বোরহান সাহেবের একটা বাতিক আছে। এপিটাফীয় বাতিক।
বোরহান সাহেব প্রতিদিন সন্ধ্যায় কোন না কোন কবরস্থানে চলে যান। গিয়ে কবর ধরে হাঁটেন। এপিটাফের নাম দেখেন।
দেখে দাঁড়ান।
নাম ধরে ডাকেন।
কথা বলেন।
বোরহান সাহেবের ধারণা তারা বোরহান সাহেবের কথা শোনেন।
প্রশ্ন করলে জবাব দেন।
তারা নাকি বোরহান সাহেবকে দিয়ে তাদের পরিবারের খোঁজ-খবর নেন।
২.
বোরহান সাহেব অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারী। কোন কাজ নেই। কাজের মধ্যে একটাই, দিনভর তিনি ঢাকা শহরের বিভিন্ন ঠিকানা নিয়ে ঘোরাফেরা করেন। সন্ধ্যায় কবরস্থানে যান।
মৃতব্যক্তিদের সাথে কথা বলেন। এক এক করে এপিটাফ পরিস্কার করে দেন। খোঁজখবর নেন। দিনভর সংগ্রহ করা খোঁজখবর দেন। কিছু কবরের সামনে গিয়ে বলেন, আপনার পরিবারের সবাই ভালো আছে।
আমাকে প্রথম ঢুকতে দেয়নি। কথা বলতে চায়নি। পাগল ভেবে বাইরে দাঁড় করে রেখেছিল। পরে অবশ্য কথা বলেছে। আপনার পরিবারের সবাই খুব ভালো আছে।
আবার কিছু কবরের সামনে গিয়ে বোরহান সাহেব অপরাধী ভঙ্গিতে দাঁড়ান। বিষন্ন চেহারা করে বলেন, কাল আপনার খোঁজটা জানাবো।
৩.
বোরহান সাহেব কি পাগল?
এমন প্রশ্ন তার পরিবারের সদস্যদের।
এমন প্রশ্ন মৃতব্যক্তির আত্মীয়স্বজনদেরও।
তিনি যা করে বেড়াচ্ছেন
যা বলে বেড়াচ্ছেন
যা শুনে বেড়াচ্ছেন
এমন প্রশ্ন আসতেই পারে।
বোরহান সাহেব কি বয়সের ভারে এমন হয়ে যাচ্ছেন?
কেউ জানে না।
কেউ বলতে পারে না।
একথা বলতে পারে না, বোরহান সাহেবের ছেলেমেয়ে কিংবা আত্মীয় স্বজনরা।
বলতে পারে না, খোঁজখবর নেয় মৃতব্যক্তির আত্মীয়স্বজনেরা।
বলতে পারে না, মৃত ব্যক্তিরাও।
সকলের মতো দ্বিধাদ্বন্দ নিয়ে বলতে পারিনা বোরহান সাহেবকে ভালো করে চেনা এই গল্পের লেখক হিসেবে আমিও।
কেন বোরহান সাহেব কবরস্থানে যান?
কেন কথা বলেন?
কি কথা বলেন?
আসলেই কি তিনি মৃত ব্যক্তিদের কোনো কথা শোনেন?
৪.
একদিন বোরহান সাহেবও মারা গেলেন। তারও একটা কবর হলো। তারও একটা এপিটাফ হল। অনেকেই যায় বোরহান সাহেবের খোঁজ নিতে।
কবরটা দেখে আসতে।
এপিটাফ পরিষ্কার করে দিতে।
গল্পের লেখক হিসেবে আমারও দায় আছে। আমিও যাই বোরহান সাহেবের কবরে।
তার কবর দেখি।
এপিটাফে লেখা নাম পড়ি।
ভুল করে তাকে প্রশ্নও জিজ্ঞাসা করে ফেলি।
অবাক ব্যাপার, আমার কেন জানি মনে হয় বোরহান সাহেব আমার কথার জবাব দেন।
জিজ্ঞাসা করেন, কেমন আছি?
মাঝে মাঝে অনুরোধও করেন। তার পরিবারের খোঁজখবর জেনে, একটু জানাতে।
এটা একটা সিক্যুয়াল । এর আগেরটা পড়তে চাইলে : Click This Link
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।