চিকিৎসা দেয়া হয় সেখানে এরা প্রায় কোনো যন্ত্রপাতী ছাড়াই বছরের পর বছর এটা করে যায়। মাঝে মাঝে মনে হয় এরকম পচা, গন্ধযুক্ত পরিবেশে কিভাবে এরা কাজ করে? আমার বোনটাকেও বলেছিলাম। সে আমাকে বলেছিলো," তুই আমাকে কসাই বলে ডাকিস, তারপরও একটু অসুখ হলে আমার কাছেই অষুধটা চাস। কোনো দিন কি এমন হয়েছে যে আমি তোকে ওষুধ দেই নি অথবা ইচ্ছে করে ভুল ওষুধ দিয়েছি?" তখন আমার মনে হয় আমি কার সাথে কথা বলতে এসেছি, এই সেই মেয়ে যে ভর্তি পরীক্ষার আগে যতটুকু না কষ্ট করেছে, ভর্তির পর তারচেয়েও বেশী কষ্ট করেছে। মনের মধ্যে একটা অদম্য বাসনা থাকলেই এই মেয়ে এরকম করতে পারে।

এই মেয়েটা ৬ মাসে যে কষ্ট করেছে, আমি সারা জীবনে জ্ঞানার্জনের পিছনে অতটা কষ্ট করিনি। ডাক্তার হবার জন্য এর যতটা না স্যাক্রিফাইস, তার কানাকড়িও আমাকে করতে হয়নি। আমি বলিনি যে যারা গোল্ডেন এ ব্লা ব্লা পেয়েছে তারা মেধাবী না। অবশ্যই মেধাবী। কিন্তু তাদের মধ্যে এরকম অদম্য বাসনা, একটা কিছু করে দেখাবার যে ব্যাগ্রতা সেটা নেই।

কোনো কিছু হবার বাসনাকে যদি কেউ হত্যা করে সেটা পাপ, যখন রাস্ট্র এটা করে তাহলে রাস্ট্রও পাপ করছে। বাইরের অনেক দেশে ভর্তিপরীক্ষা হয় না। কারন তাদের দেশে এত ইউনিভার্সিটি বা মেডিক্যাল ইনস্টিউট আছে যে তারা ইচ্ছে করলে যতজন পাশ করেছে তাদের অধিকাংশকেই শিক্ষা দিতে সক্ষম। কারন রাস্ট্রকে তাদের দরকার এবং রাস্ট্রের ক্ষমতা এবং মন মানসিকতাও আছে তাদেরকে ব্যাবহার করে জনগনকে সেবা দেবার! আমাদের দেশের জনগনেরও সেবা দরকার, কিন্তু আমাদের এতো সীট নেই। তাই আমরা এরকম স্পর্শকাতর বিষয়ে নিশ্চয়ই বেছে নেয়াটাই বুদ্ধি মানের মতো কাজ! যাদেরকে বেছে নেয়া হবে তাদেরকে বুঝতে হবে কোনো ঢাল তলোয়ার ছাড়াই কিভাবে নিধিরাম সর্দার হয়ে রোগ জরার বিরুদ্ধে জয় ছিনিয়ে আনাটা।

কেন আমাদের এমন কাজ দেখতে হলো? আমাদের মাননীয় স্বাস্হ্যমন্ত্রী যখন সবাইকে কক্সবাজার যেতে বললেন, আনন্দ ফূর্তি করতে বললেন তখন মনে হয় এই লোকটা মানসিকভাবে অসুস্হ। যখন সে বলে আগের বছরের চান্স না পাওয়া ছাত্রদের দায়িত্ব তার না, তখন মনে হয় এ ক্ষমতার নামে আমাদেরকে ধ্বংস করারই পায়তারা করছেন। তিনি যখন এই পদে শপথ নিয়েছিলেন তখন সেখানে এমন একটা কথা ছিলো তিনি ন্যায়বিচার করবেন প্রজ্ঞা, জ্ঞান, বিচারের মাধ্যমে। তিনি জনতন্ত্রের সেবা করবেন। তিনি তার শপথ ভাংলেন।

উনি কোচিং বন্ধ করতে গিয়ে এতগুলা মানুষকে স্রেফ দিনের আলোয় মেরে ফেললেন, এই হত্যাগুলো বিচারও হবে না কোনোদিন। ভাবতেই কেমন যেন লাগছে আমার। এটাই প্রথম না। এরকম বড় বড় দুর্নীতি আমি ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি। জ্ঞান হবার পরই যেহেতু এরশাদের আমল দেখেছি।

এরশাদের অবৈধ ভাবে ক্ষমতায় থাকা, বিএনপির আমলে অপটিক্যাল ফাইবার কানেকশন না নেয়া, গো আজমের মতো লোককে খালেদা নিজের আচলের নীচে রেখে সুপ্রিম কোর্ট থেকে নাগরিকত্ব দেয়া, বিরোধী দলে থাকতে আন্দোলনের নাম করে হাসিনা শুধু ক্ষমতার জন্য দেশটা টানা তিনটা বছর অচল করে দেয়া, ক্ষমতায় এসে শেয়ার বাজারটাকে লুটেপুটে খাওয়া, এসএম কিবরিয়ার অদূরদর্শিতা দেশের জমানো লিক্যুইডিটি ফান্ড থেকে শুরু করে শেয়ারবাজারকে লুট হতে দেয়া, খালেদা এসে সংখ্যালঘুদের ধর্ষনের নেতৃত্ব থেকে শুরু করে জঙ্গী লালন, দেশের বাইরে নিজেদের পুত্রদের অর্থ পাচার (যদিও তার চামচেরা বলেন তার কোনো প্রমান নাই, তারা জানেনা যে কোর্টে ইদানিং রায় কিনতে পাওয়া যায় যদি আপনি খুনের আসামীও হোন), আর বর্তমান সরকারের আবুল নামা, হাসিনা পুত্র জয়ের আমেরিকায় বাড়ী কেনা একের পর এক, তার কন্যার শ্বশুড়ের আমেরিকায় ৫ টা অলাভজনক কোম্পানী খুলে লোকসানে পড়া এমনকি তারপরও তার একাউন্টে টাকার প্রবাহ এতটুকু কম না হওয়া আরও কতকিছু! এতকিছুর পরও আমরা জ্যামের মধ্যে বসে থাকি। আমাদের চোখের সামনে সামান্য একজন রাস্ট্রদূত অথবা এসব দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীদের জন্য পুরো ঢাকা শহর জ্যামে অচল করে ফেলা হয়, কিন্তু আমরা লোকাল বাসে গাদাগাদি করে দাড়িয়ে একজনের ঘাম নিজের শরীরে লাগিয়ে অপেক্ষা করি। বাসায় রাতের বেলা ফিরে বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না, এই গরমে জানালা খুলে ঘুমাই, আবার তার পরের দিন জ্যামের মধ্যে নেমে পড়ি কাজে যাবার জন্য! আজকে হাজার ছাত্র ছাত্রী রাস্তায় নিজের স্বপ্নের পেটে লাথ্থী মারার প্রতিবাদে নেমেছে রাস্তায়, আমাদের সেটা নিয়ে আক্ষেপ নেই। আবার যখন আপনি আপনার চাকুরী খোয়া যাবার জন্য রাস্তায় নামেন তখন যাদের চাকুরী আছে তারা নামছেন না। অসহায়ত্ব আছে বলেই আবুলেরা হাসিনারা, জয়েরা একের পর অবিচার করে যাচ্ছে।

যখন নিজেরা সমস্যায় পড়ি তখন আমরা কাদি। দুদিন পর কান্না ভুলে যাই। রাস্তায় দাড়িয়ে আরেকজনের কান্না দেখি যার অবস্হা ঠিক আমার মতোই হয়েছিলো। ৪ দিন পর আপনারা দুজন মিলে আরো একজনের এমন কান্না দেখেন নিজের কান্না ভুলে। অনেকটা রাস্তায় নেমে সার্কাস দেখার মতো।

মধ্যপ্রাচ্যে কিছু দিন আগে গাদ্দাফীকে হত্যা করে তার দেশেরই লোকজন, দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মানুষগুলো স্বাধীনতার যেনো পাগল হিয়ে গিয়েছিলো। গাদ্দাফীর মতো সিংহ পুরুষকেও তার দুর্নীতির জন্য নিজেকে বিসর্জন দিতে হয়েছে। তিউনিসিয়ায় শক্তিশালী সরকারকে থাপড়ায়ে নামিয়েছে একজন মৃত ফেরীওয়ালার আত্মাহুতি। আমরা স্বপ্ন দেখি একদিন আমাদের দেশ উন্নত হবে, আমরা সুখে থাকবো, কোনো অন্যায় অবিচার হবে না। দুর্নীতি, দারিদ্র্য জাদুঘরে চলে যাবে।

আমার মনে হয় এমন স্বপ্ন দেখারও অধিকার আমাদের নেই, এমন জীবন যাপন করারও অধিকার নেই আমাদের। আমাদের জন্য এরকম কুকুরের মতো জীবনযাপন করাই উচিত, আর কিচ্ছু না। আজ যদি আমার বোনটা উদ্যোগী না হয়ে নিজে থেকে কিছু না করটো, তাহলে সে হয়তো আর অন্যান্য মেয়েদের মতো কোনো একটা বড়লোকের ঘরে শোপিস হিসেবে বৌ এর পদে চাকুরী করতো এবং প্রতিদিন রান্না বান্না করতো তার স্বামী স হ পরিবারের সবার মন রক্ষার জন্য। অথবা আমাকে এলাকার মোড়ে বন্ধু বান্ধব নিয়ে দাড়িয়ে থেকে এলাকার যত সুন্দরী মেয়ে আছে তাদের বুকে হাত অথবা পশ্চাদেহাত দেয়া অথবা সামনের শুক্রবার বা শনিবারে কোনো একটা গরীব মেয়েকে উঠিয়ে নিয়ে কোনো এক জায়গায় নিয়ে দু তিনদিনের জন্য ভোগ করা। কে কি বলবে? কারন সবাই তো সার্কাস দেখে।

একজন বাবার মেয়েকে উঠিয়েছি সবার মেয়েকে তো উঠায়নি, তাই না? পরের সপ্তাহে যখন আরেক বাবার মেয়েকে উঠাবো তখন দেখা যাবে এই লোকটাও বসে বসে সার্কাস দেখবে কারন তার মেয়ে তো ফিরে এসেছে বাসায়, তাকে কেউ আর ডিস্টার্বও করছে না, কারন সে তো আর বাসা থেকেই বের হবে না, তাই না? আর ঐ যে ৫ বছর পর নির্বাচনের পর প্রতিশোধ নেবেন, ধরেন ততদিনে ৫*৫২= ২৬০ টা মেয়েকে ধর্ষন করবো। আর নির্বাচনের পর দল পাল্টে আরো উচু পর্যায়ে চলে যাবো। তখন না হয় ততকালীন মন্ত্রী এমপিদের উপর প্রতিশোধ নিলেন, কিন্তু বর্তমান গুলোর উপর? আর আমি তো এখন এদের আন্ডারে। এরপরও আমরা এসব দেখবো, হাতে চূড়ি পরে বসে থাকবো। পারবো না যে সকালে উঠে সবাই মিলে পায়ে হেটে মন্ত্রী এমপিদের নেতা দুর্নীতিবাজ সচিবদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে রাস্তায় নামিয়ে তাদের বিচার করতে।

যখন আমরা একতাবদ্ধ হবো তখন মনে রাখবেন একজন পুলিশও ব্যারাক থেকে বের হবে না, একজন সেনাও ইউনিফর্মে অস্ত্র উচু করবে না। বিশ্বাস করেন তারা আপনাদের জন্য পথ করে দেবে, বিশাল জনসমুদ্রের বিরুদ্ধে এরা যে কিছুই না সেটা আপনি জেনে রাখুন। ও আচ্ছা দেশের বিচার ব্যাবস্হার উপর তো আপনার অনেক ভরসা। ভুলেই গিয়েছিলাম!তাহলে উপভোগ করুন এই সার্কাস! ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।