আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

জনাকীর্ণ রুমে একা সময়



১২৬) জনাকীর্ণ রুমে একা সময় কতক্ষন ধরে বসে আছি সময় দেখিনি। কানের কাছে কথা বলছে যারা শব্দগুলো ঝংকারিত হচ্ছে শুধু। আমি একবার এদিকে আর একবার ওদিকে চোখে ফেরাচ্ছি। নাহ্‌ ওদের মুখায়বে শব্দের কোন অনুভূতি খেলা করছে না। ওদের দিকে তাকিয়ে হাসি হাসি মুখ করে থাকবো? না কি দুঃখবোধ? কঠিনতম ভাষা বুঝে আমার কাজ নেই ।

বলুক ওরা চাইনীজ না কি ক্যান্টনীজ যা কিছু ইচ্ছা। তার চেয়ে ভালো বই পড়ি। কিংবা রিডার্স ডাইজেস্ট। যেখানে লেখা হয় নানান যোদ্ধাদের খবর। জীবনের নানান ঘাত প্রতিঘাতে কি করে জয়ী হয় মানুষ।

তাদের সচিত্র বিবরণ। সেক্রেটারী মেয়েটি পাশে এসে দাঁড়ায়। আমার পিছনের জানালার দিকে তাকিয়ে বলে কি দারুণ রোদেলা দিন। মাথা নাড়ি । ও বলে হাঁটবার জন্য উপযুক্ত দিন।

আমি বলি হলুদ আর বর্ণালী সব পাতাদের আনন্দ দিন। ডাক্তার এর চেম্বারে এলে কত রকম বয়সের মানুষ দেখি। কত বিচিত্র তাদের কথাবলা। কার রক্তে গ্লুকোজ কত কার রক্তচাপ কেমন। কার কোলেষ্টোরেল বাড়লো কত এইসবই চিন্তার কারন।

খাদ্যাভাস পরিবর্তনের লিস্ট কারো হাতে। এখানে এলেই বুকের মধ্যে দিড়িম দিড়িম তিড়িং তাক করে হৃদকম্পন হয় আমার। অনেক দিন আগে এক ডাক্তার বলেছিলো আমার নাকি হোয়াইট এপ্রোন ডিজিজ আছে। উনাদের দেখলেই রক্তচাপ উঠানামা করে। ৮০ -৯০ বছর বয়সী মানুষের দিকে তাকাই।

কারো হাতে কারুকার্য শোভিত লাঠি। কারো কারো নিঃশ্বাসে শব্দে সচকিত সবাই। কারো কারো মুখের চামড়ায় কথা বলে নিরুদ্দেশ সময়। এখানে এলেই আমার ভাবনাগুলো কোথা থেকে কোথায় যে যায়! শতায়ু হবার বাসনা বোধ ছড়াতে থাকে একটা কারুকার্য শোভিত লাঠির জন্য নাকি মুখের অজস্র ভাঁজের জন্য কে জানে! কে জানে মন কেনো উন্মনা হয়! হাতের রেখায় কি জীবন লেখা থাকে? হাতের দিকে তাকাই কোনটা আয়ু রেখা? সেটা কি বাড়ছে? শতায়ু হবার ইচ্ছা পুরণের নিবিড় বাসনায়? জনাকীর্ণ রুমে নানা বয়সী মানুষের ভীড়ে নিমেষেই একা হয়ে যাই । এইসব খেয়ালী ভাবাবেগে ভেসে ভেসে।


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।