আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

আশরাফ শিশিরের দীর্ঘকবিতা ‍‍ দুধধান ১ম অংশ



আশরাফ শিশিরের দীর্ঘকবিতা ‍‍ দুধধান যেভাবে একজন কবি বিজ্ঞানী হয়ে ওঠেন নারীসঙ্গ তার একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টামাত্র ..... আনুভূমিক ঃ আমার চোখ আমি দেখিনি কখনো প্রতিবিম্ব ছাড়া প্রতিবিম্ব ছায়া ছাড়া কিছু নয় তোমাকে প্রথমে ভেবেছি ঈশ্বর অথবা ঈশ্বরী তারপর ছায়া ছাড়া আর কিছুই ভাবিনি.... শারীরিক ঃ আমাকে হাত ভেবে ভেবোনা ঘড়ি নিজেকে বৃত্ত ভেবে ঘোরে না চাকা আমারও কমতি ছিল জ্যামিতিক জ্ঞান তোমাকে ন্যাংটো করে লাভ হল না তোমাকে কেমন যেন মনে হয় মাছ মাংসাশী আমাকেও তৃণভোজী মন নদীরা ক্লান্ত খুঁজে নৌকোর তীর যেখানে প্রোথিত আছে ধানদের মাঠ সেখানে আয়নাগুলো ভীষণ ভাঙ্গণ কাঁচ দূরত্বের অনধিক দুরে তোমাকে ভালই দেয় তুমিও কি কম আমার অধিক হলে তোমাকে দিতাম আয়নার যোনী নেই চোখই শরীর দুগ্ধবতী এক ধানের আদল ধান ও মদের দায়ে সিরাতের পুল জলের ভেতরে জল ভীষণ জলজ মাতাল চোখের দিক নিষেধ কাবা বিবিধ কাছিম যায় ওরসে আবার এক ডুবে মেঘ ডুব দিয়েছে আকাশ টুপ করে কিছু হাঁস হল উপহাস জালে আটকে গেছে বড় এক মাছ মাছেরও ছিল খুব জাল প্রয়োজন কাঁকড়া ও মাছে যে অনত্মর্জাল কাঁকড়ার মন কাটে কাকেরা এখন মাছেরও প্রয়োজন ছিল কিছু মাছ আমার যেমন ঠিক নারীমাংসের প্রেম টেম ছিল বাওয়া আগে বহুদিন কামের ভেতরে দেখি দীর্ঘজীবন ক্রমশঃ হোঁচট খায় দ্বীধাদ্বন্দ্বেরা তার আগে মদ হলে ভাল হত বেশ তোমাকে মদ ভেবে গিলে ফেলা যেত অথচ বড়শি হয়ে ঝুলে আছে গলা এতটা তরল তুমি ভাবিনি ভুলেও তোমার শরীরে আজ অনেক নাগর তোমাকে ভালই দেয় তুমিওতো নাও আমাকে আয়না ভেবে ভেঙ্গেছো ভীষণ মদের মাহাত্ম্য দেখে মনে হল ঈশ্বর কোনদিন মদ টদ ছুঁয়ে দেখেনি হয়ত মাতাল সেও আমারই মত সৃষ্টি ও স্রষ্টায় যত গোলমাল ধানেরা অপেক্ষায় বীজতলা যুগ কৃষকের বুক তারা বুনবে এবার এভাবে ছিটিয়ে দিলে ধান হবে মানুষ এইবার ধানেরা ফলাবে কৃষক কৃষকেরা দাও বুনে মদ ধান বীজ কিছু ধান মদ হোক কিছু ধান ভাত দুধধান ধানদুধ শালদুধসম তারও পরে নবান্ন তারও পরে মদ বুনবে যখন বীজ সযতনে বুনো হয়না যেন একটুও অনাদর শৃঙ্গার দরকার প্রার্থনা কোরো ঈশ্বর ধানশিশু দিও মুঠো মুঠো চিৎ হলে তোমাকেও মনে হবে রোদ আমাকে বৃষ্টি ভেবে ভিজো না কাঁদায় কাঁদামাটি আজও আছি হইনি পাথর তোমাকে কাঁদায় জানি প্রতিহত মেঘ তোমাদের গ্রাম কবে ভরে যাবে ধান প্রশস্ত মাঠ হবে ধানদের হাঁট নাঙ্গা হাড় পান্তায় চিন্তামূলক মদের অপেক্ষায় আমি তথাগত লাফিং বুদ্ধ কিনে কেঁদেছি অনেক তোমাদের ঈশ্বর ভীষণ কৃপণ গেলবারও মঙ্গায় সে ছিল নীরব আয়োজন দেখেছিল গোর ও শ্মশান আমার কবিতায় হয়নাতো ধান শরীরওতো কোনদিন হল না লাঙ্গল উত্তরাধিকারে ছিলনাতো ভিটে আমার মায়েরা থাকে বেশ্যাপাড়া পিতারা কাতর ঘুমে গতানুগতিক নেহায়েৎ সখে নয় বাউল এ পনা শুনেছি মদ হলে কবিতা ঘোড়া লাগামহীন লিরিকেরা খাঁজ কাটে বুকে অগত্যা স্থিতি প্রেমিকা যে গ্রাম এই গ্রামে কোন এক গৃহস্থ ঘরে সারারাত চাষাবাদে তৃপ্ত সে নারী আবারও গাভীন হলে পানি পড়া খায় আমিতো ধানের মোহে হয়ে গেছি ধান যেমন নাড়ির সাথে আজীবন নারী আড়ি পেতে তাই শুনি ধানদের গান আখড়ায় এ আশ্রয়ে যত ধারা জারি আমাকে বাসতে ভালো বেসে ফেলো ভুল চর্বচোষ্য মন কর্পুরে উবে দিনান্তে অযুত রাত হল উদোম ত্যাগ করে পরকাল হুর ও গেলমান ঘাস ও মাটির তোড়ে বৃষ্টি প্রবল আসমান ভিজে ভিজে হয়ে গেল কাক দুপুর গড়িয়ে দিন এইতো সেদিন মেঘগুলো ভেজা ভেজা উড়ুক্কু মন বিদ্যুৎও চমকিত দেখে সেই ঢল কাকভেজা হয়ে কাক ভিজলো আবার জিসমে বিক্রি হল তামাম বাজার খোদার কসম এ সুররিয়ালিজম দুঃখ বেলুন এক ফুটিয়েছি কাল ফোলাতে ফোলাতে শেষে বিনীত বোমা জন্মনিয়ন্ত্রণও বিনোদনে ফুঁটো সংযম ছেড়ে সারি মনসঙ্গম উসকে দিলেই হতো প্রতিবাদী ঝোল রান্নারা বেড়ালো রাঁধুনী শরীর কাঁটতে ঢেঁড়স কেঁটে ঢেঁড়স আঙ্গুল মসলা দোআঁশলা কামুক ভীষণ নাটাই উড়ছে একা ঘুড়িতে বাঁধা ওইতো ভল্কা হলো ও পাড়ার ছেলে ঘড়িতে তখন ঠিক অজানা সময় উঠতি মেয়েটা হল যৌবনবতী প্লেটোর সামনে খাঁড়া অন্ধ হোমার রুশোও কবিতা ভয়ে বেশ্যা বানায় আমিতো কবিতা করি কবিতার ভুল সফোক্লিস ইডিপাস লিখে রেখে যায় নুহের প্লাবন শেষে আমি ও আদম কিলবিল করে সাপ হাবিল ও কাবিল তুমি কি তোমার সেই ভাইয়েরও কাতিল সহোদর রক্তে নীল সরোবর মুজাসও বড় একা ভেড়াদের পাল ফেরাউন ভালবাসে ঈশ্বর বেশী সেই প্রতিদানে নীল নদ হল ফাঁক সেই ফাঁকে ইবলিশ করে আঁকিবুকি যিসাস বিদ্ধ করে ক্রুশের শরীর এলি এলি লামা সবাক্তানী ফিরবে কি নাকি আর ফেরা হবে না জুডাসেরা গৌরবে ভাঙ্গছে প্রাচীর তায়েফের ময়দানে কবিতার গান নবী মুহাম্মদ বান্দা হাজির হেরা পর্বত থেকে এনেছে কোরআন কবিতাও ম্লান দেখি ওহী ও সুরায় অন্ধ কানাই এক ছিল কিউপিড আমিও অন্ধ নাকি প্রেমিক যখন অগত্যা কবিতার ব্যর্থ বাজার ক্রয় ক্ষম উর্ধ্বে প্রেমস্ফিতি এসো ধান গুণবান ধান হয়ে এসো রুপবান কৃষাণীর হাতে হইও ভাত আমিও জাবর কাঁটি আজীবন ভেতো মদের অপেক্ষারা ঘোরে সারারাত আযানটা পড়ে গেল মসজিদ পর মন্দিরে আহ্নিকে বাজে পুরোহিত মানুষের কান শোনে সেই সে বয়ান মিথ্যায় আলোকিত যাবতীয় মিথ হাড়গুলো তবু জানে কবিতা খোরাক যদি হয় কতিপয় শব্দেরা খুনি তোমাকে নামায ভেবে পড়ে নিই আবার অন্তরে নিয়ত কুমারী পুজো নজরবন্দী হয়ে পড়ে থাকে চোখ চোখের ভেতরে এক চোখের বালি সে বালিতে ইমারত যদি হয় হোক যাদুতে ভ্যানিশ সবই যাদুবাস্তব শরীর বন্ধের আরবী সুরা ঢেলে পান পেয়ালায় হোক আয়োজন উড়াল দিল যে মন সেওতো পাথর ঘর্ষণে কাঁচা স্মৃতি ঝলসালো খুব কবিতার সবই ছিল ছিল না শরীর তাইতো নারীর কাছে নিতে হল ঋণ নারীর প্রতিজ্ঞা সেতো নারীর মতই কখনো ঠুনকো ঠিক কখনো গভীর আবেগ ও উত্থানে কবিতা মৃত নবাগত ওই ধানে আমিও অপার পারাপার ফেলে আসি ফেলে আসি চোখ তোমাকে ভুলবো যদি ধানই মদ হোক কিছু ধান ইশকুলে যাবে না কখনো কারো গলার কাঁটা অমানুষই হবে বেপরোয়া এক ধান ভীষণ নতুন একফাঁকে শুয়ে নেবে কৃষাণীর সাথে ধানের ফলন হবে আসবে না শিশু জড়ায়ুর দোষে ছিল কিছু জড়বোধ ধানশিশু এইবার ধান হয়ে যাবে একদিন ভাত হবে একদিন মদ ধান ্‌েবঁচে ধনী হবো ভাবিনি এমন ধানের অপেক্ষায় মদ হয়ে থাকি মদের অপেক্ষায় যেমন এ ধান পঁচে পঁচে স্বাদু হই এমন বিষাদে আমার শরীর জেনো আকাশমুখী মাধ্যাকর্ষণও লজ্জা পাবে মদেরও অনেক আগে এই মাতলামি তোমাকে পাওয়ার আগে তোমাকে যেমন তোমাকে চোখ ভেবে দেখিনি কখনো তুমিতো শরীর হয়ে পরিধেয় করো অন্তর্বাস নয় করেছো বোতাম এমন মদের দিনে কোনদিন এসো বেহুলা নৃত্য হবে মাতাল চিতায় তুমি না এলেও মদ হবে কিন্নরী বরং চলেই এসো যদি আসা যায় হরণ যে হবে না দিই না অভয় খালি হলে খুলে এসো খেলোয়ারীটুকু তোমাকে রিফিল করে ভরে দেবো মেঘ মেঘের বদলে মদ যদি হয় ধান ধানের দিব্যি দিয়ে ধান বড় হবে আমাকে ঘড়ি ভেবে ভেবেছো কি হাত হাঁটে না যখন পা হাতে হাতে হাঁটি আগেতো পেট ভরে খেয়েছি হোঁচট এইবার ঠোঁটে ঠোঁট তোমাকে আমি তোমার ভেতরে যেতে যাই যতদুর তোমাকে সঙ্গে করে তোমারই ভেতর আরো ভেতরে যেতে দিও অনুমতি যতটা ভেতরে কেউ পারে না যেতে তোমার অহংকার হয়ে যাক মদ আমিও অহংকারী মাতালের ঠোঁটে চিবুকে লিখতে পারি কামড়ের দাগ তুমি যাকে ভালবাসা বলনি কখনো মদের অপেক্ষায় শুধু কিছু ধান যত্নে ও যতনে কৃষাণীর হাতে তোমাকে ভাবিনি যে আসবেও তুমি এইবার ধানেরা ফলাবে কৃষক জেলে-বউ রেপড্‌ হবে ইলিশের চোখে যতই কাঁটো না বাঁটো সমাহত ছাই মাছগুলো ধরে নেবে জেলে-মাঝি-জাল নৌকায় নদী দেবে তুমুল ভাসান উদ্ধত মাথা আজ ধান চারা গাছ দোয়েলের শিশ হল যত ধানশীষ দুলকি ধানে ওড়ে দিগন্ত হাওয়া সারামাঠ জুড়ে এক কৃষকের বুক ধানপোকা ছুটে এল কৃষিবিজ্ঞানে প্রাণীহত্যার দায়ে বাঁচুক ওরাও ঘূণপোকা তোমাদের কেমন আত্মীয় বিজ্ঞান গিলে খায় যত মানবিক ধানশিশু শিশুকাল পেরুলো এবার বালিকার চোখে চোখ বালিকাতো ধান এইবার দুধধান বালকেরই মত উদোম আকাশ দেখে হেসেছে ভীষণ নরকের কীটগুলো নাশক মানে না আগাছার সাথে শুনি আনাগোনা বেশ আগাছাও পৃথিবীতে বেঁচে থাকা চায় সেই দায়ে মালিকানা করেছি স্বীকার এই ধান একদিন হয়ে যাবে ভাত মদের অপেক্ষায় ধান হয়ে থাকি তোমার প্রতীক্ষায় যেমন মাতাল চতুর্পার্শ্বে শুনি বেড়েছে নাগর নাগরদোলায় তুমি দুলে হও পার্ক লিজারে টিকিট কেটে দেখতে যাবো যাওয়া কি আদৌ হবে এই পিছুটান অমৃত তরল ফেলে কিভাবে যে যাই আমি পয়সা দিয়ে মদ কিনিনি কখনো রক্ত কবিতা করি ঘাম করি কাম তোমাকে মদ ভেবে গিলে ফেলা যেত অথচ বড়শি হয়ে ঝুলে আছে গলা তবু যদি গলা হত জিরাফের চোখ চোখের জলেই হত মহুয়ার দাম মহুয়া কোথায় পাবো ধানই মদ হোক মদ হতে ধান আর কত দেরী নেবে এমন বেহায়া মদ কেন এত দেরী এর চেয়ে দ্রুততর কোলকাতা ট্রাম তার তলে মরে ছিল কোন কবি কবে এই এক জাত আছে আজীবন মৃত চোখের রঙের মত যত চোখ রঙ ধোঁয়ারা জানতো এটা নিকোটিন লাল লাল মানে নীল নয় নীল কোন নারী তার চেয়ে বেশী লাল লাল হোক মদ তুমি কি ভীষণ লাল আজও লাল শাড়ী নাকি লাল ভুলে গেছো লাল কোন রঙ আমারও লাল ভুলে জমা কত নীল তোমাকে বাসতে ভাল বেসে ফেলি ভুল তুমি কি মদ ভাবো অথবা কবিতা তোমাকে দয়িতা ভাবি যদিও দ্বিতীয়া নাকি শুধুই বাঘ এবং বিছানা খুলে দিলে মদ ভেবে পান করে কেউ সেও কি পান করে ভুলে থাকা চায় বৃথা চেষ্টায় সে হারিয়েছে যা তোমার পুরুষ যে সেও কি সে জন সারারাত কোন নারী কোনদিন তাকে বাঘেরও দুঃখ থাকে বাঘওতো শিকার নিজেকে শিকার ভেবে ভেঙ্গে ভেঙ্গে গেছো বাঘের ভেতরে ছিল এমনই ভাঙ্গণ তোমাকে ক্লান্ত করে ভীষণ ক্লান্ত তোমাকে কবিতা ভেবে ভেবেছি নারী মাংসের ভেতরেও আরেক অবয়ব শিল্প ও সুন্দর দেবী তারপর বরাবরই বেড়ে গেছে মাংসের দাম নৈবর্ত্ত্যিক বোধ অথবা দেখায় বিন্দু ও বৃত্তের সীমানা বুঝে কবির সাধ্য কি কবিতা ছাড়া আমার অধিক হলে তোমাকে নিতাম তার চেয়ে এই মদ এই পথ ভালো আমিতো পুরুষ নই বেমালুম কবি এমনও মদের দিনে কোনদিন এসো শুয়ে যেও আমার ও কবিতার সাথে এই ধানও বড় হবে হবে কেনাবেঁচা বেঁচতে শহর যাবে কিছু ধান গ্রাম তোমার শহরে গেলে সযতনে রেঁধো স্মৃতিরা সেদ্ধ হলে ক্ষমা সুন্দর আমি এমনই জনক হায় দুঃখজনক উল্লেখযোগ্যতা দুরহ ভীষণ দুর হোক দুরত্ব ওহে দুর নারী তার চেয়ে এই বেশ কবিতা ও মদ চোখ মেরে তবু চোখ চোখেতেই ছিল কখন সবুজ এসে ভরে দিল মাঠ এমন মাতাল রঙে কেন কাঁদে চোখ ঈশ্বর যেই হোক রঙ পারে বেশ দু হাতে মাখতে মুখে সবুজ সে ধান বালিকা পুঁইয়ের মত মুখে ডলে নিই ঈশ্বর পাকা রঙ কোথায় যে পায় সে যখন নারী নয় পেতেও তো পারে পাখীদের ডানা বেশ উড়ে যায় দেখি দুরাকাশ দুরাভাস দেয় হবে মেঘ মেঘ মানে বৃষ্টিরা ভেজাবে আবার গাংচিল ভেসে যাবে গলাকাঁটা গ্রাম এক ডাকে মেঘ ডাক উঠে আসে কই ভেজা মাটি বুক খুলে বুক পেতে দেয় ব্যাঙদের ছুটি শেষে আবার আপিস কাঁদাপথ নাক ডুবে খায় ঘুরপাক কৃষক তাকিয়ে দেখে আকাশের চোখ এইবার বুঝি ধান ভেসে যাবে জল কৃষাণীর দুধধান ধানের দোহাই অমাবতী হও যদি না ভাসাও ধান তবু মেঘ অপারগ জলের ধারণ বিয়োতে বিয়োতে শেষে বৃষ্টি আটাশে হাঁটুজলে ভিজে যায় সারাটা শরীর ধানের শরীরে এসে ঢুকে পড়ে জল সুযোগ ও সন্ধানে ছিল কিছু ছিপ কোষা নৌকায় চড়ে বালকের চোখ নৈঃশব্দ্যের সাথে টোপ ফেলে দিয়ে ধান জলে কিছু মাছ ফাতনা ডোবায় ধানগাছ পেঁচিয়ে কিছু জল সাপ কেমন আঁকড়ে ধরে দুধধান ঘ্রাণ তোমার গন্ধ মনে পড়ে মন গন্ধম খাওয়া বুঝি রীতিমত পাপ আছাড় পিছলে পড়ে কাঁদামাটি দেখে তবু জোঁক নির্মোক মাঝ বরাবর কৃষক ও শরীর দেখে গাঁয়ে উঠে পড়ে এমন চোষার কথা মনে পড়ে যায় আমাকে বিষ ভেবে ভেবেছো কি জল দুরের অনেক কাছে আছে যেই দুর নৌকার মত কার হয়েছো ভাসান কার বুক বেয়ে চলে শরীর তোমার দুধধান শুয়ে থাকে যেন আধোমৃত জল এসে ছুঁয়ে যায় মাঝে মাঝে মাছ কৃষকের চোখ ভেসে হয়ে গেছে জল কৃষাণীর বুক ভিজে পাশ ফিরে শোয় তবে কি ধান মদ বৃথা হয়ে যাবে তোমার মতই হবে মিথ্যেবাদী বালক এ বেলায় সে পঁচে পঁচে যাবে বালিকা পরীক্ষায় ফার্ষ্ট ডিভিশন আছাড় পিছলে পড়ে কাঁদামাটি দেখে তবু জোঁক নির্মোক মাঝ বরাবর কৃষক ও শরীর দেখে গাঁয়ে উঠে পড়ে এমন চোষার কথা মনে পড়ে যায় আমাকে বিষ ভেবে ভেবেছো কি জল দুরের অনেক কাছে আছে যেই দুর নৌকার মত কার হয়েছো ভাসান কার বুক বেয়ে চলে শরীর তোমার দুধধান শুয়ে থাকে যেন আধোমৃত জল এসে ছুঁয়ে যায় মাঝে মাঝে মাছ কৃষকের চোখ ভেসে হয়ে গেছে জল কৃষাণীর বুক ভিজে পাশ ফিরে শোয় তবে কি ধান মদ বৃথা হয়ে যাবে তোমার মতই হবে মিথ্যেবাদী বালক এ বেলায় সে পঁচে পঁচে যাবে বালিকা পরীক্ষায় ফার্ষ্ট ডিভিশন ঈশ্বর দাঁড়াবার পা নেই আমার তোমাকে দুষেছি আমি জন্মান্তর তবু আজ হুঁট করে নত হয়ে যাই কেন নত হই তুমি বুঝেছো কি তা অগত্যা মেঘমাখা উঠে আসে রোদ প্রকৃতি জানেও দেখি বিবেচনা জ্ঞান জলেরা বিদায় নিয়ে উঠে পড়ে মেঘ রিভার্স সিনের মত জ্বেগে ওঠে ধান কৃষকের বুক কবে হয়ে গেছে ধান শিরস্ত্রাণের মত জ্বলেছে কপাল এমন মাতাল আমি ঘুমিয়েছি রাত কৃষাণী আগলে বুকে যত দুধধান এমন সোনালী দিন ছিল কোনদিন তেমন ম্মৃতিতো ঠিক মনে পড়ে না তোমার ভেতরে ছিল লাল আর নীল অথচ সোনালী দেখো এই পোড়ো ধান অষ্টপ্রহর পোড়ে ধান পোড়া মন পুড়ে পুড়ে সারামাঠ হয়ে গেছে রোদ সাদা হাড় বিবস্ত্র পোড়ো চৌকাঠ দিনতো লাফিয়ে পড়ে রাতের অগোচরে তাইতো বোধহয় এলো ধান পাকা দিন বালিকার মন পাকে তারও কিছু আগে ধানের গহনা আর আয়না নদীর বালক ধানের চোখে সে প্রথম নারী আমি যে কেমন ধান মনে পড়ে ধান তোমাকে বাসতে ভাল ধান হয়ে গেছি তুমিতো বিক্রি বুঝে চলে গেছো দুর ফেণা ভাতে সারারাত ধান বঞ্চনা তবুও বাতাসে ওড়ে দেখো সারামাঠ এই চোখ যাই হোক দেখেছে আগুন তুমিও উড়েছো যেন এই বুক সুতো আমাকে ভাবতে ভেবো ঘুড়ির নাটাই অবলম্বন হোক মুঠো মুঠো ধান যদিবা ঋণাত্মক প্রকৃত আধান এই বুক চুম্বক হয়ে গেছে কবে ঠোঁটের কি দায় খোঁজে তোমার চিবুক মরণকে ছুঁয়ে দিতে অমৃত এ মদ এই ঠোঁট কোনদিন কারো লাল ঠোঁটে মদ হয়ে গিয়েছিল মনে পড়ে না ম্মৃতির ক্ষতের মত পেকে ওঠে ধান বাতাসে প্রমাণসম ধানদের স্রোত ক্রমাগত ঘর্ষণে বেজে বেজে ওঠে সে সুযোগে নেচে নেয় একবার গ্রাম ধানসারি অব্যর্থ যেন ধানসিঁড়ি পাকা ধানে দিয়ে যাই কবিতার মই নারীর মতই এক ভেতো মদ চাই ভীষণ তেতো এই নারীকষ্ট কিভাবে বোঝাই এ দারুণ বোঝা এই ধান তবু দেয় সেই আশ্বাস অপেক্ষা ক্লান্তিতে শুয়ে পড়ে পাশে তেমন ছলনা নেই যা ছিল তোমার তুমি যে নিছক নারী বুঝেছি এ ছক তুমি কি ধানের মত গান হতে পারো ধানের মতই বাজো অন্যের হাতে একদিন ভাত হয়ে রাত হয়েছিলে আমাকে খেতে দিয়ে তোমাকে খাওয়া সেই ভাত স্মৃতি পঁচে হয়ে যায় মদ হয়নি যাওয়া আর উনুনের কাছে কবিতা আছে আর কেউ না থাকুক তোমাকে নারী ভেবে নারী ভুলে গেছি এভাবে পোড়ালে ধান বেশী পুড়ে যাবে আমিও যেমন পুড়ে পুড়ে হল নেশা তার চেয়ে তুলে ফেলো আমূল সে ধান এর চেয়ে ধান আর কত বড় হবে আমিতো বাড়তে বড় ছোট হয়ে গেছি দূরত্ব বেড়ে গেছে তোমার ও আমার পিঁিপলিকা পায়ে আমি ক্রমাগত দুর আমারও বুক পুড়ে পুড়ে হল ধান কৃষকের দল এলো কৃষকের বুক সংযোগ কেটে দিতে শেকড়ের সাথে কাঁধে চড়ে চলে যাবে ছেড়ে এই মাঠ শৈশবে কেটে যাবে কাঁচির আ-ধার আমারও শৈশব মনে পড়ে খুব কাটতে কাটতে কেটে গিয়েছে সময় কপাল কাটতে গিয়ে চলে গেছি দুর ভেতরে কেটেছে কবে বুঝিনি সে লাল তুমিও বালিকা ছিলে বালকের মন বুঝেটুঝে চোখ বুজে চুমু দিয়েছিলে আমিও জড়িয়ে ধরে অজানা সে ওম তোমার চোখের মত ঘুম হয়ে গেছি আমার ঘুমের মত তোমারওতো চোখ স্মৃতিরা আবছা হয়ে মুছে মুছে গেল দুধের সরের মত কেটে গেছে লোভ এই ঠোঁটে লেগে আছে শুধু দুধ ঘ্রাণ এই ধান কেটে যাবে ধান কেটে কেটে হয়ত মাতাল স্রোতে একদিন মদ খালি বোতলের মত হা-মুখো এ পেট শুন্যতা বুঝে নিয়ে ভরে নিতে চায় তবু ভোর প্রতিদিন ইশকুলে লেট লে অফে আটকে গেল যত কারখানা শহরও ভীষণ জানি ভাত ভালবাসে রাত হয়ে আসে যত যন্ত্রণা ক্ষুধা নিজেকে কাটার মত কাটি এই ধান শেকড় কাটার এক আদিম খেলায় এই বুক কোন সুখে চিরে দিয়েছিলে তারও আগে শৈশব গলা কেটেছিল এফোঁড় ও ওফোঁড় করে একটা সেলাই কখন যে ঘুরে গেছে বেদনাহত নারীর মতই সব একইতো নারী যেখানে কেটেছে হাত সেখানে বোলায় জানো না সময় কবে এসে ঘুরে গেছে অজান্তে হয়ে গেছো মিডাসের মেয়ে এমন ধারালো কেন তোমার এই ঠোঁট আগেতো বিষের মত বিশ দিয়েছিলে একুশ বাইশ কি তাও মনে পড়ে মরে যেতে ফেরারী কতবার মন কতবার চলে গেছো বেজেছে সানাই কেউ একজন শুধু বিষ চেয়েছিল আমিতো অধিক বিষে হয়ে গেছি বিষ তোমাকে ছোবল মেরে নীল দিতে পারি যোগ্যেরা হয়ত রংধনু দেবে তুমি কি নীলের চেয়ে লাল ভালবাসো আমি ও আমার পাশে নীল এক আঁধার একসাথে শুই আর মদ টদ খাই মদ কোথায় পাবো বেদনা তরল তাই মদ ভেবে গিলে ঢোক গিলি রোজ এমন ভেতরে কেন কোন পোকা কাটে ধানের ভেতরে এক নীল ধান পোকা পুড়ে পুড়ে এই ধান বড় হয়ে গেছে বনবাস গিয়েছে অন্ত ঃ উড়ি এভাবে কতই তো কেটে গেছে দিন রাত এসে ফোকটে দান মেরে গেছে অতসী নারীর চোখে আতশী যে চোখ জানতো কে অন্ধ সে অন্ধতা চেয়ে বেদুঈন এই দিন তবু খোঁজে ঘর তৃষিত সুরার মত পান করে গ্রাস টগবগিয়ে আসে ঘোড়াদের দৌড় কোন সে ঘোড়ায় তুমি হয়েছো সওয়ার জেনো এ যাযাবর যাবে না সেখানে যেখানে দাঁড়িয়ে পা সেখানে দাঁড়িয়ে ইবাদতের মত ক্ষতে হাত দিয়ে দুর থেকে দেখে নেবে তুমি ভাল আছো ধানেরা শুয়েই ছিল কৃষকের উঠোন মাঠের যাত্রা শেষে গৃহস্থ ঘর শরীরে লেপ্টে আছে পোড়ো ধান গাছ আষ্টেপৃষ্টে বাঁধা তোমার স্মৃতি যতই ভুলবো বলে তুলে তুলে ফেলি বরাবরবই উঠে আসে সুদ ও আসল তোমাকে ভুলতে ভুলি ভুলে যাওয়াটুকু তবু যদি তোমাকেও ভুলে যাওয়া যেত আমি কি মারাই ওই ধানের মাড়াই যেখানে উগলে ওঠে বিচ্ছেদের গান তোমাকে ও মাকে কেন মনে পড়ে যায় জননী গাছের থেকে ঝড়ে পড়ে ধান সেই সে জননী গাছ হয়ে যাবে খড় কৃষকের ঘরে হবে নিদারুণ ছায়া ধানতো ধানই ঠিক মানুষতো নয় সেও কি ভুলে যাবে আমাকে ও মাকে এই ধান পরিণতি পরিণত হোক সেই শোক বুঝে নিয়ে ধানদের মা খড়ের গাঁদায় বসে শুয়েটুয়ে থাকে ধানেরা আকাশ দেখে মা পেতে চায় দুরের শহর ডাকে বিকোবার হাঁট ধানকল অবিকল ছেলেমানুষী যেই ধানে মদ হবে সেই ধান কই ধৈর্যেরা তাড়া দেয় দেরী বড় দেরী স্মৃতিতে সেদ্ধ হল জীবনের ধান ধান কবে গান ভুলে গান হয়ে গেছে তারও আগে ধান ছিল কোমল এক মন তোমার ওমের সাথে ঘুম দিল তা মৌনতা একবার আসি আসি করে মৌন মিছিলে এক দিয়েছিল যোগ ভেঙ্গে যাবার আগে সেদ্ধ সে গান রোদ হয়ে উঠোনে পুড়েছে আবার যন্ত্রে যাবার আগে এই যন্ত্রণা মরে যাবার আগে মরে গেছে যেন এমন মরতে গিয়ে কেউ কেউ মরে আমিতো মরতে বড় বাঁচা বেঁচে গেছি কোন ধান অভিমান গিয়েছে শহর ভোর হয়ে রাত ভরে ঘুমিয়েছে কেউ রাত কবে রাত ভেবে নিয়ে গেছে দিন দিনের শেষে ফেরে তবু কিছু রাত তুমি কি রাতের মত দিন হয়ে গেছো জ্বলে আছো জ্বলজ্বল অপলক চোখে এই চোখ আধুলিতে কিনেছি ক’বার প্রলোভনে তারও বেশী বিকিয়েছি লোভ লোভাতুর চোখ তবু সে আঁতুড় ঘরে হাতুড় পিটিয়ে সোজা মজুরের হাত হাত মানে এই হাত ছোঁয়াছুয়ি ছুঁয়ে হাতবদলের মত ভুলে টুলে গেছে আঙ্গুলে লেগে আছে তবু কিছু ক্রোধ বোধহয় ভুলের বশে ভুলবশতঃ ক্ষতের ভেতরে ক্ষত বিক্ষত থেকে রীতিমত অক্ষত বেঁচে আছে স্মৃতি তোমার চোখের মত অনন্ত চোখ এরকম চোখ খুঁজে খুঁজে খুঁজে গেছি সেই চোখ খুঁজে খুঁজে অন্ধ এ চোখ রঙ্গিন চোখেও দেখি শোক হয়ে গেছে আমিতো অশোক হয়ে হয়ে গেছি ধান ওমের প্রতীক্ষায় ক্রমাগত নত সামর্থ্য নেই যে কিনে নেবো কিছু হা পকেট ভরপেট অর্থনীতি তুমিতো সব ভুলে শুয়ে টুয়ে থাকো আমার পাশেও শুয়ে দীর্ঘশ্বাস বিশ্বাস ভিজে টিজে ভিজিয়ে বালিশ কান্না শিশির হয়ে ঝরে পড়ে ভোর আমাকে সেদ্ধ করে তুমিও যেদিন সবকিছু খুলে টুলে ভরে দিয়েছিলে তোমার গভীরে যেতে ভীষণ ভেতর তোমাকে দিতেই রাত ভোর হয়েছিল এখন নতুন ভোরে তুমিওতো জ্বাগো তোমার বিছানা জানি জ্বাগে রাতভর তোমাকে জ্বাগিয়ে কে ঘুমিয়েছে পাশে ভালবাসে সেও কি আমি তোমাকে যেমন হয়ত ভীষণ বাঘ ভীষণ সে থাবা তুমিও শিকারী চাও এমন শিকার তুমি যে নিছক নারী কেন ভুলে যাই বারবার একই ভুলে ভালবেসে গেছি সম্পর্কের মত ধানেরা উঠোন নিজেকে ভাঙ্গার আগে আরো একবার প্রকৃত কবির মত ওতপেতে বসে হুট করে ফুৎকারে উড়ে যেতে চায় তোমার মতই দেখি ভেঙ্গে যায় ধান ধানকলে যত ধান হল যান্ত্রিক যন্ত্রের খুব কাছে সোনালী খোলস তোমার ভেতরে লাল ধানতো ধূসর কোন ফাঁকে চলে এলো ধান ভাঙ্গা দিন অপেক্ষা রোদে গিয়ে শুকালো আবার কিছু ধান তথাপিও শস্যবিহীন দুধধান ধান হয়ে জেনেছে নিদান কৃষকের উঠোন জুড়ে মুখরিত ধান খড়ও হয়েছে পালা একদিন ঘর তুষের আগুনে আখা জ্বলে জ্বলে ওঠে কৃষাণীর হাতে ধান হয়ে ওঠে ভাত দুধধান ভাল ছিল নিষ্পাপ ধান ভালবেসে টিপ দিলে হয়ে যেত দুধ শুভ্র পবিত্রতা বড় হতে হতে কপাল দোষে শেষে তুষের আগুন দুধধান তবু হোক বড় বড় ধান নিটোল হাওয়ায় যেন দুলে দুলে ওঠে ছুঁয়ে দিলে সেই ধান কাঁপুক ভীষণ দুই হাতে দুই মুঠো মুঠো মুঠো ধান কৃষানী মাতাল পায়ে দিল ঢেঁকি পাড় সোনালী খোলস ভেঙ্গে উঠে আসে ধান মানুষের যে সাহস নিয়ত মুখোশ ধানসত্যের কাছে তাও পরাজিত ধানের খোলায় এক ধান খোলা মন বোধহয় ভুলেই গেছে চোখে জল ছিল আপাতঃ দৃষ্টিতে এক টেলিফোন তার বেয়ে দাঁড়কাক হল ট্রাংককল সমান্তরালে থেকে এক রেলপথ মেলেনি কোথাও যদি থাকে জংশন দুরপাল্লারা তবু আল্লাহ্‌ কসম ধানের আলাপ দিতে শহরে যাবে শহর বা দুর দেখে একটা বাঁদুড় সরবরাহের তারে উল্টো ঝুলে একচোখে দেখে নিতে গোটা পৃথিবী আত্মাহুতির মত মাঠে মারা যায় বিধাতা কখন এসে বেঁধে দিল বুক নামাযও কাযা হয়ে হল যাযাবর প্রতিশোধের মত কাফফারা মন প্রতিদিন ভোর হয়ে রোদ হয়ে রয় তোমাকে ভুলতে ভুলে ভুলেছি পাঁজর গ্রহণ যে করেছে তোমার পাণি সে পুরুষ নিশ্চয়ই পুরুষোত্তম আমিতো বৃথাই জানি কামসূত্র তোমাকে কবিতা ভেবে লিখি পুনরায় ছন্দ কবন্ধ পড়েছে নেকাব আব ও হাওয়ায় তুমি হয়ে যাও রাত কেমন জ্বাগায় সে যে জ্বেগে থাকে উৎসব শৈশবে টোটো কোম্পানী এখনও কদাচিৎ দেখা দিতে আসে আগ্রহ চিৎ হয়ে শুয়ে ছিল দেখে তোমাকে কিনে দিতে পারিনি আড়ং শুধু কিছু রঙ ছিল ভীষণ রঙিন অব্যবহারে কবে রঙ চটে গেছে হাতের চেটোয় শুধু জ্বলে আছে নীল এখন রাঙালে সাদা কালো হয়ে যাবে তবুও আখায় দেখো জ্বলে ওঠে গ্রাম ভাত ফোটে চোখ ফুটে নতুন ধানের নবান্ন যেন এক বেহায়া নায়ক সিনেমার এক ফাঁকে ঢোকে ছুরি হাতে আততায়ীর মত এক রাতপায়ী রাত পান করে জান করেছি কবুল আমি যে কবিতা করি কি করে বোঝাই মনপুতঃ হল না মনে ছিল যা তবুও সবুর দেখি হোক মেওয়া ফল দলে বলে তবু যেন না আসে আকাল তুমিও যেমন কাল যতটা আপন কাল ও চক্রে পর হয়ে গেছো দুর ততটা দুরেই যাক ভাত ও অভাব হাভাতের হা ভরে এক মুঠো ভাত কাঁচা পেঁয়াজের খোসা তোমার শাড়ি অমৃত শরীর দেখে কামড় বসাই নতুন ধানের ভাতে ছিল মাদকতা কৃষাণী এর চেয়ে বেশি কিছু চায় কৃষকের বুক কবে হয়ে গেছে ধান সন্তান হতে চায় অনাগত ভ্রুণ খড়ের ছাউনি ঠেলে ঢুকে পড়ে রোদ কৃষাণীর হাতে ধান হয়ে ওঠে ভাত অভাবও দাওয়ায় বসে বাকির খাতায় তাকেও তুচ্ছ করে পাটালি ও গুঁড় গুঁড়ো দুধের মত কিছু ধান মিহি ট্যালকম পাউডার হাঁট থেকে কেনা নারকেল গাছ থেকে পড়ে হল ফাঁক গুঁড়ো ও গুঁড়েরা মিলে মিশে হল লেই এমন মিশিয়ে দিয়ে তুমিও মিলেছো বোকা বালকের মত আমি অপলক চোখ থেকে পেন্সিল টেনে এনে খাতা তোমাকে মেলাতে শেষে এক ও আকার বালিকার পিঠে চুমু একদিন পিঠে ভ্যাপারে ভাব হয়ে ফুলে উঠেছিল নিয়ত মাটির ছাঁচে নিটোল যুগল আমিতো অধঃস্তন সারাটি জীবন বিধাতা কেমন ছাঁচে গড়েছে নারী সে কথা ভাবতে গিয়ে পড়ি ভাবনায় ভাবনা এড়িয়ে গিয়ে হাত পেতে দেই কৃষাণী সে হাতে ভাপা পিঠা ভরে দেয় গরম সে শরীরে পুড়ে যায় হাত তবুওতো গোগ্রাসে গিলে ফেলা যায় শুভ্র সাদার নীচে ছিল কিছু লাল ভেতরে এমন মিঠে জানে কোন কবি একদিন কোন পিঠে হাত থেকে কারো কেমন আদর করে পিঠে দিয়েছিল সেই পিঠে কাঁচামিঠে বালিকার ওম এক ঢোকে গিলে নিতে দম যায় যায় কিছু পিঠে আলবত হয়েছে পাকান ডুব সাঁতার দিল হাঁড়িতে যে দুধ যেমন জিঁইয়ে রাখে মাছেরাও মাছ সানকিতে দুধপিঠে দেয় প্রলোভন এমন জিয়োতে পারে যার বুকে দুখ পার্থক্যের মত প্রকৃত প্রাচীর এমন গোলাপ কাঁটা তবুও গোলাপ জিওয়োল মাছের মত কাঁটা দিতে চায় অন্ধত্বের মত হঠাৎ দেখায় চোখগুলো উড়ে গিয়ে দিল চোখটিপ তবু কিছু কাঁচ পোকা চোখ ভালবেসে চোখের ভেতরে কি দেখে নিতে চায় তোমার ভেতরে কি দেখা হয়ে গেছে এখন হয়ত দেখে সামর্থ্য কেউ অন্তর্নিহিত কিছু নিহত মানুষ কড়িকাঠে চৌকাঠে দৃশ্য বোলায় দৃশ্যান্তর মানে ফিরে আসে দুত ফিরে যেতে না চাইলে বনিবনা হয় ইকোসিস্টেমে শুধু বেঁচে থাকে কবি এই এক জাত আছে আজীবন মৃত মুদ্রাও ভেঙ্গে যায় খুচরোর দায়ে নুনেরওতো হক আছে কাঁটা ঘায়ে ছিটে কিছু বক উড়ে গেছে যাবে না কোথাও মূলতঃ অদৃশ্য এই হাওয়া গাড়ি এমন পাওয়াকে তুমি প্রাপ্তি বলেছো খুব সহজেই দিয়ে জটিল জীবন চলে গেছো তার মানে চলে যেতে হয় প্রকৃত যাওয়াকে আমি শাস্তি বলেছি দুধপিঠে খেতে খেতে মনে পড়ে দুধ বাহুল্য ফিরে এসে জুতো জামা চায় একবেলা বড়জোর খেতে দিতে পারি এর চেয়ে বেশি পারে তোমার ভাতার যেমন সেতারে বাজে সাঁতরানো সুর সাঁতার কাটতে গিয়ে কেটে ফেলি গাল চিল্কায় এক চিল কাক হল ওই ভেতরে ঘুমিয়ে এক চিল চিৎকার ধানক্ষেতে শুয়ে আজো ধানের শেকড় সেওতো সোনালী ছিল ধানদের পিতা সম্ভাবনার সাথে জ্বালিয়ে আগুন আগত দিনের কাছে প্রার্থনা চায় একটা রাখাল ছিল যেন এক ধান আয়োজকের মত দাঁড়িয়ে দু’পা শেরপা বটের নীচে সিদ্ধি ডলে গান গেয়ে অঘ্রাণে রাজা হতে চায় তারও দুঃখ ছিল আঁড় বাঁশি হয়ে গৃহস্থ কন্যারা যাবে যে নগর অথচ নাগর এক তুচ্ছ রাখাল বড়ইয়ের দিনগুলো ঘোলাটে বড়ই অবসর ডেকেছিল কৃষাণের দল কৃষাণীর চোখে ফাঁকি ধোঁয়া ভরপেট ধান অভিযানের শেষে যেন হরতাল নিয়ত নদীর দেশে উড়ে যেতে চায় সারারাত উৎসবে গান করে কেউ পূনরাবৃত্তি একই হারানোর গান দ’ হয়ে বসে থেকে তালব্য শ’ একলব্যের চোখে রোদ হয়ে যায় কৃষাণী সারারাত অপেক্ষা শুয়ে ভোর হাতে নিয়ে ঘরে ফিরেছে পুরুষ অভিমান জানালার লাউগাছ বেয়ে নেভানো আখার নীচে গড়াগড়ি খায় নতুন ধানের চেয়ে নতুন এক ভ্রূণ তলপেটে নিদারুণ দিল এক খোঁচা যে হাত চষেছে আজ এতদিন মাঠ সে শরীর সন্তান পিতা হতে চায় কাকেরও আছে কাকতাড়ুয়া যে মন বালক যেমন পোষে নাবালক দিন বনমোরগের ঝুঁটি বালিকার চুল ফোলানো গালেও দুধপিঠে হয়ে যায় সময়ও সবুর করে আমিতো মেওয়া কখন কবিতা হবে গিলে ফেলে মদ তার আগে এসব যে হচ্ছেটা কি মদের বদলে খাই পেট ভরে ভাত তোমার শহরে তুমি যে শহরে থাকো সেখানে নবান্ন বই পড়ে পড়ে মুখস্ত হয়ে গেছে রাঁধো যেই হাত ধানের অধিক ধান পড়েনি যে চোখ এখানে নবান্ন বালকের হাত বালিকার হাত থেকে পিঠা কেড়ে নিয়ে বালিকাও চায় সব কেড়ে নিক কেউ তবু যেন আঁড়বাঁশি না করে মাতাল গোগ্রাসে গিলতে গিয়ে পুড়ে যায় মুখ তবু মুখ আর ঠোঁট এক হয়ে যায় নিষেধ ও নিষিদ্ধ কালের বয়ান উদ্ভিদ হয়ে ভেদ করেছে নিষেক সেবারও নাইওরে আসে ধানদের মেয়ে ডুরে শাড়ি আলতায় দুলে ওঠে পথ একটি বিপথগামী কাঁকড়া বিছা কোমর বিছা হয়ে মদ হতে চায় নোলক ঝলকে ওঠে নকল নেশায় কাঁথা সেলাইয়ের সাথে ঝড়ে পড়ে পুঁথি গাঁথুনি আলগা ছিল যত শোকগাঁথা কংক্রিট নগরের নাগপাশ কাটে এই ধান এই গ্রাম ছেড়ে যাবে দুর দুরের শহর তাকে ডেকেছে কবে যে শহরে আমি নেই প্রেমিকা আমার সম্মুখে নিয়ত তার ভাতের অবতার তুমিও সেদ্ধ করো আর সেতো দেয় অন্নগত প্রাণ তবু এক ধান বিতকাম সন্ধ্যায় দু’এক ঢোকে একচোখে তোমাকেই তুলে নিতে চায় তুলতুলে এক বুক এক মুখ ধান কেমন ফসকে গেল ফাঁসুড়ে যে রাত হেঁচকা টানের মত একটি বাসর ছুঁেয় যত ছোঁয়াছুয়ি ধান ছুঁেয় যায় তেভাগা ভাগের চেয়ে দূরহ যে দিন মহাজন ধান গুনে হল পরিমাপ ছোবলও কামড়ে থাকে সাপের শরীর পুরুষের হাত চায় ভরাট প্রয়াণ কৃষাণী আগলে ছিল এমন যে দুধ দুধকলা পুষে কিছু সাপ হল কাল আমিও দুঃখ পুষে পুষিয়ে জখম মিতব্যায়িতার মত মিথ হয়ে যাই কেমন বিকোয় দুধ এই চোখ জল বিত্তপ্রথার পায়ে নত করজোর নগরে আমার নারী অদেয় চুমুক তার বুক ভুল মুখ মুছে ফেলে দেয় অমোচনীয় এক গাঢ় জলছাপ অপাপবিদ্ধ ধারে রাত্রী আঁধার উৎসব এইসব নারীর একার যতসব দুঃখ পুরুষপ্রতিম চোখের সীমানা ভেঙ্গে দিল ব্যারিকেড সান্ধ্য আইন মন গড়েছে আবার দেখামাত্র বুকে ঢুকে যেতে পারি শংকা বৃথাই দেয় জরুরী ঘোষণা বরং বেঁচেই দিও

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.