আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বার্লিনের জন্য যুদ্ধ।



১৯৪৫ সালের ১৯ শে এপ্রিল। ১ম বেলোরুশিয়া ফ্রন্টের সৈন্যরা শেষমুহুর্তের নির্দেশের অপেক্ষায়। এর মধ্যেই সোভিয়েত আর্টিলারী তাদের কাতিউশা ভারী কামানগুলোকে বার্লিনের পুবে শিয়ালো হাইটস এ স্থাপন করে ফেলেছে। এখান থেকে বার্লিন এখন সম্পুর্ন কামানের আওতায়। পুর্ব রনাঙ্গনে জার্মান বাহিনীর আর কার্যত অস্তিত্ব নেই।

মার্শাল গেওর্গি জুকোভ আজ রাতেই একমাত্র টিকে থাকা আড়াই লক্ষাধিক জনবলের বার্লিন গ্যারিসনকে শেষ সিদ্ধান্ত ও তাদের নিয়তি জানাবেন। ইতিমধ্যেই মার্শাল ইভান কনেভের ১ম ইউক্রেনীয় বাহিনী বার্লিনকে হাতের ডানদিকে রেখে পশ্চিমের দিকে গিয়ে বার্লিনের ২০ কিঃ মিঃ পশ্চিমে ধনুকের মতো একটা বেস্টনি টেনে দাড়ায়। সেখানে তিনি মিলিত হন ২য় বেলোরুশীয় বাহিনীর মার্শাল রকসভস্কির সৈন্যদের সাথে,যিনি আবার বার্লিনকে হাতের বামে রেখে গিয়ে কনেভের সাথে মিলিত হন। এভাবেই বেস্টনি সম্পুর্ন সিলড হয়ে যা্য। এর মধ্যে রকসভস্কির অগ্রবর্তী দল বাল্টিক সমুদ্রের পাড়ে সবার আগে পৌছে।

তারা বাল্টিকের নীল জল বোতলে পুরে তাদের অধিনায়ক রকসভস্কিকে উপহার পাঠায়। তিনি এটি সরাসরি স্টালিনকে পাঠিয়ে দেন। রাতেই বার্লিন গ্যারিসনের অধিনায়ক হেলমুট ওয়েল্ডিং কে চরমপত্র পাঠানো হয়। তাকে নিঃশর্ত আত্ন-সমর্পনের নির্দেশ দেয়া হয়,কিন্তু সে বলে পাঠায় যেহেতু হিটলার আত্ন-সমর্পনের জন্য কোন নির্দেশ রেখে যায় নি। ফলে তার পক্ষে এটা মানা সম্ভব নয়।

বস্তুত এটা শুধু হিটলারের একগুয়েমীর ব্যাপার নয়,হেলমুট ওয়েল্ডিং পুরো জাতির জন্য একটা শেষ সুযোগ হারালেন। ২০ এপ্রিল,১৯৪৫ ভোর ৪টা থেকে জুকোভের নির্দেশে কাতিউশা কামান শেলিং শুরু করে। দিনের শুরুতেই সোভিয়েত ফৌজ বার্লিনের বিভিন্ন দিক দিয়ে প্রবেশ শুরু করে। আড়াই লক্ষাধিক সৈন্যের বার্লিন গ্যারিসন অত্যান্ত মরিয়া হয়ে প্রতিরোধ দিচ্ছিলো। যার ফলে যুদ্ধ আক্ষরিক অর্থেই কঠোর হাতাহাতি লড়াইয়ে গিয়ে দাড়ালো।

জার্মান সেনারা প্রতিটি রাস্তা,বাড়ীর জন্য লড়ছিলো। হতাহতের পরিমান ভয়ঙ্কর হয়ে দাঁড়ায় দু-পক্ষেরই। বিজয়ের এই শেষ মুহুর্তে সোভিয়েত বাহিনীর জন্য এটা অত্যান্ত বেদনাদায়ক হয়ে দাঁড়ায়। ৩০ শে এপ্রিল,১৯৪৫,প্রতিরোধ যুদ্ধ পুরোপুরি থেমে যায়। বার্লিন গ্যারিসন সম্পুর্ন ধবংস হয়ে যায়।

ইতিমধ্যেই বেস্টনির ভেতরের জার্মান সৈন্যদের চারটি ভাগে ভাগ করে অংশে অংশে বিলোপ সাধন বা মপিং অফ করা হয়। এই নির্দেশের পর শত্রুসৈন্য আর জীবিত রাখা হয় না। এদিন সোভিয়েত সৈন্য রাইখস্টাগ ভবন দখল করে। জর্জিয়ান ভেটেরান মেলিন্টন কান্তারিয়া ফ্যাসিবাদের ঈগলের চিহ্ন ও জার্মান পতাকা নামিয়ে সোভিয়েত পতাকা উত্তোলন করেন। সোভিয়েত ৮ম গার্ড বাহিনীর অধিনায়ক ভাসিলি চুইকভের সৈন্যদের হাতে হেলমুট ওয়েল্ডিং বন্দী হন।

তাকে নির্ধারিত সময়ে আত্ন-সমর্পন না করে ক্ষয়-ক্ষতি বাড়ানোর জন্য সিদ্ধান্ত নেয়ায় মস্কোতে পাঠানো হয়। তিনি আরা কখনো জীবিত ফিরতে পারেননি। মুর্মানস্কের কাছে বন্দীশিবিরে ১৯৫৫ সালে তিনি মারা যান। বিপুল সংখ্যক জার্মান পুরুষ বন্দী হয়ে রাশিয়া যায়। তাদের খুব কম সংখ্যকই ১০ বছর পর জীবিত ফিরতে পেরেছিলো।

জার্মানি চরম পুরুষ সংকটে পড়েছিলো,কেননা সক্ষম পুরুষদের বৃহত্তর অংশ যুদ্ধে ও বন্দীশিবিরে নিহত হয়েছিলো। এ সম্পর্কে আরো দুটি লেখাঃ মস্কোর জন্য লড়াই। স্টালিনগ্রাদের লড়াই

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।