টেস্ট ক্রিকেটে আমরা পা দিয়েছিলাম ২০০০/০১ মৌসুমে, এখনও মনে পড়ে যায় আমিনুলের সেঞ্চুরি আর মনি, রফিক আর দুর্জয়ের নজরকারা ঘূর্ণিবল, সেইসাথে প্রথম টস জয়ও দেখিয়েছিল আলোর হাতছানি। সৃতি রোমন্থন বাদ রেখে আসুন এক যুগ পর অর্থাৎ বর্তমানের দিকে চোখ ফিরে তাকাই।
আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গন যা কিছু অরজিত হয়েছে তা ব্যাক্তিগত অর্জন ব্যাতিত অন্য কিছু নয়, অথচ ক্রিকেট কিন্তু একটা দলীয় খেলা। সদ্য সমাপ্ত জিম্বাবুয়ে সিরিজটির দিকে তাকালেও একই প্রাধান্য লক্ষণীয়। বিভিন্ন ক্রিকেট আয়োজনে আমাদের আছে নজর কাড়া সাফল্য, এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে ৯৮ সালের মিনি বিশ্বকাপ আর গেল বছরে বিশ্বকাপের উদ্ভোধনী অনুষ্ঠান আর মূল পর্বের খেলা আয়োজন।
যেখানে আরেক আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কার দেউলিয়া হয়ার যোগার সেখানে আমাদের এই সার্থক আয়োজন সাফল্যের মুকুটে আরও একটি পালক যুক্ত করেছে। কিন্তু এইগুলিত মাঠের বাইরের সাফল্য, মাঠের ভিতরের অর্জন কি?
সব স্তরের নীতিনির্ধারক আর সংশ্লিষ্টরা জানেন তাদের কি করতে হবে কিন্তু এখন পর্যন্ত যা করা হয়েছে তা মোটেও আশাব্যাঞ্জক নয়। ক্রিকেটকে এখনও পারা যাইনি ছড়িয়ে দিতে, পাঠকরা হয়ত বলবেন কই সব জায়গাতেত এখন ক্রিকেট খেলতে দেখতে পাওয়া যায়। এইরকম পরিস্থিতিত একসময় ফুটবলেও ছিল, সবাই ফুটবল খেলত কিন্তু আজ ফুটবলের স্থান কোথায়? তাই এখন সময় এসেছে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার।
আজ ক্রিকেট বিশ্বে তারাই অগ্রগামী যাদের রয়েছে শক্তিশালী জাতীয় ক্রিকেট তথা প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট, এখানে অস্ট্রেলিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকার উদাহরন টানা যেতে পারে।
শক্তিশালী প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের পূর্বশর্ত হচ্ছে, বয়স ভিত্তিক খেলার উপর গুরুত্ত দেয়া, ভাল মাঠ, পিচ তৈরি ও তার পরিচর্যা এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা। গত বিশ্বকাপের সফল আয়োজনে বিসিবির ভাল ভুমিকা ছিল কিন্তু তাদের ফোকাসটি ছিল শুধু আয়োজনে, ছিলনা আসল জায়গাতে তাই হতশ্রী একটা ফলাফল আমাদের হাতে এসেছে। ওডিআই আর ৭০টিরও বেশি টেস্ট খেলার পর আমাদের অর্জনই বলে দিচ্ছে প্রতিটি ক্ষেত্রে আমারা কতটুকু ব্যার্থ।
ব্রায়ান লারা থেকে হাল জামানার সচিন টেন্দুলকার সবাই একবাক্যে স্বীকার করেছেন যে, অন্য যেকোনো ফরম্যাটে সফল হতে হলে টেস্ট ক্রিকেট এ ভাল করা ছাড়া উপায় নেই। ২০০০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত আমরা ৭৩ টি টেস্ট খেলেছি তার মধ্যে ৩ টি জয়, ৭ টি ড্র আর ৬৩ টি টেস্টে পরাজিত হয়েছি।
আমাদের ইনিংস ১০০ এর ভিতরে ৮ বার আর ১৫০ এর ভিতরে শেষ হয়েছে ২৬ বার। আবার এই ইনিংসগুলির অধিকাংশই ১ম অথবা ৩য় বার ব্যাটিং করার সময়, এতে একটি জিনিসই ফুটে উঠে যে আমাদের বড় ইনিংস খেলার ব্যার্থতা। প্রশ্ন হল, বড় ইনিংস খেলার সামর্থ্য আসবে কিভাবে? আরও টেস্ট খেলে, ১ম শ্রেণীর মান উন্নয়ন করে, নুতন নুতন খেলোয়াড় তৈরি বা যোগান নিশ্চিত করে?
সব স্তরের নীতিনির্ধারক আর সংশ্লিষ্টরা জানেন আমদের কি করা উচিত ছিল বা ভবিষ্যতে আরও কি কি করা দরকার। ক্রিকেট রাজনিতির পাখায় ভর করে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার আগে বা পরে এমন কিছু কি করা হয়েছে যাতে ভাল কিছু আশা করতে পারি? এই প্রশ্নের উত্তরে শুধুই একরাশ হতাশা ছাড়া আর কিছুই পাওয়ার নেই। ভাল মাঠ ও তার পরিচর্যার অভাব, দায়সারা গোছের বয়স ভিত্তিক খেলার আয়োজন, আর স্বার্থ কেন্দ্রিক জাতীয় ক্রিকেট, স্থবির হয়ে পড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থা আর খেলার মধ্যে বিশাক্ত রাজনীতির অনুপ্রবেশ, দলাদলি আর আঞ্চলিকতার প্রভাব এ সমস্ত কিছুর কারনে আমরা এক পা এগুচ্ছি আর তারপরেই আবার দুই পা পিছিয়ে পরছি।
আইপিএল আর অস্ট্রেলিয়ান বিগ ব্যাশের পর গেল বছর বিসিবিও আয়োজন করল T-20‘র ঘরোয়া আসর বিপিএল, এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে শ্রীলঙ্কা ও ভারতের টেস্ট ক্রিকেট আজ অনেক শক্তিশালী এখন তারা যদি বোর্ডের অ্যাকাউন্ট ভারি করার জন্য T-20 ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজন করে তাতে দোষের কিছুই নেই কিন্তু বর্তমান ক্রিকেট সক্ষমতা নিয়ে আমাদের T-20 নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি দৃষ্টিকটু ও অব্যাবস্থাপনার ইঙ্গিত দেয়। দেশের ৭টি বিভাগীয় শহরে এখনও আন্তর্জাতিক মানের মাঠ নেই সেই সাথে গড়ে তোলা যায়নি আনুষঙ্গিক যোগার যন্তর, অধিকাংশ জেলায় নিয়মিত লীগই হয় না সেখানে অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ বোকামির শামিল।
২৬২টি ওয়ানডে খেলে আমরা মাত্র ৭২টি খেলায় জিততে পেরেছি বাকি ১৮৮টি ম্যাচে আমরা হেরেছি আর ২টি ম্যাচে রেজাল্ট হয়নি, টেস্টের হিসাবত আপনাদের সাথে আগেই শেয়ার করেছি আর যে T-20 নিয়ে আমাদের যে এত লম্ফ জম্ফ সেখানে ১৮ ম্যাচ খেলে মাত্রও ৪ টি জয় বাকি ১৪ খেলায় পরাজয়। ওয়ানডেতে ২৭% আর T-20’তে মাত্র ২২% সাফল্য আমাদের সার্বিক ব্যাবস্থাপনার ব্যার্থতারই প্রমান। সময় এসেছে টেস্টে আরও সময় দেয়ার মাত্র ৫টি টেস্ট (২০১১/১২ মৌসুমে) খেলে আর যাই হউক অন্য ফরম্যাটে সাফল্য আশা করা যায় না।
ক্রিকেটের সার্বিক উন্নতির জন্য বোর্ডকে আরও টেস্ট ম্যাচ আয়োজন করতে হবে, আন্তর্জাতিক মানের মাঠ তৈরি করতে হবে তবেই না খেলোয়াড়রা আরও সামর্থবান হয়ে উঠবে। দিন শেষে ক্রিকেট কিন্তু, কৌশল আর সামর্থের খেলা।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।