সামান্য একটি মোবাইল সেটের জন্য তিন বন্ধু মিলে জবাই করে হত্যা করে সোহাগী আক্তার মুক্তাকে। সেই মোবাইলের সূত্র ধরে ওই তিন হত্যাকারী ও তাদের এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ টিম। দীর্ঘ ৪ মাস আগে পতেঙ্গার সী-বীচ এলাকার নির্জন স্থানে সংঘটিত ওই হত্যাকাণ্ডের আগাগোড়া বর্ণনা দিয়ে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত তিন খুনি ১৬৪ ধারায় আদালতিক জবানবন্দি দিয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট জসিম উদ্দিনের আদালতে এই জবানবন্দি দেয়া হয়। জবানবন্দি প্রদানকারী আসামিরা হচ্ছে-চাঁদপুরের আমান উল্লাপুর এলাকার সফিকুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ (১৯), কাটগড় মুসলিমাবাদ এলাকার নুর মোহাম্মদের ছেলে মোহাম্মদ আবদুল করিম (২০) ও যশোরের ভাল্লুকঘর এলাকার আবদুল জলিল সর্দারের ছেলে মোহাম্মদ জাকির হোসেন (২০)।
গ্রেপ্তারকৃত অপর আসামি হচ্ছে-হালিশহর নাথপাড়া এলাকার মোহাম্মদ নুরুল আলমের ছেলে মোহাম্মদ মোছাদ্দেক আনোয়ার (৩২)। মোছাদ্দেক হত্যাকারীদের আশ্রয় ও চিকিৎসা করিয়েছিলেন বলে জানিয়ে পতেঙ্গা থানার এস আই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আকতার হোসেন জানান-মুক্তাকে হত্যার সময় আবদুল করিম হাতে আঘাত পেয়েছিল। তার চিকিৎসা করায় এবং আশ্রয় দেয় মোছাদ্দেক। তাই তাকেও আমরা গ্রেপ্তার করেছি।
আদালতে বিচারকের সামনে তিন খুনিই একই ধরনের জবানবন্দি প্রদান করেছে।
জবানবন্দিতে তারা জানায়-গত ১৪ এপ্রিল ১লা বৈশাখের দিন দিবাগত রাত সোয়া ৭টার দিকে আমরা তিনজন মিলে সী-বীচের পূর্ব পার্শ্বে যাই। জায়গাটা অনেকটা নির্জন। ওই স্থানের আশপাশের এলাকায় ভাসমান পতিতা সোহাগী আক্তার মুক্তাকে ঘুরতে দেখি। হাতে একটি মোবাইল ছিল তার। মাথায় ঢুকে ওই মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার চিন্তা।
মুক্তার সাথে কথা বলি আমাদের সাথে যৌনকর্মে যাবে কিনা। ৩শ টাকায় যেতে রাজি হয়।
কিন্তু আমাদের পকেটে সব মিলিয়ে ছিল ৫০ টাকা মাত্র। ওই স্থানের নির্জন পুকুর পাড়ে টয়লেটের পাশে তাকে আমরা ডেকে নিই। এ সময় মুক্তা আমাদের কাছ থেকে অগ্রিম ৩শ টাকা পরিশোধের কথা বলে।
তারা আরো জানায়-আসামিরা অগ্রিম টাকা দিতে অস্বীকার করে এবং মুক্তাকে তিনদিকে ঘিরে ধরে তার মোবাইল দিয়ে দিতে বলে। এই অবস্থায় মুক্তা চিৎকার করা শুরু করলে আসামিরা দুই দফায় তার মুখ চেপে ধরে। এরপরও সে চিৎকার শুরু করলে মুক্তাকে মাটিতে ফেলে দিয়ে আসামি করিম তার গলা ও হাত চেপে ধরে। মামুন চেপে ধরে দুই পা। আসামি জাকির তার প্যান্টের পকেটে থাকা স্টিলের ছোরা বের করে মুক্তার গলায় বসিয়ে দেয়।
কয়েক দফা ছুরি চালিয়ে তার গলা কাটা হয়। ঘটনাস্থলেই মারা যায় মুক্তা। পুলিশ অজ্ঞাত হিসেবে তার লাশ উদ্ধার করার পর ওই কিশোরীর পরিচয় বের করতে সক্ষম হয়।
এস আই আকতার হোসেন জানান-ওই কিশোরীর সাথে মোবাইল থাকার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে আমরা ওই নাম্বারে ফোন করি। কিন্তু বন্ধ পাওয়া যায়।
দীর্ঘদিন পর মোবাইলটি ওপেন করলে বিশেষ পদ্ধতির সাহায্যে আমরা পৌঁছে যাই খুনিদের গ্রেপ্তার করা পর্যন্ত।
গত সোমবার চারজনকে গ্রেপ্তার করার পর গতকাল সিএমপি সম্মেলন কক্ষে তাদেরকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি করা হলে হত্যার কথা এখানেও তারা স্বীকার করে।
পুরো ঘটনার জট খুলতে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে নেতৃত্ব দেন সিএমপি কমিশনার আবুল কাসেম। অতিরিক্ত কমিশনার সফিকুল ইসলাম, ডিসি পোর্ট কুসুম দেওয়ান, এসি পোর্ট শাহরিয়ার আলী, এসি (ডিবি) পোর্ট মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী, এস আই (ডিবি) আজিজ আহমেদ ও তদন্ত কর্মকর্তা।
পুলিশ ও আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিতে আসামিরা জানায়-মোবাইলটি কেড়ে নিতেই আমরা তাকে ওই স্থানে নিয়ে যাই।
কিন্তু চিৎকার করার কারণে লোকজনের গণপিটুনীর ভয়ে মুক্তাকে জবাই করে হত্যা করি।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।