আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বিমানবন্দরে কেন এই নোংরামি? গভীর রাতে তথাকথিত কতিপয় সাইনবোর্ডধারী ক্রিকেটভক্তের অশোভন আচরণ শাকিবদের উদ্দেশ্যে!

ঘটনা যদিও ক্রিকেটকেন্দ্রিক। কিন্তু এতে দেশের মান ইজ্জত-সম্মান নিয়ে টান দেয়ার উপক্রম হয়েছে। প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, কেন এই নোংরামি? বাংলাদেশ জাতীয় দল গভীর রাতে দেশে ফেরার পর ক্রিকেটারদের উদ্দেশ্য করে অশালীন ব্যানার, ফেস্টুন প্রদর্শন, অকথ্য ভাষায় সেস্নাগান কোন সভ্য দেশে ঘটতে পারে না। কিন্তু তাই ঘটল এবার জিম্বাবুইয়ে থেকে শাকিবরা দেশে ফেরার পর। যা নিন্দনীয়, কোনভাবেই সমর্থন যোগ্য নয়।

ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত, ক্রিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কতিপয় ব্যক্তি এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তাদের ইন্ধনেই ঘটেছে এই অপ্রতিকর ঘটনা। তা না হলে রাত জেগে কোন ক্রিকেট দর্শকের ঠেকা পড়েনি অবাঞ্ছিত এই ঘটনার সঙ্গে নিজেকে জড়িত করার। জানা গেছে ভাড়া করা লোক দিয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে সর্বজন নিন্দিত এই ঘটনা। যা ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে দেশের।

যদিও তা ক্রিকেটারদের উদ্দেশ্য করে। কিন্তু এই ঘটনা শুধু ক্রিকেটার নন, গোটা জাতির জন্য লজ্জার। দেশের ক্রিকেটকে ডুবানোর পাঁয়তারা করা হয়েছে অবাঞ্ছিত এই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে। বাংলাদেশ দল জিম্বাবুইয়ের বিরম্নদ্ধে বাজেভাবে হেরেছে এটা সত্য। কিন্তু অতীতে এর চেয়ে বাজে হারার রেকর্ড রয়েছে।

কিন্তু তখন তো এ ধরনের কোন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেনি। সঙ্গত কারণে ধরে নেয়া যায় এবার যা ঘটল এই অবানত্মর গল্পটি আগে থেকেই সাজানো। পাড়া-মহলস্নায় ডাক দিয়ে রোজদারদের সেহরি খাওয়ানোর জন্য ওঠাতে ব্যসত্ম স্বেচ্ছাসেবীরা (এলাকারই ব্যক্তিবর্গ) ঠিক তখন বাংলাদেশ দল হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। আর তখনই তথাকথিত এসব নামধারী ক্রিকেট ভক্ত-সমর্থক মানববন্ধনে ব্যসত্ম। ক্রিকেটারদের ধিক্কার দিচ্ছেন।

মুখে অকথ্য ভাষায় গালাগালি। হাতে ছিল জুতা, ঝাড়ু, লাঠি। এসব ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এই অন্যায় প্রতিবাদের ধিক্কার দিচ্ছেন দেশের সচেতন মানুষ তথা ক্রীড়াপ্রেমীরা। বাংলাদেশ দল ব্যর্থ হয়ে ফিরেছে ঠিক। লজ্জাও দিয়েছে তারা, নিজেরাও নিঃসন্দেহে পেয়েছেন লজ্জা।

তাই বলে দেশে ফেরার পর এ ধরনের অচরণ কারও কাম্য হতে পারে না। কেউ তা প্রত্যাশা করেননি। কার্যত তা সমর্থনও করছেন না কেউ। অনাকাঙ্ৰিত এই ঘটনা সবাইকে হতবাক করেছে। অনেকেরই প্রশ্ন কেন বাংলাদেশ দল তিনটার পর দেশে পা রাখে, রোজার মধ্যে।

সেহরির সময় ঘনিয়ে আসার এমন মুহূর্তে দলকে নিন্দা জানাতে সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমী, ভক্তদের বিমানবন্দরে থাকার কথা নয়। এমনকি তারা ছিলেনও না। আর অতি উৎসাহী হয়ে কেউ এলেও তাদের হাতে ব্যানার, জুতা-ঝাড়ু থাকার কথা নয়। কার এত দায় পড়েছে যে রাতের ঘুম নষ্ট করে ক্রিকেট দলকে ধিক্কার দিতে বিমানবন্দরে আসতে হবে। কিন্তু এমন দৃশ্য দেখার পর মনের ভেতর উঁকি দিচ্ছে সন্দেহ।

সচেতন মহলের ধারণা এটা 'সাবেটাজ' ছাড়া আর কিছুই নয়। আর এই নির্লজ্জ ঘটনার পেছনে ক্রিকেট সংশিস্নষ্টরাই জড়িত। যাদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব থাকতে পারে বিসিবির বর্তমান কমিটির সঙ্গে বা কমিটিতে থাকা কোন কর্মকর্তার সঙ্গে। তারই প্রতিশোধ হিসেবে এই লজ্জাজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে। মোদ্দা কথা এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং পূর্ব পরিকল্পিত।

এমন পরিস্থিতি সৃস্টি করে সুযোগ নিয়েছে তারা ক্রিকেটে গোলযোগ সৃস্টির। যারা এই সুযোগে নিয়েছেন নিঃসন্দেহে তারা ক্রিকেটকে লজ্জিত করতে চাচ্ছে। ক্রিকেট বোর্ডকে লজ্জায় ফেলতে চাচ্ছে। আর তাদের ভাবনাতে নিশ্চয়ই এটাও কাজ করেছে ক্রিকেট বোর্ড এবং ক্রিকেটকে বেকায়দায় ফেলতে পারলেই দেশের ইজ্জতও ধ্বংস করা যাবে। পুরোপুরি না গেলেও সামান্য অাঁচ ফেলা যাবে।

ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান অগ্রযাত্রাকে নস্যাৎ করতে এই অপপ্রায়াস। এরা কারা? তা এখন বের করতে হবে। এখনই সময় ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে যারা এ রকম মান-সম্মানহানিকর কাজ করেছে তাদের ঘাড় ধরে বের করে দেয়ার। নয়ত আগামীতেও তারা এ ধরনের ঘটনা যে ঘটাবে না এই গ্যারন্টি কেউ দিতে পারবেন না। যদিও তারা নিজেদের ক্রিকেটের ভক্ত-সমর্থকও মনে করেন।

অতি উৎসাহী হয়েই নয়, দিবালোকের মতোই সত্য ইচ্ছাকৃত তারা ব্যানার নিয়ে মধ্য রাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত হন। তাদের কথা বার্তাতেও সন্দেহ সন্দেহ বিরাজমান ছিল। সাজানো গোছানো পূর্ব পরিকল্পিত বলেই যা মনে হয়েছে। এর চেয়ে খারাপ অবস্থা দলের হয়েছে। টি২০ বিশ্বকাপেও এর চেয়ে খারাপ অবস্থা হয়েছে দলের।

কিন্তু উৎসাহী মহলের এমন তৎপরতা চোখে দেখার মেলেনি। হঠাৎ করে এবার জিম্বাবুইয়ের বিরম্নদ্ধে সিরিজ হারাতেই এমন উৎসাহী জনতার অভাব হলো না কেন? দল হেরেছে বলে। তা হারতেই পারে। এর আগেও বহুবার হেরেছে। ক্রীড়াঙ্গনে দলাদলি নিত্য চিত্র।

ক্রিকেটও এর বাইরে নয়। বর্তমান কমিটিবিরোধী লোকজনেরও অভাব নেই। বিসিবি কর্মকর্তারা বিরোধী পৰের দিকেই ইঙ্গিত করছেন। বোর্ডকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্যই যে এমন লোক দেখানো কার্যক্রম করা হয়েছে তাই জানিয়েছেন একাধিক কর্মকর্তা। একেবারে নিন্দনীয় ঘটনা ঘটিয়েছেন এই সচেতন ক্রিকেটানুরাগী মহল।

বাংলাদেশ বিশ্বকাপে দ্বিতীয় পর্বে উঠতে পারেনি এবার ঠিক। কিন্তু ইংল্যান্ডের মতো দলকে হারিয়ে আনন্দে ভাসিয়েছে। নিউজিল্যান্ডের মতো দলকে হোয়াইটওয়াশ করেছে। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টেস্ট এবং ওয়ানডে সিরিজেও হারিয়েছে। সম্মান এনেছে।

একটি সিরিজে ব্যর্থ হলেই এখন সব শেষ হয়ে যাবে। তা নয়। কিন্তু এই ব্যর্থ সিরিজকে কেন্দ্র করেই অনেকে এখান থেকে ফায়দা লোটার চিনত্মাভাবনা করছে। যার বিরম্নদ্ধে এখনই দাঁড়াতে হবে। নয়ত পরের সুযোগটি তাদের করে দেবে আরও অতি উৎসাহী।

বিপদ হবে ক্রিকেটেরই। ভাবমূর্তি নষ্ট হবে দেশের। কেন এই নোংরামি। এটি বের করার সঙ্গে চিহ্নিত ব্যক্তিদেরও বের করত হবে। সৌজন্নে ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.