আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

লন্ডন প্রবাসী ব্যারিস্টারের ব্লগে লেখা হুবহু পত্রিকায় নিজ নামে ছাপালেন চবি’র অধ্যাপক!

জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সৎ থাকার চেষ্টা করি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ব্লগারের লেখা কপি করে নিজ নামে পত্রিকায় প্রকাশ করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক ড. আসলাম ভূঁঈয়া সমাজতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক । তার বিরুদ্ধে মঙ্গলবার লন্ডন প্রবাসী ব্লগার ব্যারিস্টার নিঝুম মজুমদার এ অভিযোগ তুলেন। তিনি দাবি করেন গত ১৫ নভেম্বর বাংলা ব্লগ সাইট সামহোয়্যার ইন ব্লগে ‘জামাতী আইনজীবী টবি ক্যাডম্যানকে যে কারণে বাংলাদেশে ঢুকতে দেয়া হয়নি: একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন’ শিরোনামে লেখাটি প্রকাশিত হয়। এ লেখাটি ২৯ নভেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে ড. ভূঁঈয়ার নামে প্রকাশিত হয়।

লেখা নকলের বিষয়ে তিনি মঙ্গলবার একটি ব্লগ লেখেন। লেখাটি এ প্রতিবেদকের দৃষ্টিগোচর হলে ব্লগ লেখকের সঙ্গে মেইলে যোগাযোগ করা হয়। তিনি মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, লেখাটি আমি ব্লগে লিখেছিলাম। কিন্তু আমার কোন ধরণের অনুমতি না নিয়ে হুবহু ড. আসলাম ভূঁঈয়ার নামে একটি জাতীয় দৈনিকে ছাপানো হয়। সকল তথ্য উপাত্তসহ ঐ দৈনিকের সম্পাদককে অবহিত করার পরও তারা লেখাটি সরিয়ে নেননি।

আগামী সপ্তাহে আমার বন্ধু ব্যারিস্টার আলি আসিফ খান দেশে যাবে আমি তার মাধ্যমে কপিরাইট আইনে দৈনিকটির সম্পাদক ও ড. ভূঁঈয়ার নামে মামলা করব। অভিযোগ প্রসঙ্গে ড. মো. আসলাম ভূঁঈয়া বলেন, ওয়েবসাইট থেকে আমি তথ্য নিয়ে লেখাটি লিখেছি। ওনার তথ্যের সঙ্গে আমার তথ্যের মিল থাকতে পারে। আগামীতে এ ব্যাপারে আমি সতর্ক থাকব। জানা যায়, ব্যারিস্টার নিঝুম মজুমদার লন্ডনে কমার্শিয়াল ‘ল’ নিয়ে পড়াশোনা করছেন।

পাশপাশি যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে গবেষণা করছেন। গবেষণার অংশ হিসেবে যুদ্ধাপরাধ নিয়ে বিভিন্ন প্রপাগান্ডা তিনি তার লেখনির মাধ্যমে মোকাবেলা করে থাকেন। তার ব্লগ সাইটে গিয়ে দেখা যায় বেশ কিছু তথ্য ভিত্তিক লেখা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে নিঝুম মজুমদার বলেন, আমি ইতোমধ্যে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালকে বিভিন্ন ডকুমেন্ট হস্তান্তর করেছি। যুদ্ধাপরাধ নিয়ে গবেষণার পাশাপাশি এর পক্ষে জনমত গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এর অংশ হিসেবে আমি অনেক অনুসন্ধান করে লেখাটি লিখেছি। যখন দেখি আমার লেখা অন্যের নামে পত্রিকায় ছাপা হয়েছে আমি খুবই মর্মাহত হয়েছি। তাছাড়া একজন অধ্যাপকের নামে লেখাটি দেখে আরও বেশি হতাশ হয়েছি। এদিকে, অন্যের লেখা নিজ নামে ছাপানোর কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান সম্মান ক্ষুন্ন হয়েছে বলে মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের শিক্ষকবৃন্দ। তারা বলেন, একজন অধ্যাপকের এ ধরণের ন্যাক্কারজনক ঘটনা দুঃখজনক।

তার প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়া উচিত। ( প্রতিবেদনটি একটি জাতীয় দৈনিকের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। লেখাটি পত্রিকায় প্রকাশিত না হওয়ায় ব্লগের আশ্রয় নিলাম। একজন অধ্যাপকের এ ধরণের লেখা চুরি আমাদের নৈতিকতা কোন পর্যায়ে ঠেকেছে তাই প্রমান করে। ) ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.