আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

দীর্ঘকবিতা: সোনালি অসুখ এবং বৃশ্চিক যাতনার কাব্য

ডুবোজ্বর

তুই কে তোর হাত জুড়ে কার আঙুল তোকে আমি চিনি না তাতে কী চল আমার হাত ধর বেরিয়ে পড়ি দুজন জনান্তিকে শুধু ভাঙনের কাল কেনো ভাঙে না সমস্ত চল পালিয়ে যাই শুরু হলো বুঝি আবার ঝড়ের মাতম এভাবেই চিরদিন ক্লান্তি নেই এইসব কী এতো জটিলতা নয় সহজ হিশেব অন্তরালে ছিঁড়ে জাল অন্তরালে ছিঁড়ে কি জাল কোথায় অবসান ছায়ায় তো দিনাবসান রাত আসে রাত্রিরা জান্তব কেউ মরে না পরিণত ধ্বংসের প্রতীক্ষায় জেগে থাকি আমি শূন্যতা এই যে আমার শরীর এই যে সোনালি বিষ আর কহর এই যে পলিমাটি হাহাকার এ মানবেতর খুঁজে ফেরে পুষ্প ও অধর কেবল কামে নয় এইখানে বারোমাসী আবেগ রহিয়াছে এইখানে রহিয়াছে শ্যামল অন্ধকার জলপাই কাতরতা ভাসমান নাভীসুর তুই দাঁড়া তোর সাথে যাবো বাতাসী শিকড় ছেঁড়ার দিন প্রতিদিন শিকড় তো ছাড়ে না কেউ ভুলে আছে তাতে কী কেনো এখানে মেঘের ঘনঘট কে ঘটায় মেঘের ঘটনা কে করে হল্লা কেনো কলহ কেনো প্রতিযোগ ছিনাল কেনো অনসূয়া পলাতক অসহিষ্ণু বীজাণুরা অক্টোপাস কে করে তালাশ কেউ হারতে চায় না তুই তা জানিস না আমিও জানি না তবে তো সহজ আয় হাতে হাত বাঁধি আয় পান করি নদী ডাকে তক্ষক তাকে কী আয় বাঁধি কণ্টকে কণ্টক চল পালাই ফসলের মাঠে মাঠে আগুন লাগাই ফসলি জমিতে খরা ফুটে থাক চল একচুমুকে পান করে ছুঁড়ে দিই সোলালি যৌবন চল কেয়াবনে প্রজাপতি হই কিংবা হই কেয়াবন ঘানি টানার মানে কী কী দরকার বয়ে বেড়ানোর চল্লিশটা ঘুমের বড়ি যোগাড় করি চল অথবা অপিয়াম সিসিফাস হয়ে থাকার কী মানে না আমি সিসিফাস হবো না প্রতিযোগিতা ভালো লাগে না চারপাশে প্রতিযোগির ভিড় যেই গৃহে অন্ন নেই সেই গৃহে করি বাস হাজার বছর অন্নের ধারে তৃণ লাগে তৃণাঞ্চল অঝর আয় তৃণে ধরি প্রাণ আয় বাঁধি তালে আযানের গান না আমি সিসিফাস হবো না রাত্রি আমার কাটে কাটে না অমা তোর হাতজুড়ে কার আঙুল তাকে চিনি না তাতে কী আসে যায় শৈশবহীন কে আছে আর সে যদি তুই তবে আয় হাত ধর ঋতুগন্ধে ডাক দিয়ে যাই দাঁতে মাছের রক্ত লেগে আছে পরোয়া করি না আমি কতোটা জলীয় তাও জানি না জানি কেবল জল আছে জল রক্তের জল আছে শিরায় উপশিরায় কান্নার জল আছে চোখের ওপারে স্বেদের জল আছে রোমকূপে চুপিচুপে ক্লেদের জল আছে অন্ত্রে অন্ত্রে কামনার জল সেতো রক্তের ঠোঁটে জলে জলে আমি হয়েছি কাজল আমি তোর হাতের মুঠোয় ভেঙে যাই অনল তুই বুঝি দুধে জল মেশাস বিশ্বাস করি না তোর স্তনের বাটি তো পূর্ণ ওখানে জলের জায়গা কই তোকে মা ভেবে আমিই কেবল দিতে পারি চুমুক জল তো পারে না তোর নোনতাস্বাদে স্বাদ জাগে আরেকবার মরে যাই দুধ খাওয়া বারণ তারপরও তুই স্বপ্নের বেকার কারিগর আমারি মতন আয় আমরা দিবালোকে মিলিত হই উতল সঙ্গমে ভেঙে দিই সভ্যতার কাঁচের মুখ আয় পৃথিবীকে ধ্বংস করে পালিয়ে যাই জলে অতিক্রম করি ইতিহাস হই প্রথম অ্যামিবা মৃত্যুলোকের ঘর কতোকাল পোষে রাখবো পরস্পরের রন্ধ্রে পরাজিত মানুষের পদমূলে চিতা জ্বেলে পালিয়ে যাওয়াই ভালো কুমারী তৃণে যে শিশির জেগে থাকে রোদের কামনায় সে মিথ্যে কিছু নয় কিছুটা প্রাকৃতিক তোর প্রকৃতি আর নিরাভরণ সৌকর্য ছুঁয়ে যায় মেঘ তাও সত্য বাতাসে কে আসে একখানা প্রেমের কবিতা লিখিয়া ফেলি ঘটমান যুদ্ধের বিপে পক্ষ বুঝি শুক্লপক্ষ দিনরাতও আসে কদাচিৎ তুই কে দগ্ধ করিস রাত্রিদিন মোহ আর কাম দাহন করে গাভীন পৃথিবী তারপরও আশ্লেষে ঘুমিয়ে পড়ি না ঘুমোবার কৌশল কবেই ভুলেছে চোখ চিবুকের নিচে কাটাদাগে লেখা আছে অতল অসুখের প্রাগেতিহাস কোন সে অসুখ কবে হয়েছে তা পীতবর্ণ সুখ কোন পাপে পাপক্ষয় জানে না প্রণয় তবু ঘোর জেগে থাকে চোখ সে কবে মেঘের পাল্কি অনূঢ়া মেঘের চোখের খাতা কোন বিষাদে ঢাকা একটা চশমা বিক্রি হবে কাঁচবিহীন কেবলি ফ্রেম কেউ কেনে না ওরা চোখের মর্ম বোঝে না কাঁচ বোঝে কাঁচ কাঁচ সত্য চোখ সত্য নয় কোন পাপে পাপক্ষয় জানে না সময় কেদাক্ত পাথরে কি জাগে না প্রাণ অথবা সবুজাভ ছত্রাক রাশি বিপন্ন তিক্ততা ভালোবাসি যে বৃষ্টিক্লান্ত নদী হয়েছে অভিমান তার চুলের কুন্তলে অলকপলকে জাল পেতেছে নীলকুয়াশা যেনো বা বিপুল ধোঁয়াশা কোন রহস্য খেলা করে ওইখানে লীলা করে কোন ছলে সঘন অবলীলায় চৈতসংক্রান্তির ভোরবেলা রোদ এসে পড়ে তার শালবনে সাংগ্রেং এ জলকেলি হবে একটু পরে তার কেশদাম সাজে এরপর থরে বিথরে তারা বর্ষাকে করে নেবে বরে সংসার বুকের বিলাস ভেঙে বিদ্রোহ করে পাঁজরের কখানা হাড় ওরা কি চায় স্বর্গসুখ মাংসের স্বপ্নিল ক্ষুধায় অবচেতনায় বাজে যে বেহাগ তার নাম পদ্মপুকুর কেনো বেজেছিলো রাতের বেহাগ কেনো উদাসীন দুপুর আজ রাতে খাড়ির নীচে চুরি হবে জলস্রোত সেই স্রোত প্রশান্ত উতলতা হবে চোখের অতলে ওখানে সমস্ত রক্ত স্থির হয় বিশাল অস্থিরতায় অস্থিরতার নাম মৃত্যু নয় তা জীবনও নয় শেষ কি অবশেষে হয়েছে অশেষ আশ্লেষে ঘুরে কোন সে ক্লেশ কখনো দ্বেষ আসে জীবনের ঘোলা চোখে জীবন মৃত্যুকে কামনা করে মৃত্যু বড় কঠিন নিজেই জানান দেয় ঘড়ি চলে ঘুড়ির চালে কোন সে চালক মনে হয় সে অর্বাচীন অপ্রাপ্তপুষ্পরূপ বালক ধরা দেয় গান কাঁদে আযান আয় সখি শঙ্খতালে বেঁধে ফেলি আযানের গান শেষে গানই সত্য হবে ধর্ম কখনো নয় কে সখি কে তুমি বঁধু আমার আমি শূন্যতার চরে করি অনাবাদী চাষ কে হায় বন্ধুজন খুঁজে ফেরো আলেয়াহত অন্ধকার হলুদের ঘর আছে বৃথায় খোঁজো এখানে আঁধার সত্য আলো সত্য নয় বুকের কখানা হাড়ে স্বপ্ন বাধা যায় সুর্মাপাহাড় কবে গড়ায় সুরমার উরুসঙ্গমে কে হাঁটে জীবনের ভুলে জীবনের ভুল কতোটা উতল কতোটা তার চোখের জল বিচ্ছিন্ন প্রলাপ ঘিরে পাগলও জানে অনিরুদ্ধ বিলাপ সমুদ্র জানতে পারে না রক্তের কথিত সংলাপ বাসুকীর ফণায় কতোটুকু জল আর কতোটা গরল জানে নি নীলকণ্ঠ আমি তার অধরোষ্ঠে ওষ্ঠাধর রেখে হয়েছি আকণ্ঠ আমি কি অমর এখনো জানি না জানি শুধু ঘুচে নি আজো যাপনের অমা অস্থিরতা আছে কামনা আছে বরফ আর আগুন আছে তবু তুমি কে দাহন করো চিরদিন কে তুই একই সাথে মোহ ও মোহনার সুর শেখাতে চাষ অবলীলায় লীলা করে কোন ঘূর্ণিপাকে টেনে নিবি লৌকিক বসত হাজার বছর পড়ে থাকে বনের পর বন ঘাস আর ঘাস তবে কি ধূসর সত্য তবে কি গায়ত্রী সত্য নয় লেলিহান জীবনের স্বেদে বাঁধা আছে জীবনের গান মৃত্যু সত্য গান সত্য নয় -------------------------------------------------------------------- রচনাকাল: ২২-০৪-০৩.

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.