আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

নিজামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ ৫ অগাস্ট ও কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সাক্ষীর জেরা ২৫ জুলাই

বাংলা আমার দেশ মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর দিন পিছিয়ে আগামী ৫ অগাস্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। রবিবার এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর আগে ১৬ জুলাই বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ নিজামীর বিরুদ্ধে ৫১ পৃষ্ঠার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু ও প্রসিকিউটর আলতাফ হোসেন। সূচনা বক্তব্যে বলা হয়, নিজামী নিখিল পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি রাজাকার ও আলবদর বাহিনীর কমান্ডার হন।

১৯৭১ সালে বিভিন্ন অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী বিবৃতি দেন তিনি। মতিউর রহমান নিজামীর দেওয়া বিবৃতিগুলো বিভিন্ন্‌ভাবে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের উস্কানি দিয়েছিল। এসব উস্কানি থেকেও নানা রকম হত্যাকাণ্ড, লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় মতিউর রহমান নিজামীসহ জামায়াতের শীর্ষ কয়েক নেতাকে ২০১০ সালের ২৯ জুন গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ওই বছরের ২ আগস্ট দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী, আলী আহসান মুজাহিদসহ অন্য জামায়াত নেতাদের সঙ্গে নিজামীকেও মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের প্রথম সাক্ষী হামিদুল হকের জেরা শেষ করে আগামী ২৫ জুলাই দ্বিতীয় সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের দিন ধার্য করেছে ট্রাইব্যুনাল-২। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী হামিদুল হকের জেরা সম্পন্ন হয়। আসামীপক্ষের আইনজীবী কফিল উদ্দিন চৌধুরী চতুর্থ দিনের মতো তাকে (হামিদুল হক) জেরা করেন। কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের প্রথম সাক্ষী ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজের সাবেক ভিপি বীরমুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক। আসামী কামারুজ্জামান একজন যুদ্ধাপরাধী এ ব্যাপারে কোন তথ্য প্রমাণ আপনার কাছে নেই আইনজীবীর এমন এক প্রশ্নের উত্তরে সাক্ষী বলেন, এটা সত্য নয়।

অন্য আরেকটি প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী হামিদুল হক বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বশত আসামী কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আমি সাক্ষী দিয়েছি এটা সঠিক নয়। আইনজীবী বলেন, স্বাধীনতার পর আসামী কামারুজ্জামান সাংবাদিকতা পেশায় যোগ দিয়ে ভারতের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে লেখালেখি করে জনমত সৃষ্টি করায় ভারতীয় সরকারের ইঙ্গিতে ও প্ররোচনায় বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াটভাবে এর বিরুদ্ধে ভারত বিরোধী ভূমিকা স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য এই মামলার সৃষ্টি করা হয়েছে। সাক্ষী বলেন, সত্য নয়। আরেকটি প্রশ্নের উত্তরে সাক্ষী বলেন, আমি তদন্তকারী সংস্থার কাছে কামারুজ্জামানের বিচার চেয়ে কোন দরখাস্ত দেইনি। তবে জবানবন্দি দিয়েছি।

গত ১৫ জুলাই রোববার হামিদুল হক কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে জবানবন্দি পেশ করেন। এর আগে ২ জুলাই কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন করে। গত ৪ জুন তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ৭টি ঘটনায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচার শুরুর আদেশ দেয়া হয়। কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে গত ৩১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুলাই তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এক আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই বছরের ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে ১০ বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।