Why does life keep teaching me lessons, i have no desire to learn.
(এই গল্পের সাথে অনেককিছুই মিলে যেতে পারে, মিলে গেলে লেখক দায়ী না )
বনে শিয়ালের সংখ্যা ইদানিং অনেক কমে গেলেও শিয়াল প্রজাতি এটা কোন মতেই মেনে নিতে রাজী না। গোপন বৈঠকে তারা ঠিক করল আমরা যতই কম হইনা কেন এটা মেনে নেয়া যাবেনা, অন্যদেরও বুঝতে দেয়া যাবেনা। আমাদের চিল্লাচিল্লীর পরিমান আরও বাড়াতে হবে, নানা ঢং এ বিভিন্ন সময়ে আমরা কয়জনই বারবার ডেকে উঠব, তাহলে অন্যরা ব্যাপারটা ঠিক বুঝে উঠতে পারবেনা। এভাবে শিয়াল নানা সময় চিল্লিয়ে উঠে, বনের সব শ্রেনীর প্রানীরা এতে মহা বিরক্ত হলে তারা বিষয়টা বনের সভাপতি গন্ডারকে বুঝাতে পারছেনা। একেত গন্ডার সব কিছুই টের পায় দেরীতে, তার উপর সে যখন সভাপতি তখন বনে সব নিরীহ প্রানীরাই চুপচাপ জীবন ধারন করবে এটা তার ভাল লাগেনা।
তাই শিয়ালকে মাঝে মাঝে হালকা বকার ছলে সে লায়ই দিয়ে যায়। শিয়ালের হুক্কা হুয়াতে তার মনে হয় বনটা সজীব আছে, সবাই বিরক্ত হয়, আড়ালে আবডালে গন্ডারের সমালোচনা করে। তাতে কি, গন্ডারতো আর এসব টের পায়না।
সিংহের সাথে অবশ্য এই বনের সম্পর্ক নেই, সে আলাদা অঞ্চল নিয়ে থাকে, যখন ইচ্ছা এই বনে হামলা চালিয়ে মনের মত শিকার ধরে নেয়। এই নিয়ে শান্তিপ্রিয় বনে চাপা ক্ষোভ থাকলেও তাদের কিছু করার নেই।
সভাপতি গন্ডারতো এসব টেরই পায়না, নিজের মত ঘাষ খেয়ে বেড়ায়। শিয়ালের সঠিক সংখ্যা না জানায় সবাই ভেবেছিল ওরা যেহেতু বেশ হুক্কা হুয়া করে বেড়াই সুতরাং শিয়ালরা নিশ্চয় কিছু একটা করবে।
বোকা প্রানীরা টের পাইনি শিয়ালের দুরভীসন্ধী। তাদের জানা ছিলনা সিংহ ও এই শিয়ালদের প্রশ্রয় দেয়। সিংহ যখন শিকার ধরে খাওয়া শেষ করে তারপর পড়ে থাকা উচ্ছিস্ট যে এই শিয়ালরা খেয়ে বনটা পরিষ্কার রাখে, সিংহের সব অপরাধ মুছে ফেলে, তাই নোংরা শিয়াল শিকারের চেয়ে সেও ছেড়ে দেয় এদের।
হাঁড় গোড় খেতে দেয়।
সিংহ দলের উপদ্রব বেড়ে যাওয়া আর নিরীহ প্রানী শিকার মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যাওয়ায় সাধারন প্রানীরা গন্ডারকে সবাইকে নিয়ে বসে কর্মপন্হা ঠিক করার আহবান জানায়। গন্ডার ও সাদরে মেনে নেয়। গন্ডার সায় দেয়ায় শিয়াল কিছুটা আড়ালে চলে গিয়ে হুক্কা হুয়া রব তোলে কিন্তু বনে খুব বেশী শিয়াল দেখতে না পাওয়ায় সাধারন প্রানীরা তাদের খুব একটা পাত্তা দেয়না। শিয়াল এবার ক্ষেপে যায়।
মোটা চামড়ার কারনে এমনিতেই নিরীহ প্রানীদের আওয়াজ গন্ডারের কানে খুব একটা পৌছায়না, কিন্তু শিয়াল সংখ্যায় কম হলেও যেহেতু অনেক জোড়ে আর বিভিন্ন ঢং এ চিল্লায় তা আবার গন্ডারের কানে একটু হলেও যায়। নিরীহ প্রানীদের এই আত্মরক্ষার দাবী শিয়াল নানা কৌশলে ঠেকিয়ে দেয়।
আত্মরক্ষার দাবী শিয়ালের কারনে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সবাই শিয়ালকে আগের চেয়েও বেশী ঘৃনা করা শুরু করে। শিয়াল কিছুটা বিচলিত বোধ করে। তার হুক্কাহুয়া একটু কমে।
শিয়ালের দল আবার গন্ডারের স্মরনাপন্ন হয়। এমনিতেই নীরব বন গন্ডারের পছন্দ নয়। সেও ভাবতে থাকে কি করে শিয়ালের হুক্কাহুয়া ফিরিয়ে আনা যায়।
চামড়া মোটা হলেও গন্ডার বেশ বুদ্ধীমান। সে মাথা থেকে একটা আইডিয়া বের করে।
সে জানে সবগুলো বনের মালিক একটা মহা পরিকল্পনা নিয়ে আসছে সামনে। সব বনের প্রানীদের পানি খাওয়ার জন্য অনেকগুলো পুকুর কাটার ব্যবস্হা করা হচ্ছে। এ সিদ্ধান্ত নিরীহ প্রানীদের যে পছন্দ হবেনা তা সে ঠিকই বুঝতে পারে, কারন এতে নিরীহ প্রানীদের মারা পরার হার বেড়ে যাবে, তারা পানি খেতে আসলেই অকালে মারা যাবে শিকারীর হাতে।
গন্ডার বিষয়টা বুঝতে পারে, বনে সরব অবস্হাই তার কাম্য। তাই সে শিয়ালদেরকে ডেকে বলে এই বিষয় নিয়ে তোমরা মাঠে নাম।
কাল রোদ উঠার সাথে সাথেই তোমরা নতুন করে হুক্কাহুয়া শুরু করবে, বনে কোন ভাবেই পুকুর বানানো যাবেনা বলে। শিয়ালের দল বলে কিন্তু সবাইতো আমাদেরকে ঘৃনা করে, আমাদের কথা শুনবেনা।
তখন গন্ডার একটা বুদ্ধী বের করে, ঠিক আছে তাহলে তোমরা আমার বাড়ীর সামনে দাঁড়িয়ে হুক্কাহুয়া রব তুলবে, তখন দেখবে কেউ কিছু বলবেনা আর।
শিয়ালের এহেন কর্মকান্ডে সিংহ দূর থেকে প্রশয়ের হাসি হাসে। মনে মনে বলে শিয়ালের তো আসলেই বুদ্ধী অনেক, ঘরেরটাও রক্ষা করে, পরেরটাও।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।