ভুল করেছি,প্রায়শ্চিত্য করবো না, তা তো হয় না আমি যে ইউনিতে আছি সেটাতে মেকাট্রোনিক্স বিষয়ে পিএইচডিতে অধ্যয়নরত মায়ানমারের এক মেয়ে আছে যার ৩ বছরের ছেলে ইয়াংগুনে বাপের কাছে. বছরে ২টা ভেকেশনের টাইমে দেশে যায়. কেন বাচ্চাকে নিজের সাথে আনেন নি? এই প্রশ্নের উত্তরে উনি বলেছিলেন, এখানে ডরমে ১রুম বিশিষ্ট কক্ষে নিয়ে আসলে সেক্ষেত্রে আমি কোনটা রেখে কোনটা করব... রান্নাসহ সব কাজ নিজেকে করতে হয়, আবার দিনের বেলাটা যখন ল্যাবে কাটাতে হয় তখন বাচ্চাকে কে দেখবে ! এরচেয়ে বরং দেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক বাপ এবং অন্যান্য স্বজনদের কাছে অনেক ভাল আছে. আমার পরিচিত আর এক বড় আপু উনি বিয়ের ১০ দিনের মাথায় উচ্চশিক্ষার জন্য স্বামীকে ঢাকায় রেখেই চলে এসেছেন. আর সবার স্কলারশীপ মানি তো অনেক হয় না যে চাইলেই দেশে যেতে পারেন ফলশ্রুতিতে অনেকেই প্রিয় মানুষটির আদর সোহাগ থেকে বঞ্চিত হোন. চীনে আসার সময় বেইজিংয়ে আর এক আপুকে দেখেছিলাম সেও বিবাহিত এবং এখানে পিএইচডি করার জন্য একাকী চলে আসতে হয়েছে. বারিধারা চীনা এ্যাম্বাসিতেও একজনকে দেখেছিলাম উনি তার পিচ্চি বাচ্চার দুই ডানা ধরে উঁচু করে তুলে ধরেছে যাতে চেয়ারে বসা চীনা মহিলাটি দেখতে পায়. আগের বছর পিএইচডির জন্য যখন এসেছিল তখন একা একাই আসতে হয়েছিল, পরের বছর স্বামীর জন্য স্কলারশীপ ম্যানেজ করে বাচ্চা ও জীবনসঙ্গীকে কাছে পেতে চায়. আমার ফ্যামিলির একজন সামনে মেরিকাতে যাচ্ছে পিএইচডি করতে কিন্তু ফান্ডের পরিমাণ এমন যে তা দিয়ে একজনের চলবে. উজ্জল ভবিষ্যতের আশায় এই কপোত কপোতী যে ত্যাগ স্বীকার করতে যাচ্ছে সেই স্বপ্ন পূরণ হোক, হাতছানি দেওয়া উজ্জল ভবিষ্যত তাদের করায়ত্ত হোক. যারা অবিবাহিত তাদের ক্ষেত্রে এত ঝামেলা নাই, যখন যেখানে ইচ্ছা যেতে পারে...রশির গিট্টুতে বিবাহিতদের মত টান পড়ে না :p
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।