আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

যেহেতু সে নাস্তিক হয়ে মারা গেছে

আমি নাই। আরে ভাইয়েরা সরেন তো দেখি। এখানে কি হইছে? দ্যাখেন তো ভ্রাতা এখানে একটা লোক মরে পড়ে আছে। এ তো দেখছি ডাষ্টবিনে পড়ে আছে। দেখি তো সরেন বলে মামুদ ডাষ্টবিনের পাশে মরে পড়ে থাকা লোকটির মুখ দেখতেই অবাক হয়ে গেল।

কি আশ্চর্য্য! সে তো আমাদের ম্যাচে থাকত। এখানে আসল কি করে? তার না আইজক্যা পরীক্ষা দেয়ার কথা। হায়রে তার ভাগ্যলিপি খুবই নির্মম। উপস্থিত লোকেরা মামুদকে লক্ষ্য করে বললেন, ওহে ভ্রাতা আপনি কি ওকে চেনেন? চিনি না মানে? অফকোর্স। সে তো ম্যাচে আমাদের পাশের রুমেই থাকব।

তার কি পোড়া কপাল! এখানে সে মরে পড়ে আছে। আমার তো ভাবতেই অবাক লাগছে। কেন ভ্রাতা, কি হইছে? তার সম্পর্কে কি কিছু জানেন? জানি অনেক জানি, বলব? দর্শকদের উপস্থিতিতে মামুদ বললেন, ঐ যে দেখছেন মরে পড়ে আছে লোকটা তার নাম বল্টু। সে আমাদের ম্যাচেই আমাদের সাথে থাকত। বল্টু ছিল দুশ্চরিত্রের খারাপ লোক।

বিশ্বাসগত দিক দিয়ে নাস্তিক বটে। তার নাস্তিকতামূলক কথাবার্তায় আমাদের খুব রাগ হত। আমরা তাকে বোঝাতাম। নছিহত করতাম। কিন্তু বল্টু কারো কথার কোন কর্ণপাত করত না।

সে নিজে যা বোঝে তাই বিশ্বাস করে। আমাদের ইসলামিক বইগুলো লুকিয়ে রাখত। কোন সময় বইয়ের পাতা ছিঁড়ে ফেলত। আর আমরা নামাজ পড়লে সেই বল্টু আমাদের নামাজ দিয়ে কটু কথা বলত। কেউ তাকে ইসলামের প্রতি আহ্বান করলে সে উগ্র মেজাজী কথাবার্তা বলে তাকে বিদায় করে দিত।

তার সবচে বড় স্পর্ধা ছিল, আমাদের আসমানী কিতাব কোরআন শরীফের পাতা লুকিয়ে লুকিয়ে ছিঁড়ে আগুন দিয়ে পুড়ে ফেলত। ইসলামী কোন কথাবার্তা শুনলে তার মনে যেন আগুন ধরে যেত। তখন সে এর পরিবর্তে নাচ-গানের সিডি বা ডিভিডি অথবা অডিও গান শুনত। আযান দিলে প্রায়ই সে গালমন্দ করত। জানেন এক সময়, শামিম নামক এক ছাত্র নামাজে দাঁড়ালে ঐ বল্টু তার পেছনের দিক দিয়ে প্যান্ট ব্লেড দিয়ে কেঁটে ফেলে।

এর সাথে কেটে যায় শরীরও। এত বড় একটা অসভ্য ছিল ঐ বল্টু। ভাইজানেরা আপনাদের কি আর বলব। তার কুকীর্তির কথা কি আর বলব! শেষ করার মত নয়। দেখেন আজ তার কি দুরবস্থা।

এখন সে পৃথিবীর সবচে ঘৃণিতস্থানে মরে পড়ে আছে। চিনার মত অবস্থা তার আর নেই। পৃথিবীতে তার থাকার জায়গা নেই। যেহেতু নাস্তিক হয়ে মারা গেছে, আমি নিশ্চত পরকালীন জগতেও তার ভয়াবহ শাস্তি বৈ কি আর হবে। অথচ, তার জন্মসূত্রে যদিও তার মা-বাবা তাকে মুসলমান মনে করত।

এখন তো আর কেউ তার লাশ শনাক্ত করতে পারবে না। এখন তাকে ঐ ডাষ্টবিন থেকে তুলে অবশেষে দুর্গন্ধ থেকে বাঁচার জন্য তাকে ম্যানহোলে ফেলে দেয়া হবে। নাউযূবিল্লাহি মিন যালিক। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.