আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মানুষের মৌলিক চাহিদা ৬ টি

ভুল করেছি,প্রায়শ্চিত্য করবো না, তা তো হয় না আমার ব্যাক্তিগত অভিমত- মানুষের মৌলিক চাহিদা ৫ টি নয়, এটা হবে ৬ টি। খাদ্য, বস্ত্র,বাসস্হান,শিক্ষা,চিকিৎসা এগুলোর পাশাপাশি "মানসিক শান্তি " এটাও থাকা জরুরী। পেটে ভাত না থাকলে যেমন মনে শান্তি থাকে না তেমনি মনে শান্তি না থাকলে ভাত খেতে ইচ্ছে হয় না কিংবা জোর করে খেলেও ভাত মজা লাগে না। পৃথিবীতে অনেক মানুষই আছে যাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্হান, শিক্ষা, চিকিৎসা এই ৫ ক্ষেত্রে কোন অভাব নাই কিন্তু তারপরও সব সময় কিছু একটার অভাব বোধ করে, আর সেটাই হল- মেন্টাল স্যাটিসফেকশন। অনেক মানুষই আছে যাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্হান, শিক্ষা, চিকিৎসা এই ৫ ক্ষেত্রে পাওয়ার চেয়ে না পাওয়াটাই বেশী- সব সময় অভাব তাড়া করে বেড়ায় কিন্তু "মানসিক শান্তি " আছে।

এই "মানসিক শান্তি " আছে বলেই শত অভাবের মধ্যেও প্রিয়জন নিয়ে বেঁচে থাকতে আপ্রাণ চেষ্টা করে। অন্যদিকে অনেক লোকের খাদ্য, বস্ত্র,বাসস্হান,শিক্ষা,চিকিৎসা এই ৫ ক্ষেত্রে কোন অভাব না থাকা সত্বেও শুধুমাত্র "মানসিক শান্তি " না থাকায় আত্নহত্যা করে। তাই আমি মনে করি প্রত্যেকের ই মৌলিক চাহিদার সংখ্যা ৬টি হওয়া উচিত। প্রত্যেকটা দেশের প্রশাসন যেমন চেষ্টা করে তার জনগণের জন্য ৫টা মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে; এর পাশাপাশি সরকার, জনগণের, সমাজের উচিত প্রত্যেকের মধ্যে যেন মানসিক শান্তি বিরাজ করে সে চেষ্টা করা। হতে পারে সেটা সামাজিকভাবে কাউন্সেলিং এর ব্যবস্হা, মানসিকভাবে অশান্তিতে আছে এমন কাউকে সান্তনা দেওয়া, কি করলে তার মনের মধ্যে শান্তি বিরাজ করবে সেটা আশেপাশের সবাই মিলে করা।

সেটা হতে পারে তাকে তার মনের মানুষের সাথে মিলিয়ে দেওয়া। সামাজিকভাবে সবার মধ্যে "মানসিক শান্তি " আনার জন্য যে অঢেল টাকা দরকার তা কিন্তু নয়। কেননা ভুটান হল বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে শান্তির দেশ। অন্য যে কোন দেশের তুলনায় ভুটানের মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মেন্টাল স্যাটিসফেকশন বিরাজ করছে। এটাই দরকার, অন্য ৫টার মত এই "মানসিক শান্তি " আনয়নের লক্ষ্যে সরকারের উচিত আলাদা করে বিভাগ চালু করা, অফিস চালু করা, যে অফিসের কাজ হবে একটাই - সবার জন্য "খাদ্য, বস্ত্র,বাসস্হান,শিক্ষা,চিকিৎসা" এগুলোর মত মানুষের মনে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা, মনের সমস্যাগুলোর সমাধানের চেষ্টা করা।

পাশ্চাত্যের অধিকাংশ মানুষ বার কিংবা নাইট ক্লাবে শুধুমাত্র এনজয় করার জন্য গেলেও অনেকে যায় শুধু একটু শান্তি পাওয়ার আশায়, তাদের রুমে, বাড়িতে শান্তি নেই, তাই একটু শান্তির জন্য বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায়, জীবনের মানে খুঁজে বেড়ায়। আমাদের সংস্কৃতি ভিন্ন, বাংলার সমাজের যে লোকগুলো মানসিকভাবে অশান্তিতে আছে তাদের যাওয়ার কোন জায়গাও নেই যেখানে গিয়ে মনের দুঃখের কথাগুলো কারও সাথে শেয়ার করে কিভাবে এটা দূর করা যায় তার জন্য বুদ্ধি নিবে। লজ্জার খাতিরে অধিকাংশ সময়ই মানুষ এগুলো চেপে যায়; প্রকাশ না করার কারনে, অশান্তির কারনগুলো সমাধান না হওয়ায় মানসিক অশান্তি ক্রমেই বাড়তে থাকে। তাই মানুষের মনে "মানসিক শান্তি " আনার লক্ষ্যে সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা দরকার এবং সমস্বরে স্লোগান দেওয়া - "মানুষের মৌলিক চাহিদা ৬ টি" ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.