যখন বিকাল হতে থাকে, হতে হতে সূর্যটা ঢলে পড়ে, পড়তে থাকে
মফস্বলের নেতা মানেই কন্ট্রাকটর। সরকার একটা ব্রীজ বানাবে, কন্ট্রাকটরদের কাছে দরপত্র চাইলো তো বেশ জমে গেলো খেলা। প্রথমে ব্রীজ বানাবার খবরটা তারা পত্রিকায় জানায় যাকে বলে টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি। সেখানে তারা বলে দেয় যে ব্রীজ বানাবার নিয়ম-কানুন, কাগজপত্র-এপ্লিকেশন ফর্ম মানে টেন্ডার আহবান করা হয়। আরো বলা থাকে আপনারা অত টাকার বিনিময়ে অত তারিখের মধ্যে সিডিউল কালেক্ট করতে পারবেন এবং অত তারিখের মধ্যে টেন্ডার জমা দিতে পারবেন।
আপনি আপনার এলাকার নেতা। নো চিন্তা। সিডিউল কিনে নিন। সাধারণত সিডিউলগুলা ব্যাংক থেকে বিক্রি হয়। একটা এমন সরকারী ব্রীজ বানাবার অফিসে এই সিডিউল কেনা নিয়ে একধরণের যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে।
কিন্তু প্রভাবশালী ছাত্রনেতা হওয়ায় একাই সব সিডিউল কিনে নেবেন। এমন অবস্থা তৈরী করুন যেন অন্য কেউ চাইলেও কিনতে না পারে।
তারপর ইচ্ছেমত টেন্ডার ড্রপ করুন। টেন্ডারে যদি রেট চাওয়া হয় তাইলে সর্বনিম্ন বা সর্বোচ্চ যাই ড্রপ করবেন সবই আপনার। আর যদি রেট স্পেসিফিক করা থাকে তাহলে তো কথাই নাই।
হবে লটারী, যে টেন্ডার জিতবে সবগুলার মালিকই আপনি।
বাই চানস যদি অন্য কেউ সিডিউল কিনে ফেলে তবে তাকে টেন্ডার ড্রপ করতেই দিবেন না। প্রয়োজনে টেন্ডার বাক্সটা নিজের বাড়ী নিয়ে রাখুন। কিন্তু তারপরেও কেউ যদি ড্রপ করে ফেলে এবং লটারীতে সে জিতেও যায় তাহলেও উপায় আছে। রাজ্য যেহেতু আপনার বিজয়ী কন্টাকটারের কাছে সিডিউল কেনার টাকা সহ যাবতীয় খরচ চান।
অথবা কাজটা আপনার কাছে বিক্রি করে দিতে বলেন নামমাত্র মূল্যে। বাস কেল্লাফতে।
রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ার কন্টাকটরী করতে কোন কাজ করার বিষয়ে আপনার কোন ধারণা না থাকলেও চলবে। এমনকি টিপসহিরও দরকার নাই। লাইসেন্স দরকার নাই, প্রতিষ্ঠান দরকার নাই।
হাটেমাঠে এমন হাজারটা পেয়ে যাবেন। তারাই আপনার হয়ে সব কাগজপত্র রেডি করে দেবে। আর ব্রীজ বানাতে যত সাপোর্ট দরকার তা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী দপ্তর উত্তম ঘুসের বিনিময়ে করে দেবে।
তবে ডিজিটাল নেত্রী যদি এইগুলান ওয়েবসাইটের মাধ্যমে করতে বলে তাহলে কিন্তু আপনার বিপদ। অতএব টেন্ডারবাজি ডিজিটাল করতে দেয়া যাবে না।
প্রয়োজনে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। জয় বাংলা।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।