(ঈশ্বর বলেনঃ আমাকে কোথায় খুঁজছ হে বান্দা,আমি তো রয়েছি তোমার পাশেই। আমি মন্দিরে-মসজিদে-কাবায়-কৈলাসে থাকিনে। )
উনিশ শতকের আগে মানুশ যন্ত বিজ্ঞানের আবাধ প্রসাদ থেকে ছিল বঞ্চিত। তখন মানুষের জীবন ছিল স্থানের ও কালের সীমায় আবব্ধ। যে-কোন নতুন যুগ সাধারনভাবে দৈশিক মানব-প্রগতির'ই নামান্তর।
জগৎ কি,জীবন কেন,স্রষ্টা কি,সৃষ্টি কেন,জীবনের সার্থকতা কি,পরিনাম কি?- এমনি জিজ্ঞাসার উওর সন্ধান দুনিয়ার সব মানুষের কাছেই স্বাভাবিক।
পাকিস্তানের রাজধানী হলো করাচি এবং পরে রাওয়লপিন্ডি বা ইসলামাবাদ। ১৯৪৬ সনে দিল্লী কনভেনশনে মুসলীমলীগ সদস্যগন অভিন্ন ও একক পাকিস্তান রাষ্ট গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। বাংলার দাবী নিয়ে শুরু হলো দ্বন্দ্ব-কোন্দল-সংঘর্ষ। অবশেষে অন্যতর রাষ্ট্রভাষা হিসেবে কাগুজে স্বীকৃ্তি পেল বাংলা।
আভিধানিক অর্থে এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর সংজ্ঞানুসারে স্বাধীন পাকিস্তানে বাঙালীও ছিল স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বাধীন নাগরিক। সুতরাং বাঙ্গালীরা ১৯৪৭ সালে ১৪ আগষ্ট থেকেই স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের মালিক। কবি শামসুর রাহমান তার স্বাধীনতা কবিতায় গনমুক্তির এ উল্লাসকেই বলেছেন স্বাধীনতা।
১৫১৬ সাল থেকেই পর্তুগীজেরা চট্রগ্রামে আসা শুরু করে। এক'শ বছরের মধ্যে য়ূরোপীয় বেনে কোম্পানীরা-পর্তুগীজ,দিনেমার,ওলন্দাজ,ফরাসী,ইংরেজ এবং আর্মেনীয়ারা- সমুদ্রপথে ভারতের আন্তজার্তিক ব্যবসা-বানিজ্য নিয়ন্তন করছে।
তখন বিনিময় মাধ্যম পন্য থেকে মুদ্রায় পরিবর্তিত হয়েছে বহুল পরিমানে।
ইংরেজের হাতে শাসন ক্ষমতা যাওয়ার সাথে সাথে সেনাবিভাগের তুর্কী-মুঘল-ইরানীরা ও উওরভারতীয় পদস্থ কর্মচারীরা উওরভারতের দিকেই পালাল। কোলকাতা,মাদ্রাজ ও বোম্বাই বন্দরেই ছিল ইংরেজ কোম্পানীর আসর ও আড্ডা।
১৭৯৩ সালের দিকে কেউ কেউ নিলামে জমিদারী কিনে হল জমিদার। নতুন ও পুরনো জমিদারদের কেউ কেউ ছিল মুর্শিদকুলী খান নিয়োজিত ইজারাদার বংশীয়ও।
কিন্তু মজার ব্যাপার হলো- উনিশ শতকের আগে রামমোহন ব্যতীত কেউ তেমন ইংরেজী ভাষা জানত না।
রেঁনেসাস বিতর্কিত বিষয় হয়ে উঠেছে। রেঁনেসাস হচ্ছে জীবনের জাগরন,পুরোনো ধারার বা অতীতের পরিপ্রেক্ষিতে এর অর্থ নবজাগরন বা নবজন্ম। ইতালীতে পনেরো শতকে 'জর্জো ভাসারি'-ই নবজাগরন বা নবজন্ম ঘটানো সৃষ্টি-সম্ভব মনস্বিতা অর্থে 'রেঁনেসাস' শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন।
রেঁনেসাসের প্রভাবে জনজীবনে তথা জাতীয় জীবনে- সমাজ,রাষ্ট্র,ভাষা,সাহিত্য,শিল্প,সংস্কৃ্তি,বিজ্ঞান,দর্শন প্রভৃতিয় বিবর্তন ঘটে।
অতএব,পরিনামে মানুষের মন-মননের উৎকর্ষ সাধিত হয়। রেঁনেসাস বহুজনের নানা ভাব-চিন্তা-কর্ম-আচরনের ফসল। তবু এদের মধ্যে দূর থেকে চেনা যায় তিন মিনারের মতো -তিন আলোক-স্তম্বের মতো তিন ব্যক্তিত্বকে--প্রথেমে রামমোহন,মধ্যে বিদ্যাসাগর ও পরে বঙ্কিমচন্দ্র। এদের সহচর-অনুচর,সঙ্গী-সহযোগী ছিলেন অনেকেই। রামমোহন ছিলেন সংশয়বাদী,বিদ্যাসাগর ছিলেন নাস্তিক,বঙ্কিমচন্দ্র প্রথমে নাস্তিক শেষে ভক্তিমার্গী হিন্দু।
(এইখানে একটা কথা মনে পড়লো- মাইকেল মধুসূদন দওই নাকি বাঙালীদের মধ্যে প্রথম বিলেতী পোশাক-পরুয়া ব্যক্তি। )
এক-কথায় যা কিছু শ্রেয় সেসবের প্রতি সাধারনকে আকৃষ্ট করে -জাতীয় জীবনে যে উন্নয়ন ও উওরন ফহটান তার'ই নাম রেঁনেসাস। বছরের বারো মাস'ই কোনো না কোনো তরুতে-লতায় ফুল পাওয়া যায়,এবং একটা গাছ দিয়ে বাগান হয় না। সুবিন্যস্ত বহ তরু-লতার সমাবেশে তৈরী স্থানই বাগান। যে কোনো কালে ও স্থানে সাধারন মাপের দু'চারজন মনীষী থাকেন'ই- বুদ্ধিজীবী থাকে অসংখ্য।
তাতে রেঁনেসাস হয় না; প্রথম শ্রেনীর বহু কৃ্তী ও কীর্তিমান মনীষীর অবদান'ই কেবল রেঁনেসাস।
বাঙালীরা চিরটাকাল বিদেশী-শাসিত-বিজাতি-শাসিত। বাংলাদের যেসব ধর্ম সেগুলোও বিদেশ থকে আগত-হিন্দু,বৌদ্ধ ও ইসলাম বদেশ থেকে আসা,-উওর ভারত থেকে আসা আগত,আরব থেকে আসা,এবং হিব্রু অঞ্চল থেকে আসে খ্রীস্টান ধর্ম। আমাদের ভাষাও হচ্ছে উওর ভারতীয়। বাঙালীর যে গৌরব এবং গর্ব আমরা করছি,প্রাচীন এবং মধ্যযুগের বাংলা ও বাঙালীর গৌরব- তার কোন্টাই বাঙালীর কীর্তি নয়।
এইটাই হচ্ছে দুঃখের কথা। আমরা বাংলাদেশের ইতিহাস যখন বলি-তখন মিথ্যা গর্বে গর্বিত হতে চাই। তাতে স্বদেশের,স্বজাতির আসল পরিচয় গোপন করে নানা কাল্পনিক কাহিনী দিয়ে মন ভরাতে চাই। কেন?আমাদের বুঝতে হবে যে,'বাঙালী-বাঙালী' 'বাংলাদেশী-বাংলাদেশী' করে চিৎকার করলেই আমাদের আত্নপরিচয় মিলবে না।
আড়াই হাজার বছর ধরে যে-ই বাঙালী চরিএ সম্পর্কে আলোচনা করেছে সে-ই বলেছে যে,বাঙালী চোর,মিথ্যাবাদী,ভীরু,কাপুরুষ,পরশ্রীকাতর,ঈর্ষাপরায়ন ইত্যাদি।
এর কারন কি?কারন আমরা পরাধীন ছিলাম। যে পরাধীন যে দাস,সে-তো সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না,মেরুদন্ড ঋজু রাখতে পারে না,সামনা-সামনি কথা বলে ব্যক্তিত্বের পরিচয় দিতে পারে না।
আশার কথা হলো-এত পীড়নের মধ্যেও বাঙালী টিকে আছে। বাঙালীর চাই শিক্ষা, মনুষ্যত্ব,চাই মহত্ব,চাই আর্দশপরায়নতা,চাই সুন্দরের জন্য সাধনা ও সংগ্রাম। এসব অর্জনের চেষ্টা করলে বাঙালীর সুপ্ত শক্তি,অবদমিত শক্তি,আড়াই হাজার বছরের অবদমিত শক্তি জেগে উঠবে।
বাঙালী পৃ্থিবীর বুকে মানুষ হয়ে দাঁড়াবে- প্রকৃ্ত আত্নপরিচয় ঘোষনা করবে। তখন পৃথিবীকে জানাবার মত একটা নতুন বানী নিয়ে বাঙালী দাড়াবে। আমাদের শুধু দরকার এই মনোভাব যে-আমাদের বাঙালীদের বড় হবার সম্ভাবনা ছাড়া কিছুই নেই- সব আমাদের করে নিতে হবে এবং সব আমরা করে নেব।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।