আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

চোখের প্রয়োজনে এবং ফ্যাশনে রোদচশমা

জ্ঞানের সাগরের এক ফোঁটা জল এখনো গ্রহণ করতে পারিনি। তবুও নিজেকে সবজান্তা বলি। সকলকে কিছু জানাতে পারার জন্যই লিখে থাকি। রোদ-চশমার ব্যবহার ও যত্ন তেতে উঠছে রোদ। তার যন্ত্রণা এড়াতে, চোখকে আরাম দিতে নগরীর নর-নারীর চোখে চোখে উঠে যাচ্ছে রোদ-চশমা।

নানান মডেল, বিচিত্র রঙের এসব রোদ-চশমার কোনটা আপনার জন্য মানানসই সেটা জানা জরুরি। কোন ধরনের মুখে কিংবা কোন ধরনের পোশাকের সঙ্গে কী ধরনের চশমা পরবেন সেটাও জেনে নিতে হবে আগেই। আমাদের মতো গরম-প্রধান দেশে রোদ-চশমাটা ফ্যাশনের চেয়েও বেশি প্রয়োজন। রোদ-চশমা ব্যবহার করলে মুখে সহজে বলিরেখা দেখা দেয় না। অনেক মানুষ রোদ-চশমা ব্যবহার করতে লজ্জা পায়।

ফলে অল্প বয়সে মুখে বলিরেখা পড়ে বয়স্ক দেখায়। মুখের গড়ন, চুলের কাটিং এবং পোশাক বুঝে রোদ-চশমা ব্যবহার করা উচিত। মুখের ধরনের সঙ্গে রোদ-চশমার ডিজাইন নির্ভর করে। ফ্যাশনসচেতন তরুণ-তরুণীদের বেশ পছন্দের একটি উপকরণ হলো রোদ-চশমা। রোদ-চশমা, গগলস অথবা সানগ্লাস যাই বলুন না কেন, ঘর থেকে বের হওয়ার আগে এটা নিতে ভুল হয় না আমাদের অনেকেরই।

শুধু ফ্যাশন সচেতনতাই নয়, সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির হাত থেকে আমাদের চোখকে গগলস রাখে সুরক্ষিত। রোদ-চশমা কেনার আগে নিজের মুখের ধরন, গড়ন বুঝে রোদ-চশমা কিনুন। ***চৌকো আকৃতির মুখের জন্য সামান্য বাঁকানো ফ্রেমের রোদ-চশমা বেশ মানানসই। ***গোলাকৃতির মুখে লম্বাটে অথবা কৌণিক ধরনের রোদ-চশমা বেশ মানানসই। তবে এ ক্ষেত্রে কালো বা গাঢ় রঙের রোদ-চশমায় আপনাকে ভালো মানাবে।

চারকোনা ফ্রেমের চশমা ব্যবহার করে দেখতে পারেন। তবে তা যেন আপনার মুখের চেয়ে বড় না দেখায়। ***পানপাতার মতো যাদের মুখের গড়ন তারা সরু বা পাতলা রিমের রোদ-চশমা নিজেদের জন্য নির্বাচিত করতে পারেন। পাতলা রিম এবং সোজা লাইনের রোদ-চশমা অথবা ওভাল (ডিম্বাকৃতির) ফ্রেমের গাঢ় চশমায় আপনি হয়ে উঠতে পারেন আকর্ষণীয়। ***ডিম্বাকৃতির মুখের গড়নের সঙ্গে পুরনো ধাঁচের রোদ-চশমা ভালো লাগবে।

এক্ষেত্রে রোদ-চশমাটি যেন মুখের মাঝামাঝি থাকে। চৌকো বা বড় রোদ-চশমা আপনাদের এড়িয়ে চলাই ভালো। অতিরিক্ত গাঢ় রঙের রোদ-চশমা আপনার মুখের সঙ্গে মানানসই হবে না। ***আপনার মুখের গড়নের সঙ্গে মানানসই রোদ-চশমা নির্বাচনের সময় ফ্রেমের দিকেও একটু দৃষ্টি দিতে হবে। ***তবে রোদ-চশমা কেনার বা নির্বাচনের সবচেয়ে সহজ উপায় হলো আপনার মুখাকৃতির বিপরীত ধরনের রোদ-চশমা ব্যবহার করুন।

রোদ-চশমা কেনার সময় দোকানে যে রোদ-চশমা আপনাকে মানায় তাই কিনুন। ***হেয়ার স্টাইলের সঙ্গে মিল রেখেও রোদ-চশমা বাছাই করুন। চুল যদি একদম সমান লম্বা হয়, সঙ্গে স্কার্ফ ব্যবহার করা ভালো। ডিফরেন্ট লুক আসবে। চুল যদি কোঁকড়া হয় তাহলে ফ্রেমের মাপ ভ্রুলাইন বরাবর রাখুন।

স্ট্রেইট চুলে রাউন্ড চশমা ভালো। ছেলেরা বেছে নিতে পারেন পাইলট বা এভিয়েটর শেপের গ্লাস। রং বেছে নিতে পারে ব্লাক, ব্রাউন ও গ্রে। মেয়েরা ব্যবহার করতে পারে পাশে কাজ করা একটু চওড়া ফ্রেমের গ্রে, হালকা টু শেড রোদ-চশমা। যারা একটু বেশি ফ্যাশন সচেতন তারা পরতে পারে পার্পন, পিংক, রেড কালারের রোদ-চশমা।

কীভাবে নেবেন রোদ-চশমার যত্ন রোদ-চশমা মূলত আবিষকৃত হয়েছে আমাদের চোখকে সূর্যের তীব্র আলো, নীল এবং অতি বেগুনি রশ্মির হাত থেকে রক্ষা করতে। তবে দিনের বেলায় সূর্যের আলোর তীব্রতা না থাকলে এবং বর্ষাকালে বা মেঘাচ্ছন্ন দিনেও চোখের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোদ-চশমা ব্যবহারের পরামর্শ দেন। আপনার রোদ-চশমা শক্ত কোনো বাক্সে রাখতে চেষ্টা করুন, যেন অন্য কেউ তার ওপর বসে পড়ে তা ভেঙে না ফেলে। গগলসের লেন্স পরিষকারের জন্য ভালো মানের উপকরণ ব্যবহার করুন। আপনার গগলসটি যদি বেশ দামি হয়, তাহরে প্রস্তুতকারক কোম্পানির প্রদত্ত সলিউশন ব্যবহার করুন।

রোদ-চশমা মোছার জন্য নরম কাপড় ব্যবহার করুন। কাগজ বা খসখসে কাপড় দিয়ে মুছলে লেন্সে দাগ পড়ার সম্ভাবনা থাকে। আপনার রোদ-চশমার নোজপ্যাড পরিষকারের জন্য নাতিশীতোষ্ণ পানিতে ১৫ থেকে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রেখে নরম ব্রাশ দিয়ে ধুয়ে নিতে পারেন। দামি রোদ-চশমা ঠিক করতে প্রস্তুতকারকের বা দক্ষ মেকানিকের সাহায্য নিন। বাজারে চশমা ঠিক করার কিছু কিট পাওয়া যায়।

এতে ছোটখাটো বিষয়গুলো নিজেই ঠিক করে নিতে পারেন কোথায় পাবেন দরদাম : নরম্যাল সানগস্নাসগুলো ১৫০-৭০০ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া র্যাবন গস্নাস-১৮০০-৪০০০ টাকা, পার্লস ২০০০-৪০০০ টাকা, গুচি ২০০০-৪০০০ টাকা এবং ফার্টিয়াল সানগস্নাস পাওয়া যাবে ৫০০০-১২০০০ টাকা পর্যনত্ম। এক হাজার ৫০০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত ওঠানামা করছে নানা ব্র্যান্ডের রোদচশমার দাম। আর ব্র্যান্ড নয়, এমন চশমাগুলোর দাম শুরু হতে পারে ১০০ টাকা থেকে। নিউমার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড ও বসুন্ধরার বেশ কিছু দোকান থেকে কিনতে পারেন।

উৎসঃ মনোজগৎ, কালেরকন্ঠ, জনকন্ঠ, প্রথম-আলো থেকে সংগ্রহীত.।  ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.