যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালকে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ : নিজামী, মুজাহিদ, কামারুজ্জামান ও কাদেও মোল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন [ ভোরের কাগজ ** ২৬ জুলাই ২০১০ ]
নেসারুল হক খোকন :
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামাতে ইসলামীর শীর্ষস্থানীয় চার নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুহাম্মাদ মুজাহিদ, কামারুজ্জামান ও কাদের মোল্লাকে আটক রাখার জন্য আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানানো হয়েছে। ওই আবেদনের ওপর আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার মোঃ শাহীনুল ইসলাম গতকাল রোববার এ তথ্য জানান।
ট্রাইব্যুনালে তিন সদস্যের বিচারক প্যানেলের নেতৃত্ব দেবেন বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হচ্ছেনÑ বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীর ও এ কে এম জহির আহমেদ।
এর আগে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আইনজীবী প্যানেল আবেদনটি ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপনের জন্য রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দেয়। আইনজীবী প্যানেলের প্রধান গোলাম আরিফ টিপু সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
পুরোনো হাইকোর্ট ভবনে স্থাপিত ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে গোলাম আরিফ টিপু সাংবাদিকদের বলেন, নিজামী, মুজাহিদ, কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থেই এ আবেদন জানানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার কার্যক্রম নিয়ে প্রতিদিন বেলা ৩টায় ব্রিফিং করা হবে।
এটি একটি বিবিধ আবেদন (মিক্সড পিটিশন)। এদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার আবেদন এজন্য করা হয়েছে যে, যাতে যথার্থ ও সুষ্ঠু তদন্ত করা যেতে পারে এবং তদন্তকাজে তারা কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারেন।
তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ চাওয়া হয়েছে জানতে চাইলে গোলাম আরিফ টিপু বলেন, তাদের যাতে আটক রাখা হয় এবং তারা যাতে পালিয়ে যেতে না পারেন সে আবেদন জানানো হয়েছে। পল্লবী থানার মামলায় এই চারজনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার আবেদন করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে আইনজীবী প্যানেলের প্রধান বলেন, ‘পল্লবীর কেস নিয়ে আমরা মাথা ঘামাচ্ছি না। আমাদের বিবেচনার বিষয় একাত্তরে সংঘটিত হত্যা, লুণ্ঠন ও ধর্ষণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ।
’
উল্লেখ্য, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলার সময়ে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিচারে গত ২৬ মার্চ আন্তর্জাতিক এ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সরকার। গঠনের ১২০তম দিনে জামাতের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তারে আবেদনের মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হলো।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পূর্ব পাকিস্তান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দলিল (ফোর্টনাইটলি সিক্রেট রিপোর্ট অন দ্য সিচুয়েশন ইন ইস্ট পাকিস্তান) অনুযায়ী এবং ওই সময় বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী জামাতের বর্তমান কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, চার নায়েবে আমির মওলানা আবুল কালাম মোহাম্মদ ইউসুফ, মকবুল আহমাদ, মওলানা আবদুস সুবহান, মওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, তিন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মাদ কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা ও এ টি এম আজহারুল ইসলাম, নির্বাহী পরিষদের অপর দুই সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ আবদুজ জাহেদ ও মীর কাসেম আলী পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করেন। ঘাতক রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস বাহিনী গঠনে সহায়তা করেন। এসব বাহিনীর নেতৃত্বও দেন তারা।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।