আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

December, 16; বিপন্ন বাংলাদেশের স্বাধীনতা

আমার মাঝে আমি,নিজেকে বার বার খুজি । জয় হোক স্বপ্নের,সত্যি হোক জীবনের আশা । মানুষের মাঝে মানুষ,উড়ায় হৃদয়ের ফানুশ ।

আজ ডিসেম্বরের প্রথম দিন। হাটি হাটি পা পা করে ৫৬০০০ বর্গমাইলের সুজলা-সুফলা আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের বয়স বেড়ে ৪২ বছর।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন হয় আমাদের এই প্রিয় স্বদেশ। ৩০ লক্ষ কিংবা আরও অধিক মানুষের জীবনের বিনিময়ে, ২ লক্ষ মা-বোনের চিত্‍কার, অত্যাচারিত হওয়ার পরে পৃথিবীর বুকে স্বাধীন হয়, বাংলাদেশ। আমাদের প্রিয় স্বদেশ। দুঃখজনক হলেও সত্য এই ত্রিশ লক্ষ শহীদের নামের তালিকা এখনো তৈরি করেনি বাংলাদেশ সরকার। দুই লক্ষ মা-বোন, যাদের বেশিরভাগের যায়গা হয়েছিল পতিতালয়ে।

অথবা সেই মুক্তিযোদ্ধা যাদের হাত কিংবা পায়ের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা, তাকে করতে হয় ভিক্ষাবৃত্তি। ৭২ এর সরকার হতে আরম্ভ করে সবাই এই অকৃতজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছে। যা জাতি হিসেবে নিজের মা কে পুনরায় ধর্ষন করার শামিল। পৃথিবীর ইতিহাসে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর একটি ঐতিহাসিক সময়। রেসকোর্স ময়দানে নিয়াজির আত্মসমর্পণের মাধ্যমে পৃথিবীর বুকে জন্ম নেয় এক নতুন রাষ্ট্র, নতুন দেশ বাংলাদেশ।

যদিও জাতিসংঘের সদস্য পদ লাভ করতে আরও বছর তিনেক দেরি হয়। ( আমেরিকান পা চাটা দালাল স্বীকৃতি দিল, আর নাই বা দিল, কি এসে যায়?) নভেম্বরের শেষের দিকে বাংলাদেশি মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যোগ দেয় ভারতীয় সৈন্যরা। অবশ্য মুক্তিযুদ্ধের প্রথম থেকেই নানা রকম সাহায্য করছিল ভারতীয়রা। সেই গল্প আরেকদিন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এই দেশে মোটামুটি ৭ কোটি মানুষ ছিল।

অনেকে বলে ঐ সময়ে বাংলাদেশে অনেক দল-উপদল ছিল। আমি মটেও তা বিশ্বাস করি না। ১৯৭১ সালে এ দেশে দুইটি দল ছিল, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে এবং বিপক্ষে। যারা এ দেশের স্বাধীনতার পক্ষে অবলম্বন করেছিল, তারা আমাদের গর্বের উত্‍স। তারা এ জাতির গৌরব।

আর যারা স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, তারা বরাহ। আর এই সকল বরাহ নিয়ে কথা বলতে আমার ইচ্ছে হয় না। ঢালাও ভাবে কাউকে দোষারোপ করার পক্ষে আমি নই। এক মুক্তিযোদ্ধার গল্প বলি -> আমাদের গ্রামে একটা প্রাইমারি স্কুলে মিলিটারি ক্যাম্প বসে যুদ্ধের সময়। পাশেই একটা গণকবর রয়েছে।

সেই ক্যাম্প অ্যাটাকে যায় একটি মুক্তিযোদ্ধার দল। সেই দল কয়েক ঘন্টার সম্মুখ যুদ্ধেই হারিয়ে দেয় শুয়োরদের। মুক্তিযোদ্ধা দলের একজন শহীদ হন, আহত হন অনেকেই। আমি সেই যোদ্ধাদলের একজনকে চিনি যে একাত্তর সালে জামায়াতে ইসলামির রাজনীতিতে জড়িত ছিল কিন্তু দেশের ডাকে সে যুদ্ধে যোগদান করে এবং দেশের জন্য তার পা কে সে কুরবান দেন। তাই ঢালাও ভাবে সবাইকে দোষারোপ এবং একগুঁয়ামী বর্জন করা উচিত।

তবে ১৯৭১ সালের অধিকাংশ জামাতে ইসলামীর সমর্থক বরাহ শ্রেণীভুক্ত ছিল, সে কথা অনস্বীকার্য। বাংলাদেশে বর্তমানে মোটামুটি ১৬ কোটি মানুষ বসবাস করে। একেকজনের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা, চিন্তাচেতনা একেক রকম। আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি, বাম পন্থী কিছু দল, জাতীয় পার্টি সহ অনেক দল। আসলে কি তাই? আসলেই?? বর্তমান বাংলাদেশে দুইটি দল রয়েছে।

সর্বমোট দুইটি। দল দুইটি হল; ১| বাংলাদেশি ২| জারজ এই বাংলাদেশি দলে রয়েছে দেশপ্রেমিক, জনগন, আমি, আপনি সহ গ্রামের শিক্ষিত, অশিক্ষিত, চাষা-ভূষা, কৃষক, মেথর, মুচি সহ আরো অনেক মানুষ। But the fact about "জারজ" is very critical. এই জারজ সম্প্রদায় বাংলাদেশকে তাদের নিজেদের দেশ মনে করে। এই জারজ দলের লোকদের আবার দুইটি ভাগ। একদল লোক তাদের দেশ হিসেবে পাকিস্তান এবং আরেকদল লোক ভারতকে মান্য করে।

এই দুইদল লোকের জন্য আমাদের প্রিয় স্বদেশ আজ এক ক্লান্তিলগ্নে উপস্থিত হয়েছে। আসুন, নিচে কিছু আমলনামা আলোচনা করি। পদ্মানদীর মাঝিতে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় একটা কথা বলেছিলেন। " এই পদন্মার বুক, কেউ কখনো দেখেনি। " মাওলানা ভাসানির ঐতিহাসিক লং মার্চ এর পরও দেশের সাথে এবং দেশের মানুষের সাথে বেইমানি করে নেতা (?) ৭ দিন পরীক্ষামূলক ভাবে ফারাক্কার অনুমতি দেয়।

সেই পরীক্ষা আজও চলছে। ফলাফল স্বরুপ পদ্মা এখন হেটে পার হওয়া যায়। # পদ্মার পানি, উত্তরবঙ্গের স্মৃতিবিজড়িত পদ্মার ধ্বংসের পর একজন প্রধানমন্ত্রী (?) এবার সুন্দরবন ধ্বংস করতে চাইছেন। রামপালের কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুত প্রকল্পের চুক্তির মাধ্যমে সুন্দরবন ধ্বংস করে ভারতের সাথে (??) লোভ ছাড়তে পারে নি। # দেশের মানুষের মত তোয়াক্কা না করে রেল, স্থল, জল পথে বিনা লাভে কেন ভারতকে ট্রান্জিট দেয়া হল, জনতার আদালতে তার জবাব দিতে হবে।

# ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের সাথে বেঈমানি করে আমেরিকার দ্বাসত্বের চুক্তি টিকফা কেন করা হল, জাতিকে বলতে হবে। এই দেশ আমাদের, এই মাটি, পানি বাতাস আমাদের। অগ্রহায়ণ মাসে গ্রামের মেঠ পথে হেটে যেতে যেতে দু'চোখে দোল খায় সরিষা গাছের হলুদ ফুলগুলো। চাষি হাড় কাপানো শীতে কাজ করতে নামে মাঠে, গাছি খেজুরের রস বয়ে বেড়ায়। পাল তোলা নৌকায় মাঝি গায় ভাওয়াইয়া ভাটিয়ালি গান।

দেশের নাগরিক হিসেবে এদেশ বিরোধী সকল সংগঠন কে বর্জন করা অবশ্য কর্তব্য। সে আওয়ামীলীগ হোক কিংবা বিএনপি হোক, কিংবা জাতীয় পার্টি-জামায়াত-বাম। দেশের প্রতি যাদের ভালবাসা নেই, তাদের পিতৃ পরিচয় দূরের কথা মাতৃপরিচয়ও নেই, তাদের জন্যে এই দেশ না। এ দেশ বাংলাদেশিদের। এখানে বাংলাদেশিরা থাকবে।

বাকিদের পাছাতে লাথি দিয়ে দেশ থেকে তাড়ানো হবে। "এই মেঠ পথে আমি হেটেছি, সকল জারজ, শুয়োর তাড়িয়ে সন্ধা শেষে হাস্নাহেনার গন্ধে, ঘুমাই আমি, ঘুম পাড়ানি গানে। সকল নষ্ট পথ ভ্রষ্টদের তাড়িয়ে, সকল জারজ শুয়োর বর্শায় গেথে, গান গাই আমি এই বাংলাদেশে। আমার প্রিয় স্বদেশ পদ্মা, মেঘনা, যমুনার বাংলাদেশ । " হুমায়ুন তোরাব ১/১২/১৩


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।