আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

হাদীস

কোরআন মাজিদ যেখানে ইসলামী জীবন ব্যবস্থার মৌলনীতি পেশ করে, হাদিস সেখানে এই মৌলনীতির বিস্তারিত বিশ্লেষন ও তা বাস্তবায়নের কার্যকর পন্থা বাতলে দেয় । ইসলামী জ্ঞান বিজ্ঞানে কোরআন যেন হৃৎপিন্ড, আর হাদীস এ হৃৎপিন্ডের সাথে সংযুক্ত ধমনী । ইসলামী জীবন বিধানে মহা গ্রন্থ কোরআন মাজিদের পরেই হাদীস গ্রন্থের অবস্থান । হাদীসের গুরুত্ব অপরিসীম । হাদীস হচ্ছে মূলত রাসূল (সা.)-এঁর যে কোন বর্ণনা – তার কথা কাজ এবং নীরব সম্মতি, আচরণ, শারীরিক বৈশিষ্ট অথবা জীবন বৃত্তান্ত সংক্রান্ত যে কোন বর্ণনা ৷ অন্য কথায়, হাদীসের স্কলাররা যেভাবে সুন্নাহর সংজ্ঞা দিয়ে থাকেন, সেই অনুযায়ী সুন্নাহ সংক্রান্ত যে কোন বর্ণনাই হচ্ছে হাদীস ৷ মুসলমানরা দাবী করেন যে , যারা হাদীস ও সুন্নাহ বিশ্বাস করেন না তারা কাফের ।

কুরআনকে সঠিকভাবে বুঝতে হলে হাদীস ছাড়া অন্যকোন উপায় নেই । আমাদের মাঝে হাদীস বিষয়ে একটি স্বচ্ছ ধারণা থাকা প্রয়োজন । হাদীস কাকে বলে ? জাল হাদীস কাকে বলে ? হাদীস মুখে মুখে প্রচলিত ছিল এবং নবীর মৃত্যুর ১০০ বৎসর পরেই কেবল লিখিত আকারে আসা শুরু করে । সর্বাধিক প্রচলিত হাদীস গ্রন্থ সহীবুখারীর লেখক বুখারীর জন্ম নবী মুহাম্মদের মৃত্যুর প্রায় ২০০ বৎসর পরে । ইসলামের শত্রুরা অতি প্রাচীন কাল থেকে ইসলামী জ্ঞানের প্রধান দুটি উৎস কুরআন ও সুন্নাহকে বিকৃত করার জন্য যুগে যুগে অনেক প্রয়াশ চালিয়েছে ।

কিন্তু সে চেষ্টায় তারা কখনো সফল হয়নি । আমার প্রিয় কিছু সহী হাদীস আপনাদের জন্য- আবূ হুরাইরা [রা:] থেকে বণির্ত । তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ [সা:] বলেছেন- তোমরা একে অপরকে হিংসা করো না, দালালী করো না, ঘৃণা পোষণ করো না, পরস্পর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না এবং তোমাদের কেউ অন্য কারো কেনাবেচার উপর কেনাবেচা করবে না । আল্লাহর বান্দাগণ ! তোমরা ভাই ভাই হয়ে যাও । মুসলমান মুসলমানের ভাই ।

সে তার ভাইয়ের প্রতি অত্যাচার করবে না, তাকে তুচ্ছজ্ঞান করবে না এবং তাকে ব্যর্থ করবে না । তাকওয়া বা পাহেযগারী এখানে রয়েছে । বক্ষের দিকে ইংগিত করে তিনবার তিনি এ কথাটি বললেন । একটি মানুষের মন্দ বা খারাপ হওয়ার জন্য যথেষ্ট যে, সে তার মুসলমান ভাইকে তুচ্ছজ্ঞান করবে । প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অপর মুসলমানের খুন, মাল ও মান-মযার্দা হারাম [মুসলিম-২৫৬৪] "ইসলামের সূচনা লগ্নে হাদীস লিপিবদ্ধ করা শ্রেয় মনে করা হয়নি এ কারণে যে- হাদীস যেন কুরআনের সাথে মিশে না যায় ।

অথবা মানুষ যেন কুরআন বাদ দিয়ে শুধু হাদীস নিয়ে ব্যস্ত হয়ে না পড়ে । " আবু বাকারা নুফা'ই বিন হারেস [রা:] থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ [সা:] বলেছেন: আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় ও মারাত্মক গুনাহ সম্পর্কে বলব না ? এ কথাটা তিনি তিনবার বললেন । আমরা বললাম অবশ্যই বলুন, হে আল্লাহর রাসুল ! তিনি বললেন : আল্লাহর সাথে শিরক করা । পিতা-মাতার আবাধ্যতা ।

তিনি হেলান দিয়ে ছিলেন । অত:পর সোজা হয়ে বসে বললেন: সাবধান ! মিথ্যা কথা বলা এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া । এ কথাটি তিনি বার বার বলতে ছিলেন, এমনকি আমরা বলতে লাগলাম, আহা যদি তিনি থেমে যেতেন । [বুখারী ও মুসলিম] বলা যায় তৃতীয় শতাব্দীতে হাদীসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থগুলোর রচনা সমাপিত হয় । রাসুল (সঃ) প্রথম দিকে হাদিস লেখার ব্যাপারে শর্তহীন নিষেধ আরোপ করেছিলেন ।

রাসুল (সঃ) হাদিসের মৌখিক প্রচার কখনোই নিষেধ করেন নি । তবে সাবধান করেছেন, যেন কেউ তার নাম দিয়ে কোনো মিথ্যা প্রচার না করে । হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) বলেন, আমি নবী করিম (সা.) এর হতে শোনা প্রতিটি কথা সংরণের জন্যে লিখে নিতাম । এটি দেখে কুরাইশ সাহাবীগণ আমাকে এ কাজ করতে নিষেধ করেন । আমাকে তাঁরা বলেন- তুমি রাসূল (সা.) এর মুখে যা শোন তা সবই লিখে রাখ ? অথচ রাসূল (সা.) একজন মানুষ ।

তিনি কখনও সন্তোষ ও কখনও রাগের মধ্যে থেকে কথা বলেন । (আবু দাউদ, কিতাবুল ইল্ম) হজরত আবদুল্লাহ বলেন, অতঃপর আমি হাদীস লেখা বন্ধ করে দেই এবং একদিন রাসূল (সা.) এর নিকট বিষয়টি উপস্থাপন করি এবং বলি, ‘হে আল্লাহর রাসূল ! কুরাইশরা বলে তুমি রাসূলের সব কথাই লিখছ ? অথচ তিনি একজন মানুষ । সাধারণ মানুষের মত তিনি কখনও কখনও রাগান্বিত হয়ে থাকেন’। রাসূল (সা.) এ কথা শুনার সাথে সাথে নিজের দুই ঠোঁটের দিকে ইশারা করে বলেন- তুমি লিখতে থাক । যে আল্লাহর হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ, আমার এই মুখ হতে প্রকৃত সত্য কথা ছাড়া কিছুই বের হয় না ।

এ কথা শুনার পর হজরত আবদুল্লাহ (রা.) রাসূল (সা.) কে জিজ্ঞাসা করলেন- হে রাসূল (সা.) আপনার নিকট থেকে যা কিছু শুনতে পাই তা সবই কি লিখে রাখব ? রাসূল (সা.) বললেন,...........(হ্যাঁ)। আবদুল্লাহ (রা.) পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, ক্রুদ্ধ ও সন্তোষ উভয় অবস্থায় বলা সব কথাই কি লিখব ? তখন রাসূল (সা.) চূড়ান্তভাবে বললেন- হ্যাঁ এ সকল অবস্থায়ও আমি প্রকৃত সত্য ছাড়া কিছুই বলি না । হযরত আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা)থেকে বর্নিত । তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চাটাইয়ের (মাদুর) ওপর শুয়ে ঘুমিয়ে পড়েন । ঘুম থেকে ওঠার পর আমরা তার মুবারক শরীরে চাটাইয়ের দাগ দেখে বললাম, ইয়া রাসুল্লাল্লাহ ! আমরা যদি আপনার জন্য একটি তোষক বানিয়ে দিতাম ! তিনি বললেন : দুনিয়ার সাথে আমার কি সম্পর্ক ? আমি তো দুনিয়াতে এরুপ একজন মুসাফির, যে গাছের ছায়াতলে বিশ্রাম নেওয়া, অতঃপর তা ছেড়ে দিয়ে চলতে শুরু করে (তিরমিজী) ।

আল্লাহর রাসূলের অসংখ্য সাহাবী তার কাছ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন । প্রত্যেকে ঠিক যা কিছু শুনেতেন এবং তার যতটুকু মনে রাখতে পারতেন ততটুকুই বর্ণনা করতেন । সাহাবাদের মধ্যে বেশী হাদীস বর্ণনাকারী হচ্ছেন সাতজন । আহমদ বিন হাম্বল বলেন, " আমি ৭লক্ষ ৫০ হাজার হাদীস থেকে বেছে বেছে কিছু হাদীস নিয়ে আমার গ্রন্থটি সংকলন করেছি । " হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ " তোমরা বেহেস্তে প্রবেশ করতে পারবে না-যতক্ষণ না তোমরা ঈমানদার হও ।

আর তোমরা ঈমানদার হতে পারবেনা-যত্ক্ষণ না তোমরা একে অপরকে ভালবাস । আমি কি তোমাদেরকে এমন কাজের পথ বাতলে দিব- যা করলে তোমরা একে অপরকে ভালবাসতে পারবে? তা-হল তোমরা নিজেদের মাঝে সালামের ব্যাপক প্রচলন ঘটাও । " (আবু দাউদ) অন্য এক হাদীসে হযরত ইবনে উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন, জনৈক ব্যক্তি নবীজী (সাঃ) কে জিজ্ঞেস করল, ইসলামের সর্বোত্তম আমল কি ? উত্তরে তিনি বললেন- (ক্ষুধার্তদের) খাবার খাওয়ানো এবং চেনা -অচেনা সকলকে সালাম দেওয়া । " (ইবনে দাউদ) ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।