আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

অতীব সুন্দরী ললনার সহিত রিকশা ভ্রমণ এবং অতঃপর......

ব্লগার না পাঠক হওয়ার চেষ্টায় আছি গেরাম হইতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হইয়াছিলাম কিছুদিন আগে। হানিফ পরিবহনের বিশাল এক বাসে করিয়া আসিতেছিলাম। বাসে উঠনের আগে মনে মনে দুয়া পড়িতেছিলাম যাতে কুনু আগুন সুন্দরী আমার পাশে বসে! দূরের যাত্রাপথে পাশের সিটে সুন্দরী ললনা বসিলে মধুর টাইম অতিক্রান্ত হয় কি না! কিছু না কিছু কথা তো অবশ্যই হইবে। যেই আশা লইয়া বাসে উঠিলাম, সেই আশা উঠনের লগে লগে “নাসায়” পরিণত হইল। দেখিলাম আমার সিটের পাশে এক বৃদ্ধা আঙ্কেল বসিয়া আছেন! আর কুনু দিকে না চাহিয়া মন-মিজাজ অত্যাধিক খারাপ করিয়া সিটে বসিয়া পড়িলাম।

তখন বাজে রাত্রি ১০ টা। যাহা হোউক, বাস ছাড়িয়া দিল। বাসের লাইট নিভিয়া গেল। আমার চক্ষু বন্ধ। ক্ষণকালের মধ্যে পাশে থেইকা শুনিলাম “আস্তে”।

আড়চোখে তাকাইলাম। দেখিলাম এক জোড়া কপোত-কপোতি বসিয়া আছেন। উহারা এই আন্ধারে কিতা করিতেছিলেন তাহা নিশ্চয়ই পাঠককে বুঝাইতে হইব না! যাহা হোক, উহাদের এই সাউন্ড শুনিয়া আমি চৌক্ষু বন্ধ করিয়া থাকিলেও পিছনের সিটের লুল ভাইয়ারা সশব্দে হাসিতে লাগিলেন। লুল সম্প্রদায়ের এই হাসাহাসিতে কপোত-কপোতিদের উদ্দাম কর্মকান্ড বন্ধ হইল! নাইট-কোচে আসাতে আর তেমন কিছু হইল না। হইলেও রাইতের আন্ধারে আমি মিছাইছি।

যাহা হোক, বাস আসিয়া ঢাকায় থামিল। আমি বাস হইতে নামিলাম। ওইদিন আছিল পহেলা বৈশাখ। তাই ব্যাগখানা বাসায় রাখিয়া বাহির হইয়া পড়িলাম। দিকে দিকে কপোত-কপোতিদের পথচলা দেখিয়া ইহাকে ভ্যালেন্টাইন ডে ভাবিলাম।

মেলাক্ষণ পরে বুঝিলাম ইহা পহেলা বৈশাখ। অধিকাংশ রোমিও ভাইয়া উহার জুলিয়েটকে কঠিন ভাবে জাপটাইয়া ধরিয়া পথ অতিক্রম করিতেছিলেন। পহেলা বৈশাখের সুফল মনে হয় কেবল উনারাই উপভোগ করিতেছিলেন। যাহা হোক, দিকে দিকে সুন্দরীদের আগুন সাজ দেখিয়া ভাবলাম এই বৈশাখে পারলারগুলা কাপাইয়া দিতাছে। আর চারিপাশের অতীব সুন্দরী আফামনিদের দেখিয়া যে আমি কিঞ্চিত লুল হই নাই, তাহা বলা যাইবে না!! আর মনে মনে আপসুস করিতেছিলাম একখান যদি আমারও থাকিত! এই বার আসি আসল ঘটনায়।

একা একা ঘুরাঘুরি করিয়া বাসায় গমন করিতে উদ্যত হইলাম। চাইরদিক প্রায় আন্ধার হইয়া আসিয়াছে। একখান রিকশা ঠিক করিলাম। রিকশা চলিতে শুরু হওয়ার সাথে সাথে এক আগুন আফা মনি আমার সম্মুখে আসিয়া দাঁড়াইলেন। আমার কাছে জানিতে চাহিলেন যে আমি কোথায় যামু।

কথাক্রমে জানিলাম উনার আর আমার গন্তব্য একই। বৈশাখী শাড়ির লগে লাল ব্লাউজ এবং কপালের নীল টিপ দেখিয়া আমি পুরাই লুল হইয়া গেলাম এবং রিকশা হইতে নামিয়া উনাকে উঠার জন্য অনুরুধ করিলাম। উনি উঠনের পরে আমারে উঠিবার কহিলেন। ঘটনায় আমি কিঞ্চিত তব্দা খাইলাম। কারণ, যতদূর জানি আগুন রমণীরা পুলাদের পাত্তাই দেয় না আর ইহা আমার লগে এমুন খাতির করিতেছে।

মনে মনে ভাবিলাম ঈশ্বর বুঝি এই দফায় আমার প্রতি সদয় হইয়াছেন। রিকশায় উঠিলাম। রিকশা চলিতে লাগিল। রমনী উহার খোঁপা খুলিয়া দিয়াছেন। চুল হাওয়া সমেত উড়িতে লাগিল আর ক্রমাগত আমার মুখে মধুর আঘাত করিতে লাগিল।

আমার মুখ ফসকাইয়া অটো পার্থ ভাইয়ের গান ছুটিয়া আসিল। গাহিতে লাগিলাম “দক্ষিণা হাওয়া ওই তোমার চুলে// ছুঁয়ে দিয়ে যায় এলোমেলো করে”। তরুনী আমার এই কর্কশ গানের গলাকেও পার্থের মত কহিলেন। শুনিয়া আমার বুক ফুলিয়া ফাঁপিয়া উঠিল। রিকশায় রমনীর লগে নানান বিষয়ে কথোপকথন হইল।

উহার সাথে কথোপকথনের সময় ভাবিলাম আমার এ জীবন সার্থক। ঘটনা রোমান্টিকতার দিকেই আগাইতাছিল। কিন্তু ক্ষণকালের মধ্যেই আমার মাথায় বাজ পড়িল। কারন হইল- আমাগো রিকশার পিছনে আরেকটি রিকশা আসিতেছিল। আমাগো রিকশা সামান্য অন্ধকারে আসিবা মাত্র পিছন হইতে শুনিলাম “আফা! ব্যাগ পইড়া গেছে!” পাশে বসা আমার জুলিয়েট রিকশা থামাইবার কহিল।

রিকশা থামিবার লগে লগে ভাইয়ারা আমার উপ্রে ঝাপাইয়া পড়িল। উহাদের একটার লগে বিশাল আকৃতির এক ছোঁড়া আছিল। মনে মনে ভাবিলাম এই লুল ভাই-ব্রাদারদের হাত হইতে কেম্নে আমার জুলিয়েটকে আমি রক্ষা করিব। উমা!! বলা নাই কওয়া নাই আমার জুলিয়েট আমার রিকশা হইতে নামিয়া ওই রিকশায় উঠিল। আর এদিকে ভাইয়ারা আমার নিকট হইতে মানিব্যাগ সহকারে মুবাইল সেট ছিনাইয়া লইয়া গেল।

উহারা আমাকে লইয়া হাসিতেছিল। উহারা হাসুক, তাতে আমার কিছু কওনের নাই। তয় আমার জুলি ওগো লগে কি করতাছে এইডা আমি জুলিরে কইবার গেছিলাম। ঠিক মত কওনের আগেই গালের মধ্যে জুলির থাপ্পর অনুভব করিলাম! জুলি কহিল- “ জান নিয়া ফিরবি এইডাই তোর বাপ-দাদার কপাল!” কহিয়া রিকশা সমেত জুলি উহার সাঙ্গপাঙ্গ লইয়া চলিয়া গেল! সব কুল হারাইয়া পথ-ভ্রষ্টের মত আমি হাটিয়া হাটিয়া বাসায় যাইতে উদ্যত হইলাম। বিঃদ্রঃ ইহা শুধুই একখান রম্য গপ্প।

ইহার লগে বাস্তবের কুনু সম্পর্ক নাই। আর গপ্পের মোরাল হইছে ডিজুস যুগে যা করিবেন ভাবিয়া চিন্তা করিবেন। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.