মোস্ট পাওয়ার ফুল ট্যালিপ্যাথী , " তোমরা আমাকে স্মরণ কর , আমি তোমাদেরকে স্মরণ করব " (১৫২/ সুরা বাক্বারা) মর্মান্তিক ভাবে খুন হয়ে যাওয়া মহিলা ডাক্তার ...তাও রাজধানীতে ..ফেসবুকের চিকিৎসক সমাচার পেজ থেকে লেখাগুলো আনা ।
ডাঃ মেহেদীর লেখায় ওনার পরিচিতি
ডাঃ সাজিয়া আফরিন...
স্বল্পভাষী,কর্মঠ সাজিয়া আপুর সাথে পরিচয় ইন্টার্নী শুরুর প্রথম দিন থেকেই। আমরা যখন গাইনি ওয়ার্ডের লেবার রুমে এডমিশন এর দিন কিংবা রাতে রোগী আসার ফাঁকে গল্প করতাম। আপুকে দেখতাম চুপ করে বসে থাকতে। খুবই চুপচাপ অন্তর্মুখী এই আপুকে কোলাহলপূর্ণ দশজন মানুষের কথার ভিড়ে খুজেই পাওয়া যেতো না ।
সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ এর ৪১তম ব্যাচের মেধাবী ছাত্রী (FCPS part 2, দুইবার পেশাগত পরীক্ষায় মেধাস্থান ) ডাঃ সাজিয়া আফরিন এর অনারারী মেডিকেল অফিসার হিসেবে গাইনি ইউনিট-২ তে আপুর কর্মতৎপরতা চোখে পড়ার মত ছিল । আমরা অনেক সময় কোন কাজে গড়িমসি করলে কিছুই না বলে কাজটি করে ফেলতেন নিভৃতচারী এই আপু। সিজারিয়ান সেকশনে অত্যন্ত দক্ষতার দরুণ রেজিস্ট্রার,IMO,CA আপুদের আস্থাভাজন ছিলেন। অন্তর্মুখী স্বভাবের কারণে আপু সবার সাথে হয়ত একটু কম মিশতেন কিংবা আপুকে অনেকেই হয়ত অহংকারী ভেবে ভুল করতেন কিন্তু আমার স্পষ্ট মনে আছে,আপু ঢাকায় চলে যাওয়ার দুইদিন আগে আপুর সাথে যখন সিজারিয়ান সেকশন অ্যাসিস্ট করেছিলাম আপু আমাকে বলেছিল,''রবিন,আমি ঢাকায় চলে যাচ্ছি,ভালো করে কাজ শেখো"।
আজ দুপুরে যখন সাজিয়া আপুর এক বন্ধু তৃনা আপুর মাধ্যমে জানলাম ঢাকা এয়ারপোর্ট নিকটস্থ দক্ষিণখানে ব্র্যাক নামক ক্লিনিক এ আপুর শ্বাসরুদ্ধ লাশ পাওয়া গিয়েছে ।
কোনভাবেই বিশ্বাস করতে পারিনাই এরকম স্বল্পভাষী,কর্মঠ,নিরহংকার,নিভৃতচারী আপুর কোন শত্রু থাকতে পারে!!
বিবেকবান মানুষের কাছে প্রশ্ন...
যে হাত অসংখ্য সংকটাপন্ন প্রসূতি মায়ের ও নবজাতকের জীবন বাঁচায়,
যে কণ্ঠ দেয় মানুষের মৌলিক অধিকার চিকিৎসাসেবা পাওয়ার নিশ্চয়তা...
সৃষ্টিকর্তার অপার কৃপায় সেই মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরিয়ে আনার কারিগর চিকিৎসকেরকণ্ঠরোধ করতে মানুষরূপী নরপিশাচদের হাত একটুও কাঁপল না!!। ।
আশা করি অমানুষরা (আমরা ডাক্তাররা) সমাজের বিবেকবান মানুষের কাছ থেকে সদুত্তর পাবো।
নিকটাত্মীয় কেও ডাক্তার থাকলে তাঁর সংগ্রামের ইতিহাস জানুন।
অভিযোগ থাকলে গঠনমুলক সমালোচনা করুন ।
আর সর্বোপরি ডাক্তারদের মানুষ ভাবতে শিখুন।
সাংবাদিক কিংবা যারা নিজেদের সত্য ও আলোর দিশারী দাবি করেন তাদের প্রতি...
যেখানে সাংবাদিকদের আঙ্গুল কাটার ঘটনা breaking news হয় সেখানে ডাঃ সাজিয়া'র মত অসামান্য মেধাবী (FCPS obs & gynae. part 2, two times place in professional exams) চিকিৎসকের খুনের ঘটনা নিউজ হওয়ার সুযোগ পায় না।
হলুদ সাংবাদিকতা তো কবে থেকেই করছেন দয়া করে লাল এর দিকে যাবেন না। মনে রাখবেন হলুদ,বিপদজনক লাল এর খুব কাছাকাছি। এটাকে লাল এ নিয়ে গেলে কখনই সবুজ এ ফিরতে পারবেন না।
বলা তো যায় না আপনি কিংবা আপনার স্বজনের কখন না আবারএই সব অমানুষের (!) শরণাপন্ন হতে হয় !!!
সবশেষে ,ডাঃ সাজিয়া আফরিন এর খুনের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি ফাঁসি দাবি করছি।
**************************************************ইতোমধ্যে অনেকে জেনে গেছেন যে কর্তব্যরত অবস্থায় ঢাকার দক্ষিণখানের একটি ক্লিনিকে নিজের সম্ভ্রম বাঁচাতে গিয়ে নৃশংস ভাবে খুন হয়েছেন ডাঃ সাজিয়া আফরিন (ইভা)। তবে এই খবরটি যতজনের যতদ্রুত জানার কথা ছিল তা হয়নি কারো বেলায়। কারন দেশে ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা অসংখ্য টেলিভিশন চ্যানেল যাদের কোন কোনটিতে 'মাদ্রাজ-আমেরিকান কবিরাজ ঘর' জাতীয় বিজ্ঞাপন প্রচার করে রোজ সেগুলোর মাঝে একটি চ্যানেলও দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মেধাবী এক মুখের নির্মম বিদায়ের এই খবর প্রকাশ করার প্রয়োজন মনে করেনি। আমরা কিছু অর্বাচীন ফেসবুক-ব্লগে ঘ্যানর ঘ্যানর করতে করতে যখন ক্লান্ত তখন দু'একটি খবরের কাগজ এই খবরটি প্রকাশ করে (ভিক্টিমের নামের বানান ভুল সহ) আমাদের ধন্য করেছে; ঘটনা ঘটার দুদিন পরে হলেও।
গতকাল সোহরাওয়ার্দি মেডিক্যাল কলেজের সামনে ডাক্তার এবং মেডিক্যাল স্টুডেন্টরা মিলে আমরা একটি মানব বন্ধন রচনা করি। সেখানে ছিলনা কোন টেলিভিশন ক্যামেরা, ছিলনা কোন পত্রিকার সাংবাদিক। কয়েকশ কসাইরুপী ডাক্তার ঘণ্টা ধরে রোদের মধ্যে রাজপথে দাঁড়িয়ে থাকলে কার কি আসে যায়? তারচেয়ে নায়িকা অপু বিশ্বাসের বদহজম জনিত সমস্যা হলে নাহয় একটা জবরদস্ত খবর ছাপানো যেতো!
বাড়ি ফিরে ফেসবুকে লগইন করে এক ছোট ভাইয়ের একটা লেখা পেলাম ইনবক্সে। লেখাটা সবাইকে জানানো কর্তব্য মনে করছি আমি।
{আজকের মানব বন্ধনে ইন্ডিপেনডেন্ট ও এটিএন এর সাংবাদিকরা আসে কিন্তু আমরা তাদের বিশেষ করে ইন্ডিপেনডেন্টের স্মার্ট নারী সাংবাদিকের কথা শুনে অবাক হয়ে যাই।
তিনি বলেন- "আমরা শুনে এসেছি এখানে এক চিকিৎসক আরেক চিকিৎসককে ভুল চিকিৎসা দিয়ে মেরে ফেলেছে, তাই সকলে তার বিচার চায়। " আমরা হতবাক হই তার এই কথা শুনে। পরে ইভা আপুর (ডাঃ সাজিয়া আফরিন) মৃত্যুর বিষয়ে জানাই ও নিউজ করতে বলি। তার উত্তরে সেই সাংবাদিক বলেন "কোন ডাক্তার মরলে নিউজ এজেন্সির কিছু যায় আসেনা, এটা কোন খবর না তবে ডাক্তারের হাতে কেউ মারা গেলে সেটা ইম্পরট্যান্ট। " আমরা তারপরেও তাকে ব্যাপারটা বোঝাতে চেষ্টা করলে তিনি আমাদের নাম জানতে চান।
আমরা কয়েকজন পরিস্থিতি খারাপ হবার ভয়ে ইজ্জত নিয়ে সরে পড়ি।
একটা সাংবাদিকের আঙ্গুল কাটলে ব্রেকিং নিউজ দেয় কিন্তু নাইট ডিউটি অবস্থায় একজন চিকিৎসক নিজের সম্ভ্রম বাঁচাতে গিয়ে খুন হলে সেটা নাকি ইম্পরট্যান্ট না।
এই দেশে থাকার ইচ্ছা নাই; ডাক্তারি দূরের কথা!
**ফয়সাল আহমেদ তুষার। }
ঠিক এভাবেই আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের চিকিৎসকরা বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ছে এদেশের ঘুনে ধরা চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং চিকিৎসকদের দুর্ভোগপূর্ণ নিরাপত্তাহীন, বাস্তবে মর্যাদাশূন্য সামাজিক অবস্থার উপর। জনসংখ্যার তুলনায় এমনিতেই এখানে চিকিৎসক অপ্রতুলতা, এভাবে চলতে থাকলে আগামী দিনগুলোতে এদেশে কোন চিকিৎসক পাওয়া যাবে কিনা তা ভাবনার বিষয়।
পশ্চাদ্দেশে ফোঁড়া হলে গরীবরা তখন দৌড়াবে নাপিতের দোকানে আর বড়লোকদের যেতে হবে সিঙ্গাপুর-ব্যাংকক, ফোঁড়ার তীব্র ব্যাথা নিয়ে বিমানের সিটে ভাল করে
বসতেও পারবে না তারা, চ্যাংদোলা করে ঝুলিয়ে নিতে হবে!
*************************************************
হাসপাতালে কাজ করেন মহিলা ডাক্তার ,নার্স ,মহিলা কর্মচারী ...পরিস্থিতি এমন হলে রোগীদের কি হবে ??
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।