আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

এখলাছ আল্লাহ পাকের এক বিশেষ নূর !

চলার পথ অনেক, সত্য পথ একটাই

প্রফেসর মাওলানা মো. সালাহউদ্দিনঃ হে মহান আল্লাহর সৃষ্টি ও কল্যাণের সন্ধানী। আপনারা ইবাদতের মধ্যে এখলাছের আলো অর্জন করুন। কেননা, এখলাছ হলো আল্লাহ পাকের এক বিশেষ নূর। যা তিনি তার মুমিন বান্দার অন্তরে গচ্ছিত রাখেন এবং তদ্বারা তিনি তাকে অন্য বান্দাগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেন। আর এটাই হলো এখলাছের মূল পরিচয়।

গতকাল বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব প্রফেসর মাওলানা মো. সালাহ্উদ্দিন তার খুতবাপূর্ব বয়ানে এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, হে মুমিনগণ, জেনে রাখবেন সব মানুষ খেসারত তথা বিপর্যয় ও নৈরাশ্যের অধিকারী, কিন্তু যারা জ্ঞানী, আমলকারী ও নিষ্ঠাবান তাদের কথা স্বতন্ত্র। নিশ্চয় যে এখলাছ বা আন্তরিকতায় সততা ও পূর্ণ বিশ্বাস নেই তা উড়ন্ত ধূলিকণার ন্যায় অন্তঃসারশূন্য। আল্লাহ পাক বলেন_ বান্দাগণকে কেবল এখলাছ পূর্ণ ও আনুগত্য করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারা একনিষ্ঠভাবে আল্লাহমুখী হবে।

নামাজ কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে। বস্তত এটাই হলো সুপ্রতিষ্ঠিত জীবনব্যবস্থা। অতঃপর এ এখলাছ চারভাগে বিভক্ত_ (ক) আল্লাহ পাকের সম্মানে যাবতীয় আমল এখলাছের সঙ্গে সম্পন্ন করা। (খ) আল্লাহ পাকের সম্মানে যাবতীয় আমলের মধ্যে এখলাছের ইচ্ছা করা। (গ) পুরস্কার ও সওয়াব লাভের আশায় আমলে এখলাছের ইচ্ছা করা এবং (ঘ) আমলের মধ্যে স্বচ্ছতা সৃষ্টি করা, যাতে গায়রুল্লাহর ইচ্ছা না হয়।

উক্ত চার প্রকার এখলাছের প্রত্যেকটির দ্বারা মুমিন বান্দা সঠিক ইবাদতের অধিকারী হয়। হযরত আবু হুরায়রা (রা) বর্ণিত, তিনি বলেন_ আমি হজরত রাসূলে পাককে (সা) বলতে শুনেছি_ কিয়ামতের ময়দানে সর্বপ্রথম যে ব্যক্তির বিপক্ষে ফয়সালা করা হবে ওই ব্যক্তি হলো শহীদ। তাকে হাজির করা হবে। আল্লাহ পাক তাকে শাহাদতের নিয়ামত সম্পর্কে অবহিত করবেন এবং সে বুঝতে পারবে। আল্লাহ পাক বলবেন, তুমি কী উদ্দেশে এ নিয়ামতের কাজটি সম্পন্ন করেছ? ওই ব্যক্তি উত্তর দেবে, আমি আপনার সন্তুষ্টির জন্য শাহাদতবরণ করেছি।

আল্লাহ পাক বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ, বরং তুমি যুদ্ধ করেছ যাতে করে সমাজের লোক তোমাকে বাহাদুর তথা বীরপুরুষ বলে। মূলত তা বলা হয়েছে। অতঃপর তাকে উপুড় করে টানতে টানতে দোজখে নিক্ষেপ করা হবে। দ্বিতীয় ব্যক্তি হলো এমন ব্যক্তি যে ইলম শিক্ষা করেছে, অপরকে শিক্ষা দিয়েছে এবং কোরআন পড়েছে, তাকে হাজির করা হবে। আল্লাহ পাক তাকে ওইসব নিয়ামতের কথা জিজ্ঞাসা করবেন এবং সে তা বুঝতে পারবে।

অতঃপর আল্লাহ পাক বলবেন, তুমি কী উদ্দেশে এ নিয়ামতের কাজটি সম্পন্ন করেছ? ওই ব্যক্তি উত্তর দেবে, আমি ইলম শিক্ষা করেছি ও শিক্ষা দিয়েছি এবং আপনার সন্তুষ্টির জন্যই কোরআন পাঠ করেছি। আল্লাহ পাক বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ বরং তুমি এ জন্য ইলম শিক্ষা করেছিল যাতে তোমাকে 'আলেম' বলা হয়। মূলত তা বলা হয়েছে। অতঃপর তাকে উপুড় করে টানতে টানতে দোজখে নিক্ষেপ করা হবে। তৃতীয় ব্যক্তি হলো যার রিজিক আল্লাহ পাক বৃদ্ধি করে দিয়েছিলেন এবং দান করেছিলেন তাকে রকমারি ধনদৌলত।

তাকে হাজির করা হলে আল্লাহ পাক প্রদত্ত নিয়ামতগুলো সম্পর্কে তাকে পরিচিত করা হবে এবং সে সেই সম্পর্কে পরিচিত হবে। অতঃপর আল্লাহ পাক বলবেন, তুমি এসব নিয়ামত কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার ও খরচ করেছ? জবাবে সে বলবে, আমি ওইসব সম্পত্তি আপনার সন্তুষ্টির জন্য ব্যয় করেছি। আল্লাহ পাক বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ, বরং তুমি ওই নিয়ামত এ উদ্দেশ্যে খচর করেছিলে যাতে করে তোমাকে দানবীর বলা হয়। আর তা বলা হয়েছে। অতঃপর তাকে উপুড় করে টানতে টানতে দোজখে নিক্ষেপ করা হবে।

_মুসলিম শরিফ। হজরত আবু হুরায়রা (রা) বর্ণিত, তিনি বলেন_ আমি হজরত রাসূলে পাক (সা) বলেন, আল্লাহ পাক তোমাদের শরীর ও অবয়বের দিকে তাকান না, বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও আমলের দিকে লক্ষ করেন। _মুসলিম শরিফ। হে দয়াময় আল্লাহ! আপনি অনুগ্রহপূর্বক আমাদের মুখলিছ ও সত্যবাদী দলের অন্তর্ভুক্ত করুন। খতিব পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের জন্য সবাইকে অনুরোধ করেন।

কারণ নামাজই বেহেস্তের চাবিকাঠি। এরপর বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করেন। খতিব : বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।