তার নাম জানি অনেক আগে থেকেই। পরিচয় নেই। কথা হয়নি কখনো। আমার তাকে ভালো লাগে। ভীষণ।
ভায়াবহ রকম। দিনের পর দিন, রাতের পর রাত পেরোয়। তার ভাবনা আমাকে কুড়ে কুড়ে খায়। আমাকে। আমার ভেতরকে।
'অসম্ভব' শব্দটা যে কত ভয়াবহ, তা আমি বুঝেছি তার প্রেমে পড়ে। আর প্রেমে না পড়ার কোন কারন নেই। কতটা সৌন্দর্য প্রয়োজন একটা মানুষকে পছন্দের করে তোলার জন্য? চুল, চোখ, নাক, মুখ, ঠোট যতটা সুন্দর হওয়া সম্ভব, ততোটাই সে। বরং তারচে বেশী।
২.
আজ-ই প্রথম তাকে এতোটা সামনে থেকে, এতোটা ভালোভাবে দেখতে পাচ্ছি।
আমার ভালোলাগা, ভালোবাসার অনুভূতি কতটা শীর্ষে অবস্থান করছে, আমার আনন্দও যে হচ্ছে কতটা তা বুঝিয়ে বলা যাবে না। সে আমার সামনে। অনেক কাছে। এতো কাছে, এতো স্পষ্ট যে ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে আমার ভেতর। কেমন যেন শীত শীত লাগছে।
মনে হচ্ছে, একটা চাদর পেলে ভালো হতো। আরাম করে তাকে দেখা যেতো। তাকে যতো দেখছি, সে যতোবার সামনে আসছে আমার শীতটাও তত বাড়ছে। মনে হলো হালকা হালকা কাঁপুনিও শুরু হয়ে গেছে। যদিও এটা সবসময়ই হয়।
তাকে দেখলেই আমার কাঁপুনি শুরু হয়। প্রচন্ড গরমেও শীত শীত লাগে।
৩.
তার নাম, মাধুরী। সে যতটা সুন্দর, তার নামটাও ঠিক ততোটাই সুন্দর। আমি তাকে নিয়ে কখনোই কাউকে কিছু বলিনা।
অবশ্য বলারও কিছু নেই। কি বলবো এই সৌন্দর্য্য নিয়ে? আমি কয়েকশ বছর সময় তাকে দেখে পার করে দিতে পারব। কারণ তাকে আমার দেবী মনে হয়। সৌন্দর্য্যের দেবী। মাঝে মাঝে ভাবি, যদি সে কোন না কোনভাবে আমার হতো তবে আগে মিনিমাম দশ বছর তার পূঁজা করে নিতাম।
তারপর হয়তো ছুঁয়ে দেখতাম। যেহেতু এসব কথা বাইরে বলা যায়না। যাবেনা। মানুষ হাসবে। তাই তার সম্পর্কে কাউকেই কিছু বলিনা।
এমনকি কাউকে বলিনি তার নামটাও।
৪.
এই মুহুর্তে সে আমার সামনে। তার সাথে বেশ কিছু মানুষ। আমি মানুষগুলোকে দেখার কোন প্রয়োজন বোধ করছিনা। কোন কারণও নেই।
অন্য মানুষ দেখে সময় নষ্ট করার সময় আমার নেই। যতন সামনে আছে তাকেই দেখি। দু'চোখ ভরে না। আমি তাকিয়ে থাকি। তাকিয়েই আছি।
বিরামহীন। তাকিয়ে থাকতে পারবো এভাবেই আগামী কয়েকশ বছর।
৫.
সে সামনে থেকে সরে গেলো। সেখানে এখন অন্য মানুষ। অচেনা মানুষ।
তবে সবাই অচেনা না কেউ কেউ অচেনা। অনেকেই চেনা কিন্তু আমার সে সব নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই। কে চেনা কে অচেনা এসবে আমার কিছু যায় আসেনা। আমি আজ শুধু তাকেই চিনি। তাকেই দেখতে এসেছি।
তাকেই দেখবো। কিন্তু তার দেখা পাচ্ছিনা। অনেকন হয়ে গেলো। সে সামনে নেই। আসছে।
আমি জানি সে আসবে। আসবেই। তাকে আসতে হবেই।
৬.
সে আবারো আমার সামনে এসেছে। হাসছে।
অদ্ভুত হাসি। ভূবন ভোলানো হাসি। পৃথিবীর কেউ কি এমন হাসি হাসতে পারে? কি জানি। হয়তো পারে। কিন্তু আমি মানিনা।
সারা শরীর চমকাচ্ছে তার। হাসিতে দুলছে সে। আমিও দুলছি। আমার বিশ্বাস, আমার আশেপাশে থেকে যারা এই হাসি দেখছে তারাও দুলছে। দুলছে তাদের পৃথিবীও।
৭.
অনেকটা সময় ধরে, অনেক সামনে থেকে আজ তাকে দেখছি। দেখছি কই। মনে হচ্ছে, তাকে দেখার অনুভূতি ভালোলাগা সবই আত্মা শুষে নিচ্ছে। তাকে দেখছি। আজ এতো সামনে থেকে তার সাথে কথা হলো না।
আমি তাকে দেখেছি। সে আমাকে দেখেনি। না দেখুক। কি যায় আসে? আমার ভালোলাগার শীতল অনুভূতিতে আমার শরীর, আমার রক্ত শীতল হয়ে গেছে। আমি আমার শীতল রক্তের প্রবাহ টের পাচ্ছি।
এতো সামনে সে। হৃদপিন্ডের সংকোচন প্রসারণ চলছে দ্রুত। অনেক দ্রুত। স্বাভাবিক নিয়মের চেয়ে বেশী। অনেক বেশী।
৮.
তাকে অপলক, মুগ্ধ চোখে, চরম বিস্ময়ে দেখতে দেখতে অনেক সময় পার হয়ে গেলো। কখন যে তাকে দেখার সময়ও ফুরিয়ে এলো বুঝতে পারিনী। বিশাল এই ঘরের বাতিগুলো জ্বলে উঠল। মাধুরীকে দেখার সময় পার হয়ে গেছে। প্রিয় মাধুরী।
মাধুরী দীক্ষতিকে বিদায় জানাতে হচ্ছে। সিনেমা শেষ হয়ে গেছে। সবাই বের হয়ে যাচ্ছে। আমাকেও বের হতে হবে। স্রোতের ধাক্কায় আমাকেও বের হতে হলো।
থাকার কোন উপায় নেই। বের হয়ে গেলাম।
৯.
আমার যেতে ইচ্ছে করছে না এখান থেকে। তাকে আবার দেখার ইচ্ছে হচ্ছে। আমি সিনেমা হলের সামনে লাগানো বিশাল ব্যানারের দিকে তাকিয়ে আছি।
সেখানে তার একটা ছবি আছে। এ দেখায় মন ভরছেনা। তাকে প্রাণবন্ত, উচ্ছল দেখতে ইচ্ছে করছে।
যত দেখছি মন ভরছে না। কি করব তাও ভেবে পাচ্ছি না।
আজই, এর আগেও দুবার দেখেছি। সারাদিন পার করেছি এখানেই। আমার যে অন্য একটা পৃথিবী আছে তা আজ আমার সারাদিনে একবারও মনে হয়নি।
১০.
চরম দ্বন্দে আছি। কি করব? আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব আবার কবে হয় কে জানে? আবার কবে মাধুরীকে এতো সামনে থেকে দেখতে পারবো কে জানে? আমি কি আরেকবার টিকেট কিনবো? বুঝতে পারিছি না।
আনমনেই হাটছি। কোথায় হাটছি কিংবা হেটে কোথায় যাচ্ছি বুঝতে পারিনী।
বুঝতে পারলাম, যখন পেছন থেকে চরম বিরক্তি ভরা একজনের কথা শোনা গেল, ভাই টিকেট কিনলে কিনেন, নইলে চাপেন।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।