আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

আমাদের ভর্তুকির জন্য সোনা অথবা হীরার খনি দরকার ।

জীবন চলা মানে প্রতিক্ষন জীবনান্তের দিকে এগিয়ে চলা গত দুইদিন থেকে দেখছি প্রথম আলোয় রেন্টাল বিদ্যুৎ, ভর্তুকি, তেল ক্রয়, পরিবহন ব্যবস্থা, ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বিপিসি, পিডিবি, নৌপরিবহন, রেল পরিবহন, সবাইকে জড়িয়ে খবর যা হয়েছে আসলে তা জগাখিচুরির নামান্তর । আজকে আবার সম্পাদকীয় লেখা হয়েছে কড়া ভাষায়, তথ্যের উপর ভিত্তি করে, তবে তথ্যগুলো যাচাইয়ের বিষয়ে কিছু নেই। আমার মনে হয়েছে অনেক মূল বিষয় এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে । প্রথমে আসি ভর্তুকির কথায় । বিপিসির চেয়ারম্যন মেজর মুক্তাদির বলেছেন প্রতি লিটার ডিজেলে ২২ টাকা এবং প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলে ৮ টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয় কিন্তু স্বপক্ষে কোন হিসাব উত্থাপন করেন নাই।

যেমন, আমদানী ব্যয় কত বিদেশী ট্যংকার এর ভাড়া কত, ওনাদের অপপরিকল্পনার জন্য আউটার এ্যাংকরেজে ট্যাংকারে কার্গো হোল্ড হওয়ার কারনে প্রতিদিন প্রায় যে, ১০০০০ ডলার জরিমানা গোনা হয় তার খরচ, ১৫ ডিগ্রীতে তেল এনে ৩০ ডিগ্রীতে বিক্রয়ের লাভ এবং সরকারকে বিভিন্ন ধরনের কত ট্যাক্স দেওয়া হয় । এগুলির তথ্য ভিত্তিক কোন ডাটা নেই। সুতরাং ওনারা যদি বলেন প্রতি লিটারে ৫০০ টাকা ভর্তুকি দেন তাহলে তাই সই। সরকার তেল ক্রয়ে ভর্তুকি দিচ্ছে, আবার রেন্টাল পাওয়ার থেকে, যে, বিদ্যুৎ ক্রয় করা হচ্ছে, সেখানে ভর্তুকি দিচ্ছে, রেন্টাল পাওয়ার শ্টেশনে তেল পৌছাবার জন্য নদী খননে অর্থ ব্যয় করতে হবে । আবার যেখানে নদী নেই সেখানে রেল বসাতে অনেক অর্থ ব্যয় করতে হবে ।

তেল পরিবহন করার জন্য ওয়াগন এবং ইঞ্জিন কিনতে অনেক টাকা ব্যয় করতে হবে । এত ব্যয় করে যে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে তা দিয়ে পন্য উৎপাদন করে এবং রফতানী করে কি সেই টাকা আয় হবে ? এককথায় অসম্ভব । অথচ আমরা জানি শিল্প কারখানা গড়ে তোলার জন্য প্রথম ও প্রধান শর্ত হচ্ছে নৌ, রেল, ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা আছে কিনা তা বিবেচনা করা ? এর উদ্যেশ্য হল যাতে সহজে এবং সল্প ব্যয়ে কাঁচামাল সংগ্রহ ও উৎপাদিত দ্রব্য ( এখানে বিদ্যুৎ ) সরবরাহ করা যায় । কেন রেল যোগাযোগ এবং নদী খননে অর্থ ব্যয় করতে হবে ? কেন তেলে এবং বিদ্যুৎ ক্রয়ে ভর্তুকি দিতে হবে? বাংলাদেশ কি সোনার অথবা হীরার খনি পেয়েছে ? প্রতিটা বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে রাজনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় এবং ব্যক্তি স্বার্থ বিবেচনায় । ভর্তুকির টাকা উঠানো হবে সেই জনগনের ট্যাক কেটে তাহলে কেন এই অনাচার ? অথচ সবার চেয়ে জরুরী যা সেটা হল ঢাকা চিটাগাং রেল লাইন ডবল করা কিন্তু তা সহজে করা হবেনা তাতে যে জনগনের সুবিধা হয়ে যাবে।

এখন কোন বগি লাইনচ্যুত হলে সময় সময় ২৪ ঘন্টাও লাইন বন্ধ থাকে তাতে কার কি? পরিবার পরিজন বাচ্চা কাচ্চা নিয়ে দুর্ভোগে পড়ে অসহায় নিরীহ সাধারন মানুষ তাতেই বা কার কি? আঞ্চলিকতার স্বার্থে অন্ধ নেতারা দেশের কথা ভাবলে যত্র তত্র পাওয়ার শ্টেশনের অনুমোদন দিতেন না, আবার প্রয়াত অর্থ মন্ত্রী এম সাইফুর রহমানও ঢাকা চিটাগাং লাইন ডবল না করে আখাউড়া বাইপাস লাইন নির্মান করতেন না নিজের দেশ সিলেটে যাওয়ার জন্য, কারন টাকাটা তো ওনার ছিলনা সেটা ছিলো জনগনের । দুটোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পার্থক্য বোঝার জন্য তেমন জ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না । ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।