বোরহান সাহেবের একটা বাতিক আছে সংবাদ সংশ্লিষ্ট বাতিক। তিনি খুব ভোরে রেলষ্টেশন চলে যান। ষ্টেশন থেকে স্থানীয় পত্রিকাগুলো কেনেন। সেগুলো নিয়ে বাসায় এসে পড়েন। খুঁটিয়ে খুটিয়ে বানানগুলো দেখেন।
বিকেলে পত্রিকা অফিসে চলে যান। ভুল বানানগুলো সম্পাদকদের দেখান। ঠিক করতে বলেন।
২.
বোরহান সাহেব যে কোন পত্রিকায় আসলে সম্পাদকরা বেশ গুরুত্ব দিয়ে তার কথা শোনেন। নানান অজুহাত দেখান।
একইরকম সুরে প্রায় সবাই-ই বলেন, ভাই সীমিত সামর্থের মধ্যে করতে হয়। একটু আকটু ভুল হবেই।
বোরহান সাহেব পাল্টা যুক্তি দেন। মৃদুস্বরে পাল্টা যুক্তি দেখান, না ভাই। এটা লিফলেট না।
পত্রিকা। এর একটা সামাজিক দায় আছে। সেটা পাশ কাটিয়ে গেলে হবেনা।
এই সব তর্ক বিতর্ক শেষ হয় এককাপ চা পানের মাধ্যমে। তর্কে বিতর্কে না পেরে সব সম্পাদকরাই কাল থেকে আর হবেনা বলে হাসতে হাসতে দায় এড়িয়ে যান।
চিৎকার করে ওঠেন, এই কে আছিস বোরহান সাহেবকে চা দে।
অফিস সহকারিরা কয়েক সেকেণ্ডের ভেতরে চা নিয়ে হাজির হয়।
প্রতিদিনের এই ঘটনা থেকে তাদের এখন মুখস্থ হয়ে গেছে কখন বিতর্ক থামবে। কখন চা লাগবে।
৩.
এভাবেই প্রতিদিন সকাল হয়।
বোরহান হাঁটা ধরেন রেলষ্টেশনের দিকে। একটা গাদা পত্রিকা নিয়ে বাসায় ফেরেন। রাতে হাটা ধরেন, পত্রিকা অফিসের দিকে। সম্পাদকের সাথে তর্কে জাড়ান। সামাজিক দায় বোঝান।
চা খান। চলে আসেন।
৪.
বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকরাও প্রতিদিনের এই ঘটনায় অভ্যস্থ হয়ে গেছেন। প্রতিদির একটা নির্দিষ্ট সময়ে অন্য কাজ রেখে বসে থাকেন। বোরহান সাহেবের দিকে তাকিয়ে থাকেন।
নিজেদের আজকের ভুল জানার অপেক্ষা করেন।
৫.
একদিন সকালবেলা রেলষ্টেশনে বোরহান সাহেব নামে কাউকে দেখা যায়না। অনেকগুলো স্থানীয় পত্রিকা কেনা হয়না কারো। সম্পদকদের অপোর পালা শেষ করে তাদের ভুল ধরাতে কেউ আসেননা। পত্রিকা অফিসে কোন প্রকার বিতর্কের শব্দ পাওয়া যায় না।
অফিস সহকারীদেরও প্রতিদিনকার বরাদ্দ এককাপ চা বানানো হয়না।
সকল সম্পাদক ছোট করে একটা সংবাদ ছাপেন। সংবাদ ছেপে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন, বোরহান সাহেব বেঁচে থাকলে এই বানানগুলো হয়তো ভুল হতোনা।
৬.
এই গল্পের গল্পকার হিসেবে আমারও একটা দায় আছে। আমি পরদিন রেল ষ্টেশনে যাই।
সবগুলো পত্রিকা কিনি। বোরহান সাহেবের মৃত্যুর খবর মনোযোগ দিয়ে পড়ি। সবগুলো পত্রিকায় তার খবরে একাধিক বানান ভুল দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলি, বোরহান সাহেব বেঁচে থাকলে এই খবরটা ছাপানোর প্রয়োজন হয়তো পড়তো না। বোরহান সাহেব বেঁচে থাকলে এই বানানগুলোও হয়তো ভুল হতোনা।
নোট : এই গল্পটি আমার প্রতিবছর বের হওয়া সবগুলো বইতেই নানাভাবে আসে।
এর আগে ছিল : ১.
বোরহান সাহেব বেঁচে থাকলে আমাকে হয়তো পাগল হতে হতো না
Click This Link
২.
বোরহান সাহেব বেঁচে থাকলে হয়তো গল্পটা আরো দীর্ঘ হতো
Click This Link
এবছর আমার বই মাফলার এ আছে :
বোরহান সাহেব বেঁচে থাকলে সময়গুলো হয়তো এভাবে নষ্ট হতোনা
Click This Link
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।