আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

একটি নিছক দিবাস্বপ্ন

লিখে খাই, সবার ভাল চাই হ্যাঁলো, মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা, আমি প্রধানমন্ত্রী বলছি। ঈদ মোবারক। কেমন আছেন আপনি? আসসালামু আলাইকুম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আপনাকেও ঈদ মোবারক। আমি ভাল।

আপনার শরীর ভাল তো? কিভাবে ভাল থাকে বলুন? এই যে তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে আমার সরকারকে গলদঘর্ম করে ছাড়ছেন আপনারা। আমি কত করে বললাম সংসদে আসুন। আপনাদের প্রস্তাব দিন। তা না করে হরতাল, ভাঙচুর কত কি করছেন। এই তো সেদিন লন্ডনে বসে নতুন প্রস্তাব দিলাম।

তা-ও প্রত্যাখ্যান করলেন। আসলে কি করতে চাইছেন আপনারা? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার এ কথার রেশ ধরেই বলছি, আমরা কি করতে চাইছি না বলে, আপনারা কি করতে চাইছেন? এ প্রশ্নও তো আমি করতে পারি। কিন্তু আমি তা করবো না। আজ ঈদের দিন। দেশবাসীর মঙ্গল কামনায় কিছুক্ষণ আগে নামাজ পড়ে দোয়া করেছি।

নিশ্চয়ই আপনিও দেশবাসীর জন্য দোয়া করেছেন? আমি, আপনি সবাই দেশকে ভালবাসি। দেশের জন্যই আমরা। চলুন প্রধানমন্ত্রী, দেশের জনগণের কথা চিন্তা করে আমরা একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাই। যাতে দেশের মঙ্গল হয়। আমাদের জন্য সবাই দোয়া করে।

মাননীয় বিরোধী দলীয় নেত্রী, আপনি ঠিকই বলেছেন, আমিও এতে একমত। তবে এজন্য তো একসঙ্গে বসতে হবে। অর্থাৎ আলোচনায় বসতে হবে। আসুন আমরা আলোচনায় বসে সব ঠিক করে নিই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার প্রস্তাবে আমরা আলোচনায় রাজি।

আসুন দেরি না করে আজই আলোচনায় বসি। যে কোন জায়গায় এ নিয়ে আমি বসতে রাজি। ধন্যবাদ বিরোধীদলীয় নেত্রী। তবে আমি এখনই আপনার বাসায় আসছি। খোদা হাফেজ।

গুলশানে বিরোধী নেত্রীর বাড়ির সামনে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা। এরই মধ্যে সাইরেন বাজাতে বাজাতে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির বহর প্রবেশ করেছে বিরোধী নেত্রীর বাড়ির ভেতর। এগিয়ে এলেন বিরোধীদলীয় নেত্রী। গাড়ি থেকে প্রধানমন্ত্রী হাসিমুখে নামলেন। একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরলেন।

চারদিকে হাততালি। হঠাৎ বিকট শব্দ। জানালা দিয়ে বিড়াল প্রবেশ করেছে ঘরে। জানালার পাশে রাখা আচারের বৈয়ম নিয়ে একেবারে ফোরে। হকচকিয়ে ওঠি আমি।

ঘুম ভেঙে যায়। বুক ধড়ফড় করছে। ঘড়িতে তখন বেলা ১২টা। মনটা ভেঙে গেল। এতক্ষণ তাহলে স্বপ্ন দেখছিলাম।

আচ্ছা এ স্বপ্ন কি পূরণ হবে? দাদা বললেন, দিবাস্বপ্ন কখনও পূরণ হয় না। মনটা খারাপ হয়ে যায় আমার। কেন যে অসময়ে বিড়াল এলো? দুই নেত্রীকে এমনভাবে দেখতে উদগ্রীব দেশবাসী। দলমত নির্বিশেষে সবাই চাইছেন দুই নেত্রী একসঙ্গে বসুক। কথা বলুক।

আলোচনায় সমস্যার সমাধান বের করুক। কিন্তু দেশবাসীর এ চাওয়া কি পূরণ করবেন নেত্রীরা? সমঝোতা, একতা আর ঐকমত্যে যে কত গভীর মজা তা এ সুধা পান না করলে কেউ বুঝতে পারেন না। গ্রামের এক লোক বিরাট সম্পদশালী। জায়গা-জমির অভাব নেই। গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু কোন কিছুরই অভাব নেই।

তবে লোকটি ছিল কিপটা। জীবনে কোনদিন কিছু কিনে খায়নি। মিষ্টি তো দূরের কথা। জীবনের শেষ বেলা। ভীষণ অসুস্থ।

এ সময়ে তার মিষ্টি খেতে সাধ জাগে। ছেলেকে ডেকে বলে, বাবারে আমার মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করেছে। ছেলে ছোটে মিষ্টি আনতে। বাবা মৃত্যুশয্যায়। এ সময়ে যদি মিষ্টি না খাইয়ে দিই তাহলে সারাজীবন বিষয়টি কষ্ট দেবে।

ছেলে মিষ্টি এনে দেয় বাবাকে। বাবা সাধ মিটিয়ে মিষ্টি খায়। বলে, আগে যদি জানতাম মিষ্টি এত মিষ্টি তাহলে জায়গাজমি না কিনে মিষ্টি কিনেই খেতাম। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.