আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

শীতকালে বয়স্কদের হার্ট অ্যাটাক

কারো পৌষমাস কারো সর্বনাশ। শীতের সকালে লেপ-কাথা ছেড়ে এককাপ গরম চায়ের উষ্ণতা অনেক হৃদয়কে আন্দলিত করে, করে রোমাঞ্চিত। আবার এই শীতের সকাল হৃদরোগীদের জন্য বয়ে আনতে পারে সর্বনাশ। শীতকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হন অনেকেই। এ সময় হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে যায় দ্বিগুন।

১৯৯৮ সালে ‘জার্নাল অব আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজির’ একটি প্রবন্ধে জনানো হয় যত লোক হার্ট অ্যাটাকে মারা যান তার অর্ধেক ঘটে শীতকালে। ২০০৪ সালে ‘সার্কুলেশন’ জার্নালে প্রকাশ করা হয় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের সংখ্যা বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে ডিসেম্বর ও জানুয়ারীতে অনেক বেশি। অন্য একটি গবেষণায় বলা হয় বছরের জানুয়ারীতে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্তের সংখ্যা জুলাই-এর দ্বিগুন। শীতকালের হার্ট অ্যাটাক বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করে। বিভিন্ন গবেষণা থেকে প্রতীয়মান হচ্ছে শীতকাল হৃদরোগীদের জন্য মারাত্মক খারাপ সময়।

এর কারণ আছে অনেক। শীতকালে দেহের চেয়ে পরিবেশের তাপমাত্রা কমে যায়। ফলে দেহ থেকে তাপ ত্বকের মাধ্যমে পরিবেশে চলে যায়। এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এতে করে দেহের তাপমাত্রা কমে যায়, যেটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

এ থেকে রক্ষা পেতে দেহের রক্তনালীগুলো সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে। আগে থেকেই প্লাক জমা রক্তনালীগুলো আরোও বেশি সঙ্কুচিত হয়। এ কারণে বেড়ে যায় রক্তচাপ। হৃদপিন্ডকে আগের তুলনায় বেশি কাজ করতে হয়। প্রয়োজন পড়ে অতিরিক্ত অক্সিজেনের।

অতিরিক্ত কাজ করতে করতে রোগাক্রান্ত হৃদপিন্ড আরোও অসুস্থ হয়ে পড়ে, দেখা দেয় হার্ট অ্যাটাক। গবেষণায় দেখা গেছে শীতের দিনে মানুষ বিষণœতায় ভোগেন বেশি। এটি কিন্তু হার্ট অ্যাটকের কারণ হতে পারে। শীতকালে সূর্যের দেখা মেলা ভার। সূর্যের রশ্মি দেহে ভিটামিন-ডি প্রস্তুত করে এটি আমরা সবাই জানি।

বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে ভিটামিন-ডি হৃদপিন্ডের জন্য বেশ উপকারী। গ্রীসের ডা. জন কানেল বলেন, ভূপৃষ্ট থেকে ৯৫০ মিটার উচ্চতায় বসবাসকারীদের চেয়ে সমতল ভূমিতে বসবাসকারীদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের হার দ্বিগুন, যদিও তাদের রক্তচাপ ও কোলস্টেরলের মাত্রা কম থাকে। এর কারণ কিন্তু মজার। এত উচ্চতায় ভিটামিন-ডি প্রস্তুতকারী আলট্রভায়োলেট রশ্মি-বি (ইউভিবি) বেশি। বিষুবরেখা ও গ্রীষ্মকালে এ রশ্মির পরিমান বেশি থাকে বলে এ অঞ্চল ও সময়ে হার্ট অ্যাটাক কম হয়।

গবেষকরা আরোও দেখতে পেয়েছেন যাদের রক্তে ভিটামিন-ডি-র মাত্রা কম থাকে তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার হার অন্যদের চেয়ে তিনশ’ ভাগ বেশি। শীতকালে দেহে ভিটামিন-ডি-র পরিমান কমে যাওয়ার দরুন হতে পারে হার্ট অ্যাটাক। শীতের সময় ফ্লু-তে আক্রান্ত হওয়ার হার বেড়ে যায়। ফ্লু-তে আক্রান্ত হলে রক্তচাপ ও রক্তে শ্বেতকাণিকার কার্যাবলি বাড়ে, পরিবর্তন হয় সি-রিয়েকটিভ প্রোটিন ও ফ্রিবিনোজেনের মাত্রা। এগুলো হৃদপিন্ডের জন্য অনেক ঝুঁকি বয়ে আনে।

শীতকালে একটু বয়স্করা সারাদিন লেপ-কাথা মুড়িয়ে বিছানায় পড়ে থাকতে পছন্দ করেন। এ সময় শারীরিক পরিশ্রম করেন না বলেই চলে। রক্তে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে খারাপ কোলস্টেরল। বাড়তে থাকে ওজন। এগুলোও কিন্তু হার্ট অ্যাটাকের জন্য যথেষ্ট।

শীতকালে হৃদরোগীদের হতে হবে সাবধান, সচেতন। ঠান্ডা লাগানো যাবে না। বাহিরে বেরুলে শীতের কাপড় পড়তে হবে। একটি খুব বেশি মোটা কাপড় না পড়ে কয়েকটি কাপড় পড়–ন। কয়েক স্তরের কাপড় পড়লে প্রতি স্তরের মধ্যে বাতাস আটকে থাকবে।

এটি তাপ বাহিরে যেতে প্রতিহত করবে। মুখ দিয়ে শ্বাস নিবেন না। বাহিরে বের হলে মাথায় ও মুখে মাফলার বা স্কার্ফ জড়িয়ে নিন। পায়ে পড়–ন সু। সারাদিন শুয়ে না থেকে ঘরের মধ্যে হাঁটা-চলা, হালকা ব্যায়াম করুন।

রোদ পোহাতে ভুলবেন না। শীতের সময় ভিটামিন-ডি সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খান। প্রয়োজনে সেবন করতে পারেন ট্যাবলেট। ফ্লু থেকে রক্ষা পেতে প্রতিবছর টিকা দিতে পারেন। অবসাদে না ভুগে নিজেকে রাখুন প্রাণচঞ্চল।

নিয়ন্ত্রণে রাখুন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কোলস্টেরলের মাত্রা। প্রচুর শাকসবজী, ফলমুল খান। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.