আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ফেসবুকে ফোর টুয়েণ্টি বন্ধু-বান্ধবের মাঝে একজন ইশতিয়াক ...



সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি/ গুড বয় হাতে নেয় বাজারের থলি, রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে/ আমি একা নেজ নাড়ি সিঙ্গেল খাটে। সকলে উঠিয়া আমি বিছানা ছাড়িনি/ খাড়া তুলে তাড়া করে বিপদতাড়িনী জ্ঞান দাও, আলো দাও, বল দাও প্রভু/ লেডিস সিটের পাশে দাঁড়াবো না কভু। - কলকাতার ব্যান্ড চন্দ্রবিন্দুর গানের মতো এমন সব আদর্শ লিপির শিক্ষায় আমার বড় হওয়া। আমার গৌরবোজ্জ্বল জীবন। এ কথা সকলেই নিশ্চয়ই নির্দ্ধিধায় স্বীকার করে নেবেন এমন শিক্ষায় শিক্ষিত যে সে মহান এবং নিখাদ বৈকি অন্য কিছু হতে পারেই না।

হ্যাঁ ঠিক এমনই হয়েছিলামও আমি। কিন্তু রোম যেমন একদিনে হয়নি, ঢাকার বিশাল জনসংখ্যা যেমন একদিনে বৃদ্ধি পায়নি, আশরাফুল যেমন একদিনে ক্রিকেটার হয়নি, তার অধিনায়কত্ব যেমন একদিনের ব্যার্থ পারফর্মেন্সে যায়নি, সরকারী অফিসের ফাইল যেমন একদিনে ছোটানো যায়নি, অনেক বড় বড় কথা বললেও রাজনীতিবীদদেও প্রতি জনগনের বিশ্বাস যেমন একদিনে যায়নি, তেমনি আমি একদিনে মহান হয়ে উঠিনি। আমার আশেপাশে চিরকালই একটা ফোর টুয়েন্টি বেড়াজাল ছিল। প্রাইমারী স্কুল লাইফে এক ফোর টুয়েন্টি বন্ধুর পরামর্শে এক মেয়ে আর ছেলের প্রেম কাহিনী লিপিবদ্ধ করে কাসে ছড়িয়ে দিয়ে দিয়েছিলাম। তারপর স্যারের মারের পর শিক্ষা লাভ করে বুঝেছি কাজটা ফোর টুয়েন্টি মার্কা ছিল।

আমার আমার বন্ধুটিও...। হাইস্কুল লাইফে একদল বন্ধুর সাথে স্কুলের পেছনের দূর্গম দেয়াল ঢিঙিয়ে যখন বাসায় গিয়ে ধরা খেয়ে মায়ের বকা শুনে উপলদ্ধি করতাম ওটা আসলে ছিল ফোর টুয়েন্টি মার্কা কাজ। আর তারা ছিল...। কলেজ লাইফে কাস করার কী আছে, স্যারের ব্যাচে গিয়ে আর কী হবে বলে কলেজের পোলাপানের সাথে দিনভর রিকশায় রিকশায় ঘুরে আর নদীর পাড়ে আড্ডা মেরে যখন রেজাল্টের মাধ্যমে মা বাবার মুখে চুন কালি মাখালাম তারপর বুঝতে পারলাম না কাজগুলোতো ফোর টুয়েন্টি মার্কা ছিল। তাই ভালো হওয়া শুরু করলাম।

কিন্তু তারপরও কাজে-কর্মে না হোক নানাভাবে ফোর টুয়েন্টি বিষয়টা আমাকে ছাড়েনি। বাসা খুঁজতে গেলাম পছন্দ হলো, তার নাম্বার দেখি ফোর টুয়েন্টি বাই এ। দৌড়ে পালালাম। জীবনে প্রথম মোবাইল কিনলাম শেষ তিন ডিজিট, ফোর টু জিরো। এক ঝাপটায় ফেরত দিয়ে অন্য নাম্বারের সিম নিলাম।

আজ অনেকদিন পর যখন একটু সস্তি¡র নিঃশ্বাস ফেলছিলাম। হঠাৎ দেখি আমার ফেসবুকের ফ্রেন্ডস লিষ্টে ফোর টুয়েন্টি বিষয়টা উজ্জ্বল হয়ে আছে। আমি দ্রুত এ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলাম। বেশ কিছু রিকোয়েষ্ট পাঠালাম। কোনো রিপ্লাই নাই।

এমন কি দুদিন ধরে কেউ রিকোয়েষ্টও পাঠায় না। বড় আজব এই সংখ্যাতত্তে¡র গ্যাড়াকল আমার। আজ অসহায় কিছুই করার নেই, তাই ফোর টুয়েণ্টি বন্ধু-বান্ধবের মাঝেই মাথা উচু করেই দাঁড়িয়ে আছি অপমানে, লজ্জায়।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.