আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

হাজারীবাগ টু গাবতলী- ছেলে তো নয় যেন আগুনেরই গোলা !!!

যা করি স্বপ্নেরও অতীত, বাস্তবতার স্পর্শবিহীন। আজ সন্ধ্যায় বেড়িবাঁধের ভোরের আলো হিউম্যান হলার নামক যানটিতে চড়ে আসতে হল, কারণ একটাই আগামীকাল হরতাল। সো একমাত্র বাস সার্ভিস ব্রাদার্স পরিবহণ অফ গেছে বিকাল থেকেই। সো কি আর করা উঠে পড়লাম, নতুবা সচারাচর আমি এই খোলামেলা ক্ষুদ্র বাহণটিতে উঠতে ইচ্ছা প্রকাশ করি না। কারণ, একে তো চাপাচাপি, ৭ জন বসবার জন্য বরাদ্দকৃত আসনে আমার মত শুকনা টাইপের লোক বসলে তবুও বসা যায়, একটু স্বাস্থ্যবান ২/৩ জন হইলে ৫-৬ জনের বেশি যে বসা যায় না, সেটি ঢাকা শহরের প্রায় প্রতি লোকেই জানে।

তার উপর যারা বেড়ীবাঁধের রাস্তায় কখনো ভ্রমণ করেছেন তারা জানেন যে কি পরিমাণ বালুকণা, ধুলিকণা ঐ রাস্তায় ঘোরাঘুরি করে। যাই হোক আজকের কাহিনীর শুরুতেই লেগুনার হেল্পার উঠল সিগারেট খাইতে খাইতে। মানুষ সিগারেট খাইতেই পারে, কিন্তু পোলার বয়স মাত্র ১০ কি ১২!!! কয়েকজন ওরে কয় কিরে, "এই বয়সেই এই সব কি খাস, এইসব খাওয়া ঠিক না, হেন তেন"। এক আজিব পাবলিকে কয়, "খায় তো কি হইছে? আইজ কাইল অনেকেই খায়। " ৯৫% লোকই নাকি সিগারেট খায় আজ।

যাই লোকজন শেষে তারে ধমক লাগায়(!!)। কেউ কেউ জিগায় হেল্পার পিচ্চিটারে কইল বিয়া করছে কিনা। কেউ কয় বিয়া কইরা ফেল। বুঝ ঠেলা!! লেগুনায় অসম্ভব ঠেলাঠেলিতে এমন কথাবার্তায় ভালোই মজা পাচ্ছিলাম বৈকি। কিন্তু কাহিনী এখানেই খতম নয়!! ছেলে তো নয় সে যে আগুনেরই গোলা!! রায়ের বাজার থেকে এক ব্যক্তি উঠছে বুদ্ধিজীবি স্মৃতিসৌধ নামবে, সে ২ টাকা দেয় পোলায় নিব না।

কেন? লেগুনার সর্বনিম্ন ভাড়া নাকি ৫ টাকা!!! উঠ আর ৫ টাকা দিয়া নেমে যাও। "মগের মুল্লুক?", লোকটা চেচায়, কিছু যাত্রী সমর্থন দেয় তাকে। কিন্তু হেল্পার ছোকড়া ছোট হলে কি হবে? সে বকবক করতেই থাকে। লোকটা অগত্যা রেগেমেগে মাঝ রাস্তায় নেমে পরে। আমি চুপচাপ শুধুই দেখে যাই এসব।

রাস্তা বাড়ে, যাত্রীর সংখ্যাও পাল্লা দিয়ে বাড়ে। ১৪ জনের আসন ব্যবস্থাসম্পন্ন গাড়ি। তাই হেল্পার বলে "ভাই চাইপ্পা বসেন", ড্রাইভার বলে "ঐ চাপাইয়া বসা"। আর চাপাচাপিতে আমার মত পাবলিকের অবস্থা চিড়েচ্যাপ্টা। শেষদিকে মোহাম্মদপুর-বসিলা মোড়ে এসে লেগুনার যাত্রীসংখ্যা ২০ এ দাড়াল।

একেই বলে হরতালের আগের রাত্রি। ভয়ে ছিলাম লেগুনা বুঝি উল্টেই যায়। কিন্তু যায় নি ভাগ্য ভাল, নইলে আজ আর লিখতে পারতাম না। ৪ ব্যক্তি লেগুনায় ঝুলে ঝুলে এসে গাবতলির আগে সিট পায়, হেল্পারের মতে তাদের ভাড়া ২০ টাকা, কিন্তু তারা দিবে ১৬ টাকা। কারণ তারা ঝুলে আসছে।

সেই নিয়ে ক্যাচাল। যাত্রী ঠেলেই ৭ জন বসাবে, ও দেখবেই না যে সপ্তম জন য ২ জনের কোলের ওপর বসে যায়। ওর কথা হইল ৭ জনের সিট লেখা!!! কি আশ্চর্য!! সারা রাস্তায় আমাদের এই আগুনের গোলার সাথে কোন না কোন যাত্রীর ক্যাচাল ছিলই!! কিন্তু একজন শুভাকাঙ্ক্ষী পোলা ঠিকই পেয়েছিল। এক রমণী ওঠে, যার মতে,"ও ছোট মানুষ, ওর সাথে তুলনা করলে কি হয়? ও তো তেমন কিছু বুঝে না", কিন্তু অন্য যাত্রী দ্বিমত পোষণ করে। তার মতে, "ও বেশি বোঝে, নইলে ওরে সবাই আদর করত"-কথা সত্য।

চাপাচাপির মধ্যে সারাক্ষণ ঐ পোলার চাপার জোড় আর যাত্রীদের সাথে বচসা শুনতে শুনতে গাবতলী এসে পৌঁছাই। ততক্ষণে ধুলায় মেখে আমি একাকার। আরেক বাসে চড়তে হবে, কাল হরতাল, রাস্তায় গন্ডগোলের অজানা আশঙ্কায় পেছনে ফেলে আসি- সেকসন টু গাবতলী হিউম্যান হলার ওরফে লেগুনার আগুনের গোলাটিকে। এই অল্প বয়সে ওদের মত শিশুরা অনেক দেখে ফেলে। তাই ওরা আর ছোট থাকে না, হয়ে ওঠে অ্যাডাল্ট।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।