আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

নির্দোষ গৃহবধূকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করলেন এসআই: এরই নাম বাংলাদেশের পুলিশ

একমাত্র সত্য ও সুন্দরের জন্য দেশের পুলিশ মানুষের নিরাপত্তা বিধানের জন্য। মানুষ বিপদে পড়ে পুলিশেল কাছে যায় সাহায্যের জন্য। সেখানে বাঙলাদেশের পুলিশ নিয়ে বহু সমালোচনা, বিতর্ক রয়েছে। একটি ঘটনা ব্যাথিত করল। কক্সবাজারের রামু থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন অযথাই নির্মমভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছেন নির্দোষ এক গৃহবধূকে।

বিতর্কিত ওই পুলিশ কর্মকর্তা রোববার দুপুর ১২টায় হাইটুপী গ্রামে প্রকাশ্যে ওই গৃহবধূর ওপর নির্যাতন চালান। এ ব্যাপারে সংবাদ প্রকাশ করলে সাংবাদিকদের নামে জিডি করারও হুমকি দেন এসআই রুহুল আমিন। আহত গৃহবধূ বিপু বড়–য়াকে (২৪) কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের হাইটুপী গ্রামের রোজেন বড়–য়ার স্ত্রী। এসআই রুহুল আমিনের নির্যাতনে আহত বিপু বড়–য়া বাংলানিউজকে জানান, দুপুর ১২টার দিকে তিনি ৬ বছরের সন্তানসহ বাড়ির শয়নকক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন।

এ সময় রামু থানার এসআই রুহুল আমিন ও তিনজন কনস্টেল বাড়ির ভেতরে ঢুকে তার স্বামীর খবর জানতে চান। স্বামীর অনুপস্থিতির কথা জানাতেই বিপু বড়–য়াকে চুল ধরে মারধর টেনেহেঁচড় নামিয়ে নির্যাতন শুরু করেন এসআই রুহুল আমিন। ওই পুলিশ কর্মকর্তা বিপু বড়–য়াকে তার স্বামী রোজেন বড়–য়ার জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। বিপু বড়–য়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি স্থানীয় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে দেওয়ার কথা জানালে রুহুল আমিন আরও ক্ষিপ্ত হয়ে বন্দুকের বাট দিয়ে বিপু বড়–য়াকে আঘাত করলে তিনি চিৎকার দিয়ে মাটিতে পড়ে যান। তার চিৎকারে শাশুড়ি কাজলী বড়–য়া (৫০) ও জা চুমকী বড়–য়া (২০)সহ স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তারাও রুহুল আমিনের মারধরের শিকার হন।

এ ব্যাপারে রামু থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘রোজেন বড়–য়া পেশাদার চোর। বাড়িতে গিয়ে রোজেনের স্ত্রীর কাছে তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি চেয়েছিলাম। কিন্তু বিপু বড়–য়া সেগুলো না দিয়ে উল্টো আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। পরে আমি নিজেই জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি নিয়ে আসি। ’মারধরে বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি এ ব্যাপারে অসত্য সংবাদ ছাপালে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে জিডি করবেন এবং এসপিকে নালিশ দেবেন বলে হুমকি দেন।

রামু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজল বাংলানিউজকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। এটি দুঃখজনক। ’স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজান উদ্দিন বাংলানিউজকে জানান, ‘এসআই রুহুল আমিন কর্তৃক গৃহবধূসহ ওই পরিবারের সদস্যদের নির্যাতনের ঘটনাটি সত্য। ’ এলাকার অনেক লোক তাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানান তিনি। তো পুলিশের অর্থাৎ যারা সেবা ধর্মী কাজে নিয়োজিত তাদের সত্যিই পেশাদার হওয়া উচিত।

মানবীয় গুণাবলী অবশ্যই তাদের থাকতে হবে। তা না হলে দেশের মানুষ তাদের কাছে যাবে না এবং নিরাপদ ও থাকবে না। এ ধরনের ঘটনার নিন্দা জানাই। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।