দলের দ্বিতীয় দুর্গ হিসেবে পরিচিত সিলেটে গৃহদাহে পুড়ছে জাতীয় পার্টি। জেলা আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন নেতা-কর্মীরা। আহ্বায়ক কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে নেতা-কর্মীরা সভা-সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছেন। আহ্বায়ক কমিটি বাতিল না হলে তারা পাল্টা কমিটি গঠনেরও ঘোষণা দিয়েছেন। এ নিয়ে গতকাল জেলার জ্যেষ্ঠ ও ত্যাগী নেতারা মিলে সভা করে আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
নির্বাচনের আগ মুহূর্তে কমিটি নিয়ে অন্তঃকলহ সৃষ্টি হওয়ায় এর নেতিবাচক প্রভাব আগামী সংসদ নির্বাচনে পড়ার আশঙ্কা করছেন দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের নভেম্বরে মেয়াদোত্তীর্ণ পূর্ণাঙ্গ কমিটি ভেঙে দিয়ে কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব যুক্তরাজ্য-প্রবাসী সেলিম উদ্দিনকে জেলা কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব পাওয়ার পর গত ডিসেম্বরে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলাপ না করেই তিনি ৮৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি কেন্দ্র থেকে অনুমোদন করিয়ে আনেন। নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, ওই কমিটিতে সেলিম উদ্দিন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মৃত নেতাদের নামও অন্তর্ভুক্ত করেন। বাদ যান দলের দুর্দিনের ত্যাগী ও জ্যেষ্ঠ নেতারা।
এই কমিটি অনুমোদনের পর পরই শুরু হয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ। দলীয় কার্যক্রমে নেমে আসে স্থবিরতা। সেলিম উদ্দিনও ফিরে যান যুক্তরাজ্যে। এই অবস্থায় দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারের দ্বারস্থ হন। তারা ত্যাগী নেতাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানান।
গত রমজানে সেলিম উদ্দিন দেশে এলেও দলের বাদ পড়া ত্যাগী নেতাদের নিয়ে বৈঠকের কোনো উদ্যোগ নেননি। এমনকি দলে অসন্তোষ নিরসনেরও চেষ্টা করেননি।
এদিকে আহ্বায়ক কমিটি বাতিল ও নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ না নেওয়ায় ত্যাগী নেতা-কর্মীরা ফুঁসে ওঠেন। এক মাস ধরে তারা সভা-সমাবেশ করে চলছেন। সর্বশেষ গতকাল পার্টি অফিসে সভা করেন।
তারা বর্তমান আহ্বায়ক কমিটিকে অকার্যকর দাবি করে তা বাতিল করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি বা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দাবি জানান। বক্তারা আহ্বায়ক কমিটি বাতিল না করলে পাল্টা কমিটি গঠনেরও ঘোষণা দেন। গতকালের সভায় উপস্থিত থাকা সিলেট জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি জহির উদ্দিন পল্টু ও সাবেক সহ-সভাপতি আবদুল মালেক খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সেলিম উদ্দিন ত্যাগী ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের বাদ দিয়ে ৮৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করিয়েছেন। এতে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আমরা পার্টি চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।