আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

একটি বাংলা ছবির স্ক্রিপ্ট লেখার প্রয়াসঃ প্রেম, প্রতিশোধ ও বিরহের ছবি-জটিল প্রেম

যে মুখ নিয়ত পালায়......। । দৃশ্য-১ নায়কঃ (দৌড়ে আসবে) বাবা আমি বুয়েট থেকে ফ্রাস্ট ক্লাস ফ্রাস্ট হয়েছি। নায়কের বাবাঃ (ছেলেকে জড়িয়ে ধরে) আমার কতদিনের স্বপ্ন ছিল তুই ডাক্তার হয়ে ফিরবি। এতদিনে আমার স্বপ্ন পুরন হল।

আজ তর মা বেঁচে থাকলে কত খুশি ই না হত। বাবা কুদ্দুস আজ সময় এসেছে আমাকে তুই কথা দে তর মায়ের হত্যার বদলা নিবি। বৈশাখীমেলায় হারিয়ে যাওয়া তর ছোটভাই রহমত কে খুজে বার করবি? নায়কঃ আমি তোমার গা ছুয়ে প্রতিজ্ঞা করছি যে আমার মাকে মেরেছে, তোমাকে স্ত্রী হারা করেছে, তাকে আমি ছাঁড়ব না। আমার ছোটবেলায় হারিয়ে যাওয়া ভাই রহমত যেখানে থাকুক না কেন আমি তাকে খুজে বের করব। পাহাড় পর্বত নদী সমুদ্র সব তন্ন তন্ন করে খুজে তোমার কাছে নিয়ে আসব তাকে।

দৃশ্য-২ নায়ক নায়িকার ধাক্কা লাগবে। গান শুরু হবে। (বোরকা পড়া মেয়ে পাগল করেছে )। গানের শেষে তারা চলে যাবে। বোঝা যাবে তাদের প্রেম হয়ে গেছে, দৃশ্য-৩ নায়িকার বাবা জমিদার আফতাব চৌধুরীর বাড়িতে নায়কের আগমন।

নায়কঃ নদী নিশ্চয়ই আমার কথা বলেছে। আমি সাগর। চৌধুরী সাহেবঃ ও আচ্ছা। তুই সে ছোটলোকের বাচ্চা। তোর মত চাকরানীর ছেলের সাথে আমি চৌধুরী গ্রুপ অব ইন্ডাষ্ট্রির মালিক আমার একমাত্র মেয়ের বিয়ে দিব তুই ভাবলি কি করে? নায়কঃ আমরা একে অপরকে ভালবাসি।

চৌধুরী সাহেবঃ তোদের মত ছোটলোকের বাচ্চাদের ভালবাসা কি আমার জানা আছে। টাকার লোভে আমার অবলা মেয়েকে ফুসলিয়ে প্রেমের ফাদে ফেলেছিস। বল কত টাকা চাই তর? নায়কঃ চৌধুরী সাহেব, টাকা দিয়ে ভালবাসা কেনা যায়না। আর জেনে রাখুন,এই সাগরের বুক থেকে নদীকে আপনি আলাদা করতে পারবেন না। আমি গরীব হতে পারি, লম্বায় ছোট হতে পারি কিন্তু ছোটলোক নই।

নায়কের বাবাঃ খামস বেত্তমিজ! তুই বামন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়াতে চাস। জানিস আমার মেয়ের একমাসের ইন্টারনেটের বিল কত? ইন্টারমিডিয়েট থেকে শিখে আসিস নি এসব? হারামজাদা তর জিপিএ কত? নায়কঃ চৌধুরী সাহেব! আমরা ইন্টারমিডিয়েট থেকে শিখব কখন! আপনার মেয়ের রুপের জালে বন্দি হয়েই ত টেনেটুনে পাশ করলাম। নাহলে এ প্লাস পেতাম চৌধুরী। আর শুনে রাখুন চৌধুরী সাহেব, জিপিএ দিয়ে কখনো মানুষ বিবেচনা করবেন না। চৌধুরীঃ ওই কে কোথায় আছিস এই ছোটলোকের বাচ্চাকে একটু ডলা দে ত।

ভিলেনের আগমন। ভিলেনঃ কি হয়েছে আঙ্কেল? এই গ্যারেজে কাজ করা ছেলেটা এখানে কেন? চৌধুরী সাহেবঃ শামসু ও নদীর দিকে হাত বাড়িয়েছে। চৌধুরী বংশের ইজ্জ্বতের উপর বুলডোজার দিয়ে আঘাত করেছে। আমি ওর লাশ দেখতে চাই। ভিলেনঃ (নায়কের দিকে তাকিয়ে) ওই পানি ডুবাইয়া মারে, আগুন পুড়াইয়া মারে, আর এই শামসু কেড়বেড়া কইরা মারে।

তুই আমার নদীর দিকে চোখ তুইল্যা তাকাইছস। আইজ তরে আমি নদীতে চুবাইয়া মারুম। ঈয়া ভিশ্যুমাইক, ঈয়া ভিশ্যুমাইক, ঈয়া ভিশ্যুমাইক! (নায়ক মার খেয়ে আহত) নায়ক(আহত হয়ে বলছে)> চৌধুরী......তোর এই পোষা কুত্তা পিটিয়ে আমার শরীরের যে হাল করেছে পৃথিবীর কোনো ইঙ্গিনিয়ার তা পুনর্নিমান করতে পারবেনা। তবু মনে রাখিস, এই সাগরের বুকে থাকবে শুধু নদী নদী নদী............ দৃশ্য-৩ (নায়িকা, শামসু ও চৌধুরী) চৌধুরীঃ মা, তুই ওই ছোটলোকের বাচ্চাকে ভুলে যা। আমার বন্ধু খানের ছেলে এই শামসুর সাথে তর বিয়ে দেব।

নায়িকাঃ না বাবা না, সাগরকে আমি ভুলতে পারব না। আমার ভিতর সাগর বাহির সাগর আন্তর সাগর!ও আমার জীবন মরন,আমার ভালবাসা! শামসুঃ ওই সাগরের বাচ্চাকে ভুলে যাও। আমি ওর থেকে অনেক ভাল। সিজিপিএ ৩ পয়েন্ট নাইন এইট, কসমোপলিটান ইউনিভার্সিটি, সিভিল। নায়িকাঃ চুপ শয়তান।

তুই আমার দেহ পাবি কিন্তু মন পাবি না। চৌধুরীঃ আমার কথা যদি না শুনিস তাহলে তুই ও শুনে রাখ, আজ থেকে তোমার বাড়ির বাইরে যাওয়া বন্ধ। (টেনে হিচড়ে নিয়ে গিয়ে ঘরে দরজা বন্ধ করবে)। দৃশ্য-৪ বন্দি নায়িকা ঘরে বালিশের উপর ঝাপিয়ে পড়েছে। নায়িকার মাঃ "মামনি, সারাদিন কিছু খাসনি।

শরীর খারাপ করবে, এই দুধটুকু খেয়ে নে। শরীরে বল পাবি। বেশী কাঁদতে পারবি। " মেয়েঃ "না আমি কিচ্ছু খাবোনা(বালিশ ছুড়ে ফেলে দিয়ে), সাগরকে ছাড়া আমি কিচ্ছু খাবোনা !" নায়িকার মাঃ কি বলে মেয়ে? সাগর কি কোন খাওয়ার জিনিস হল? সাগরকে খাবি কেন? ভাত মাছ খা! নায়িকাঃ পৃথিবীর এক প্রান্তে যদি সব ধন, দৌলত, সম্পত্তি থাকে আর এক প্রান্তে সাগরের ভালোবাসা...আমি সাগরের কাছেই ফিরে যাব মা! মায়ের প্রস্থান! দৃশ্য-৫ নায়কের বাবা কে বা কারা যেন গুলি করে গেছে। এসময় নায়ক ঘরে প্রবেশ করল।

নায়কঃ বাবা আআআআআআআআআআআআআআআআআআআ! নায়কের বাবাঃ (মৃত্যুশয্যায় নায়কের জামা খামচে ধরে বলছে), "মৃত্যুর আগে একটা কথা তোকে বলে যাই বাবা ... তুই আমার আপন ছেলে নোস! তুই ... তুই কুসুমপুরের জমিদার জালিম চৌধুরীর ছেলে! আর তোকে এতিম করেছে, ভাই হারা করেছে ঐ আফতাব চৌধুরী! আআআআআ আহ!(মৃত্যু) নায়কঃ চৌধুরী ইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইই!তুই আমার বাআবাকে মেরেছিস! আমি তোকে ছাড়ব না! দৃশ্য-৬ নায়ক প্রতিশোধ নিতে চৌধুরীর প্রাসাদে এসেছে। চৌধুরী বসে ছিল। নায়কঃ শয়তান! তোর জন্য আমি আমার ভাইকে হারিয়েছি, মা কে হারিয়েছি, বাবাকে হারিয়েছি। আজ আমার হাত থেকে দুনিয়ার কোন শক্তি তোকে রক্ষা করতে পারবে না। ঈয়া ঢিসুয়া ঢিসুয়া।

শামসু সহ সকল ভিলেনকে বেধড়ক পিটাতে থাকবে নায়ক। সবাইকে মারার পর দেখা যাবে নায়ক চৌধুরী সাহেবকে মারতে যাচ্ছে তলোয়ার নিয়ে। ঠিক এই সময় পুলিশ আসবে। হ্যান্ডস আপ। আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না।

চৌধুরীকে আমাদের হাতে ছেড়ে দিন। দৃশ্য-৭ নায়কঃ চল নদী আমরা বিয়ে করে ফেলি। নায়িকাঃ বিয়ে! এখন না! আই মিন, আমি আর তোমার প্রতি আগ্রহ অনুভব করছি না। আমি ছাকিব খানকে বিয়ে করব! নায়কাঃ এই কি বল নদী! তোমার জন্য আমি এত করলাম?আমার নাম কুদ্দুস বদলে সাগর রাখলাম, আর তুমি? নায়িকাঃ নাম বদলালেই কি হল?তুমার কি আছে? বাড়ি গাড়ি? টাকা পয়সা?জিপিএ? প্রেমের আগে এসব হিসেব করতে হয় না। কিন্তু বিয়ের আগে করতে হয়।

এসব ইন্টারমিডিয়েট থেকে শিখে আস নাই? নায়কঃ এই কি বলিশ তুই?আমি তর মুখে এসিড মারব! প্রেমের প্রতিশোধ নিব। আমার অবলা প্রেম নিয়ে তুই ফুটবল খেলেছিস রাক্ষশী! নায়িকাঃ যা যা নে! যা ইচ্ছা তাই কর। দূর হ। দৃশ্য-৮ নায়ক মদ খেয়ে মাতাল হয়ে রাস্তায় পড়ে আছে। গান বাজছেঃ আমাদের আব্বাস, হয়ে গেছে দেবদাস, খোঁচা খোঁচা দাড়ি রাখে এখনি বটগাছের তলায় বসে, কেউ যদি আসে বলে, তুমি কি পার্বতী! শেষ ফ্রেন্ডরা অভিনয় করবে।

বাংলা ছবির ডায়লগ দিয়ে নাটক লিখে দিতে হবে। এজন্যই এটা লেখা। লেখার পর মনে হল ব্লগেও দিয়ে দেই। এখানে ব্যবহৃত ডায়লগগুলো আমাদের সবার ই অনেক চেনা ও অনেকবার শোনা। একসাথে পেলাম প্রজন্ম ফোরামের এই পোস্টে ।

এটি অনেক সাহায্য করেছে। ।


এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.