"মাসুদ পারভেজ মিঠু" দ্যা "পেক পেক পেক" বয়!!!
আমার বাচ্চাকালের সময়টা ছিল চরম সুখ দুঃখের মিশ্রনে ভরা। ক্লাশ টু'তে পড়ার সময় আমারই ক্লাশের এক বড় ভাইয়ের সিগারেট খাওয়া দেখে আমারও কচি মনে উদয় হইছিল কিঞ্ছিত সুখ স্পর্শ করতে। আল্লাহর রহমতে সেই সময় টানি নাই। তাই আজ পর্যন্ত ঠোটগুলা কিঞ্ছিত গোলাপি আছে !
ক্লাশ ৪ কি ৫ এ আমার মধ্যে লুলামি ভাবটা কিছু পরিমানে আসছিল। আর সেটা হয়েছিল আমার মায়ের ভাই অর্থাৎ আমার মামা'র কারনে।
উনি ছিলেন আমার প্রথম শিক্ষক। আমি যাতে উনার পড়া জলদি শেষ করি সেজন্যে তিনি আমাকে ভিডিও ক্যাসেটের লোভ দেখাতেন। বলতেন "ঝিঝি, জলদি জলদি পড়া শেষ করে নাও, আজকের ছবিটা অনেক সুন্দর!" আমিও চরম উত্তেজনায় ধুমাইয়া পড়া শেষ করতাম! ১৯৯৮-৯৯ সালের দিকে মনে হয় বাংলা ছবি মোটামুটি রক্ষনাত্মক ছিল। তাই বেশী কিছু দেখাইত না। এইজন্যই মনে হয় মামা আমারে নিয়া একলগে ছবি দেখত।
মাঝে মাঝে নাচের সময় নায়িকার স্কার্ট হাটুর উপরে উঠলে বা শুইয়া থাকলে শরীরে বিশেষ কোন পরিবর্তন হইলে মামা বলতেন "ঝিঝি, আজ অনেক হইছে যাও পড়তে যাও। " তখন যে কি পরিমানে মন খারাপ লাগতো। তখন থেকেই মনে উদয় হইছিল লায়ক (নায়ক) হবার স্বপ্ন। ভাবতাম যদি একবার নায়ক হইবার পারি তখনই তো শুইতে (তখনকার শুয়া যে এখনকার অনেক কিছু তা জানা ছিল না), মধুমাখা কথা বলতে পারুম। ভাবতেই জানি কেমন উত্তেজনা উত্তেজনা লাগত।
আর সেই সময়ে সালমান শাহ - মৌসুমির যুগ চলতেছিল (যদিও সালমান গত হয়েছিল) তখন আমি নিজেরে সালমান শাহ আর আমার মা'কে মৌসুমি কল্পনা করতে লাগলাম। আম্মুকে বলতাম "আম্মু, তুমি আজ থেকে মৌসুমি আর আমি সালমান শাহ!" এখন না বুঝি তখনকার অই মাছুম বাচ্চাওয়ালা কথার জন্য এখন আমাকে সবার কত কথা (জ্বালা) সইতে হয়। এখনো আমার খালারা আমাকে ব্যাঙ্গ করে সালমান শাহ বলে।
যাই হোক, নায়ক হবার ইচ্ছে আমার মন থেকে গত হয়েছে দিলদার নায়ক হবার পরে। ও মনে হয় "আবদুল্লাহ" নামের একটা ছবিতে নায়ক হইছিল।
তারপর থেকে মনে আর বাসনা জন্মায় নাই। কিন্তু অন্য বাসনা তো আজো রয়ে গেল। কি যে করি।
হাগু কাহিনিঃ
শালার বাচ্চাকাল। প্যান্টে হাগু করতে করতে কাটালাম।
কতবার যে স্কুল থেকে আসতে, বা বাসার গেটের সামনেই প্যান্টে হাগু করছি তার ইয়ত্তা নাই। আমি এখনো বুঝি না, স্কুলে যাওয়ার আগে কত চেষ্টা করতাম সব ক্লীয়ার করে যেতে; কিন্তু না, তখন ক্লীয়ার হতই না। ওদেরও যেন ইচ্ছে ছিল স্কুলে গিয়ে ক্লীয়ার হবার। ৫ম শ্রেনীতে পড়ার সময় একদিন ২য় সাময়িক পরীক্ষা চলাকালে প্রকৃতি আমাকে অনেক ডাকাডাকি করতেছিল। আমি না পারতেছি পরীক্ষা রেখে বাসায় আসতে না পারতেছি প্রকৃতির ডাককে অবজ্ঞা করতে।
স্কুলের বাথরুম যাওয়ার মতো উপযুক্ত ছিল না বিধায় এই টেনশন মাথায় ভর করছিল। কি আর করা। কোনমতে আকাবুকি কইরা রিকশা নিয়া বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হইলাম। সেইসময়ের রিকশা ভ্রমণ ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বাজে ভ্রমণ। একটা করে ঝাকি খায় আর আমার প্রানপাখি উড়ে যায় যায় অবস্থা।
বাসার কাছাকাছি আসতে আমার অবস্থা করুন। সিড়ি দিয়ে ৩য় তলায় গিয়ে কলিং বেল বাজালাম। গেট খুলতে খুলতে কাজ ক্লীয়ার! বাসার সবাই তখন যে পরিমানে হাসাহাসি করতেছিল মন চাইছিল আল্লাহকে বলি "আল্লাহ আমারে উঠাইয়া নাও নাইলে দড়ি ফালাও, আমি বাইয়া উঠি"
সেইদিনের মতো আরো অনেকবার হইছে। কিন্তু এত বাজে অবস্থায় হয় নাই।
এই কথাগুলা এখনো মনে পড়লে মনটা অনেক ভালো হয়ে যায়।
তখন মনে হয় যে একটা কথা ঠিকই "যায় দিন ভালো, আসে দিন খারাপ"
ভালো থাকবেন সবাই।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।