এই পৃথিবীতে শুধুমাত্র দুই রকমের মানুষ আছে। ভালো মানুষ যারা ভালো কাজ করে। আর খারাপ মানুষ যারা খারাপ কাজ করে। এটাই মানুষদের মধ্যে একমাত্র পার্থক্য। আর কোন পার্থক্য নেই... আমি ভাল মানুষ...☺☺☺
গত কয়েকদিন ধরেই পত্রিকায় প্রতিদিন দেখছি পিংকি নামের নবম শ্রেণীর একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু সংবাদটি।
পিংকি আত্মহত্যা করেছে গলায় শাড়ি পেঁচিয়ে। পিংকিকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছে মুরাদ। এরকম দাবি করছে পিংকির পরিবার। কিন্তু মুরাদ বলছে যে সে নিদোর্ষ। পিংকির সাথে তার ভালবাসার সম্পর্ক ছিল।
শুধুমাত্র সাধারণ মানুষ কেন, সাংবাদিকরাও যে ধাধায় পড়ে গেছে তা বোঝা যাচ্ছে প্রতিদিনের পত্রিকা দেখলে। একদিন তারা লিখছে মুরাদের কথা, আরেকদিন পিংকির পরিবারের কথা। আমি সবদিক থেকে লিখে একটা সমাধানে আসার চেষ্টা করবো এই পোস্টে:::
পিংকির পরিবারের ভাষ্য: মুরাদ পিংকিকে সবসময় বিরক্ত করতো। আমরা যেটাকে ইভটিজিং বলে থাকি। সে এলাকার একটা বখাটে ছেলে।
মুরাদ একদিন পিংকিকে থাপ্পড় মারে। এই থাপ্পড়ের অপমান থেকে নিজেকে বাঁচাতে পিংকি আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
মুরাদের ভাষ্য: পিংকি এবং মুরাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মুরাদকে পিংকি ভালবাসতো। ব্যাপারটা মুরাদের মা জানার পরে সে পিংকিদের বাসায় একটা প্রস্তাব নিয়ে যান।
কিন্তু মুরাদরা গরিব হওয়ার পিংকির বাবা-মা তা গ্রহণতো করেনই না বরং মুরাদের মা-কে অপমান করে বের করে দেন ঘর থেকে। আর পিংকির পরিবার পিংকিকেও নানাভাবে মানসিকভাবে এবং শারীরিকভাবে টর্চার করতে থাকে। এসব থেকে মুক্তি পেতে পিংকি আত্মহত্যা করে।
আমার কাছে মনে হয়েছে মুরাদের কথাগুলো অত্যন্ত যুক্তিসম্পন্ন এবং আমাদের বাস্তব জীবনে আমরা এরকম ঘটনার সম্মূখীন-ই বেশি হই। এবার আমি একটি কাহিনী তুলে ধরি আপনাদের সামনে।
এটাকে পড়ে বলুন পিংকির আত্মহত্যার জন্য দায়ী কে???
পিংকি, অষ্টম শ্রেণীর একজন মেধাবী ছাত্রী। পিংকিদের বাসার দুই বাসা পাশেই থাকে মুরাদ। একদিন পিংকিকে স্কুল থেকে আসার সময় মুরাদ তাকে দেখে। এভাবে প্রতিদিন দেখতে দেখতে মুরাদের মধ্যে একটা ভাললাগা এসে যায়। এদিকে পিংকিও বুঝতে পারে একটা ছেলে তাকে সবসময় ফলো করে।
ছেলেটাকে পিংকির কাছে মন্দ বলে মনে হয়না। পিংকিও পছন্দ করে ফেলে ছেলেটাকে। তাই একসময় দুইজনের এই ভাললাগাটা ভালবাসায় পরিণত হয়।
পিংকি এবং মুরাদের এই ভালবাসার খবর এলাকায় ছড়িয়ে যায়। মুরাদের মা খবরটা জেনে পিংকিদের বাসায় প্রস্তাব নিয়ে যায়।
কিন্তু মুরাদরা গরিব হওয়ায় পিংকির পরিবার তার এই প্রস্তাব গ্রহণ করেনা। বরং তারা মুরাদের মা’কে অপমান করে ঘর থেকে বের করে দেয়। কিন্তু এতোকিছুর পরেও মুরাদ আর পিংকির মধ্যে সম্পর্ক থেকে যায়। কারণ, তাদের একের অপরের প্রতি অগাধ ভালবাসা এবং পিংকির টিন-এজ আবেগ।
অন্য পাঁচটা সম্পর্কের মতো পিংকি আর মুরাদের ভালবাসায়ও ভুল বোঝাবুঝি এবং তা থেকে ঝগড়ার সৃষ্টি হয়।
মুরাদের রাতের ঘুম নষ্ট হয়ে যায়। তাই সে ঘুমের ওষুধ খাওয়া শুরু করে। আর এদিকে পিংকি মুরাদের প্রতি তার ভালবাসা দেখাতে করে যতো পাগলামী। “তোমাকে না পেলে মরে যাবো”-এরকম দৃষ্টিকোণ থেকে সে তার হাত কাটে ইচ্ছা করে। মুরাদের এটা দেখে রাগ লাগে।
তাই সে রাগের বসে পিংকিকে থাপ্পড় মেরে বসে। পিংকি থাপ্পড় খেয়ে ভাবে মুরাদ বোধহয় তাকে প্রত্যাখ্যান করলো। তাই সে মুরাদের প্রতি তার ভালবাসার সর্বশেষ প্রমাণ দেখাতে আত্মহত্যা করলো। । ।
আমার মতে এটা মুরাদ আর পিংকির আসল ঘটনা। তাহলে এখন আপনারা প্রশ্ন করবেন। পিংকির মৃত্যুর জন্য দায়ী কে? আমি বলবো, কেউ না। মুরাদ না, পিংকির পরিবারও না। দায়ী পিংকির টিনএজ আবেগ।
আবেগ তাকে বুঝতে দেয়নি যে, “পিংকি, আত্মহত্যা কোন সমাধান নয়। বরং এটা আরো সমস্যার সৃষ্টি করে। । । “
আমি নিজেও একজন টিনএজার।
এই পোস্টটাকে যখন লিখছি আমি নিজেও তখন মারাত্মক মানসিক চাপের মাঝে আছি। কিন্তু এই চাপগুলোকে মোকাবিলা করে বেঁচে থাকা শিখতে হবে। টিনএজাররা যদি এভাবে করে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় তাহলে অকালে ঝরে পড়বে অনেকগুলো সম্ভাবনাময় জীবন। । ।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।