যে মুখ নিয়ত পালায়......। ।
রফিক সাহেবের স্ত্রী অনবরত কথা বলে চলেছেন। গড়্গড় করে কথা। কথা বলার সাথে সাথে হাত নাচাচ্ছেন ও সমান তালে।
চোখদুটিকে বড় ছোট করে ঘটনার বিভিন্ন বাঁক উপবাঁক বুঝিয়ে চলেছেন।
রফিক সাহেব স্ত্রীর কথা শোনছেন। তাকে দেখলে মনে হবে মনোযোগ দিয়েই শুনছেন। কিন্তু আসলে ভিতরে ভিতরে তিনি চলে গেছেন আজ থেকে প্রায় চল্লিশ বছর আগে। বৈশাখ মাস।
আকাশে মেঘ নেই। চাচাত ভাই হানিফের সাথ তিনি নৌকায়। নৌকা বিশাল হাওড়ে।
রফিক সাহেবের মনে হল ঘটনাটা স্ত্রী কে বলা যায়। কিন্তু ভদ্রমহিলা বলে চলেছেন, তারপর শরীফের বউরে জ্বীনে ধরল।
খবিশ জ্বিন। ছাড়ার নাম নাই!
রফিক সাহেব শুনতে শুনতে ভিতরে ভিতরে নিজের গল্পটা গুছিয়ে নিতে লাগলেন। অগোছালো গল্প বলে মজা নাই। আগেভাগে গোছানো থাকলে বলতে সুবিধা।
ঘটনাটা অনেকদিন আগের।
এই ঘটনাটা অনেকদিন পর মনে পড়ল। আগে কেন মনে পড়ল না ভেবে কিছুটা আশ্চর্য হন রফিক সাহেব। গুরুত্বপূর্ন ঘটনা। আগে মনে পড়া উচিত ছিল।
চাচাত ভাই হানিফ।
তার বছর দুয়েকের বড়। তিনি ডাকতেন হানিফ ভাই। স্বরুপচন্দ্র বিদ্যালয়ের ফার্স্ট বয়। রফিক সাহেব স্কুলে ছিলেন শেষে র দিকে। এতদিন পর নিজের রোল নাম্বার টাও মনে পড়ে না।
খেলাধূলায় ও তিনি খারাপ ছিলেন। আচ্ছা এসব কী স্ত্রী কে বলা ঠিক হবে? রফিক সাহেব ভাবেন।
তার বউ বলে চলেছেন, শরীফের বউয়ের বাচ্চা হইল। আশাঢ় মাসের পূর্ণিমায়। দুধের মত সাদা এক ছেলে।
রফিক সাহেব স্ত্রীর কথায় আধো মনোযোগ দিয়ে আবার ভাবতে শুরু করলেন। মূল ঘটনা ত্থেকে শুরু করতে হবে। হাওড়ের ঠিক মাঝখানে নৌকা। উপরে আকাশ। আশেপাশে কেউ নেই।
হানিফ বসে পেশাব করছিল। ঠিক তখনি তিনি ধাক্কা দেন। গল্প গুছিয়েই রফিক সাহেবের চোখ চকচক করে উঠে। তার স্ত্রী এখনো বকে যাচ্ছেন। এই গল্প শেষ হলে নিজেরটা শুরু করতে হবে।
দেরী করলে অন্যটা শুরু করে দিতে পারে। সরু চোখে তাকিয়ে চিন্তা করেন রফিক সাহেব।
কিছুক্ষন পর রফিক সাহেবের স্ত্রী গল্প শেষ করলেন। রফিক সাহেব এটার অপেক্ষাতেই ছিলেন। শেষ হতেই তিনি বললেন, দাড়াও! আমারো একটা গল্প আছে! বহুদিন আগের কথা! এই ধরো ত্রিশ পয়ত্রিশ তো হবেই।
তখন সবে ইস্কুলে পড়ি। হাই ইস্কুল। ক্লাস সেভেন। একদিন.......................................
মোবাইল বেজে উঠেছে। রফিক সাহেবের স্ত্রী সায়রা বানুর মোবাইল।
তিনি আনন্দিত কণ্ঠে ফোন রিসিভ করে কথা শুরু করে দিয়েছেন, বাবা কেমন আছস? তর নাকী শরীর খারাপ?
রফিক সাহেবের ছেলে ফোন করেছে। তাদের একটাই ছেলে। আমেরিকায় থাকে। ছেলের কণ্ঠ ফোন থেকে শোনা যাচ্ছে। রফিক সাহেব গল্প বলার উৎসাহ হারিয়ে ফেললেন।
তিনি এখন তার ছেলের সাথে কথা বলার জন্য উদগ্রীব। মনে মনে বললেন, যাক, এ গল্প থাক, আরেকদিনের জন্য।
ছবিঃ
"Café Terrace, Place du Forum, Arles" (1888) - Vincent van Gogh. Post- Impressionism. Oil. Rijksmuseum Kröller-Müller, Otterlo, Netherlands. ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।