আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বাংলাদেশ বিমান

"বাংলার আকাশ রাখিব মুক্ত" এই দৃপ্ত শপথে বলিয়ান বাংলাদেশ বিমানবাহিনী আসামের দিমাপুরে ২৮শে সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ সালে গঠিত হয়। মাত্র তিনটি বিমান নিয়ে এই বাহিনীর যাত্রা শুরু হয় যার মধ্যে ছিলো দুটি বিমান ডিসি-৩, ডাকোটা এবং একটি অ্যালুয়েট-৩ হেলিকপ্টার। পাকবাহিনীর ফেলে যাওয়া পাচঁটি স্যাবর (এফ-৮৬)-ই ছিলো এই বাহিনীর প্রথম জঙ্গী বিমান। বিমানবহিনীর ঘাঁটিসমূহ: বিএএফ বাশার, ঢাকা (বিমানবাহিনীর সদরদপ্তর) বিএএফ কুর্মিটোলা, ঢাকা বিএএফ জহরুল হক, চট্রগ্রাম বিএএফ মতিউর রহমান, যশোর বিএএফ পাহাড় কাঞ্চনপুর, টাঙ্গাইল এগুলো ছাড়াও লালমনির হাট, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ (টাঙ্গাইল এর মধুপুরে বি,এ,এফ,ঘাঁটি রসুলপুর), বগুড়ায় এই বাহিনীর ইউনিট আছে। উড্ডয়নকৃত বিমান সমূহ: জঙ্গী বিমান: চ্যংদু এফটি-৬ (৯টি), মিগ-২৯ (৮টি, ২টি প্রশিক্ষন সহ) বোমারু বিমান: এ/কিউ-৫ (৪০টি) পরিবহন বিমান: এএন-৩২ (৩টি), সি-১৩০(হারকিউলিস)(৪টি), এমআই-৮, এম আই-১৭(হিপ) (২১+) প্রশিক্ষণ বিমান: এরো এল-৩৯ (১২টি), সেসনা টি-৩৭(টুইট) (৮টি), ন্যানচ্যাং পিটি-৬(৪৬টি) হেলিকপ্টার: বেল ২০৬ এল(৪টি), বেল-২১২(১৩টি), এম আই-১৭(হিপ) (২১+) বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে ব্যবহৃত ট্রেনিং বিমান ও হেলিকপ্টার: পিটি-৬(সিজে-৬)।

প্রাইমারি প্রপেলার ট্রেইনার। টি-৩৭ ( বেসিক জেট ট্রেইনার) এল-৩৯( অ্যাডভান্স জেট ট্রেইনার) বেল-২০৬ হেলিকপটার এল-৩৯ মডেলের এই জেট ট্রেইনার বিমানটি ১৯৯৭ সালে চেক রিপাবলিক থেকে কেনা। বিমানবাহিনীতে এই মডেলের আরো পাঁচটি প্রশিক্ষণ বিমান রয়েছে। এই 'এল-৩৯' প্রশিক্ষণ বিমানগুলো বিমানবাহিনীর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বাহন হিসেবে বিবেচিত। আমরা আর কত দিন এই রকম তাজা তরুণ প্রাণ ঝরে যেতে দেখবো।

এর পিছনের কারণ হয়তো আমরা কখনও বের করতে পারবো। কিন্তু ততদিনে হয়তো আরও অনেক নতুন প্রাণ এই ভাবে ঝরে যেতে দেখতে হবে। আমি শুধু বলতে চাই, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও সুবিশাল সমুদ্র সীমা রক্ষণাবেক্ষণে নতুন ও আধুনিক সুপ্রশিক্ষিত বিমান বাহিনীর বিকল্প নেই। এখন সময় এসেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন করার। আমাদের যেন আর দেখতে না হয় আমাদের ভাইদের তাজা রক্ত ঝরা শার্ট দেখতে।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দুর্ঘটনা সমূহ: ১. ২৬ ডিসেম্বর, ২০১১ সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানবাহিনীর একটি পরিবহন বিমান সি-১৩০-এ আগুন ধরে যায়। ২. ১০ অক্টোবর, ২০১১ চট্টগ্রামে বিমানবাহিনীর জহুরুল হক ঘাঁটিতে অবতরণের সময় আগুন ধরে যায় যুদ্ধবিমান 'এ-৫'-এ। ৩. ২০ ডিসেম্বর, ২০১০ এ দিন বিমানবাহিনীর পিটি-৬ মডেলের একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে দুজন স্কোয়াড্রন লিডার প্রাণ হারান। এ দুজনের মধ্যে স্কোয়াড্রন লিডার আশরাফ ইবনে আহমেদ সুপারসনিক যুদ্ধবিমান মিগ-২৯ আর স্কোয়াড্রন লিডার মাহামুদুল হক বিমানবাহিনীর পরিবহন বিমানের পাইলট ছিলেন। ৪. ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১০ এ দিন চট্টগ্রামে বিমানবাহিনীর এফ-৭ এমবি মডেলের একটি জঙ্গি বিমান বিধ্বস্ত হয়।

পাইলট প্যারাস্যুটের মাধ্যমে নিজের জীবন রক্ষায় সক্ষম হন। ৫. ১৬ জুন, ২০০৯ পিটি-৬ প্রশিক্ষণ বিমান চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে বিধ্বস্ত হয়। পাইলট প্যারাস্যুটের মাধ্যমে নিজের জীবন রক্ষায় সক্ষম হন। ৬. ৯ মার্চ, ২০০৯ যশোর থেকে ঢাকায় আসার পথে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মর্মান্তিকভাবে নিহত হন মেজর জেনারেল রফিকুল ইসলাম ও হেলিকপ্টারের পাইলট লে. কর্নেল শাহীদ ইসলাম। ৭. ৮ এপ্রিল, ২০০৮ এফ-৭ এমবি জঙ্গিবিমান বিধ্বস্ত হয় টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পাহাড়িপাড়া গ্রামে।

পাইলট স্কোয়াড্রন লিডার মোরশেদ হাসান সামরিক হাসপাতালে মারা যান। ৮. ৯ এপ্রিল, ২০০৭ পিটি-৬ প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত হন চালক ফ্লাইট ক্যাডেট ফয়সল মাহমুদ। ৯. ২৪ এপ্রিল, ২০০৬ পিটি-৬ প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণ হারান ফ্লাইট ক্যাডেট তানিউল ইসলাম। ১০. ৭ জুন, ২০০৫ ঢাকার উত্তরায় একটি ভবনে ধাক্কা খেয়ে ভেঙে পড়ে বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ এমবি যুদ্ধবিমান। ১১. ১৯ অক্টোবর, ২০০২ বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার চট্টগ্রামে সার্জেন্ট জহুরুল হক বিমান ঘাঁটির কাছে একটি টেলিভিশন টাওয়ারে ধাক্কা লেগে বিধ্বস্ত হলে নিহত হন উইং কমান্ডার কাজী কামরুল নেওয়াজ, ফ্লাইং অফিসার সাবি্বর আহমেদ, ওয়ারেন্ট অফিসার জহির হোসেন ও সার্জেন্ট আবদুস সামাদ।

১২. ৩০ জুলাই, ২০০২ চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হলে নিহত হন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট আদনান মুকিত। ১৩. ৭ জানুয়ারি, ২০০১ একটি 'এফটি-৭ বি' আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হলে স্কোয়াড্রন লিডার মহসীন নিহত হন। ১৪. ২৬ অক্টোবর, ১৯৯৮ টাঙ্গাইলের মধুপুরে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান মিগ-২১ বিধ্বস্ত হলে পাইলট নিহত হন। ১৫. ১৯৯৬ সালে পরস্পর সংঘর্ষে বিমানবাহিনীর দুটি পিটি-৬ প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হলে উইং কমান্ডার হক, স্কোয়াড্রন লিডার ইসলাম ও ফ্লাইং অফিসার মাসুদ নিহত হন। ১৬. ১৯৯৩ সালে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হলে নিহত হন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কুদ্দুস।

১৭. ৪ আগস্ট, ১৯৮৪ বাংলাদেশে বিমান দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইনসের একটি ফকার এফ-২৭ চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসার পথে বিধ্বস্ত হলে দেশের প্রথম মহিলা পাইলট কানিজ ফাতিমাসহ বিমানের কো-পাইলট, ক্রু ও যাত্রীরা সবাই নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় মোট ৪৯ জন নিহত হন। ১৮. ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৬ তৎকালীন বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল খাদেমুল বাশার ও স্কোয়াড্রন লিডার মফিজুল হক বিমানবাহিনীর ঢাকা এয়ার বেজে নিহত হন। ১৯. ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২ সালের বাংলাদেশে প্রথম বিমান দুর্ঘটনা ঘটে।

২০. ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২ একটি ডগলাস ডিসি-৩ এয়ারক্রাফট বিধ্বস্ত হলে বিমানের পাঁচজন ক্রু নিহত হন। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.