seremos como el Che
ঢাকার নিকুঞ্জ এলাকায় ইভ্ টিজিং কে কেন্দ্র করে পুলিশের অস্ত্র ছিনতাই এই মুহুর্তে একটি গরম খবর। আমি যেহেতু এই এলাকাতেই থাকি, তাই আসল ঘটনার কিছুটা হলেও আমি জানি। সংবাদপত্র কিভাবে একটা তিলকে তাল বানায় তা এবার নিজের চোখেই দেখতে পাচ্ছি। আর পাবলিক এর সামনে মাইক্রোফোন আর ক্যামেরা ধরলে এরা যে কি বলতে কি বলে সেটাও দেখলাম। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত দুই দিনের প্রথম আলোর রিপোর্ট দেখলেই বোঝা যায় যে এই রিপোর্টার যে কোনটা ছেড়ে কি লিখবে তা নিয়ে সে নিজেই কনফিউজড।
প্রথমে গত দুই দিনের প্রথম আলোর রিপোর্টটা দেখা যাকঃ
স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করা নিয়ে সংঘর্ষ, পুলিশের অস্ত্র ছিনতাই নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রথম আলো, ১৮ই আগস্ট
রাজধানীর নিকুঞ্জ এলাকায় গতকাল মঙ্গলবার রাতে এক স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত (ইভ টিজিং) করাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশের চার সদস্যসহ কমপক্ষে ছয়জন আহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) পিস্তল ছিনতাই হয়। রাত একটা পর্যন্ত ওই অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ২০ জনকে আটক করে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা এসআই বিন-ই-আলম, এসআই হাবিবুল ইসলাম, কনস্টেবল জাকির হোসেন ও এমদাদ এবং স্থানীয় জালালউদ্দিন হাবিব ও ওই স্কুলছাত্রীর মামা।
তাঁদের মধ্যে পাঁচজনকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় একাব্বর গ্রুপের সন্ত্রাসীরা এক স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করলে তাদের সঙ্গে ছাত্রীর স্বজনসহ এলাকাবাসীর সংঘর্ষ বাধে। সেই সংঘর্ষ থামাতে গেলে একাব্বর গ্রুপের সন্ত্রাসীরা পুলিশের ওপর হামলা করে।
উত্ত্যক্তের শিকার ছাত্রীটি জানায়, সে গতকাল মোবাইল ফোনের কার্ড কিনতে গেলে একাব্বর গ্রুপের রাজনসহ কয়েকজন বখাটে তাকে উত্ত্যক্ত করে। সে বিষয়টি তার মাকে জানায়।
পরে তাঁর মা ও মামা ঘটনাস্থলে যান। মামা সেখানে রাজনকে চড় মারেন। এতে সন্ত্রাসীরা মামাকে মারধর শুরু করে। ইতিমধ্যে ছাত্রীর স্বজনেরা পুলিশকে খবর দেয়।
স্কুলছাত্রীর মামা জানান, ১৮ নম্বর সড়কে ওই ঘটনার পর সন্ত্রাসীরা চলে গেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।
এ সময় এলাকাবাসী পুলিশকে জানায়, সন্ত্রাসীরা ১৯ নম্বর সড়কের একটি নির্মাণাধীন ভবনে জড়ো হয়েছে। পুলিশসহ এলাকাবাসী সেখানে গেলে সন্ত্রাসীরা পালানোর চেষ্টা করে। এতে দুই পক্ষের সংঘর্ষ বাধে। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে এলে এলাকাবাসী চলে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা পুলিশের ওপর হামলা করে।
আহত এসআই হাবিবুল ইসলাম জানান, ঘটনা যখন প্রায় শান্ত হয়ে আসে, তখন একাব্বর গ্রুপের লোকজন পুলিশের ওপর হামলা করে।
পুলিশ রাজনকে ধরে ফেললে সন্ত্রাসীরা তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তারা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে। সন্ত্রাসীদের কেউ একজন তাঁর মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে তিনি অর্ধচেতন হয়ে পড়েন। এ সময় কেউ তাঁর পিস্তলটি ছিনিয়ে নেয়। ।
পুলিশের ওপর ছাত্রী উত্ত্যক্তকারীদের হামলা
খোয়া যাওয়া অস্ত্র উদ্ধার হয়নি
নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রথম আলো, ১৯শে আগস্ট
রাজধানীর নিকুঞ্জ থেকে গত মঙ্গলবার রাতে খোয়া যাওয়া পুলিশের অস্ত্রটি এখনো উদ্ধার হয়নি। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ এ পর্যন্ত ৩২ জনকে আটক করেছে।
নিকুঞ্জ-২ এলাকায় গত মঙ্গলবার রাতে এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় পুলিশের কাছ থেকে দুর্বৃত্তরা একটি পিস্তল ছিনিয়ে নেয়। এ সময় পুলিশের চার সদস্যসহ ছয়জন আহত হন। তবে পুলিশের ওপর হামলা ও অস্ত্র লুটের এই ঘটনায় গতকাল বুধবার রাত ১০টা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, পুলিশের মহাপরিদর্শক নূর মোহাম্মদ, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার এ কে এম শহীদুল হক, RAB এর মহাপরিচালক খন্দকার হাসান মাহমুদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গতকাল দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ওই ছাত্রীর বাসায় যান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, হামলাকারীরা স্থানীয় একাব্বর আলীর অনুসারী। তাঁর ছেলে রাজন ওই রাতে ছাত্রী উত্ত্যক্তের ঘটনায় জড়িত ছিল।
ঘটনার সূত্রপাত: উত্ত্যক্তের শিকার ওই ছাত্রী প্রথম আলোকে জানান, তাঁর দশম শ্রেণীতে পড়ুয়া ছোট বোনকে বেশ কয়েকদিন ধরে তনু নামে স্থানীয় এক তরুণসহ কয়েকজন বখাটে উত্ত্যক্ত করছিল। এক মাস আগে তাঁরা খিলক্ষেত থানায় এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরিও করেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বখাটে তনু ও তার বন্ধুরা তাঁকেও (ছাত্রী) উত্ত্যক্ত করা শুরু করে। তিনি বলেন, তিনি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নাচের ক্লাসে যাওয়ার সময় তনু, রাজন এবং আরও কয়েকজন তাঁর উদ্দেশে কটূক্তি করে। রাত পৌনে নয়টার দিকে ফেরার সময় বাসার কাছাকাছি এলে ওই বখাটেরা আবারও তাঁকে উত্ত্যক্ত করলে তিনি প্রতিবাদ করেন। তিনি সঙ্গে সঙ্গে ফোন করে বিষয়টি পুলিশ ও তাঁর মাকে জানান। খবর পেয়ে মা ও মামা নাসির বাসা থেকে নেমে আসেন।
এ সময় নাসির বখাটে রাজনকে চড় মারেন। এরপর রাজন ও তার সহযোগীরা নাসিরকে বেদম মারধর করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়।
নাসির প্রথম আলোকে বলেন, পরে তাঁরা স্থানীয় লোকজন নিয়ে ওই উত্ত্যক্তকারীদের খুঁজতে বের হন। তাঁরা ১৯ নম্বর সড়কে একটি নির্মাণাধীন ভবনের কাছে গেলে ভবনের তিনতলা থেকে বখাটেরা পাশের ভবনে লাফিয়ে পড়ে পালাতে থাকে।
এ সময় এলাকাবাসী কয়েকজনকে ধরে পুলিশের হাতে দেয়। এর কিছুক্ষণ পর বস্তি থেকে একদল লোক নিয়ে বখাটেরা পুলিশের ওপর হামলা করে আটক দুজনকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় বখাটেরা খিলক্ষেত থানার উপপরিদর্শক হাবিবুলের পিস্তলটিও ছিনিয়ে নেয়। হামলায় থানার চলতি দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দ্বীন-ই আলম, উপপরিদর্শক হাবিবুল ইসলাম, কনস্টেবল জাকির হোসেন, কনস্টেবল (গাড়িচালক) এমদাদসহ ছয়জন আহত হন।
স্থানীয় লোকজন জানান, পুলিশের ওপর হামলাকারীরা স্থানীয় একাব্বর আলীর অনুসারী।
তাঁর বস্তিতেই বসবাস করে এসব দুর্বৃত্ত।
পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার হাফিজ আক্তার জানান, হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ পর্যন্ত ৩২ জনকে সন্দেহমূলক আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, বখাটেরা যে এত ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে, তা পুলিশ প্রথমে বুঝতে পারেনি।
কে এই একাব্বর: খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একাব্বর (৫০) বিমানবন্দর এলাকায় ভাড়ায় গাড়ি চালাতেন।
পরে ওই এলাকায় জমি বেচাকেনার দালালি করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি জমি দখল করে বস্তি বসিয়ে ঘরভাড়া আদায় করেন। নিকুঞ্জ এলাকায় সিভিল এভিয়েশনের জায়গা দখল করে তিনি একটি বস্তি বসিয়েছেন।
পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার আরও জানান, একাব্বরের বিরুদ্ধে জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ তাঁদের কাছেও এসেছে।
এলাকাবাসী জানান, যখন যে সরকার আসে, একাব্বর তখন সেই দলের নেতা হয়ে যান।
এখন তিনি নিজেকে আওয়ামী লীগের লোক বলে পরিচয় দেন। তিনি ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন রাজনৈতিক মিছিল-সমাবেশে বস্তি থেকে লোক সরবরাহ করেন। এই প্রভাব কাজে লাগিয়ে সরকারি জমিতে বস্তি বসান বলে অভিযোগ রয়েছে।
গতকাল নিকুঞ্জে ঘটনার শিকার মেয়েটির বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন। তিনি তাঁদের অভয় দিয়ে বলেন, অপরাধীদের ধরতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে জমি দখলসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে। তারা দুর্ধর্ষ হয়ে উঠেছে। পুলিশের ওপর হামলা করে অস্ত্র লুটের সাহস দেখিয়েছে। ।
----------------------------------------------------------------
এখন দেখা যাচ্ছে যে, ছাত্রীটি প্রথম দিন বলেছে যে সে গিয়েছিল মোবাইল ফোনের কার্ড কিনতে।
এখন বলছে, সে নাচের ক্লাশ থেকে ফিরছিল। কাল কি বলবে কে জানে। আর ওই সময় নিকুঞ্জ এলাকায় রেগুলার লোডশেডিং হয়, অত রাতে একটি মেয়েকে একা একা কেন বাইরে যেতে দেওয়া হল যখন তার গার্জিয়ানরা অলরেডি জানে যে মেয়েটির বোনকে বখাটেরা বেশ কয়েক দিন ধরে উত্ত্যক্ত করছিল এবং খিলক্ষেত থানায় এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছিল, এটাও একটা প্রশ্ন।
প্রথমদিনের মতে, ছাত্রীর স্বজনেরা পুলিশকে খবর দেয়। আজকে দেখা যাচ্ছে, ছাত্রীটি ফোন করে বিষয়টি পুলিশ ও তাঁর মাকে জানায়।
কালকের সংবাদপত্রে যে কার কথা বলা হবে কে জানে।
নাসির প্রথম আলোকে বলেন, পরে তাঁরা স্থানীয় লোকজন নিয়ে ওই উত্ত্যক্তকারীদের খুঁজতে বের হন। তাঁরা ১৯ নম্বর সড়কে(প্রথম মারপিট হয় ১৮ নম্বর সড়কে) একটি নির্মাণাধীন ভবনের কাছে গেলে ভবনের তিনতলা থেকে বখাটেরা পাশের ভবনে লাফিয়ে পড়ে পালাতে থাকে। এই পরে মানে কখন জানেন? প্রথম ঘটনাটা হয় রাত পৌনে নয়টার দিকে(ছাত্রীটির মতে), আর তারা খুঁজতে বের হন সাড়ে বারটারও পরে(আমার সোর্স)। ধরুন, আপনিই সেই ইভ্ টিজার, আপনি এক জায়গায় সেই মেয়ের মামাকে ব্যাপক মার দিলেন এবং আপনি জানেন যে এই ব্যাপারটা আগে পুলিশকে জানান হয়েছিল।
এখন, এই ঘটনার প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টা পরে, আপনি কি ওই এলাকায় থাকবেন নাকি নিরাপদ জায়গায় চলে যাবেন? কিন্তু এই ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, বখাটেরা ১৮ নম্বর সড়কে মারপিট করে ১৯ নম্বর সড়কে লুকিয়ে ছিল। সত্যিই সেলুকাস...
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ এ পর্যন্ত ৩২ জনকে আটক করেছে - এই ৩২ জন কারা জানেন? বস্তিতে থাকা রিক্সাওয়ালা(কারণ ১৯ নম্বর এর ওই নির্মাণাধীন ভবনের কাছেই ২টা রিক্সা গ্যারেজ), কোন বাড়ীর দারোয়ান ইত্যাদি এই ধরনের লোকজন। (এইটা আমার সোর্স থেকে পাওয়া খবর)। আর ব্যাপারটা এমনভাবে বুঝান হচ্ছে যে, এটি সন্ত্রাসীদের একটি সুপরিকল্পিত ঘটনা। এই ঘটনার প্ল্যানিং এর সাথে অনেক লোক জড়িত আছে, এর শেকড় অনেক গভীর।
সংবাদপত্রে যে খবরই আসুক না কেন, কেমন অদ্ভুত একটা স্টাইলে সেটাকে বেশ একটা রাজনৈতিক মোড়কে পরিবেশন করা হয়।
আমার বন্ধু আমাকে বলেছিল, NTV অথবা Channel i তে মেয়েটিকে একবার দেখতে। টাইম মিলিয়ে আর খবরটা দেখা হয়নি। ব্লগে একটি পোষ্ট এ দেখলাম। আমার আর কিছু বলার নেই, আমি অভিভূত।
ছবিটা দিয়ে দিলাম, আপনারা দেখে যা বোঝার বুঝে নিন।
আপনাদের মনে হতে পারে আমার এই পোষ্টে আমি হয়ত ইভ্ টিজিং এর পক্ষে কথা বলেছি। আসলে আমি সত্যের সন্ধান করলাম মাত্র। আপনাদের যাদের পুলিশ রিলেটেড এক্সপেরিয়েন্স আছে তারা বুঝতে পারবেন আমার কথাটা। চোখের সামনে নির্দোষ লোকগুলোকে ধরতে দেখলে নিজেকেই কেমন জানি অপরাধী অপরাধী লাগে।
১৯শে আগষ্ট, ঢাকা
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।