আল্লাহ ছাড়া আর কোন সৃষ্টিকর্তা নেই । হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল । সেদিন আমার স্ত্রীর সাথে একত্রে একটি বই পড়ছিলাম । বইটি মূলতঃ হাদিস, বিভিন্ন সাহাবী এবং মুসলিম মনীষীদের বাণী সম্বলিত বই । সেই বইয়ে হযরত ওমর (রা.) একটি বাণী পড়ে আমার স্ত্রী খুবই আগ্রহ বোধ করে এবং আমাকে তার হক দেন মোহরানা আমার উপর থেকে মাফ করে দেয় অর্থাৎ বিয়ের সময় যে দেন মোহর ধার্য্য করা হয়েছিলো, তার মধ্যে যা বাকী ছিলো তা আমি আস্তে আস্তে তাকে পরিশোধ করছিলাম তার দাবী সে ছেড়ে দেয় খূশী মনে ।
এতে করে আমি একটি বিরাট দেনা থেকে মুক্ত হয়ে গেলাম ও ভারমুক্ত হলাম।
হযরত ওমর (রা.) এর সেই বাণীটি হলোঃ
সচরাচর পাচ প্রকার লোক জান্নাতী হবেঃ
১. যে দরিদ্র ব্যক্তির অধিক পোষ্য (সন্তান) কিন্তু সে আল্লাহর উপর ভরসা রাখে এবং সবর করে ।
২. যে স্ত্রীলোকের স্বামী তার প্রতি তুষ্ট থাকে ।
৩. যে স্ত্রীলোক পরিতৃপ্ত মনে স্বামীর উপর দেন মোহরের হক মাফ করে দেয় ।
৪. ঐ ব্যাক্তি যার মাতা-পিতা তার উপর সন্তুষ্ট থাকে
৫. যে ব্যাক্তি কৃত গোনাহগুলো থেকে খাঁটি অন্তরে তওবা করে ।
সূত্রঃ কুড়ানো মানিক - ৪র্থখন্ড, মাওলানা মুহিউদ্দিন খান । মদীন পাবলিকেশন্স ।
দেন মোহর কিন্তু সহজ বিষয় নয় । অনেকে-ই স্ত্রীর দেনমোহর দেওয়াটাকে জরুরী মনে করে না । অথচ দেন মোহর সম্পূর্ণ আদায় না হলে এবং স্ত্রী যদি তা ক্ষমা না করে , তাহলে সেই স্বামী হাশরের মাঠে একজন জেনাকারী হিসেবে উঠবে ।
আর দেন মোহর অল্প পরিমাণ ধরাই সুন্নত , বেশী করে নয় । তা হলে দাম্পত্য জীবনে বরকত হয় এবং আল্লাহর রহমত হয় । আজকাল বেশী বেশী সাধ্যের অতীত দেন মোহর ধরা একটি ফ্যাশন হয়ে দাড়িয়েছে । যা কোনদিন আদায় হবে না তা ধরার অর্থ কি ? আল্লাহর হুকুমকে সামনে না রেখে যখন দুনিয়ার স্বার্থকে বড় করে দেখা হয় - তখন কি সেরূপ বিয়েতে বরকত ও শান্তি আশা করা যায় ?
যৈাতুক তো ইসলামে নিষিদ্ধ-ই আবার পাহাড় পরিমাণ দেন মোহর ধরাও অনুচিত । ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।