আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বেহেশতী ইরান: আহমেদিনিজাদ এ যুগেরই অবতার।

বাধ ভাইঙ্গা যায় আওয়াজের ঠেলায়! প্রথম পর্ব- ইরান: বেহেশতের আরেক নাম। এই পোস্ট তাদের জন্যই যারা বাংলাদেশকে নিয়ে হীন মনমানসিকতায় ভুগেন কিন্তু তারা বাংলাদেশেই জন্ম নিয়েছেন। ইরান মুসলিম দেশ বলেই যে আমার টার্গেটের শিকার এটা ভূল কথা। ইরানের জন সাধারন আপনার এবং আমার মতোই। তারা সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেন, ওজু করেন।

নামাজ পড়ে কিছুক্ষন কোরান তেলাওয়াত। বাসার সবার সাথে এক সাথে খাবার খেয়ে বের হয়ে যান নিজ নিজ কাজে। তারা খুব সাধারন জীবনের স্বপ্ন দেখেন। স্বপ্ন দেখেন এমন একটা সমাজের যেখানে তাদের সন্তানেরা স্বাধীনভাবে বড় হতে পারে। শিয়া হোক সুন্নী হোক সবাই সম অধিকার নিয়ে বাচতে চায়।

কিন্তু হায়! বিদেশী এবং দেশী হায়েনাদের লোলুপ দৃষ্টিতে এটা চিন্তা করাও দুষ্কর। আর সে অর্থে যদি দেশী হায়েনাদের সর্বময় ক্ষমতা ন্যাস্ত থাকে। প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদ: ইরান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজী থেকে গ্রাজুয়েশন থেকে পিএইচডি সবকিছুই সম্পন্ন করেছেন এই প্রেসিডেন্ট। কিছু দিন লেকচারার পদেও ছিলেন। যদিও ৮০ এর দিকে উনার অবস্হান কি ছিলো সে সম্পর্কে জনসম্মুখে খুব একটা তথ্য নেই।

অসম্ভব সৎ এবং নিষ্ঠাবান এবং সময়ানুবর্তিতার প্রতিক এই আহমেদিনিজাদ যার ফলে ক্ষমতায় আরোহনের খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে চারিদিকে তার সততার গুনাবলীর খবর ছড়িয়ে পড়ে দূর দুরান্ত। যদিও পশ্চিমা গনমাধ্যম কখনোই ক্ষান্ত দেয়নি তার দোষ খুজবার জন্য। সূত্র: উইকি তবে এরকম সুন্দর এবং ইসলামিক আদর্শ সম্বলিত ভাবধারার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করার পিছনে কিছু ইতিহাস আছে। ইতিহাসগুলো এক কথায় বলি। শাহ এর শাসনামলে চরমভাবে বিরক্ত এবং নির্যাতিত ইরানীরা যখন খোমেনীর ইসলামী বিপ্লবের সাথে তাল মেলালো তখনই ইরানের এক আকর্ষনীয় পরিবর্তন আসতে থাকলো।

যদিও প্রথম দশকে ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। সেই যুদ্ধ কাটিয়ে উঠতে নানা চড়াই উৎরাই পার হয়ে। আভ্যন্তরীন বিষয় সমূহে কিন্তু দুর্নীতি কখনোই দূর হয়নি বলেই এরকম প্রেসিডেন্টকে নির্বাচিত করা খোমেনীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন হয়ে পড়ে। অর্থনৈতিক ধ্বসের যেভাবে শুরু: আহমেদিনিজাদের প্রেসিডেন্সির প্রথম চার বছর ছিলো ইরানের জন্য স্বর্ন সময়। ইরানের জন গন দেখেছিলো তাদের জিডিপির উত্তরন, মূল্যস্ফীতির অবগমন এবং বেকারত্বের হ্রাস।

দেশের সবাই বুক বেধেছিলো এই ভেবে যে তারা তাদের প্রানের মানুষটির দেখা এই বুঝি পেলো। নানারূপী পদক্ষেপের কারনে যখন ইরানের তেল নির্ভর অর্থনীতি বেগবান হতে লাগলো তখন একটা প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রি চালু করা হলো সেটা হলো "সুদের হার মূল্যস্ফীতির নীচে নামিয়ে আনা"। সুত্র এটাই তার প্রথম ভুল ছিলো। হুহু করে রিয়েল স্টেট কোম্পানিগুলো তাদের জায়গার দাম কয়েকগুন বাড়িয়ে ফেলে। এর ফলে অপেক্ষাকৃত গরীব লোকেরা সমস্যায় পড়ে, গৃহ হীন মানুষের দুর্দশা বাড়ে।

প্রশাসন প্লানিং মন্ত্রনালয়ে বিশাল কাটছাট করে। ইরানের তৎকালীন অর্থনীতিবিদরা অগ্রসরমান অর্থনৈতিক ধ্বস বুঝতে পেরে তাকে চিঠি লেখেন যেখানে বলা বাড়ি নির্মান সামগ্রী, কাচামাল, সরকারী সেবার মূল্য এবং মানের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রন নিতে। আহমেদিনিজাদ জনসম্মুখে এটা বর্জন করে এবং বলে এই ধারনা পশ্চিমা ধারনাপ্রসূত। এদিকে পশ্চিমাদের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক অবরোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাস্ফিতী আর মূল্য স্ফিতী ঠেকাতে হিমসিম খেয়ে যায়। সুত্র এএফপি সুত্র এএফপি পরিস্হিতি এমন হয়ে দাড়ায় যে আহমেদিনিজাদের জনপ্রিয়তা বেশ কয়েক শতাংশ নেমে যায়।

পরিস্হিতি সামাল দেবার জন্য বেশ কয়েকটা মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রীদের পদত্যাগ করানো হয় পার্লামেন্টের কোনো অনুমতি ছাড়াই। এ নিয়ে পার্লামেন্টে বিশাল বাগবিতন্ডা দেখা দেয়। প্রেসিডেন্ট সাহেব এটাকে জাতীয় দেশপ্রেম বলে মেনে নিতে বলেন। দুর্নীতি এবং স্বজনপ্রীতি: দুর্নীতি গুলো ইরানে এই সময় খুব প্রকট আকার ধারন করে। অর্থনৈতিক মন্দাবস্হায় ইরান তার ইতিহাসের সর্বাধিক অংকের বিশুদ্ধ পেট্রল ক্রয় করে।

পার্লামেন্ট থেকে ২ বিলিয়ন ডলারের অনুমতি নিলেও পরে ৫ বিলিয়ন ডলারের পেট্রল আমদানি করে। সেসময় ইরানের বাজেটে বেশ বড় একটা বাজেট ঘাটতি দেখা দেয়। পার্লামেন্ট এটা যখন বুঝতে পারে তখন তৎকালিন তৈলমন্ত্রীকে তদন্তের মুখোমুখি করলে সে বলে আহমেদিনিজাদ সরাসরি এই তেলের আমদানী করতে নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও তখনও সরকারে ২৭৫ হাজার কোটি ডলারের তেল বিক্রি করেছে, তারপরও এই ঘটনা ইরানের সবচেয়ে বড় বাজেট ঘাটতি হয়ে দেখা দেয়। সুত্র ইরানের প্রেসটিভি ঘটনা এখানেই শেষ নয়, খোমেনীর সরাসরি আশীর্বাদ ধন্য হয়ে দ্বিতীয় নির্বাচনের আগে সোশ্যল সিকিউরিটি অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে ৯০ মিলিয়ন ইরানীকে ১০ হাজার বিলিয়ন ইরানী রিয়াল দেবার রেকর্ড খুজে পাওয়া যায় যা মূলত অবৈধ এবং চুরিই ধরা যায়।

যদিও এত জন গন এতগুলো টাকা আসলেই পেলো কি না সেটা প্রশ্ন করবার আগে কেন তা ভোটের আগেই দেয়া হলো বা গায়েব হলো সেই প্রশ্নটাই মূখ্য ছিলো। যদিও পরে অন্য একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেবার সময় এই অর্থ কেলেংকারীর রেফারেন্স দিয়ে বলেন "এটা খুব সামান্য অসংহতি" এবং একে পশ্চিমাদের খেলা বলে উল্লেখ করেন। সুত্র জাতীয় খনিজ সম্পদের পাথরের একটা খনি আহমেদিনিজাদের রাজনৈতিক স হযোগীর হাতে তুলে দেয়া যার জন্য আহমেদিনিজাদ স্বয়ং নির্দেশ দিয়েছিলেন কোনোরকম বিডিং ছাড়াই ইনডাস্ট্রির মন্ত্রনালয়ের কর্তৃপক্ষকে যার মাসিক লাভ ৮ বিলিয়ন রিয়ালের মতো। আহমেদিনিজাদ যখন ক্ষমতায় আসেন তখন জন্ম নিয়ন্ত্রনের ব্যাপারে প্রশংসনীয় ভূমিকা নেন। ইরানের নব দম্পতিদের দুটোর বেশী সন্তান না নেবার পরামর্শ দেন।

তখন একসময় তিনি বাংলাদেশের নামটিও উচ্চারন করেন এই জন্য যে বাংলাদেশ কিভাবে তার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমিয়ে এনেছে। কিন্তু চার বছর পর তার মাথায় ভূত চেপে বসে। ২০১০ এর নভেম্বরে হঠাৎ সে বলে বসলো,"আমাদের উচিত ছেলেদেরকে ২০ বছর বয়সে আর মেয়েদেরকে ১৬ থেকে ১৭ এর মধ্যে বিয়ে দিয়ে দেয়া। " ইরানে তখন অর্থনৈতিক ধ্বস দেখা দিতে শুরু করেছে। দিনকে দিন বেকারত্বের হার বাড়ছে, তার সাথে পাল্লা দিচ্ছে জিনিসপত্রে দাম।

আয়াতুল্লাহ খোমেনীর ৭৯তে দেয়া সেই কুখ্যাত ঘোষনার মতো তার এরকম সিদ্ধান্তে অনেকেই অবাক হয়ে যায়। তার ঐঘোষনার কারনে পরবর্তী ৭ বছরে ইরানের জনসংখ্যা বেড়ে দাড়ায় ১৬ মিলিয়ন এবং তা অর্থনীতিতে একটা কুপ্রভাব ফেলে। সুত্র এভিন কারাগের রাজনৈতিক বন্দীদের উপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়ানোর সরাসরি নির্দেশ ছিলো। আয়াতুল্লাহ আল খোমেনীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন "Freedom of Speech" এর গলা চেপে ধরার জন্য আহমেদিনিজাদের আগ বাড়িয়ে সেটাকে আরো বেগবান করে তুলেন। ফলে সেন্সরশীপের নামে অনেক পত্রিকা বন্ধ থেকে শুরু করে তার সম্পাদক স হ বিভিন্ন সাংবাদিক নিখোজ অথবা এভিন কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়।

এই সেন্সরশীপের কবল থেকে অহিংস আন্দোলন থেকে শুরু করে ব্লগ, ইমেইল মনিটোরিং, ভয়েসকল ইত্যাদি কোনোকিছুই বাদ যায়নি। সুত্র ২০০৬ সালে ক্ষমতায় আরোহন করার এক বছর পর তার নিজের ইউনিভার্সিটির প্রায় ৫০ জন প্রফেসরকে "বুড়ো হয়ে গেছে" এই দোহাই দিয়ে একটা চিঠি পাঠিয়ে সবার চাকুরী খায়। যখন এটা নিয়ে মিডিয়া এবং সুধী মহলে গুন্জ্ঞন উঠে তখন তার বক্তব্য নতুনদের সুযোগ করে দেয়ার জন্যই এরকম করা হয়েছে যে যুক্তিটা ছিলো বড্ড হাস্যকর। উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের হার বেড়ে যাওয়ায় সেটা রোধ করবার জন্য ২০০৬ সালে আইন করে ছেলেদের জন্য ৫০ শতাংশ এবং মেয়েদের জন্য ৫০ শতাংশ কোটা করা হয়। পরে এবছর এই কোটা আরো বাড়িয়ে ছেলেদের জনয় ১০০ ভাগ করা হয় এবং তা সুনির্দিষ্ট করে ৯০ টা বিষয়ের উপর রাখা হয় যার মধ্যে প্রকৌশল, ডাক্তারি, বায়োলজী, মাইক্রো বায়োলাজী স হ সায়েন্স এবং কমার্সের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন অন্তর্ভূক্ত হয়েছে।

তার মানে ইরানের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়েই মেয়েরা এই বিষয়গুলোতে পড়তে পারবে না। সুত্র সুত্র সুত্র পাকিস্তানের পত্রিকা ব্যাক্তিগত দুর্নীতি: গুগল খুজলে নানা লেখা পাওয়া যাবে আহমেদিনিজাদের স হজ সরল জীবন যাপনের কাহিনী। কিছু কথা হাজার চেষ্টা করলেও খুজে পাওয়া যাবে না সেই কিছু কথা নীচে বর্ননা করছি। তার আগে এই ছবিটা দেখা যাক, যদিও ফারসী লেখা। এটা একটা বিলের কপী যার নীচে খোদ আহমেদিনিজাদের স্বাক্ষর বর্তমান।

এই ট্যুরে তার সাথে ছিলো ১৫০ জন কর্মকর্তা এবং দুপুরের খাওয়া বাবদ বিল ছিলো ১৭.৫ মিলিয়ন রিয়াল। বিলের নীচে আরও লেখা আছে এর বাইরে আরো খাওয়া হয়েছে যার মূল্য মান ১২.৫ মিলিয়ন এবং যে অতিরিক্ত ৫ মিলিয়ন রিয়াল খরচ করা হয়েছে সেটা সরকারী বিড়ালের খাওয়া বাবদ। আরও একটা ছবি দিচ্ছি। রেফারেন্সটা ইরানী এক পত্রিকা থেকেই নিয়েছি। এই ছবিতে যেটা বলা আছে সেটা হলো আহমেদিনিজাদের আশেপাশে তার ঘনিষ্ট আত্মীয় স্বজন যেমন ২০১১ সেপ্টেম্বরে আহমেদিনিজাদ সাহেব সপ্তমবারের মতো নিউইয়র্কে যান জাতীসংঘে ২০ মিনিটের ভাষন দিতে আর তার সাথে ছিলো ১৪০ জনের মতো ডেলিগেটস যাদের আসলে কাজ নেই।

তাহলে তারা কি ছিলো? তার স্ত্রী যিনি স্বভাবতই থাকবেন সাথে ছিলো তার পুত্র আর তার স্ত্রী, তার কন্যা আর তার জামাই, সাথে তার নাতী নাতনিও। সাথে অন্যান্য কর্মকর্তার বৌ বাচ্চাও ইরানের প্রতিনিধিত্ব করতে ওখানে গিয়েছিলেন। এর মধ্যে ১০০ জনের ঐ সংশ্লিষ্ট কোনো কাজই ছিলো না এবং তারা যে হোটেলে ছিলো সেখানে প্রতিরাতে খরচ ছিলো ৪০০ থেকে ৭০০ ডলার তখন ইরানে প্রতি ডলার ছিলো ১০০০০ রিয়ালের মতো। তাহলে এক সপ্তাহ থাকলে মোট কত মিলিয়ন রিয়াল খরচ করেছিলো সেটা হিসাব করলেই বেরিয়ে আসে। যদিও আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী হাসিনা ৫ জন খেলোয়াড় নিয়ে ৪৭ জনের একটা দল নিয়ে হাজির হয়েছিলো লন্ডন অলিম্পিকে।

এমন কি খবরে আসে আমেরিকা লন্ডনে বিভিন্ন সম্মেলনে উনি নাকি বিনা আমন্ত্রনেই দাওয়াত খেতে চলে যান। অবশ্য সাঘেইয়ু মনোরেল প্রকল্পে ২০০ বিলিয়ন রিয়াল সরকারী কোষাগার থেকে ব্যায় করা হয় বিনা কারনে যার মূল হোতা হিসেবে আহমেদিনিজাদের ডান হাত বলে খ্যাত মাশা-ইকে ধরা হয়। আরেকটা ছবি দিচ্ছি যেখানে আহমেদিনিজাদ দুজন মন্ত্রীকে খুজেস্তান স্টিল কমপ্লেক্সে নিয়ে যাবার নির্দেশ দেন যারা মূলত অর্থ কেলেংকারীর জন্য জেলে অপেক্ষা করছিলো আদালতের বিচারের অপেক্ষায়। এটা করা হয় সরকারী কার্যবিধি সমূহকে পাশ কাটিয়েই। তার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাহামী যার বিরুদ্ধে বিভিন্ন কেলেংকারির অভিযোগ আছে (ইন্সুরেন্স ফাইল) বিচারের সম্মুখীন করা হয়েছে অনেকটা দায়সারা ভাবে।

তাই কালেভদ্রে জানা যায় উনি আদালতে আসেন খোশ গল্প করেন তারপর চলে যান। বিচার এভাবেই চলছে চলবে। অনেকেই বলে উনি ওখানে মাঝে মাঝে তার পুরোনো বিচারমন্ত্রীর সাথে চা পানি খেতে যান। জজ সাহেব বাইরে বসে থাকে কি কি প্রশ্ন করা হবে তা নিয়ে। উনি সময় পেলে সেটার উত্তর দেন।

আরো একটা তথ্য খুজে পেলাম আহমেদিনিজাদের ছেলে মেহদী শরীফ ইউনিভার্সিটির কাইশ দ্বীপের ব্রান্ঞ্চ থেকে পিএইচডি করছেন। এটা খুবই স্পেশাল ইউনিভার্সিটি যার টিউশন ফি ২০০ মিলিয়ন রিয়াল (২০ ০০০ ডলার) মতো। তাকে ঐ দ্বীপের সম্প্রতি নির্মিত একটা বিলাসবহুল টাওয়ারে থাকবার জন্য মোট তিনটি এপার্টম্যান্ট দেয়া হয়েছে যার বাকী দুটিতে তার স হকর্মীরা থাকেন। আহমেদিনিজাদের ডান হাত মাশায়ী যিনি মেহদীর স্ত্রী তিনিও ঐ একই ইউনিভা্র্সিটিতে পড়া লেখা করেন। যেই রিয়েল এস্টেট কোম্পানী এই সকল ব্যায়ভার মিটাচ্ছে সেটা ঐ দ্বীপেই ব্যাবসা করছে।

যাই হোক এই পরিমান টিউশন ফি আহমেদিনিজাদের বেতনের দ্বিগুন, তাই খোজ নিতে গেলে জানা যায় তাকে ডিসকাউন্টে পড়ালেখা করানো হচ্ছে। উল্লেখ্য ঐ ইউনিভার্সিটিতে পোস্ট গ্রাজুয়েট করতে চাইলে প্রতি টার্মে ৪০০০ ইউরো গুনতে হবে। যদি পিএইচডি তিন বছর ধরা যায় তাহলে এতো টাকা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। অবশ্য প্রেসিডেন্টের ছেলের পড়ালেখার খরচ নিয়ে কেউ প্রশ্ন করবে না। সুত্র পরমানু কর্মসূচি বিতর্ক: প্রথমে বলে রাখি জাতিসংঘ অনুসারে মুসলিম দেশের সংখ্যা ৭ টা এবং মুসলিম অধ্যুষিত দেশ ১৭ টা আর ১৯ ট দেশে মুসলমানদের সংখ্যাধিক্য বেশী।

এখানে সবার জানা আছে যে পাকিস্হান এবং ইরান নিউক্লিয়ার পাওয়ারের অধিকারী। পথে আছে তুর্কী আর ইন্দোনেশিয়া। বাংলাদেশও এ কাতারে। যারা আন্তর্জাতিক রাজনীতির সাথে জড়িত তারা খুব ভালোভাবেই জানেন যে বাংলাদেশ বা ইন্দোনেশিয়া বা তুর্কীর কাজ কতদূর এগিয়ে এবং জাতিসংঘ তথা বিশ্ববাসী এবং আমেরিকা এ ব্যাপারে কি মনোভাব জ্ঞাপন করে। কেউ যদি বলে ইসরাইলের মতো সন্ত্রাসী দেশ যখন পরমানু অস্ত্র বানাতে পারে তখন বিশ্বের অন্য দেশ তার কাছে কিছুই না।

সে হিসেবে ইরানের প্রোগ্রাম নিয়ে যেটা হচ্ছে সেটা মূলত ইহুদীদের ঘাড়ত্যাড়ামী ছাড়া কিছুই না। কিন্তু কিছু কথা থেকে যায়। একচেটিয়াভাবে যদি আমেরিকা দোষ দেই তাহলেও একটু ভুল হয়ে যায়। ইহুদী লবিং যেখানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বড় ভূমিকা সেখানে ইসরাইলের রাজনীতি সম্পর্কে ধারনা না থাকাটা ভুল। এখন ঘটনা দেখি।

ইরানের নিউক্লিয়ার প্রোগ্রাম ১৯৫৭ সাল থেকে শুরু হয়েছে এবং ইসলামী বিপ্লবের আগ পর্যন্ত পুরোটাই যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যপুষ্ট ছিলো। বিপ্লবের পর দৃশ্যপট পাল্টে যেতে থাকে। সিমেন্স তার চুক্তি থেকে সরে দাড়ায় রাজনৈতিক অস্হিরতার কারনে। চীন আমেরিকার চোখ রাঙ্গানীতে পিছুটান দেয়। তারপর শুরু হয় ইরান ইরাক যুদ্ধ, ফ্রান্সের বানানো মিসাইল দিয়ে ইরানের অর্ধ সমাপ্ত নিউক্লিয়ার রিএক্টরের উপর বোমা বর্ষন করে।

তখন ইরান বিচার চেয়েও কারো কাছে পায়নি। যু্দ্ধ শেষে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বোরিস ইয়েলৎসিন মিসাইল প্রযুক্তি হস্তান্তরে সাহায্য করে। এরপর অনেক পানি গড়ায়, পশ্চিমারা সবাই ইরানের পিছু লাগে। ততদিন ইরানী জন গন পুরোপুরি নিজেদের পরমানু প্রযুক্তির জন্য স্বপ্ন দেখতে থাকে কিন্তু ইরান সবার কাছ থেকে সাহায্য চেয়ে পশ্চিমা বিশ্ব তথা আমেরিকার চোখে রাঙ্গানীতে বন্ধু হীন হতে থাকে। আহমেদিনিজাদ প্রেসিডেন্ট হয়ে ২০০৬ সালে ঘোষনা দেন পরমানু অস্ত্র বানানো ধর্মীয় ভাবে অবৈধ এবং ইরানের কোনো ইচ্ছা নেই পরমানু অস্ত্র বানানোর কারন এটা তাদের নিজস্ব সংস্কৃত পরিপন্হি।

২০০৮ সালে আবারো তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন রাজনৈতিক প্রভাবের জন্য যারা এটা করে তারা আসলে কাপুরুষ এবং নিজস্ব সীমাবদ্ধতা ঢাকতেই এটা তারা করে। ২০০৬ সালের এপ্রিলে আহমেদিনিজাদ ঘোষনা করে ইরান ইউরেনিয়াম পরিশোধনে সফল হয়েছে যেটা দিয়ে এর জ্বালানী চক্র সম্পন্ন করা যাবে। এবং আরো কয়েকজায়গায় তার বক্তব্যের সুর একই ছিলো। কিন্তু তা থাকা সত্বেও আমেরিকা আর ইসরাইল তার বিরু্ধে যথেষ্টই বিরক্ত এবং তার পরমানু পলিসির বিরুদ্ধে অবস্হান নেয়। এসব বিরোধীতার কারনে আহমেদিনাজদ স্বাগত জানায় জাতীসংঘকে সরাসরি এবং মুক্তভাবে তাদের রিএক্টর গুলো ঘুরে দেখার জন্য।

২০০৯ সালে জাতীসংঘ পরমানু সংস্হার ডিরেক্টর ইরানী বংশোদ্ভুত এল বারাদী একটা রিপোর্টে বলেন যে পরমানু অস্ত্র বানানোর সরন্জ্ঞামাদী অথবা ইউরোনিয়াম উন্নতকরনের কোনো চিহ্ন দেখেননি যদিও তাদের কাজে কিছু স্বচ্ছতার অভাব ছিলো। পুরো বছর জুড়ে প্রতিটি মাসে মাইক্রোস্কোপের নীচেই থাকে ইরানের পরমানু কর্মসূচি এবং প্রায় প্রতিটি রিপার্টেই বলা হয় স্বচ্ছতার অভাব তবে পরমানু অস্ত্র বানানোর কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি যদিও দ্বিতীয় রিএক্টর এখনো তারা পুরো ঘুরে দেখেনি। ঐ একই বছর যখন এতটাই পরীক্ষার নীচে ইরানের পরমানু কর্মসূচি তখন দূরপাল্লার মিসাইলের পরীক্ষার অনুষ্ঠানে অনেকটা উস্কানীমূলক বক্তৃতা দেয় বলে এই দূরপাল্লার ক্ষেপনাস্ত্র পরীক্ষা পশ্চিমাদের জন্য একটি বার্তা যাতে তারা মনে না করে ইরান দুর্বল। যদিও আহমেদিনিজাদ সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রন বা তত্বাবধায়ন মূলক নির্দেশনাও নেই ইরানের পরমানু কর্মসূচির উপর কারন এটা পুরোপুরিই নিয়ন্ত্রিত হয় সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল যার প্রধান আয়াতুল্লাহ খোমেনী তবে এই কর্মসূচীর জন্য সবচেয়ে উচ্চবাচ্য আহমেদিনিজাদেরই। যদি ২০০৫ সালের দিকে আহমেদিনিজাদের সমালোচনা করেছিলেন পরমানু প্রযুক্তির কর্মসূচীকে ব্যাক্তিগত এজেন্ডা হিসেবে ধারন করার জন্য।

২০০৮ সালে আহমেদিনিজাদ পরমানু কর্মসূচি কেন ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ন এবং কি কি কাজে সাহায্য করতে পারে তার উপর আলোকপাত করলে তা জন গনের ব্যাপক সমর্থন পায় এবং বিরোধী দল স হ সবাই এর পক্ষে অবস্হান নেয়। ২০০৯ সালে আমেরিকা, ফ্রান্স আর রাশিয়া জাতিসংঘের কাছে একটা প্রস্তাবনা দেয় যেখানে ইরানের পরমানু কর্মসূচি যেন কারো জন্য ক্ষতিকর না হয় এবং ইরানের জন্য ভালো হয় তা উল্লেখ ছিলো। এর কয়েকদিন পর আহমেদিনিজাদ তার গলার স্বর পাল্টে বলতে থাকেন ইরানের সম্মতি থাকবে জ্বালানী আদান প্রদানের, তার সাথে পাওয়ার প্লান্ট নির্মান এবং তার জন্য সর্বরকম স হায়তার। তবে তার সাথে তিনি এটাও বলেন ইরান তার পরমানু প্রযুক্তি উন্নতকরন থেকে সরে যাবে না। সুত্র একটা ইউটিউব ভিডিও দিচ্ছি।

এই ভিডিওতে বাসিজ কিভাবে হত্যাকান্ডে লিপ্ত হয়। এই ভিডিওতে কিভাবে নেডা সোলতানকে গুলী করে হত্যা করা হয়। ২০০৯ সালে আহমেদিনিজাদের বিজয়ের বিরু্দ্ধে যখন লাখো মানুষ রাস্তায় নামে তখন খোমেনীর পাচাটা বাহিনী বাসিজ খুব সোচ্চার ছিলো। তারা স্নাইপার, পিস্তল, লোহার বাট নিয়ে রাস্তায় নামে। ঠিক এই সময়ে নেদা আঘা সোলতান যখন তার মিউজিক শিক্ষকের সাথে গাড়িতে নামছিলেন তখন তার বুক বরাবর গুলি করে ওখানেই মেরে ফেলা হয়।

মাত্র ২৬ বছর বয়সে মারা যায় মেয়েটি। যে মেয়েটিকে গুলি করেছিলো সে ছিলো সরকারী গুপ্তঘাতক আব্বাস কারগার জাভিদ। ইরান সরকার এই লাশকে সরকারীভাবে দাফন করা তো দূরে থাকা, কোনো মসজিদে জানাযা বাদ কোনো দোয়া মাহফিল বা প্রার্থনা করতে দেয় হয়নি। তার স্বামীকে দেশ ছাড়া করা হয় মাথায় টার্গেট নিয়ে। এভাবে ঐ মিছিলে যারাই মারা গেছে সরকারীভাবে সবাইকে চুপকরে দেয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে ইসরাইলিরাই নাকি এদের হত্যা করেছে।

কতবড় মিথ্যাচার!! চলবে...। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।