আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

অনেকদিন ধইরা রম্য লিখি না (রম্য)

আমি অনেক সহজ সরল বোকা একজন মানুষ। দুনিয়ার সাথে তাল মিলায়ে চলতে একটু কষ্ট হয় বৈকি। ছোটবেলা থেইকাই বিয়া খাওনের খুব শখ আছিল । বিয়ার খাওনের মইধ্যে ভেজিটেবল টা আমার কাছে মারাত্নক লাগে আর খাশি'র রেজালা তো বাদ ই দিলাম । অনেকদিন ধইরা কুনু বিয়ার দাওয়াত পাই না ।

বড়ই কষ্টের মধ্যে দিন যাপন করতেছিলাম । তো গত মাসে হামা ভাইয়ের বিয়া হইছে । আমি মনে করছিলাম যে আমি তো হের ব্লগে নিয়মিত তাই আমারে দাওয়াত দিব । কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ১২ তারিখেও আমারে ফেসবুকে মেসেজও পাঠায় নাই । আমি অইত্যন্ত কষ্টে সকাল বেলা সুরঞ্জনা আপুর পোষ্ট দেখলাম ।

তারপরে হামা ভাই আর ভাবীরে উইশ করলাম । হামা ভাইয়ের ফেইসবুকে মেসেজ পাঠাইলাম । মনের অবস্থা চরম খারাপ আছিল । রাগ কইরা না খাইয়াই রাইতের বেলা ঘুমায়া গেছিলাম । মাথার মধ্যে ঘুরতাছিল বিয়া আর বিয়া ।

কি করুম ? ছোটবেলা থেইকা অভ্যাস । স্বপ্নে দেখি হামা ভাই আর সমুদ্রকন্যা আপু আমারে নিয়া যাইতে আইছে । আমারে কইতাছে -আকাশ,আমরা তোমারে দাওয়াত দিতে ভুইলা গেছিলাম । আর তোমারে কি দাওয়াত দেয়া লাগে নাকি? তুমি তো এম্নেই আয়া পড়বা । তারপরে আমি খুশি হইয়া কইলাম -চলেন,আগে খায়া লই ।

এই কইয়া হামা ভাই আর আমি বাইর হইলাম আমার বাসার থেইকা । হামা ভাই আমার পাজারো গাড়ি দিয়া আপুরে বাড়িত পাঠায়া দিল । আর আমারে হাটায়া লইয়া গেল কমিউনিটি সেন্টারে । নিয়া আমারে এমুন ধোলাই দিল । ধোলাই দিয়া বাড়িত পাঠায়া দিল ।

মাইনষের কাছে আর দাওয়াত চামু না । তারপরে আল্লাহ আমার ভাগ্য খুইলা দিল । ৫ টা দাওয়াত পাইলাম । কি যে মজা । এক দাওয়াতে গেলাম ।

কালা শেরওয়ানি পইড়া । এমন ভাব যেন আমি ই জামাই । আমি গিয়া দেহি এক ব্যাচ খাইতে বয়া পড়ছে । মেজাজ টা পুরা বিলা হইয়া গেল। হাটতে লাগলাম রাগের চোটে ।

আমার ছোট ভাইও আমার পিছে পিছে হাটতাছিল । সামনে কিছু ছোট আপু ছিল,দেইখ্যা পাত্তা দেই নাই । কিন্তু আমি তাদের পাশ কাটানোর পর আমার ছোট ভাই পিছন থেইকা আমার সামনে আইসা জিগাইল-জানস,আপুগুলা কি কইসে? আমি কই-কি কইসে তা দিয়া তোর কাম কি?বেশি পাকনা হইয়া গেসস? আইচ্ছা ক কি কইসে? কইসে- একটা জিরাফ আইসে দাওয়াত খাইতে । ঐ ঐ । আমার গার্লফ্রেন্ড আমারে এই খাওন ব্যাপারটা লইয়া দুই চোক্ষে দেখতে পারে না ।

কয় আমি নাকি একটা রাক্ষস । এইডা কিছু হইল? একদিন আমারে লইয়া সিএফসি তে গেল । দুইটা গ্রিল বার্গার অর্ডার করল (এইডা আমার বিশেষ পছন্দের) । javascript:void(2); সে অল্প একটু খাইয়া কইল যে আর খাইতে পারব না । আমি কইলাম,আরে টেনশন লও ক্যা ? আমি আছে না? আমি আমারটা খাইয়া পরে হেরটাও চালান দিয়া দিলাম ।

হেয় দেহি চোখ বড় বড় কইরা আমার দিকে চায়া রইছে । আমি জিগাইলাম-কি হইছে? হেয় কয়-তোমার মধ্যে কি কার্টেসি জিনিসটাও নাই? আমি কই-ক্যান? হেয় কয়-তার নাকি কাম আছিল এইল্লিজ্ঞা বাইর হওয়ার লাইগা কইছে খাইতে পারব না । ঐ ভেজাল লইয়া আমার মধ্যে আর আমার গার্লফ্রেন্ডের মইধ্যে দিনরাত ঝগড়া চলতাছে । আমি হেরে যতই বুঝাই যে তোমার কাম আছিল এইডা আমি ক্যামনে বুঝুম? ক্যাম্নে কি? আজিব ! হেয় একবার কয় বাপেরে ফোন দিব আরেকবার কয় মায়েরে ফোন দিব । আমি বেকুব মানুষ অনেক বোকাসোকা মানুষ ।

আমি রাগ কইরা কইলাম যে -আমারে যেহেতু দেখতে পারো না তাইলে আমার লগে মামলা ডিসমিস কইরা ফালাও । আমার এই ঝগড়া করতে আর ভালা লাগে না । তো হেয় কইল-না,তোমারে তো ছাড়ন ই যাইব না। আমি কইলাম -ক্যান? হেয় কইল-আমার মতন আবাল নাকি দুনিয়ায় আর একটাও নাই । আমারে কোনমতেই ছাড়ন যাইব না ।

এত্তকিছুর পর একটা কথাই মনে হইল যে--জর্জ ডব্লিউ বুশ আমারে ক্ষমতা ছাড়নের আগে একটা ওয়াল পোষ্ট করছিল--আকাশ,তুই কি হনু রে ! বিশ্বাস হয় না? লন স্ক্রিন শট দিয়া দিলাম । বাই দা ওয়ে আমি ১৪ তারিখে মুখবন্ধ দিবস পালন করুম । ভাই,এইটা শুধুই একটা রম্য । বাস্তবের সাথে মিশ্যা গেলে কাকতালিয় না ভেবে বাস্তব ও ভাবতে পারেন । আমার প্রব্লেম নাইক্কা ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।