এলোমেলো ভাবনা সারাক্ষণ মনকে আচ্ছন্ন করে রাখে
অফিসিয়াল ট্যুরে গিয়েছিলাম চকোরিয়া এবং বান্দরবানের লামা উপজেলায়। চকোরিয়া হতে গাড়ি ছুটে চলেছে লামা উপজেলার দিকে। আমি চালক ভাইকে একটু আস্তে গাড়ি চালাতে অনুরোধ করলাম। চারিদিকে সবুজের ছড়াছড়ি। আমি যেন হারিয়ে গেলাম এত সবুজের মাঝে।
রাস্তা এঁকে বেঁকে চলেছে,,,যেন একটি অজগড় সাপ। তার দুপাশে পাহাড়। কোন কোন পাহাড়ের গায়ে ঝুম চাষ করেছে কোন কোন ঝুম চাষী। পাহাড় চিরে বের হয়েছে কত নাম না জানা গাছ। প্রকৃতির যতেœ, পরম মমতায় ওরা রেড়ে উঠছে।
কলা গাছ বেশি চোখে পড়লো। কাঠ বিড়ালী, বানর কোন কোন গাছে ছুটোছুটি করছে। মনে হলো এখনি মনে হয় হাতি মামা গাড়ির পথ রোধ করবে কিন্তু না,,,,হাতি মামা আসলেন না,,,। দুএকটি বাস মাঝে মাঝে ছুটে চলেছে লামা উপজেলার দিকে,,আবার লামা হতে চকোরিয়ার দিকে। তা ছাড়া রাস্তা প্রায় নিস্তব্ধ।
চালক ভাই মাঝে মাঝে আমাকে বলছে, আপা এখান হতে আদিবাসীরা অনেককে জিম্মি করে ধরে নিয়ে যায়। আমি তার কথার কোন উত্তর না দিয়ে একবার রাস্তার এপাশের পাহাড় আবার ওপাশের পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে লাগলাম। আমি এর আগে একাধিকবার পাহাড়ী এলাকায় গিয়েছি কিন্তু এত সবুজ আর কোথাও দেখি নাই। বরং দেখেছি,,,,পাহাড় কাটা, গাছ বিহীন পাহাড় আবার কোথাওবা গাছ কম। কিন্তু এখানে সম্পূর্ণ বিপরীত।
দেখলাম,আশেপাশের কিছুটা সমতল ভূমি হতে রবার চাষী রবার গাছ হতে রস সংগ্রহ করছে। মাঝে মাঝে দুএকটি বাড়ি, কোনটা পাহাড়ের উপড়ে, আবার কোনটা পাহাড়ের নীচে। দুএকজন আদিবাসী এবং বাঙ্গালীকে দেখলাম দা হাতে পাহাড় হতে নামছে। একটু সামনে যেতেই দেখলাম, গাছের নীচে বসে দুই পাহাড়ী এবং বাঙ্গালী দুই মধ্যেবয়সী নারী বসে গল্প করছে। আরো একটু এগুতেই দেখলাম একজন মধ্যে বয়সী বাঙ্গালী নারী গালে হাত দিয়ে বসে আছে,,,কিজানি তার মনে হয়ত অনেক কষ্ট।
তার কষ্ট লাঘব করতেই হয়ত নিরিবিলি বসে আছে। ভাবলাম এখানকার জীবন কতনা সংগ্রামের। এখানে হাত বাড়ালেই সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায় না,,,আর আমরা কত সুযোগ সুবিধা ভোগ করি,,,,আর একটুতেই অসহিষ্ণ হয়ে পরি। আরো এগুতেই মাতামহুরী নদী। আমাদের এখানকার খালের চেয়েও মনে হয় সুরু।
স্বচ্ছ পানি,,, একদল লোককে দেখলাম নদীর পানি ভেঙ্গে ওপারে চলে গেল। লামা সদর উপজেলায় এসে পৌছলাম। বেশ শান্ত লামা সদর উপজেলা। দেখেই ভাল লাগলো। কাঁজের ফাঁকে পাহাড়ী জুম চাষের পেঁপে, কলাসহ অন্যান্য ফল খেলাম।
কি যে স্বাদ তা বলে বোঝাতে পারবো না। সেখানে আরো যে বিষয়টি ভাল লাগলো তা হলো,আদিবাসী এবং বাঙ্গালী একই সাথে কাজ করছে, বাজার করছে, বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করছে। একটা দোকানে চা খেতে বসলে, আলাপ প্রসঙ্গে অনেকে বলল, এখানকার বেশির ভাল লোক চাষাবাদ করে জীবন নির্বাহ করে। আদা, কলাসহ অন্যান্য ফসল খুব ভাল হয়। তবে খুব কষ্ট হয় তাদের।
কারণ এখানে ইচ্ছে করলে চাষাবাদের অনেক উপকরণ পাওয়া যায় না, যেতে হয় অন্যান্য শহর এলাকায়। একটা বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয় অনেক সময়। দুএকজন আদিবাসী অভিমান করে বলল, আগে আমরা এই এলাকায় থাকতাম। এখানে কোন বিবাদ হতো না। আমরা তেমন লেখাপড়া জানি না।
সহজ সরল জীবনযাপন করতে পছন্দ করি। কাউকে ঠকাই না। এখন বাঙ্গালী ভাইবোনেরা এসেছে। আমরা মিলে মিশে থাকি। এখানে সন্দীপ, মায়ানমার ও অন্যান্য জায়গা হতে লোকজন এসে বসতী করছে।
তারা এখানে কিছুটা ঝামেলা তৈরি করছে বা করার চেষ্টা করছে। তবে আদিবাসীদের অনেক জমি কিছু বাঙ্গালীরা জোড় করে,,,ঠকিয়ে নিয়ে নিচ্ছে, তারা এখন অনেকেই আশ্রয়হীন হয়ে পড়ছে ইত্যাদি। তারা জানাল, একটা পাহাড় অনেক দামে বিক্রি হয়। কাছের পাহাড় ১২ থেকে ১৪ লক্ষ টাকা এবং দূরের গুলো একটু কম। আমি প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারি নাই পাহাড় কেনা - বেচা হয়!
যাইহোক কাজ শেষ করে আবার ছুটে চললাম চকোরিয়ার দিকে।
আবার পাহাড়, সবুজের মেলা, আমার সব চিন্তা চেতনা যেন এক হয়ে গেল। এযেন এক শান্তির জায়গা। মনে হচ্ছিল, গাড়ি হতে নেমে পাহাড়ে গিয়ে উঠি। পাহাড় যেন আমায় ডাকছে,,,,যেও না তুমি,,,,থাক আমাদের মাঝে,,,,তোমায় আমরা শান্তি দিব,,,,,,,।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।