বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান নিম্বাসের প্রহসনমূলক চুক্তি বাতিল করার আহবান জানিয়েছিলাম আমি এই সামু ব্লগে ২০১০ সালের ২৬ অক্টোবর। আমার মতো ক্ষুদ্র প্রাণীর লেখা বিসিবির মতো বিশাল দৈত্যর কানে পৌঁছানোর কথা নয়। কিন্তু সোমবার ১২ ডিসেম্বর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড- বিসিসিআই নিম্বাসের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে। সেখানেও বিসিসিআই'র অভিযোগ - চুক্তি ভঙ্গ করেছে নিম্বাস। Click This Link
আমার সামু ব্লগের গত বছরের লিঙ্কটি দেখুন
নিম্বাসের সঙ্গে ৪০০ কোটি টাকার 'সাদা কাগজ' কেন বাতিল করবে না বিসিবি?
যাদের কাছে বিষয়টি একেবারেই নতুন ঠেকছে, তাদের জন্য সংক্ষেপে একটি চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
অনেকে হয়তো বলবেন, "আমি ক্রিকেট পছন্দ করি না, এ বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামিয়ে লাভ নেই''। কিন্তু আমি বলবো, এর সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ, এমনকি আপনার আমার অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত। আপনার আমার ট্যাক্সের টাকা থেকে কোটি কোটি ডলার ক্রিকেটের পেছনে ব্যয় হচ্ছে। আর কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার জন্য বাংলাদেশ আজ ৪০০ কোটি টাকা হারাতে বসেছে।
নিম্বাসের সঙ্গে চুক্তির ইতিহাস
২০০৬ সালে টেন্ডারের মাধ্যমে জাতীয় দলের সব আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সিরিজ এককভাবে সম্প্রচারের ক্ষমতা পেয়ে যায় নিম্বাস।
অভিযোগ আছে নিম্বাসের চেয়ে অনেক বেশি অর্থের চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল জি-স্পোর্টস আর ইএসপিএন। কিন্তু বিসিবির কর্মকর্তাদের ব্যক্তি স্বার্থের কারণে নিম্বাস জয়ী হয়।
নিম্বাস কী?
নিম্বাস ছিল মূলত একটি ব্রোকার হাউস। তারা যখন ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেট সম্প্রচারের সত্ত্ব কেনে, তখন তাদের কোন টিভি চ্যানেল ছিল না। পরে মূলতঃ এই দু'টি দেশের ক্রিকেট লাইভ সম্প্রচার করে বিশাল অর্থ হাতিয়ে নেয়ার লোভে নিও স্পোর্টস নামক চ্যানেল নিয়ে যাত্রা শুরু করে।
পরে তাদের প্লাটফর্মে যোগ হয় নিও স্পোর্টস প্লাস। পরবর্তীতে নিও স্পোর্টস প্লাস হয়ে যায় শুধু নিও স্পোর্টস, আর নিও স্পোর্টসকে করা হয় নিও ক্রিকেট।
নিম্বাসের চুক্তি ভঙ্গ : বিসিবির স্বীকারোক্তি
৪০০ কোটি টাকার বিনিময়ে নিম্বাস বাংলাদেশের সব আন্তর্জাতিক ম্যাচের প্রচার স্বত্ব কিনে নিয়েছিল। অথচ তারা এ পর্যন্ত অর্ধেক অর্থও দেয়নি বাংলাদেশকে। ২০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ (দেড়শ কোটি টাকার বেশি) বিসিবির হিসাবে নিম্বাসের কাছ থেকে পাওনা বলে জানিয়েছেন বিসিবি সিইও মঞ্জুর আহমেদ।
আর নিম্বাসের হিসেবে তা অর্ধেকেরও কম! সিইও বলেন, আসলে নিম্বাস নিয়ে কথা না বলাই ভালো। এটা এখন খুবই নাজুক একটি বিষয়। আমরা নিম্বাসের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করছি। নিম্বাস খুব একটা আগ্রহী নয়। নিম্বাসের বিরুদ্ধে মামলার কথা থাকলেও সিইও জানালেন কোন অগ্রগতি হয়নি।
বিষয়টি ঝুলে আছে।
চুক্তিটি বাতিল হবে না কেন?
আরে, বিষয়টি ঝুলে থাকবে কেন? সোজা চুক্তিটি বাতিল করে দাও। চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের সব আন্তর্জাতিক খেলা তো বটেই, এমনকি বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটও তাদের লাইভ দেখানোর কথা ছিল। অথচ, নিম্বাস সম্প্রতি শেষ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের খেলা সম্প্রচার করেনি।
দেখুন, ভারতীয় বোর্ড চুক্তি অনুযায়ী ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ শুরুর আগেই নিম্বাস ৫০% অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় সংস্থাটির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে।
অথচ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের টাকা আগে তো দুরে থাক, বছরের পর বছর টাকা বাকি পড়ে গেছে। অথচ বিসিবি কিছুই করতে পারছে না। এর জন্য বিসিবির কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা নিম্বাসের কাছ থেকে ব্যক্তিগতভাবে পকেট ভরে জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এটি কোন সম্মানহানিকর অভিযোগ নয়। আমাদের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি না করাটাই এখন প্রেস্টিজের ব্যাপার।
কিন্তু এখানে অর্থ কিন্তু একটি দু'টি টাকা নয়। যে দেশের মানুষ দুবেলা দুমুঠো খাওয়ার জন্য জীবন দেয়, সেই দেশের মানুষের ৪০০ কোটি টাকা। আমি সংখ্যায় বসিয়ে দিচ্ছি। বুঝতে আরেকটু সুবিধা হবে। ৪০০,০০,০০,০০০ টাকা।
আমার তো মনে হয় হাইকোর্ট থেকে রুল জারি হওয়া উচিত বিসিবির বিরুদ্ধে। আপনারা কী মনে করছেন?
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।