আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

হাসিনাকে নিয়ে লেখা বই কিনতে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইকে ব্যবহার

গনজাগরনের মাধ্যেমে পরিবর্তন সম্ভব....মানুষের চিন্তার পরিবর্তন করাটা জরুরি ....বুদ্ধিবৃত্তিক পুনরজাগরনে বিশ্বাসী শেখ হাসিনার প্রচারে লেখা বই কিনতে ব্যবহার করা হচ্ছে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইকে। এ নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে এই বই লিখেছেন ইতিহাস গবেষণা পরিষদের সভাপতি এমএ বার্নিক। বইটির নাম ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পুনরুজ্জীবনের ইতিহাস’। প্রকাশ করেছে আমিন বুক হাউস।

একান্ত দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা এ বইটি কেনার জন্য ডিজিএফআই থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে। শুধু তাই নয়, বইটির মূল্য চারশ’ টাকা হলেও চিঠিতে পাঁচশ’ টাকা করে পরিশোধ করার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অথচ আমিন বুক হাউস থেকে ডিসকাউন্টে বইটি বিক্রি হচ্ছে তিনশ’ টাকায়। সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা থেকে বইটি কেনার চিঠি পাওয়ার পর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে বইটি কেনার জন্য ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বইটি না কিনলে কোনো বিপদে পড়তে হয় কিনা—এ নিয়েও আতঙ্কে আছেন অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক।

প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই সদর) সমন্বয়কারী কর্মকর্তা মোবাশ্বের আহমদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, “বইটি নিম্নস্বাক্ষরকারীর স্বীয় ব্যবস্থায় সকল জেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট প্রেরণ করা হবে। বইটি প্রেরণের আগে জেলা শিক্ষা অফিসার তাঁর অধীনস্থ স্কুল-কলেজ, ইনস্টিটিউশন ও মাদ্রাসাসমূহের চাহিদা নির্ধারণ করে নিম্নস্বাক্ষরকারীকে অবহিত করবেন। চাহিদা নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রত্যেক স্কুল-কলেজ, ইনস্টিটিউশন ও মাদ্রাসার লাইব্রেরী, ডিপার্টমেন্ট বা ফ্যাকাল্টিতে ভিন্ন ভিন্নভাবে অন্তত এক কপি করে এবং কর্মকর্তা ও শিক্ষকগণ অন্ততঃ একটি কপি করে স্বউদ্যোগে বইটি সংগ্রহে রাখার বিষয়টি বিবেচনা করতে অনুরোধ করা হলো। চাহিদা মূল্যায়ন করে যত কপি বই প্রয়োজন হবে, তত কপি বইয়ের অগ্রিম মূল্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কর্তৃক জেলা শিক্ষা অফিসে জমা করা যেতে পারে। জেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট হতে চাহিদা পাওয়ার পর এসএ পরিবহনের মাধ্যমে বই প্রেরণ করা হবে।

জেলা শিক্ষা অফিসার বইয়ের চালান পাওয়া মাত্র এসএ পরিবহনের মাধ্যমে নিম্নস্বাক্ষরকারীর নিকট সমুদয় অর্থ প্রেরণ করবেন। উল্লেখ্য, প্রতিকপি বইয়ের মূল্য ৫০০.০০ (পাঁচশত) টাকা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আলোচ্য জীবনীগ্রন্থটি অধিকাংশ মানুষ বিশেষভাবে ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে বিশেষভাবে তুলে ধরার জন্য এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিধায় এ ব্যাপারে আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতা ও সুবিবেচনা কামনা করা হলো। ” ডিজিএফআই সদর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে এ চিঠিটি পাঠানো হয়েছে জেলা শিক্ষা অফিসারদের কাছে।

চিঠিটি পেয়ে জেলা শিক্ষা অফিসাররা উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের কাছে বইটি সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। একইভাবে উপজেলা শিক্ষা অফিসার চিঠি পাঠান সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। চিঠি সম্পর্কে ডিজিএফআই সদর দফতরের সমন্বয়কারী কর্মকর্তা মোবাশ্বের আহমদকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি চিঠি তার স্বাক্ষরে পাঠানোর কথা স্বীকার করেন। তবে ডিজিএফআই এ ধরনের চিঠি পাঠাতে পারে কিনা—এ প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গিয়ে তিনি শুধু বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আলোচ্য জীবনীগ্রন্থ ছাত্র-শিক্ষকদের মাঝে তুলে ধরার জন্যই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। চিঠিটির শুরুতেই বরাত দেয়া হয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশিঅ) স্মারক নং ওএম-৫৭-জিএ/২০১১/২৭৪৫২/৪০০, তারিখ ১১-৯-২০১২-এর।

এ বিষয়ে জানতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর নোমান-উর-রশীদকে ফোন করলে তিনি জানান, এ ধরনের কোনো চিঠি তিনি দিয়েছেন কিনা, সেটি মনে পড়ছে না। আগামীকাল যোগাযোগ করলে তিনি নিশ্চিত হয়ে বলতে পারবেন। বইটির মুখবন্ধে বলা হয়, “আওয়ামী লীগের অত্যন্ত দুঃসময়ে, ১৯৮১ সালে, সঙ্কটাপন্ন অবস্থা থেকে দলটিকে রক্ষার জন্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনাকে দলের কয়েকজন সচেতন নেতা দলের হাল ধরার জন্য অনুরোধ করেন। তিনি তখন স্বেচ্ছায় ভারতে অবস্থান করছিলেন। তাঁর অনুপস্থিতিতেই তাঁকে দলের সভানেত্রী নির্বাচন করা হয়।

দলের প্রয়োজনে এবং দেশের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মাত্র ৩৩ বছর বয়সে শেখ হাসিনা দলের হাল ধরেন এবং স্বেচ্ছানির্বাসন ত্যাগ করে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। ১৯৮১ সাল থেকে তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা প্রায় ধ্বংসস্তূপ থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ধীরে ধীরে পুনরুজ্জীবিত করে তোলেন। শেখ হাসিনাকে কাছে পেয়ে তাঁরই নেতৃত্বে দলের নেতা-কর্মীরা জাতির জনককে হারানোর বেদনা ভুলে নতুন চেতনায় জাগরিত হয়ে ওঠেন। ১৯৮১ সাল থেকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শুরু হয় আওয়ামী লীগের নবযাত্রার আরেক ইতিহাস। শেখ হাসিনা আজ দিনবদলের নেত্রী।

তিনি আজ জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে জাতি তাঁকে বরণ করে নিয়েছে। জাতির সামনে ভিশন-২০২১, ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে আজকের অবস্থানে আনার জন্য দলনেত্রী শেখ হাসিনার যে অবদান, তা তেমন একটা লেখা হয়নি। বিশেষভাবে ১৯৮১ সালে দলের দায়িত্বভার গ্রহণ করা থেকে ১৯৮৬ সালে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা পর্যন্ত দীর্ঘ ৫ বছরকাল ছিল নির্জীব আওয়ামী লীগের পুনরুজ্জীবনের সময়।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ আবার যে শক্তিশালী অবস্থানের দিকে এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে, সে অবস্থা ও আবহ তখনই সৃষ্টি হয়েছিল। গবেষকের মন নিয়ে সমকালীন তথ্যাদি সন্নিবেশিত করে আমার এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পুনরুজ্জীবনের ইতিহাস-১৯৮১-১৯৮৬’। বইটি পাঠ করে ইতিহাসসচেতন লোকমাত্রই উপকৃত হবেন। ” বইটি উত্সর্গ করা হয় শেখ মুজিবুর রহমানকে। উত্সর্গপত্রে বলা হয়—‘আমার মনমানসের গভীর শ্রদ্ধাভাজন এদেশের অবিস্মরণীয় নেতা যিনি বাঙ্গালির জন্য আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছেন, বাংলা ভাষা ও বাঙ্গালিকে চিরমর্যাদামণ্ডিত করেছেন, সাদাসিধেভাবে জনগণের কাতারে থেকে গণমানুষের অবিসংবাদিত নেতা হয়েছেন, জীবনে কখনো মাথা নত করেননি, ক্ষমতার শীর্ষে উঠেও সরলতাকে বরণ করেছেন, সরলতার জন্য জীবন দিয়েছেন।

’ বইটির একেবারে শেষ প্রান্তে এসে লেখা হয়, “জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্যান্টনমেন্ট থেকে বিপথগামী রাজনীতির ধারা চালু করে মূলধারার রাজনীতিতে যে আঘাত হেনেছিলেন, ১৯৮১ সাল থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগে পুনরুজ্জীবন ও পুনর্জাগরণের ফলে সেই ধারা কুপোকাত হতে শুরু করে। জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্যান্টনমেন্ট কেন্দ্রিক রাজনীতিতে নেপথ্য শক্তিকে ব্যবহার করে মূলধারার রাজনীতিকে ধ্বংস করার জন্য একটা অলিখিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিলেন। তারাই আওয়ামী লীগের প্রতি জনমনে এক ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও সেই একই ধরনের প্রভাব বিস্তার করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতার বাইরে রাখার চেষ্টা করেছেন। সামরিক বাহিনীর পরিমণ্ডলে বসবাস করে বেগম খালেদা জিয়া সামরিক বাহিনীর নেপথ্য সাপোর্টের মধ্যে আছেন—এমন ভাব নিয়ে অর্থাত্ ক্যান্টনমেন্টের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে মূলধারার রাজনীতিকে দমিয়ে রাখার কৌশল নিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সামরিক বলয়ের বাইরে গণমানুষের কাতারে এসেছেন রাজনীতির প্রয়োজনে, কিন্তু তারা স্বাভাবিকভাবে সামরিক বৃত্ত মুক্ত হতে পারেননি।

১৯৮৬ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সামরিক বলয়ের চাপ এবং স্বার্থান্বেষী আন্তর্জাতিক চক্রান্ত অতিক্রম করেই শেখ হাসিনা আপন যোগ্যতা বলে মূলধারার রাজনীতিকে ক্ষমতায় আনতে সক্ষম হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নেপথ্যশক্তির সকল কারসাজি ধূলিসাত্ হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের মতো সামরিক বলয়েও শেখ হাসিনা পরিপূর্ণ আস্থাভাজন নেত্রীরূপে পরিগ্রহ করেন। শেখ হাসিনাকে বন্ধুর পথ অতিক্রম করে এ পর্যন্ত আসার প্রস্তুতি ও পুনরুজ্জীবন ঘটেছে ১৯৮১ সাল থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনা বিরোধীদলীয় নেত্রীর আসনে বসার পর ধাপে ধাপে একটি একটি করে বাধা অতিক্রম করে আওয়ামী লীগকে নিয়ে তিনি আজকের অবস্থানে এসে পৌঁছেছেন।

২০০৯ সালে দিনবদলের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট পুরোপুরি পরিবর্তনের ধারা সূচিত হয়। আওয়ামী লীগ বলয়ের বাইরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ পরিপূর্ণ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে নতুন এক প্রত্যাশা নিয়ে শেখ হাসিনা হয়ে ওঠেন ‘দিনবদলের নেত্রী’। ” প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই সদর) সমন্বয়কারী কর্মকর্তা মোবাশ্বের আহমদের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আলোচ্য জীবনীগ্রন্থটি ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে বিশেষভাবে তুলে ধরার জন্য তিনি এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বেসরকারি উদ্যোগে প্রকাশিত কোনো বই কেনার জন্য ডিজিএফআই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিতে পারে কিনা এবং তিনশ’ টাকার বই পাঁচশ’ টাকায় কেনার জন্য বলা যৌক্তিক হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

আমার দেশ-এর পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বীর প্রতীকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রীর খেদমত কিংবা প্রচার করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় রয়েছে। আওয়ামী লীগ প্রধানের খেদমত কিংবা প্রচার করার জন্য আওয়ামী লীগের উপযুক্ত প্রচার সেল রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের এ কাজে জড়িত হওয়া সমীচীন নয় বলে আমি মনে করি। হাসিনাকে নিয়ে লেখা বই কিনতে ডিজিএফআইকে ব্যবহার  ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে ১৩ বার

এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.