সবুজের বুকে লাল, সেতো উড়বেই চিরকাল ইচ্ছা থাকলেও সময়ের অভাবে ব্লগে আসা হয়ে উঠেনা। তার উপর আবার, যখন তখন সামু কোমায় চলে যায়। তাই লিখতে ঢুকলেও উপায় থাকে না।
লেখাটি শুরু করছি অন্তরের অন্তস্থল থেকে ধন্যবাদ জানিয়ে। প্রাপক ব্লগার তীর জ়োক ভাই, যিনি মুল্যবান সময় ব্যয় করে, আমার জন্মদিনে আলাদা একটি পোস্ট দিয়েছিলেন।
লেখক হিসাবে মানুষ হিসাবে আমি সামান্য একজন। এই সম্মান দেয়াতে আমি অভিভুত হয়েছিলাম। সেই সাথে হাজারো ধন্যবাদ জানাচ্ছি সহব্লগার কাকপাখি ২, সবুজ সাথি, একলা একজন, অসামাজিক ০০৭ ০০৭, নীল পদ্ম, আলিসন আলভা,কানন শাহ, মেঘলা আকাশ ও বিষন্ন মন, মোসাব্বির, স্পেলবাইন্ডার, আমার দেশ আমার গর্ব, আজাদ আল্-আমীন, লুথা, দু-পেয়ে গাধ, বাংলাদেশী পোলা, ভুদাই, ফ্লাইওভার, ইঁন্দুর, ক্ষুধিত পাষাণ, রমিত, জোছনার আলো, সুচিন্তিত মতবাদ, বৃষ্টির কান্না, মানবী, জুল ভার্ন ভাইকে।
প্রত্যেককে ওই পোস্টেই ধন্যবাদ জানিয়ে লেখা উচিত ছিল। করতামও তাই।
কিন্তু ২ বছর ৮ মাস ব্লগিং এবং ৬৪৬৮টি মন্তব্য দেবার পর, কর্তৃপক্ষ হঠাৎ মনে করলেন যে এখানে অন্যের পোস্টে মন্তব্য করার "যোগ্য" আমি নই। কারণ নাকি নীতিমালা ভঙ্গ ! ঠিক কোন নীতিমালা ভঙ্গের দায়ে এই আমার প্রতি এই কৃপা, সেটি জানতে পারলাম না। ইচ্ছেও হয় না। কারণ এই ব্লগটি ব্যাক্তি মালিকানাধীন বলে, কর্তার ইচ্ছায় কর্ম হয়। যারা কর্তা কর্ত্রির নেক নজরে থাকেন, মানে রাজনৈতিক আদর্শের দিক দিয়ে সমমনা, তাদের বেলায় অবশ্য নিয়মের এই বেড়াজাল খাটে না।
নতুবা যে আমি, ভিন্নমত হলেও মন্তব্য দেবার সময় সব সময় একটা বজায় মান রেখে চলতাম, তাকেই কমেন্ট ব্যানের খাড়ায় কাটা পড়তে হবে কেন? বিপরীতে বস্তির কুৎসিত গালাগালিতে অভ্যস্থরা কিন্তু দিব্যি আছেন। ব্যাক্তি আক্রমন ব্লগের আইনে নিষিদ্ধ হলেও, ব্লগার ধীবরের নাম ধরে আলাদা পোস্ট দিয়ে খিস্তি খেউরের বৃন্দাবন সৃস্টি হলেও, সে দিকে কর্তৃপক্ষ নজর দেবার সময় পাননি।
ওই খিস্তি খেউরের বিপরীতে উপযুক্ত জবাব দেবার শক্তি সামর্থ্য এবং লেখনি শক্তি সবই আমার আছে। এটা কর্তৃপক্ষ ভালো করেই জানেন বলেই, কমেন্ট ব্যান করে, ওই বস্তির সারমেয়দের বিশাল একটা সুযোগ করে দিয়েছে বলেই আমার বিশ্বাস। নতুবা মাল্টিনিকধারি নেংটি ইদুরদের আরো দু ঘা দিয়ে বুঝিয়ে দেয়া যেতো, দালালির মজা কত।
আমি যা লিখি, সেটা বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামি লিগের এবং ভারতের বিপক্ষ্যে যায়। কুযুক্তিবাদিরা বলে রাজাকাররা ভারত বিদ্বেষি, আমিও তাই, সুতরাং আমিও রাজাকার। চমৎকার বিশ্লেষন বটে। এখন আমি যদি বলি রাজাকাররাও ভাত মাছ মাংস খায়, চেতনাধারীরাও তাই খায়, তাই চেতনাধারি = রাজাকার? তাই এই সব সস্তা ফালতু কথা বলে লাভ নেই। যুক্তিতে না পারলে, লেজ গুটিয়ে ওরা হয় পালিয়ে যায়, নতুবা গালাগালি শুরু করে।
আওয়ামি লিগের কুশাসন নিয়ে কথা বলা যাবে না, এটা লেখা থাকতে পারে শুধু বাকশালি আইনে। আর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের আগ্রাসন আর শোষনের কথা বলা যাবে না, এসব ভাবতে পারে শুধু ভারতের পোষা কুকুরগুলিই। মুলত আমার কোন পোস্টেই নতুন কিছু নেই। সাধারণ মানুষ যাদের হাতে কলম নেই, বা থাকলেও মিডিয়া মাফিয়াদের কারনে সেগুলি ছাপা হবে না, ঠিক সে কথাগুলিই ব্লগে লিখে থাকি। তাতে তাদেরই নরক যন্ত্রণা হয়, যারা কোন না কোনভাবে আওয়ামি লিগ বা ভারতের প্রতি নির্লজ্জ নতজানু।
অথবা সুশিল ভেক খুলে যাবার আশংকায় যারা তটস্থ থাকে।
যা লিখি সেসব মিথ্যা সেটা প্রমান করার মত কেউকেই খুজে পাওয়া গেলো না। যাবার কথাও নয়। আর সত্য লেখার জন্য যে কোন দন্ড আমার কাছে গর্বের মুকুট হিসাবেই সানন্দে গৃহিত হবে।
ব্লগে আমার সুহৃদরা অনুরোধ করেছেন, যে আমি লেখা না থামাই।
সাধারণ মানুষের কথার প্রতিধবনি করার নিমিত্তেই লেখা শুরু করেছিলাম। তাই কলম থামবে না। মনে প্রানে বিশ্বাস করি, সত্যের পথে চলতে গেলে অনেক বাধা আসবেই। তাই বলে অসত্যের কাছে মাথা নত অন্তত এই ধীবর করবে না। প্রতিশ্রুতি রইলো।
শেষ করছি এক ভন্ড প্রগতিশীলের গল্প দিয়ে। শান্তিনিকেতন থেকে কি যেন কোর্স টোর্স করে এক বাবু রহমান (নামটাও বাস্তব জীবনে ছদ্ম বলেই বিশ্বাস করি) দেশে এসে নিজেকে বেশ কেউকেটা ভাবতে শুরু করলেন। সংস্কৃতি চর্চা করতে গিয়ে ঠ্যাং ভাংলেও আশা ছাড়লেন না। নিজেকে প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক প্রমান করে "জাতে" উঠার নিমিত্তে পত্রিকায় হোলি পালনরত ছবি ছাপালেন। বলে দিলেন এটাই বাঙালি সংস্কৃতি।
এর বিরুদ্ধে যারা বলে তারা রাজাকার মৌলবাদি ইত্যাদি ইত্যাদি। সাধারণ মানুষ ব্যাপারটা ভালোভাবে নেয় নি। তাই গুলিস্তানের মোড়ে তার দেখা পেয়ে জনগণ তাকে এমনই খাতির করলো যে, এর পর থেকে তাকে কোথাও আর খুজে পাওয়া যায়নি।
সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, শত শত বছরের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহনকারিদের পরিণতি এইই হয়ে থাকে। ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।