তেরোর ব্লগ মানেই হাবিজাবি !! গল্পটা সেই সময়ের যখনকার সময় এখনকার থেকে একটু আলাদা। একটু অদ্ভুত। একটু ঘোলাটে। তখন প্রকৃতিদেবী এখনকার মতো গম্ভীর ছিলেন না। তখন তিনি খেয়ালের বশে নানান অদ্ভূত ঘটনা ঘটাতেন।
সেই সময়ে কোনো বনের এক প্রান্তে ছোট্ট একটা শহর । সেই শহরের ও এক প্রান্তে ছোট্ট একটা বাড়ি। বেশ ছিমছাম। তিন জন মাত্র সদস্য। বাড়ির ছোট সদস্যের নাম ভায়োলেট।
সে যেদিন জন্মায় সেদিন ই তাদের গাছে প্রথম ভায়োলেট ফুল ফুটে । বাবা তাই আদর করে নাম রাখে ভায়োলেট। তবে কাছের মানুষরা তাকে ডাকে ভায়োলা। তার এই বয়সে চোখে মোটা কাচের চশমা। স্কুল বেশ দূরে বলে এখনো তার বাবা মা তাকে স্কুলে পাঠাচ্ছে না।
বাসাতেই যতদূর পারছে সবাই পড়াচ্ছে। অবশ্য এর পিছনে আরেকটি কারন ও আছে। বাড়ির একটু দূরেই বিশাল ঘন বন। প্রায়ই সেই বন নিয়ে নানারকম ভূতুড়ে গুজব শুনা যায়। নদীতীরে নানান অদ্ভুত কথাবার্তা প্রায়ই তারা এখানে সেখানে এর ওর কাছে শুনে ।
সেই কারনেই আসলে তারা মেয়েকে ছাড়তে সাহস পাচ্ছে না। একমাত্র মেয়ে বলে কথা। আশেপাশের বাড়ি গুলো ও বেশ দূরে। ভায়োলার কোনো বন্ধু ছিলো না। তবে বন্ধু ছাড়া তার দিন যে খুব একটা খারাপ যেতো না কিন্তু না।
যে বাচ্চা গুলো ছোটবেলা প্রচন্ড একা থাকে তারা নিজেরাই নিজেদের জন্য আলাদা একটা পৃথিবী সৃষ্টি করে ফেলে। সেও ব্যাতিক্রম না । তার দিন কাটে মুখের উপর বই গুঁজে রেখে নয়তো বাসার সামনের বারান্দাতে খেলা করে নয়তো বাসার পাশে বড় বড় গাছগুলোতে বাঁধা দোলনাতে ঝুলে ঝুলে।
তবে আজকাল সে আরেকটা কাজ বেশ করছে। তা হলো পাশের বড় পাছটা বেয়ে বেয়ে অনেক উপরে উঠে যায়।
সেখানে উঠে চশমার কাঁচগুলো ভালো করে পরিষ্কার করে সে চারপাশ দেখে। অনেক দূর না যেতে পারলেও ঘরে বসে দূর দূরান্তের জিনিস দেখতে পারায় সে আজকাল বেশ খুশি। সেখান থেকে আবিষ্কার করলো বাড়ির কাছেই একটা ছোট নদী আছে। বেশি দূর না। নদীটা বলতে গেলে বনের পাশেই।
ভায়োলা ভাবতে থাকে একদিন নদীপারে অবশ্যই যাবে। কিন্তু বললেই তো হয় না। বাবা-মা তো তাকে বের হতে দেবে না।
একদিন ভর দুপুর।
কুকুরটাও পর্যন্ত ঘুমোচ্ছে।
ভায়োলা ধীরে ধীরে খালিপায়ে ঘর থেকে বের হয়ে গেলো। পকেটে করে নিয়ে গেলো দুটো রুটি। মাথার উপর সূর্য। সে হাঁটছে তো হাঁটছেই। এর আগে এতো হাঁটে নি তাই বেশ কষ্ট হচ্ছে।
যত কাছে মনে হয়েছিলো আসলে এতো কাছেও না। তার হিসেবে একটু গোলমাল হয়েছে হয়তো । অবশেষে দূর থেকে চিকচিকে নদীর কিছু অংশ দেখা গেলো। সূর্য আস্তে আস্তে হেলে যাচ্ছে। ও নদীর পাশে একটা পাথরের উপর বসে আকাশ দেখতে লাগলো।
একপাশে বিশাল বিশাল বুনো ঘাস। একটু দূর থেকেই বন শুরু হয়েছে। সে পাশের লম্বা ঘাসের ডগায় ফড়িং টা মন দিয়ে দেখতে লাগলো। হঠাত টের পেলো তার বেশ খিদে পেয়েছে। পকেট থেকে রুটি বের করে খেতে খেতে কি মনে করে পানির দিকে তাঁকালো সে।
তাঁকিয়ে হকচকিয়ে গেলো। দেখলো একটা সোনালী মাছ খুব মনোযোগ দিয়ে তাকে দেখছে। নদীর একদম পাড়ে এসে গেছে ওটা । ভায়োলা ওর দিকে তাঁকানোতে সেও হালকা হকচকিয়ে গেলো।
“এই এই, তুমি এখানে থাকো তাই না?”
মাছটা মনে হয় মাথা নাড়ালো।
“তোমার কি খিদা পেয়েছে? রুটি খাবে? আমার মা অনেক মজার রুটি বানাতে পারে”।
ভায়োলা পকেট থেকে আরেকটা রুটি বের করে ছিড়ে ছিড়ে পানিতে ফেলতে থাকে । মাছটা টুপ টুপ করে ঠুকড়ে ঠুকড়ে খেতে থাকে।
“তোমার অনেক মজা তাই না? তুমি কত কিছু দেখো। আমি কিছু দেখতে পারি না।
বলে বাইরের সবাই খারাপ। আমার ভালো লাগে না কিচ্ছু!”
-“আমারো ভালো লাগে না। আমার বাড়ি একদম নদীর গভীরে। আজ আমি পালিয়ে ঘুরতে এসেছি”।
একটা মাছ কথা বলছে যে কারো কাছেই অবাক এমনকি ভুতূড়ে ব্যাপার বটে।
কিন্তু ভায়োলা তা খুব স্বাভাবিক ভাবেই নিলো।
“বাহ আমিও তো পালিয়ে আসছি! কি মিল আমাদের তাই না?”
-“হু! আমাকে বলে বেশি উপরে যেতে না। আমাকে নিয়ে যাবে মাটির প্রাণীরা। আচ্ছা মাটির সবাই কি এমন? তুমি কি আমাকে নিয়ে যাবা?”
“নিয়ে গেলে কি তুমি মরে যাবা?”
-“হু!”
“তাহলে তোমাকে নেবো কেনো?!”
-“ অনেক ধন্যবাদ রুটির জন্য। অনেক মজার”।
তবে বেশিক্ষন গল্প করতে পারলো না। ওর বাবা মা পিছন থেকে ডাকতে থাকে। ভায়োলা যেতে চায় না। বলে আরেকটু থাকি। আরেকটু থাকি।
কিন্তু কেউ ওর কথা শুনতে চায় না। তাকে জোর করে টানতে টানতে নিয়ে যায়।
ভায়োলা মনে মনে বলে, আমাদের আবার দেখা হবে।
মাছটিও মাথা নাড়ে।
প্রকৃতিদেবী তাদের দেখে মুচকি হাসে।
.
আকাশে মেঘ উড়ে যায়,বৃষ্টি হয়, রংধনু উঠে, রোদ আসে, সকাল হয়, রাত হয়, তরতরিয়ে ছোট গাছগুলো বড় হয়ে যায় কেউ টের ও পায় না,দিন যায়,মাস যায়,বছর গুলো ও হুট করে চলে যেতে থাকে। ভায়োলা ও বড় হতে থাকে। তার চোখে আরো মোটা কাঁচের চশমা উঠে । অবশ্য এতে ওর তেমন কোনো চিন্তা নেই। এখন সে ঘর থেকে বের হতে পারে।
স্কুলের শেষ বছরে এখন সে। অনেক দূরের স্কুলে সে এখন একলা যায় আসে। অনেক বন্ধু বান্ধব এখন তার। ছোটবেলার বন্ধুহীন একাকিত্বের অধ্যায় শেষ হয়ে গিয়েছে বহু আগে। তবুও হঠাত হঠাত ঘুমোনোর আগে ভায়োলার ও মনে হয় কেউ একজন তার জন্য খুব অপেক্ষা করছে।
ভায়োলা ও তার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। কবে দেখা হবে? ছোটবেলার সেই মাছের কথা নানান কথার ভীড়ে সে ভুলেই গেছে।
.
একদিন ভায়োলার বন্ধুরা বলে, “ভায়োলা তোর বলে অনেক সাহস! যা দেখি নদীপাড়ে ! দেখি তোর কেমন সাহস!”
“কোনো ব্যাপার ই না!”
“আচ্ছা আজই তাহলে যাবি!”
“আচ্ছা গেলে আমাকে কি দিবি?”
“আমার আমার কুকুরের সদ্য ছানাটা তাহলে তোর!”
“ঠিক তো?”
“হ্যা! তবে প্রমান হিসেবে সেখান থেকে এক গোছা লম্বা ঘাস এবং দুটো ঘাসফুল নিয়ে আসতে হবে। ”
“দেখে নিস তাহলে! কোনো ব্যাপার ই না। ”
এবার ওর বন্ধুরা ভয় পায়।
তুই কি আসলে যাবি? তোর ভয় করছে না?
ভায়োলা শূণ্যে হাত দোলাতে থাকে।
স্কুল থেকে তাড়াতাড়ি বের হয়ে দুপকেট ভরা বাদাম নিয়ে ভায়োলা এগোতে থাকে।
বেলা পড়ে আসছে। নদীর পাড়ে গিয়েই প্রথমে এক গোছা ঘাস তুলে নেয়। এরপর ঘাসফুল দুটো।
কাজের কাজ আগে। এরপর পাথরের উপর বসে। ভাবে একটু জিরিয়ে নেয়াই যায়। বাদাম চিবুতে থাকে। চারদিকে ঠান্ডা বাতাস।
শীত আসছে। ভায়োলা ভাবে চাদর টা নিয়ে আসলেই পারতো।
দূরের আকাশের দিকে এক দৃষ্টিতে তাঁকিয়ে থাকে সে। হঠাত পানিতে কিছুর শব্দ হয়। ফিরে তাঁকায়।
দেখে একটা মাছ পাড়ের খুব কাছে। কিছু একটা মনে পড়তে চায়... গভীর মায়া ভরা দৃষ্টি নিয়ে মাছটা তাঁকিয়ে আছে। ভায়োলার কেমন জানি ভয় লাগা শুরু হয় ......
-“অনেকদিন পর তাই না?”
ভায়োলা তার চোখ, কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না। মাছটা কি কথা বললো? নাকি সে ভুল শুনছে।
-“তুমি কি আমাকে ভুলে গেলা?”
নাহ কথাই তো বলছে।
আচ্ছা মাছটাকে এতো চেনা লাগছে কেনো?
“কে কে তুমি? প্লীজ আমাকে কিছু করো না”।
-“ হেই হেই ভয় পেয়ো না। “
ভায়োলা একহাতে ঘাসের গোছা, আরেক হাতে ফুল নিয়ে ছুটতে থাকে। যত জোরে সম্ভব।
প্রকৃতিদেবী আবার মুচকি হাসে।
বড় রাস্তায় ওঠার পর সে স্বাভাবিক হয়। তখন ভাবে, "আরে ধুর কি যে সব শুনে সে। বেশি কল্পনা করতে করতে এমন হয়েছে। আহ শান্তি, এখন আমার নতুন কুকুরছানা। কি মজা।
"
এই ভাবতে ভাবতে বাড়ির পথ ধরে।
সেইরাতে ভায়োলা এক অদ্ভুত স্বপ্ন দেখে। দেখে ছোট ভায়োলাকে ওর বাবা মা জোর করে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। ও কাঁদতে থাকে, আমি যাবো না। আমি যাবো না।
আমি ওর কাছ থেকে যাবো না।
একটা বিষন্ন মাছ ওদের চলে যাওয়া দেখতে থাকে।
তখনি ওর ঘুম ভেঙ্গে যায়। ওর সব মনে পড়ে। ঘুম ভেঙ্গে দেখে চারদিকে আলো হয়ে আসছে।
একটু পর ই সূর্য উঠবে। সে খুব আস্তে দরজা খুলে বেরিয়ে পড়ে। বের হয়েই ছুটতে থাকে। ওর প্রচন্ড কান্না পাচ্ছে।
নদীর পারে যখন আসে তখন সবে সূর্য উঠেছে ।
সে ঘাসের উপর বসে পড়ে।
নদীর কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বলতে থাকে, "তুমি কই?”
কেউ কথা বলে না।
ভায়োলা কাঁদতে থাকে।
একটু পর পানির শব্দে ফিরে তাঁকায়। মাছটা এসেছে।
ভায়োলা চোখ মুছতে মুছতে বলে, “ আমার সব মনে পড়েছে। তুমি কি কষ্ট পেয়েছিলে?”।
-“হু, আমি অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম। কিন্তু জানতাম তুমি আসবেই”
“তাই?”
-“হ্যা!”
“এতোদিন কেমন ছিলে?”
-“ ভালোই। তোমার কথা প্রতিদিন মনে পড়তো।
তুমি আগের থেকেও সুন্দর হয়েছো দেখি!”
“ হা হা হা তাই? কই? আমাকে কেউ সুন্দর বলে না। আমি অন্ধ হয়ে যাচ্ছি বুঝলে। জিম বলে আমি কানি”।
-“ জিম কে?”
“আমার বন্ধু!”
-“তোমার এখন অনেক বন্ধু তাই না?”
“হু আছে কিছু! তোমার বন্ধু নেই?”
-“ কম। তোমার কথা খুব মনে পড়তো”।
“ আমার খুব কষ্ট হচ্ছে আমি তোমাকে চিনতে পারিনি বলে । আচ্ছা তুমি কি পানির দেশের রাজপুত্র!”
-“ হা হা হা না তো। আমি খুব সাধারন মাছ। আমি কেউ না। কেনো?”
“ না গল্পে পড়তাম এভাবে রাজপুত্র দের সাথে দেখা হয় তাই।
তুমি কি মন খারাপ করলে?”
-“ তোমাদের মাটির দেশের গল্পগুলো দেখি খুব অদ্ভুত!”
“যাই হোক, তুমি পানির দেশের রাজপুত্রই আমার কাছে। গল্প শুনবে? আমি অনেক গল্প পারি”।
-“হু!”
ভায়োলা অনেক গল্প বলে। মাছটা শুনতে থাকে। মাছটাও মাঝে মাঝে গল্প বলে।
ভায়োলা প্রতিদিন স্কুলের পর নদীপাড়ে আসে। বাসায় বলে যে নতুন নাটকের রিহার্সেলের জন্য দেরী হচ্ছে।
কথা বাড়তেই থাকে।
প্রকৃতিদেবী প্রায়ই মুচকি হাসে তাদের দেখে।
.
ভায়োলা বলে, “ তোমার সাথে কথা না বলতে পারলে আমার খুব খারাপ লাগে!”
-“ হুম আমারো!”
“ তুমি সবসময় এমন বিষন্ন থাকো কেনো।
আমার খুব কষ্ট হয়!”
-“ মাছের কষ্টে মাটির মানুষ কষ্ট পায়?”
“ হু পায়! অনেক পায়!”
-“ আচ্ছা আমাদের কি হবে?”
“ কি হবে মানে?”
-“ আমরা কি সারা জীবন এভাবেই থাকবো। তুমি কি প্রতিদিন এভাবে আসতে পারবে?”
“ যতদিন পারি আসবো”।
-“ তোমাকে তো জিম পছন্দ করে। একদিন তোমাদের বিয়ে হয়ে যাবে। তুমি আর জিম মাঝে মাঝে নদীপাড়ে আসবে।
হাতে হাত রেখে বসে থাকবে। আমাকে কি তোমার মনে থাকবে?”
“ জিম কে আমি বিয়ে করবো কে বললো?”
-“ কেউ না। আমি জানি। তুমি তখন জিমের সাথে গল্প করবে। আমার খুব কষ্ট হবে”।
“ আমার কি তোমাকে ছাড়া কষ্ট হবে না?”
-“ জানিনা। আমি আজকে যাই ভায়োলা!”
মাছটা চলে যায়। ভায়োলা কাঁদতে থাকে।
বিড় বিড় করে বলতে থাকে, “ আমি কি বুঝি না? সব বুঝি”।
সূর্য ডুবে যেতে থাকে।
দু একটা তারা আকাশে দেখা দেয়। ভায়োলা চোখ মুছতে মুছতে বাড়ি ফেরে।
প্রকৃতিদেবী এবারো হাসলো নাকি বুঝা গেলো না !!
ঘরে ঢুকতে না ঢুকতেই ডান গালটাতে ব্যাথা অনুভব করে। হ্যা, বাবা ওকে মেরেছে। তার নদীতীরে যাওয়ার খবর বাবা জেনে গেছে।
নিশ্চয়ই এটা জিম করেছে। তার বাবা বলতে থাকে যে, “তুমি এতো সাহস কি করে পেলে? আর যাতে কোনোদিন এমন না হয়”।
.
-“গত তিন দিন আসো নি কেনো?”
“ এমনেই একটু অসুস্থ ছিলাম!”
-“ভায়োলা তুমি মিথ্যে বলছো কেনো?”
“ কই?”
-“মন খারাপ? আমাকে মিথ্যে বলো কেনো? আমি তো সব বুঝি!”
“ রাজপুত্র আমি সব ছেড়ে তোমার দেশে চলে যাবো। আমাকে নেবে না?”
-“ কি বলছো তুমি?”
“নেবে কিনা বলো? বুদ্ধি দেও কি করবো! উপায় নেই?”
-“হয়তো আছে। আমাকে কিছুদিন সময় দেও।
আমাদের পাতাল দেশে এক জাদুকর জ্ঞানী মাছ আছে। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করবো। তুমি সাতদিন পর এসো”।
“ঠিক আছে! যাই তাহলে!”
.
আজকে মাছটা মহা খুশী। জাদুকর বলেছে উপায় আছে।
এক জাতের শ্যাওলা আছে তা ভায়োলা সূর্যাস্তের সময় খেলেই সে সবসময়ের জন্য চলে আসতে পারবে তার মতো হয়ে। শ্যাওলা টাও জাদুকর তাকে দিয়েছে।
শ্যাওলাটা মুখে নিয়ে সে দ্রুত সাতড়াতে থাকে। ভায়োলা অনেক খুশী হবে। ওকে কোনোদিন “ভালোবাসি” বলা হয় নি।
আজ তাও বলে দেবে। কিন্তু আনন্দ বেশিক্ষন থাকলো না। বিশাল এক জালে সে আঁটকা পড়ে যায়। সমস্ত শক্তি দিয়ে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে থাকে। কিন্তু পারে না।
জালটা পানি থেকে উপরে উঠে আসে। ওর দম বন্ধ হয়ে যেতে থাকে। শুধু ভায়োলার কথা মনে পড়তে থাকে তার। ওকে জাল থেকে ছাড়িয়ে দূরে মাটিতে ছুড়ে মারে জিম।
হ্যা জিম !! জিম সব জেনে গিয়েছিলো।
ভায়োলা ঠিকসময়ে এসে বসে থাকে। কেউ আর আসে না। অপেক্ষা করতে থাকে। করতেই থাকে।
পরের দিন ও আসে।
সেদিন ও কেউ আসে না।
একদিন ও বুঝে যায় তার রাজপুত্র আর আসবে না। সে কাঁদতে থাকে। অনেক কাঁদে । ওর কান্না দেখে বাতাস কাঁদে, মেঘ কাঁদে, সূর্য ও মুখ ভার করে মেঘে মুখ লুকায়, আকাশে আর রংধনু উঠে না ।
সময় ঠিক ই তরতরিয়ে চলে যায় কিন্তু ভায়োলা কাঁদতেই থাকে। কাঁদতে কাঁদতে চোখের দৃষ্টি আরো কমে যেতে থাকে, নদীর পানি চোখের জলে নোনা হতে থাকে কিন্তু তাও কান্না থামে না।
একদিন প্রকৃতিদেবী আর পারলেন না। নীচে নেমে আসলেন।
.
ভায়োলা আজো কাঁদছে।
সূর্য হয়তো ডুববে একটু পর। এক যুবক ভায়োলার পাশে এসে দাঁড়ায়। ভায়োলা ঘোলা দৃষ্টিতে ওর দিকে তাঁকায়।
যুবক মৃদু হেসে হাত বাড়িয়ে বলে, “তুমি আমার দেশে যেতে পারো নি তো কি হয়েছে দেখো প্রকৃতিদেবী আমাকে তোমার দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে!”
ভায়োলা চোখ মুছে তাঁকায়। সেই মায়াভরা দৃষ্টি সে পৃথিবীর সবার মাঝ থেকেও চিনে নিতে পারবে।
কাঁপা কাঁপা হাতে যুবকের হাত ধরে সে। হাতে হাত ধরে সূর্যাস্ত দেখতে থাকে তারা। সূর্য হাসতে হাসতে অস্ত যায়। মন খারাপ মেঘগুলো হেসে ফেলে। বাতাস আনন্দে জোরে জোরে বইতে থাকে।
প্রকৃতিদেবী আবারো হাসে। ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।