আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

সৌদি কূটনীতিক খুনের রহস্য কী ?!

সৌদি কূটনীতিক সচিব খালাফ আল আলীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্বৃত্তরা তাকে অন্য কোথাও গুলি করে দূতাবাস এলাকায় ফেলে রেখে গেছে। এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। । কোনো কোনো মিডিয়া লিখেছে এটা -পরিকল্পিত হত্যা।

আবার কেউ কেউ বলছে-০ ১২ মার্চের যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে কারা কি কারণে তাঁকে গুলি করে হত্যা করেছে তার কারণ এখনও উদ্ঘাটিত হয়নি। এই প্রথম কোন কূটনীতিককে গুলি করে হত্যা করার ঘটনা ঘটল দেশে। ঘটনার ফলোআপে দেখা যাচ্ছে- কুটনীতিক পাড়ায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের বুদ্ধিজীবীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

তবে এটাও কিন্তু আশ্চর্য যে এ ব্যাপারে এখনও কোন মামলা করা হয়নি। আর দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বলছে- এঘটনায় দুদেশের মধ্যে কোন প্রভাব পড়বে না। কিন্তু গতকাল আমার বাকা ভাবনায় যে বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করেছিলাম- যেমন- ১২ মার্চ ইস্যুটিকে আনা হতে পারে, প্রতিবেশী কোন দেশের চক্রান্ত হতে পারে ব্যবসায়িক কারণে, তাছাড়া আরো একটি বিষয় মনে হচ্ছে- এত রাতে দূতাবাসের ঐ কর্মকর্তা প্রায়ই বেরুতেন । তার কাছে কোন পরিচয়পত্র পাওয়া যায়নি, মোবাইল পাওয়া যায়নি। প্রশ্ন হচ্ছে কেন এতরাতে তিনি প্রায় প্রতিদিন বেরুতেন- শুধু কি জগিংএর জন্য নাকি অন্য কিছু- মধ্যরাতের অন্য কোন অভিসার নয় তো ! তবে যাই হোক দূতাবাসের এক কর্মকর্তাকে এবং গ্রিণ জোন এলাকায় খুন করা হলো- অথচ নিরাপত্তা বাহিনী কি করছিল।

দূতাবাসের লোকদের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব তো নিরাপত্তা বাহিনীর। আরো যে প্রশ্নটি উঠছে সেটি হচ্ছে- পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় যে বলছে এই ঘটনায় দুদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোন প্রভাব ফেলবে না। কথাটা কি বিশ্বাস যোগ্য। কারণ বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ সেই দেশে কর্মরত। তাদের ওপর এর আগেও নানাভাবে অত্যাচার নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

তারপরও জীবনের তাগিদে মানুষ কষ্ট করে অর্থ উপার্জনের জন্যে সেই দেশে থাকে। দেশে থেকে কি করবে! সেখানে সৌদি একজন কূটনীতিককে হত্যা করা হলো – এরপর তার প্রভাব পড়বে না - ! আসলে তো সেখানে দেশের মন্ত্রীরা বা আমলারা চাকরী করেন না- হাড় ভাঙা পরিশ্রম করেন দেশের সাধারণ মধ্যবিত্ত নিম্নব্ত্তি শ্রেণীর মানুষ। তাদের সুখ দু:খ, কষ্ট নির্যাতনে তো দেশের সরকার, মন্ত্রী, সচিব বুদ্ধিজীবীদের কিছু যায় আসে না। মরুক শালা – গরীব মানুষ গুলো – এই তো তাদের চিন্তা ! হায় দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের চিন্তা ও গণ মানুষের জন্যে ভাবনা। জানিনা কি হবে – তবে প্রর্থনা করি সৌদিতে দেশের মেহনতী মানুষ যারা কষ্ট করে দু পয়সা আয় রোজগার করে দেশে পাঠায় তাদের ওপর যেন নতুন করে কোন খাড়ার ঘা না আসে।

বড়ই ভাবনা হয় তাদের জন্য। এদিকে খালেদা জিয়া বলেছেন, দেশের মানুষ ঘরে বাইরে কোথাও নিরাপদ তো নয়, এমনকি বিদেশীরাও নিরাপদ নয়। সরকার ব্যর্থ হয়েছে দেশের মানুষের নিরাপত্তা দিতে। আর দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে একটি সরকারপন্থী দৈনিক যুগান্তর লিখেছে- মহাজোট সরকারের তিন বছরের বেশী সময়ে দেশে ৯ হাজারের বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তার মধ্যে গুপ্ত হত্যার শিকার ৭১ জন। তো কেন দেশের এই পরিস্থিতি ! এ পরিস্থিতি নিয়ে রাজনীতি নয় - এর জবাব অবশ্যই সরকারকে দিতে হবে।

কেবল মুখে মুখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ভালো এবং বিচ্ছিন্ন ঘটনা বললে কি হবে ! ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.